বিশেষ খবর

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বর্ষপূর্তি

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

৮ জুলাই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। প্রতিবছর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে ৮ জুলাই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ বছর পূর্ণ হলো। দিবসটি উপলক্ষ্যে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও ছিল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী।
২০০০ সালের ৮ জুলাই পটুয়াখালী কৃষি কলেজের অবকাঠামোতেই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ১৯৯৭ সালের ১৫ ই মার্চ পটুয়াখালীর জনসভায় পটুয়াখালী কৃষি কলেজকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ঘোষনা দেন। ২০০১ সালের ১২ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এতদ্সংক্রান্ত আইন গৃহীত হলে ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাস্তব রূপ লাভ করে।
পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে বরিশাল বিভাগীয় শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক (লেবুখালী) ৫ কিলোমিটার পূর্বে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত। বহিঃস্থ ক্যাম্পাস বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের খানপুরায় অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয়তন ৮৯.৯৭ একরের মধ্যে মূল ক্যাম্পাস ৭৭ একর এবং বহিঃক্যাম্পাস ১২.৯৭ একর।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২৫ জন শিক্ষক, ১৪০ জন কর্মকর্তা, ৪৭১ জন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ টি অনুষদের অধীনে ৫৮ টি বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, এমএস, এমবিএ, পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়াও স্বল্প মেয়াদী ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পোস্টগ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম ইংরেজী ভাষায় পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার রয়েছে। প্রতিটি আবাসিক হল, বিভিন্ন অনুষদের একাডেমিক ভবন ওয়াইফাইয়ের আওতাভুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির অর্থায়নে হেকেপের বিভিন্ন প্রকল্পের গবেষণার কাজ সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন, ৮ টি আবাসিক হল, টিএসসি, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, অডিটোরিয়াম, ব্যায়ামাগার, মেডিকেল সেন্টার, একাধিক সেমিনার কক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসভবন, মসজিদ, মন্দির। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জ্ঞান সহায়তায় রয়েছে সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থাগার। এতে ২৬ হাজার বই, ২৭৫৬ টি জার্নাল, ১৮৪০ টি সাময়িকী রয়েছে।
এ প্রতিষ্ঠানটি সবুজের সমারোহ, নির্মল বাতাস, নানা রংয়ের ফুল ও গাছপালায় পরিপূর্ণ। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ক্যাম্পাস যেন আধুনিক একটি গ্রাম। ক্যাম্পাসে ‘জয় বাংলা’ নামে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। এর নকশা ও নির্মাণ শৈলীর দায়িত্বে ছিলেন দেশের খ্যাতনামা ভাস্কর হামিদুর রহমান। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য ও একাডেমিক ভবনের প্রবেশপথে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ প্রশংসিত পদক্ষেপ। প্রতিদিন ঢাকা, বরিশালসহ দেশের প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর দেশের খ্যাতনামা বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ বলেন, দক্ষিনাঞ্চলের জনগনের দোড়গোড়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারের লক্ষ্যে ২০০০ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী কৃষি কলেজের অবকাঠামোতেই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সম্পুর্ণ সেশনজট মুক্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি ছাত্র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সুশীল সমাজের সহযোগীতা কামনা করেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ