বিশেষ খবর

স্বাস্থ্যজয়ে বৈজ্ঞানিক বহু আবিষ্কার নো টেনশন, ডু ফুর্তি -৩৯

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর -৩৯ ॥
অধ্যায় ১০
সংশয় নয়, সন্দেহ নয়; আনন্দ করো, শুধুই আনন্দ। সর্বদাই ভালোকে হ্যাঁ এবং মন্দকে না বলে নিজের বিবেক-ভুবনে ও সর্বসত্তায় সত্যের দীপশিখা চিরন্তন ও নিশ্চিত করে ফেলো। অবিরাম কল্যাণকর্মের মাধ্যমে ব্যক্তি-পরিবার ও সমাজে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে দেহমনে সার্বক্ষণিক আনন্দানুভূতি সৃজন করো; তাতেই লাভবান হবে বেশি, তাতেই সৃজনশীল ও মেধাবী হয়ে উঠবে।
আমার ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করে তাদের সমর্থনে ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠানের কিছু নীতিমালা তৈরি করেছি। তন্মধ্যে একটি দর্শন হচ্ছে
Don`t be confused, Don`t make any confusion. Be neat & clean in thought, To have a bright lot.
আমার নিগূঢ়তম বিশ্বাস যে এরূপ প্রোএকটিভ ও পজিটিভ দর্শনে জীবনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শুধু রোগবালাই-ই নয়, যেকোনো দুঃখ-শোকের পরিস্থিতিতেও আপনভূমে শক্তিমান বা বীর বলীয়ান থাকা যায়। উপরোক্ত বিভিন্ন আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, শারীরিক রোগের মূলসূত্র মানসিক উদ্বেগ তথা গবহঃধষ রসনধষধহপব. তাই কোনো কিছুতে কখনো টেনশন করবেন না। টেনশন করলেনতো অসুস্থ হয়ে গেলেন; আর ফুর্তি করলেনতো সুস্থ ও সুখী থাকলেন।
সামনের দিনগুলোয় রোগবালাই, অসুস্থতা ও অসুবিধা দূরীকরণে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা আরো অনেক কিছু দেবেন আপনাকে একথা নিশ্চিত করে বলা যায়। ছোটবেলা থেকেই আমার চিন্তায় একটি বিষয় ঘুরঘুর করত, কখন বিজ্ঞানীরা ঘোষণা দিয়ে বসেন যে কেবল মানবদেহের সকল রোগ-শোক দূর করাই নয়, গোটা মানুষই বানিয়ে ফেলা যায়! বড় হয়ে এখন বুঝতে পারছি, রুহ বা আত্মা ছাড়া মানুষের সবকিছুই হয়ত বানাতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। সেদিন আর দূরে নয়, যেদিন বিজ্ঞানীরা বলবেন মানুষের কোনো অঙ্গ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সে অঙ্গ ফেলে দেয়া বা পঙ্গু হওয়া অথবা জোড়াতালি দেয়ার দরকার নেই; নতুন অঙ্গ গজিয়ে তোলার ব্যবস্থা করছি। অনুরূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জোড়া লাগানো, গজিয়ে তোলা এবং এরূপ বিস্ময়কর আবিষ্কারের কিছু নমুনা নিম্নরূপ।
রোবটিক পা
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত পক্ষাঘাত রোগীদের জন্য সুখবর। ডাচ প্রকৌশলীরা তাদের জন্য তৈরি করেছেন রোবটিক পা। পক্ষাঘাতগ্র্রস্ত রোগীরা এই পা ব্যবহার করে চলাফেরায় কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন। যন্ত্রটির নাম লোয়ার-এক্সট্রিমিটি পাওয়ারড এক্সোস্কেলেটন লোপেস। দেহ ও মনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে এটি রোগীকে স্বাভাবিক পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্তের প্রকৌশলীরা বেশ কয়েক বছর গবেষণা করে এ যন্ত্রটি তৈরি করেছেন।
কেটে গেলেও অঙ্গ গজিয়ে উঠবে
বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কিংবা অসুখের কারণে কতইনা কাটা পড়ছে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ! চিকিৎসায় এসব ক্ষত অনেক সময় ভালো হলেও বা আহত লোকটি সুস্থ হলেও জীবনভর বয়ে বেড়াতে হয় পঙ্গুত্বের অভিশাপ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বিজ্ঞানীরা এবার এই হারানো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শরীরে নতুন করে গজিয়ে তোলার ব্যাপারে গবেষণা করছেন। মেক্সিকোয় গিরগিটির মতো দেখতে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ লেজযুক্ত অদ্ভুত উভচর সরীসৃপ আছে, যার নাম আক্সোলোটল অর্থাৎ জলদৈত্য। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এই প্রাণিটির কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা পড়লেও তা আবার সহজে গজিয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, নিজ থেকে রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়ে যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। বিষয়টি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কঠিন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসায় এই বিশেষ নৈপুণ্য কাজে লাগানো যায় কিনা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা চিন্তা-ভাবনা করছেন। জার্মানী`র হানোফার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োরিজেনারেশন সেন্টারে বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত প্রাণিটির প্রকৃতি প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, চারপায়ী মেরুদন্ডযুক্ত প্রাণি হিসেবে আক্সোলোটল জিনের দিক দিয়ে মানুষের কাছাকাছি। তাই এ উভচর প্রাণিটির প্রকৃতি প্রদত্ত বিশেষ দক্ষতা মানুষের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যাবে। প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাঃ বিয়র্ন মেনগার বলেন, মানুষের চামড়া বা হাড়ে বড় রকমের আঘাত বা খুঁত হলে নিজের শরীরের কোষ প্রতিস্থাপনেও অনেক সময় ভালো হয় না। তাই চিকিৎসকরা এমন এক পদ্ধতির খোঁজ করছেন, যার সাহায্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। এক্ষেত্রে এই আক্সোলোটল নামের উভচর প্রাণির প্রকৃতি প্রদত্ত ক্ষমতাটা কাজে লাগাতে চান তারা। তিনি মনে করেন, তাদের এ গবেষণা সফল হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক উত্তরণ ঘটবে। এ গবেষণার আলোকে বিজ্ঞানীরা এমন এক ঔষধ তৈরি করতে চান, যার মাধ্যমে দুর্ঘটনায় মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা গেলে আক্সোলোটলের মতোই দ্রুত আরোগ্যলাভ সম্ভব হয়।
রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে আয়ু
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই শীঘ্র জানা যাবে একজন মানুষ পৃথিবীতে কতদিন বাঁচবে। অর্থাৎ রক্ত পরীক্ষা করেই সম্ভাব্য আয়ু বলে দেয়া যাবে। স্পেনের `লাইফ লেংথ` নামের একটি কোম্পানির বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এ ফল বেরিয়ে এসেছে। এ পরীক্ষায় খরচ পড়বে ৭০০ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৫২ হাজার টাকা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ পরীক্ষায় মানুষের রক্তে ক্রোমোজমের প্রান্তে থাকা ফিতা আকৃতির টেলোমেয়ারসের গঠনাকৃতি পরিমাপ করা হবে। টেলোমেয়ারসের গঠন ও গতিপ্রকৃতিই একজন মানুষের আয়ু নির্দেশ করে। তবে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলছেন এ পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করে দিন-মাস বা বছর ধরে আয়ুর স্থায়িত্বকাল বলা হয়ত সম্ভব হবে না, সম্ভাব্য সময়রেখা বলা যাবে। এতে মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়বে এবং দুশ্চিন্তা কমবে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এ পরীক্ষা পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
চোখের জলে ডায়াবেটিস পরীক্ষা
দু`রকম ডায়াবেটিসের মধ্যে টাইপ-১ ডায়াবেটিসই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। আর তা একবার হয়ে গেলে রক্তে চিনির মাত্রা মাপা যে কী সাংঘাতিক ধকল ফেলে রোগীর শরীরে, সেটা রোগীই জানেন। কিছুদিন আগেও এ ধরনের পরীক্ষা করার জন্য রোগীর আঙুলে শল্যবিদের দোধারওয়ালা ছুরি ফুটিয়ে রক্ত নেয়া হতো। ইদানীং ফিঙ্গার-প্রিক টেস্ট বা আঙুলে সুচ ফুটিয়ে রক্ত বের করার পরীক্ষাই এ কাজে ব্যবহৃত হয় বেশি। সেই রক্ত স্ট্রিপে পরীক্ষার পর জানা যায় রক্তে চিনির মাত্রা। টাইপ-২ আক্রান্ত রোগীদেরও দিনে দুই বা ততোধিকবার এ ধরনের পরীক্ষা করে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা, সে তথ্য জানতে হয়। যারা সুচ ফোটাতে ভয় পান, সুচ দেখলেই চোখে আপনাআপনি পানি এসে যায়, তাদের জন্য এ আবিষ্কার মাত্রাতিরিক্ত সুখবর বয়ে আনবে। কারণ, নতুন প্রযুক্তিতে রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষার জন্য আর সুচ ফুটিয়ে রক্ত দিতে হবে না রোগীকে, লাগবে কেবল চোখের পানি। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান তারা এমন এক ধরনের সেন্সর আবিষ্কার করেছেন, যেটি রোগীর চোখের পানি থেকেই রক্তে চিনির মাত্রা মেপে ফেলতে পারবে।
রক্তচাপ কমাতে যন্ত্রসঙ্গীত
বিশ্বজুড়ে ব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য সুখবর এনেছে একটি যন্ত্র, দ্য রেসপারেট। এটি দেখতে সিডি প্লেয়ারের মতো। এতে আছে হেডফোন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের অভিঘাত যন্ত্রে পৌঁছে দেয়ার জন্য বুকে বাঁধার একটি ফিতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন উদ্ভাবিত এ যন্ত্রটি ব্লাডপ্রেসারকে স্বাভাবিক স্তরে ধরে রাখতে বিশেষ ধরনের লঘু যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করবে। গবেষকরা দাবি করেছেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে প্রতিনিয়ত নানা ঔষধ সেবন করতে হয়। এ থেকে অনেকের দেহে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ে। কিন্তু এ যন্ত্রটি ব্যবহার করলে ঔষধ ছাড়াই এটি যথেষ্ট অবদান রাখতে সক্ষম। এ যন্ত্রটির ব্যবহার প্রায় পুরোপুরি সিডি প্লেয়ারের মতো। বুকে বাঁধা ফিতা থেকে এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের অভিঘাতের তথ্য সরাসরি যন্ত্রটির কাছে পৌঁছে দেবে। যন্ত্রটি তখন নির্ণয় করবে কোন্ ধরনের মিউজিক বাজালে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে। চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ ব্যক্তি প্রতি মিনিটে ১৮ বার শ্বাস নিয়ে থাকেন; কিন্তু রক্তচাপ কমাতে হলে এ সংখ্যা ১০ বার বা তার কম হওয়া উচিত এবং এ কাজে দ্য রেসপারেট দক্ষ চিকিৎসকের মতো সাহায্য করবে।
ব্যথা মাপা যাবে
চিকিৎসককে ব্যথা বোঝানোর জন্য রোগীরা কতই না কসরত করে। কিন্তু সেই ব্যথা কি আর চিকিৎসক বুঝতে সক্ষম? যার ব্যথা সে-ই বোঝে। কিন্তু যদি এমন হয়, রোগী কী পরিমাণ ব্যথা পাচ্ছে, তার পরিমাপ চিকিৎসকের জানা সম্ভব হচ্ছে! বিজ্ঞানের কল্যাণে এই অসম্ভব ভাবনাও বাস্তবরূপ নিতে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের গবেষকরা প্রথমবারের মতো এমন একটি রোগ নির্ণয়ক যন্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছেন, যা দিয়ে ব্যথা পরিমাপ করা যাবে। গবেষক দলের এক বিজ্ঞানী জানান, এই নতুন যন্ত্রটি মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে নির্ণয় করতে পারবে ব্যথার পরিমাণ।
লালা বলে দেবে বয়স
বিভিন্ন কারণে অনেক মানুষের বয়স বোঝা যায় না। আবার অনেক মানুষ বিশেষত মেয়েরা নাকি সঠিক বয়স বলে না। নিজেদের যারা চিরতরুণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, তাদেরও অবশ্য এমন বাতিক আছে। কারণে-অকারণে যারা বয়স লুকাতে চান, তাদের জন্য অশুভ বাণী শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সামান্য থুথুই বলে দিতে পারে সঠিক বয়স। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জিন বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, মানুষের মুখের লালা দিয়েই তারা বের করতে পারবেন সঠিক বয়স। গবেষণার প্রধান অধ্যাপক এরিক ভিলাইন বলেন শুধু লালার নমুনা নিয়েই বলা যাবে ঐ ব্যক্তির বয়স কত, তা জানতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আর বেশি কিছু তথ্যের প্রয়োজন হবে না।
রোগ সারাবে বিদ্যুৎ
গবেষকরা বলছেন, মানবদেহ কোটি কোটি অণু-পরমাণু দিয়ে গঠিত। সেগুলো থেকে প্রতিনিয়তই বৈদ্যুতিক চার্জ নির্গত হচ্ছে, যা শরীরের স্নায়ুগুলোর মধ্যকার সিগন্যাল হিসেবেও কাজ করে। রোগ-ব্যাধি বা আঘাতের কারণে দেহের অভ্যন্তরের বিদ্যুৎ প্রবাহ ও ঐসব সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এভাবে যন্ত্র থেকে শরীরে সামান্য মাত্রায় বিদ্যুৎ চালনা করলে (এমসিটি) সেটি স্নায়ুকোষসহ অন্যান্য কোষে কাক্সিক্ষত প্রভাব বিস্তার করে। কেননা, এভাবে শরীরের বিদ্যুৎ প্রবাহ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে এমসিটির মাধ্যমে ব্যথার অনুভূতিসহ কোষ ও কলার (টিস্যু) ছোট ছোট আঘাতও সারিয়ে তোলা যায়। হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের অধ্যাপক টিম ওয়াটসন জানিয়েছেন বাজারে ব্যথানাশক ঔষধের ছড়াছড়িতে বোঝা যায়, এসব ঔষধের কোনোটিই আসলে ঠিকভাবে কাজ করে না। তাই এর একটি সহজ ও কার্যকর বিকল্প প্রয়োজন। আর সেই বিকল্প হতে পারে বিদ্যুৎ। সারাদিনের নানা প্রয়োজন মেটাতে মানুষ সাধারণ যে পেনসিল ব্যাটারি ব্যবহার করে, সেগুলোর মাধ্যমেই কাজটি করা যেতে পারে। এজন্য ঐ ব্যাটারিযুক্ত একটি যন্ত্র থেকে ক্লিপ বা স্টিকি প্যাডের মাধ্যমে শরীরে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় বিদ্যুৎ চালনা করা হবে।
আজ থেকে ২০০০ বছর আগে স্ক্রিবোনিয়াস লারগাস নামে এক রোমান চিকিৎসক বলেছিলেন, বৈদ্যুতিক ঈল (বান) মাছের হুলের আঘাতে মাথাব্যথা সারানো সম্ভব। তখন থেকে গবেষকরা বিদ্যুতের রোগ সারানোর ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। এবার গবেষকরা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে ব্যথা ও বিষণœতার মতো রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। নতুন এ চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে মাইক্রোকারেন্ট থেরাপি বা এমসিটি। আসছে সর্বরোগের মহৌষধ!
নানা ধরনের সর্দি-কাশি, ফ্লু, হাম, জলাতঙ্ক, এমনকি এইচআইভি রোগও সারবে একটিমাত্র ঔষধে আশ্চর্য হওয়ার মতো হলেও বিজ্ঞানীরা এমনটিই জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এমনই একটি ঔষধ উদ্ভাবন করেছেন, যা এ রোগগুলোর প্রতিটির ভাইরাসকে প্রতিহত করতে সক্ষম। এর নাম হবে ড্র্যাকো। তবে ঔষধটির জন্য আরো কয়েক বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে। এই ঔষধ মানবদেহের কোষে ঢুকে ভাইরাস চিহ্নিত করবে এবং মেরে ফেলবে। প্রচলিত এন্টিবায়োটিক কোষ-আশ্রিত অনেক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। কিন্তু ড্র্যাকোর চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো ভাইরাস প্রাণি কোষের আরএনএ বা ডিএনএতে থাকতে পারবে না। নির্ঘাত মারা পড়বে ড্র্যাকোর আক্রমণে। ঔষধ আবিষ্কারে গবেষণারত মার্কিন বিজ্ঞানী ড. মাইক রাইডার বলেন, ভাইরাসজনিত সব রোগ চিকিৎসায় নবযুগের সূচনা করবে ড্র্যাকো। এটি কোষের ভেতরে ঢুকে ভাইরাস মেরে ফেলবে; ড্র্যাকোকে মোকাবেলার শক্তি ভাইরাসের থাকবে না।
আসছে সব ক্যান্সারের মহৌষধ!
এক ঔষধে সব ক্যান্সারের চিকিৎসা হবে, আবার কোনো কোনোটির উপশমও হবে এমনটিই আশা করছেন যুক্তরাজ্যের নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। গবেষকদের মতে স্তন ক্যান্সারের জন্য এমন একটি ঔষধ তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তারা, যা সব ধরনের টিউমারের বিরুদ্ধে মহৌষধ হিসেবে কাজ করবে। একইসাথে এটি গর্ভাশয় বা প্রোস্টেট ক্যান্সারও উপশম করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এ সর্বজনীন ঔষধের নাম দিয়েছেন `ওয়ান্ডার পিল`। গবেষকরা মূলত পিএআরপি নামে পরিচিত এক ধরনের ঔষধকে কেন্দ্র করে এগিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সংবাহক টিউমারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেবে পিএআরপি এবং ঐ কোষগুলোকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে। জিনে ত্রুটি নেই, এমন টিউমারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
ক্যান্সার নিরাময়ে ফুল
অটাম ক্রোকাস নামক এক প্রকার ফুল থেকে ক্যান্সার চিকিৎসার উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা শুরু করেছেন। কলচিসিন নামের এ চিকিৎসা ব্যবস্থা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের বৃদ্ধি বন্ধ করতে এবং এক পর্যায়ে ক্যান্সার নির্মূল করতে সক্ষম হবে। কলচিসিন মূলত অটাম ক্রোকাসের গোত্রভুক্ত উদ্ভিদ থেকে সংগৃহীত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, যা দিয়ে তৈরি ঔষধ বাতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। হারবাল চিকিৎসা ব্যবস্থা অনুযায়ী মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রদাহের চিকিৎসায় পূর্বেও অটাম ক্রোকাস ব্যবহৃত হতো।
প্রোস্টেট ক্যান্সারে আলফা রশ্মি ব্যবহারে সাফল্য
প্রোস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসায় আলফা রশ্মির বিকিরণ ব্যবহারে পরীক্ষামূলকভাবে দারুণ সাফল্য পাওয়া গেছে এমনটি দাবি করছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা দাবি করেন, আলফা রশ্মির বিকিরণ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের কোষবাহী টিউমারের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের ওপর শক্তিশালী আলফা রশ্মি ব্যবহার করে চিকিৎসকেরা দেখেছেন এতে রোগীরা কম কষ্ট পায়, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। এভাবে চিকিৎসা নেয়া রোগীরা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় বাঁচে। গবেষক দলের প্রধান ক্রিস পার্কার বলেন আলফা রশ্মি ১, ২ বা ৩ বার ব্যবহারেই ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম।
ক্যান্সার সারাবে মাটির ব্যাকটেরিয়া
প্রাণঘাতী ব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক ভালো যোদ্ধা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা মাটিতে এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা লড়াই করবে শুধু ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষগুলোর বিরুদ্ধে। কোসট্রিডিয়াম স্পোরোজেন্স নামক এই ব্যাকটেরিয়ার বীজগুটি ক্যান্সারের টিউমারের মধ্যেও বিস্তারলাভ করতে পারে। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে একটি এনজাইম এই ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। এই এনজাইমের কারণেই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়াটি। ব্যাকটেরিয়ার এই বীজগুটিগুলো অক্সিজেন নেই এমন টিউমারের ক্ষেত্রেই কাজ করবে। যেমন স্তন, মস্তিষ্ক ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
ক্যান্সার মোকাবেলায় ত্বকই যথেষ্ট
মানুষের ত্বকের কোষকে রোগ প্রতিরোধী কোষে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এর ফলে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় তার ত্বকই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। পরীক্ষাগারে ত্বকের এ রূপান্তর-প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে গবেষক দল। সম্প্রতি জিন থেরাপি সাময়িকীতে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অক্সফোর্ড স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের গবেষক দলের প্রধান ড. পল ফেয়ারচাইল্ড বলেন, রোগীর রক্ত থেকে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখা ডেনড্রিটিক কোষ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে আগেই। এবারে গবেষক দল রোগীর ত্বক থেকে ডেনড্রিটিক কোষ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। এই কোষ প্রধানত মিলান নামক ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। গবেষক ড. পল ফেয়ারচাইল্ড বলেন দেখা গেছে, এসব ডেনড্রিটিক কোষ রোগ প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরি এবং অন্য কোষ ধ্বংস দু`টিই করতে পারে। ফলে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ত্বক থেকে তৈরি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাই তার টিউমারের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে।
কুকুর করবে ক্যান্সার নির্ণয়!
বিশ্বব্যাপী কুকুর যেমনি বোমা বা তেজস্ক্রিয় ঊীঢ়ষড়ংরাব শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখিয়েছে, তেমনি মানবদেহে ক্যান্সারসহ নানা কঠিন রোগ নির্ণয়েও কুকুর দক্ষতা দেখাতে পারছে। কেবল জৈব-রাসায়নিক শাস্ত্রভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণ দিলে এদের ক্যান্সার নির্ণয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠা অসম্ভব বা অবাস্তব কিছু নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। অনেক সময় রোগীর নিঃশ্বাসে বা ত্বকে নানাভাবে সেগুলোর উপস্থিতি ঘটে। আর কুকুরের পক্ষে সেগুলো শনাক্ত করা খুব কঠিন কিছু নয়। জার্মান গবেষকরা জানিয়েছেন, আপাতত তারা ৪টি কুকুর নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়ার পর এরা প্রত্যেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর শরীর বা নিঃশ্বাস শুঁকে ক্যান্সার নির্ণয়ে ৭১ শতাংশ সফলতা দেখিয়েছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে ক্যান্সার নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীাক্ষয় বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
নিঃশ্বাস পরীক্ষায় ক্যান্সার শনাক্ত
চটজলদি ও সহজ একটি নিঃশ্বাস পরীক্ষার মধ্য দিয়েই ধরা যাবে পাকস্থলীর ক্যান্সার। এমন উপায়ের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েল ও চীনের বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই এ পরীক্ষা থেকে সঠিক ফল পাওয়া যায়। এমনকি এটি পাকস্থলীর অন্য সমস্যা থেকেও ক্যান্সারকে আলাদা করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেন মানুষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে যে বাতাস বের করে দেয়, তা পরীক্ষা করেই পাকস্থলীর ক্যান্সার নির্ণয় করা হবে। ক্যান্সারে আক্রান্তদের নিঃশ্বাসে একটি বিশেষ গন্ধ পাওয়া যায়। যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে এই গন্ধ শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণা পরিচালনাকারী অধ্যাপক হোসাম হেইক বলেন, পাকস্থলীর ক্যান্সার নির্ণয়ের একটি ভালো পথ এটি। চলবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ