বিশেষ খবর

স্বাস্থ্যজয়ে বৈজ্ঞানিক বহু আবিষ্কার নো টেনশন, ডু ফুর্তি -৪০

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর -৪০ ॥
কোমাতেও কথোপকথন সম্ভব
এতদিন আমরা বলতাম যে` মেডিটেশনের মাধ্যমে মৃতের আত্মার সাথে সংযোগ ঘটিয়ে কথোপকথন সম্ভব। সম্প্রতি একদল ব্রিটিশ স্নায়ুবিজ্ঞানী বলছেন` যেসব রোগী বোধশক্তিহীন অবস্থা বা কোমায় চলে গেছে, তাদের সঙ্গেও কথোপকথন সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন` একটি যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে, যা দিয়ে স্থায়ীভাবে বোধশক্তিহীন অবস্থায় চলে যাওয়া রোগীর মস্তিষ্কের কর্মকান্ড বোঝা যাবে। এমনকি রোগীকে কিছু বলা হলে তা বুঝতে পারবে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু ভাবার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলে সে অনুযায়ী চিন্তাও করতে পারবে। ফলে বোধশক্তিহীন অবস্থায় চলে যাওয়া রোগীর সেবাযতœ বা চিকিৎসা পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে।
ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতাল এবং বেলজিয়ামের লিয়েজ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ১৬ জন রোগীর ওপর গবেষকগণ এ পরীক্ষা চালান। এতে ঐ রোগীদের কল্পনা করতে বলা হয়। নতুন আবিষ্কৃত যন্ত্রের সাহায্যে ঐ নির্দেশনায় রোগীদের ডান হাত ও ডান পায়ের আঙুল নাড়াচাড়া কল্পনা করতে বলা হয়। এরপর ইলেকট্রোএনসেফ্যালোগ্রাফি (ইইজি) যন্ত্রের সাহায্যে তাদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিমাপ করা হয়। পাশাপাশি ১২ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপরও এই পরীক্ষা চালানো হয়।
বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, বোধশক্তিহীন অবস্থায় চলে যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ৩ জন তাদের আঙুল নাড়াচাড়া করার বিষয়টি কল্পনা করতে পেরেছে।
ক্যামেরায় দেখা যাবে রক্তপ্রবাহ
বিজ্ঞানীরা নতুন একপ্রকার ক্যামেরা আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে কারও দেহের ভেতরের রক্ত চলাচলের গতি-প্রকৃতি বাইরে থেকেই স্পষ্ট দেখা যাবে। বিশেষত কারও শরীর আগুনে বা রাসায়নিকে পুড়ে গেলে এই ক্যামেরা দিয়ে বাইরে থেকেই ঐ ক্ষতস্থানের ভেতরের অবস্থা কেমন, তা বুঝতে পারবেন চিকিৎসকরা। আর সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে পোড়াদেহ সঠিকভাবে সারিয়ে তোলা সহজ হবে। ‘লেজার ড্রপলার ইমেজিং’ নামের এ ক্যামেরা তৈরি করেছে সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান অ্যামএগো। অ্যামএগো’র মিশেল ফ্রেডরিক বলেন` কারও দেহে ক্যামেরা লাগানোর পর ভিডিও চিত্রে যদি লাল রংয়ের উপস্থিতি দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে রক্ত অধিক গতিতে চলছে, আর নীল দেখা গেলে বুঝতে হবে গতিপ্রবাহ কম। তিনি আরও বলেন` কোনো টিস্যু বা কোষ যদি রক্ত সঞ্চালন না করে, তাহলে ক্ষতস্থান সেরে উঠবে না। যদি কোনো কোষ মরে গিয়ে থাকে, তাহলে শরীরের অন্য অংশ থেকে চামড়া বা মাংস কেটে ক্ষতস্থানে সংযোজন করতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া দেহ সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ক্যামেরা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। মানুষের হৃদযন্ত্রের চিকিৎসায় এ ক্যামেরা বেশ কাজে আসবে বলেও আশা করছেন তারা।
দেহের ভেতর সাঁতরাবে ক্যামেরা
বিজ্ঞানীরা এবার তৈরি করেছেন বিশেষ এক ধরনের ক্যামেরা, যা সহজেই সাঁতার কাটতে পারে মানুষের দেহের ভেতর। অর্থাৎ অতি ক্ষুদ্র ক্যাপসুল আকৃতির এ ক্যামেরা মানুষের দেহে মাংসের ভেতর স্থাপন করা যায়। আর দেহের ভেতর থেকেই এটি দিকনির্দেশক সংকেতসহ ছবি তুলে বাইরে স্থাপিত যন্ত্রে পাঠাতে সক্ষম। মানুষের দেহের ভেতরের জটিল রোগ বা ক্ষত নির্ণয়ে এ ক্যামেরার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষত এন্ডোস্কোপির মতো অস্বস্তিকর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজও এ ক্যামেরার দ্বারাই করা যাবে। ইসরায়েলের তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এ ক্যামেরা আবিষ্কার করেছেন। তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ড. গ্যাবর কৌসা বলেন, এর সাহায্যে মানুষের দেহের ভেতর ঔষধও পাঠানো যাবে।
আশ্চর্য ব্যান্ডেজ
ক্ষত সারানোর মোক্ষম একটি উপায় বের করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। তারা ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ বাঁধার এমন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা যেকোনো ক্ষত অনেক কম সময়ে সারিয়ে তুলবে এবং তা কোনো ধরনের ঔষধ ছাড়াই। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যান্ডেজ তাৎক্ষণিকভাবে রক্তপাত বন্ধ করে, প্রদাহ কমায়, ক্ষতস্থান থেকে তরল ও দুর্গন্ধ নিঃসরণ বন্ধ করে এবং ক্ষতস্থানে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে। আর এ ‘আশ্চর্য ব্যান্ডেজ’ ব্যবহার করলে ক্ষত শুকানোর জন্য কোনো এন্টিবায়োটিক লাগে না বলে এন্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকেও সহজে রেহাই পাওয়া যায়। পদার্থবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যার সমন্বয়ে উদ্ভাবিত এ পদ্ধতির নাম ‘ভিটা ভালিস’ বা ‘ন্যানো-ড্রেসিং’। বলা হচ্ছে, পেনিসিলিনের পর এ ব্যান্ডেজই হচ্ছে সবচেয়ে বড় আশ্চর্য আবিষ্কার।
গবেষকরা জানিয়েছেন` মানুষের দেহে পোড়া, কাটা ও সংক্রমণজনিত ক্ষত হতে পারে। এসব ক্ষতে ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জবাহী ব্যাকটেরিয়া থাকে। নতুন উদ্ভাবিত ব্যান্ডেজে ধনাত্মক চার্জবাহী এলুমিনার ন্যানো-সাইজ তন্তু ব্যবহার করা হয়েছে। রোগীদের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গেছে` ব্যান্ডেজের মধ্যে থাকা ধনাত্মক চার্জবাহী পদার্থ ক্ষতস্থান থেকে ঐসব ব্যাকটেরিয়াকে বের করে নিয়ে এসেছে, যা ব্যান্ডেজের আরেকটি অংশে এসে জমা হয়েছে। এতে করে রোগীরা অকল্পনীয় দ্রুততার সাথে সেরে উঠেছে। উদ্ভাবকরা বলছেন, তাদের এ পদ্ধতির সমতুল্য আর কিছুই নেই। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পোড়াজনিত ক্ষত থাকা এক রোগীর মাথায় এ ব্যান্ডেজ লাগানোর পর সেই ক্ষত ৮০ দিনে সেরে গেছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় ব্যান্ডেজ ও ঔষধের মাধ্যমে ঐ ক্ষত সারাতে অন্তত ১৫০ থেকে ১৮০ দিন সময় লাগার কথা।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় বৈদ্যুতিক শক
স্ট্রোকের কারণে মস্তিস্কের কোষ ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোগীদের দুর্ভাবনা দূর হতে যাচ্ছে। কোনো ঔষধ ছাড়াই বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে তাদের এ ক্ষতি নিরসন সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক হেইডি জোহানসেনবার্গ জানিয়েছেন, স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে। এতে মস্তিষ্কের অনেক কোষ মরে যায় এবং স্নায়ুজালের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে রোগীর মানসিক ও শারীরিক বৈকল্য দেখা দেয়। অনেক সময় ঔষধ প্রয়োগ করেও এর সঠিক সমাধান নিশ্চিত করা যায় না। কিন্তু মাথার খুলির ওপর ত্বকে ইলেকট্রোড স্থাপন করে এর মাধ্যমে স্বল্পমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করে দেখা গেছে` বিদ্যুতের ঐ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুগুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যে কারণে স্নায়ুগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া যোগাযোগ আবারও স্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। গবেষক জোহানসেনবার্গ আরও জানিয়েছেন, বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়মিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রয়োগ করা হলে এবং রোগীর বার বার চেষ্টায় সৃষ্ট ক্রমাগত ঐ উদ্দীপনার ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া যোগাযোগ আবার স্থাপিত হওয়া সম্ভব। ফলে স্ট্রোকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীর আবারও পুরোপুরি সেরে ওঠা এখন আর অসম্ভব কিছু নয়।
আল্ট্রাসনোগ্রাম করে স্ট্রোকঝুঁকি নির্ণয়
নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, আল্ট্রাসনোগ্রাম করেই নির্ণয় করা যাবে কাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি আছে এবং স্ট্রোকের চিকিৎসায় কাদের সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে। ঘাড়ের পাশ দিয়ে ব্রেনে চলে যাওয়া রক্তনালিটি ক্যারোটিড আর্টারী নামে পরিচিত। এই নালিটি অনেক কারণে সরু হয়ে আসে। রোগটি এসিম্পটম্যাটিক ক্যারোটিড স্টেনসিস বা এসিএস নামে পরিচিত। ক্যারোটিড আর্টারী হৃৎপি- থেকে ব্রেনের জন্য রক্ত সরবরাহ করে। যখন এই নালির ভেতরে প্লাগ জমে তখন তা সরু হয়ে যায়। যাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে তাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এতদিন পর্যন্ত চিকিৎসকরা আগেভাগে রোগটি নির্ণয় করতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হতেন। ফলে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই চিকিৎসা বা সার্জারি করে নালিটি আগের মতো করাও সম্ভব হয়নি। নতুন এ গবেষণায় দুই বছর ধরে ৪৩৫ জন এসিএস আক্রান্তদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখা হয়। ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড নামে পরিচিত এই বিশেষ ধরনের আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ক্যারোটিড আর্টারীতে প্লাগ জমলে তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়। নিউরোলজি জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
রোগ সারাতে জিন সম্পাদনা
মানুষের জিনের পরিবর্তন ঘটিয়ে চিকিৎসা করার চেষ্টা প্রায় দু’যুগের। এবার বিজ্ঞানীরা জিনের ব্যাপারে এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটাবে শিগগিরই। আর এ উদ্ভাবনটি হলো জিন এডিটিং বা জিন সম্পাদনা। আধুনিককালের উৎকৃষ্ট সব ঔষধ দিয়েও যা করা সম্ভব হয় না, তা সম্ভব হবে এই জিন সম্পাদনার মাধ্যমে। মানবশিশুর একটি সাধারণ রোগ হলো হেমোফিলিয়া-বি। এ রোগ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তাকারী জিনে ত্রুটি তৈরি হয়। ফলে রোগীর শরীরে কখনই রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না এবং অনবরত রক্ত ক্ষরণের মাধ্যমে সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। এরূপ রোগীর দেহে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া বা আঘাত ছাড়াই রক্তরণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শিশু হাসপাতালের সেল্যুলার এন্ড মলিক্যুলার থেরাপিউটিকস বিভাগের পরিচালক ক্যাথেরিন হাই জানিয়েছেন, জিন সম্পাদনার এ ধারণা মানুষের দেহে ডিএনএ’র সুনির্দিষ্ট উৎসে গিয়ে কাজ করে। যেমন` রক্ত জমাট বাঁধার কাজে সরাসরি অংশ নেয়া প্রোটিনগুলোর মূল উৎসস্থল হলো যকৃৎ। সুস্থ এনজাইম শরীরে প্রবেশ করানোর পর তা সরাসরি যকৃতে চলে যাবে এবং রক্ত জমাট বাঁধার কাজে ব্যবহৃত ত্রুটিপূর্ণ জিনগুলো সরিয়ে সেখানে সুস্থ জিনকে প্রতিস্থাপন করবে। ফলে এ ধরনের প্রাণঘাতী রোগ আর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। গবেষকরা আশা করছেন` খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রুটিপূর্ণ জিনের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা, অস্থিমজ্জা ও যকৃৎ `এ ৩টি বিষয়ে সৃষ্ট প্রাণঘাতী রোগ-ব্যাধির সফল চিকিৎসা সম্ভব হবে।
জিন জানাবে আয়ু
একজন মানুষ কতদিন বাঁচবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হতে যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন` প্রাণিদেহের জিনে এমন একটি উপাদানের সন্ধান তারা পেয়েছেন, যেটি বিশ্লেষণ করে ঐ প্রাণির আয়ু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি জীবিত কোষের মূল উপাদান হলো ক্রোমোজোম। গুরুত্বপূর্ণ এ ক্রোমোজোমের শেষ ভাগেই থাকে টেলোমেরেস নামক একটি উপাদান। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, টেলোমেরেসের দৈর্ঘ্যরে সঙ্গে আয়ুর একটি ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। টেলোমেরেস যত বেশি দীর্ঘ, তত বেশি সময় ধরে এটি ক্রোমোজোমকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। অর্থাৎ এ উপাদানটির দৈর্ঘ্য বেশি হলে আয়ু বেশি আর দৈর্ঘ্য কম হলে আয়ুও কম হয়।
আয়ু বাড়বে বড়িতে
বিজ্ঞানীরা নতুন এক ধরনের জিন শনাক্ত করেছেন, যেটি মানুষের আয়ু ২০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। সব ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণির শরীরে এ জিন পাওয়া গিয়েছে। এটি বয়োবৃদ্ধিজনিত কোষের ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ইসরায়েলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এসআইআরটি-৬ নামের এ জিন শনাক্ত করেছেন। নতুন এ জিনকে কাজে লাগিয়ে আয়ু বাড়ানোর বড়ি তৈরি করা সম্ভব বলে আশা করছেন তারা। এর মাধ্যমে চিরতারুণ্য অর্জনের পথ সুগম হবে। সাধারণত বয়স বাড়ার আগে তারুণ্য বা মাঝবয়সে এ বড়ি খেতে হবে।
পোড়া ত্বক পুনরায় জন্মাবে
পুড়ে যাওয়া মানুষের মুখ-হাত-পা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের চেষ্টার কমতি নেই। গবেষকরা সম্প্রতি একধরনের হাইড্রোজেল তৈরি করেছেন, যা পোড়া ত্বকের ক্ষতকে পুনরায় সংগঠিত করতে সক্ষম হবে। এই জেল ব্যবহারে ত্বকের পোড়া ক্ষত সারিয়ে তুলে সেখানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে ত্বককে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের একদল গবেষক নতুন এ জেল উদ্ভাবন করেছেন। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক জন হারমন বলেন` এই জেল তৈরিতে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা পোড়া ক্ষতের কারণে কুঁচকানো ত্বককে খুব দ্রুত আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনবে। তিনি আরো বলেন, এই জেল ক্ষতস্থানে নতুন করে রক্ত সঞ্চালন করতে সক্ষম। তাছাড়া পোড়া ক্ষতের পাশাপাশি কাটা দাগ, চামড়ার ভেতর ছোটখাট ক্ষতকে সারিয়ে তুলতে পারে।
ব্রণ নাশে ভাইরাস
ভাইরাস নামক অনুজীবকে মানুষের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের মুখমন্ডল ব্রণে আক্রান্ত হওয়ার পর এন্টিবায়োটিকে কাজ না হলে ভাইরাস দ্বারা এসব রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের পিটার্সবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ জানান` ১১ প্রজাতির ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, এগুলো মানবদেহে ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে। গবেষক ডাঃ গ্রাহাম হেটফল বলেন, এ গবেষণার দ্বারা ব্রণের চিকিৎসায় ভাইরাস সরাসরি ব্যবহারে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ত্বকের এ ধরনের অসুখে ভাইরাস বা ভাইরাল ঔষধ ব্যবহার বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
বুলেটপ্রুফ মানুষ
বুলেট ঠেকাতে আর জ্যাকেট নয়, এবার মানুষ নিজেই হতে পারবে বুলেটপ্রুফ। এতদিন যা সম্ভব হয়েছে শুধু বৈজ্ঞানিক কল্পকথায়, এখন তা সম্ভব হবে বাস্তবেও। আর এর পেছনে কাজ করছে শিল্প ও বিজ্ঞানের মিশ্রণ। ডাচ্ শিল্পী জলিলা ইসাইদি এবং কোষবিদ্যা বিশারদ আবদেল ওয়াহেব এল গালজৌরি মাকড়সার রেশম ও মানুষের ত্বকের সমন্বয়ে এমন এক শক্তিশালী পদার্থ তৈরি করেছেন, যা বুলেট ঠেকাতে সক্ষম। গবেষকরা জানিয়েছেন` বিশেষ প্রজাতির মাকড়সা রয়েছে, যাদের দেহে উৎপন্ন হওয়া রেশম বেশ মজবুত। এর সঙ্গে মানুষের ত্বকের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন একপ্রকার ত্বক তৈরি করা হয়েছে, তাও বেশ শক্তিশালী ও মজবুত। বিজ্ঞানীরা ভাবছেন` এ পদার্থ পুড়ে যাওয়া রোগীদের ত্বক, মাংস ও হাড়ের পুনর্গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। গবেষণাগারে এরই মধ্যে নতুন ঐ ত্বকের ক্ষমতার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন উদ্ভাবকরা। দেখা গেছে, সাধারণ গতির চেয়ে অর্ধেক গতিতে ছোড়া রাইফেলের গুলি ঠেকাতে পেরেছে সেটি।
দু’বছরের মধ্যে ম্যালেরিয়ার টিকা
মশাবাহিত জীবাণুর সংক্রমণে মানবদেহে যেসব রোগের সৃষ্টি হয় তন্মধ্যে ম্যালেরিয়া হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী। প্রাচীনকাল থেকেই লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকা এই রোগ নির্মূল করার কার্যকর বিশ্বস্বীকৃত কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। সম্প্রতি নেচার নামে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকীতে ক্যামব্রিজের কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, ম্যালেরিয়া জীবাণু ছড়ানোর মূল কার্যকারণটি তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। গবেষক দলটির প্রধান ড. গ্যাভিন রাইটের দাবি, মানবদেহে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বিস্তারের জন্য দায়ী হচ্ছে ‘সিঙ্গেল রিসেপটর’। আক্রান্ত হওয়ার আগেই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এই রিসেপটরকে অকার্যকর করে দিতে পারলে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর সংক্রমণ বা বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এই তথ্য প্রকাশের পর তারা আশাবাদী` আগামী দুই বছরের মধ্যেই মানবদেহের একক রিসেপটরটি যার দ্বারা প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিফারাম পৌনঃপুনিক অভিযোজিত হয়, সেটিকে আক্রমণের আগেই অকেজো বা দুর্বল করে দিতে সক্ষম হবে।
মা হওয়ার দুশ্চিন্তা আর নয়
নারীদের জন্য বিরাট সুখবর, শুধু অপেক্ষা দিরিয়া সারতের চিকিৎসার সাফল্যের জন্য। তুর্কি এই নারীর জন্ম থেকেই গর্ভাশয় ছিল না; ছিল না সন্তান ধারণের ক্ষমতা। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে নতুন একটি গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করেছেন। মৃত এক নারীর দেহ থেকে এটি নেয়া হয়েছে। গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দিরিয়া সন্তানের মুখ দেখলে পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য নারীর মুখে হাসি ফুটবে। বিশ্বে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় আনতালিয়া প্রদেশের আকদেনিজ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা সফলভাবে দিরিয়ার (২১) শরীরে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করেন। বিশ্বে প্রতি ৫ হাজার নারীর একজন গর্ভাশয় ছাড়াই জন্ম নেয়।
পরীক্ষা বলে দেবে সিজারিয়ান লাগবে কিনা
শিশুর জন্ম দিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে কিনা, তা জানতে একটি পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে সুইডেনে। এর ব্যবহারও হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে জন্ম দেয়ার স্বার্থে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয় মায়েদের। এ পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলে যন্ত্রণাদায়ক এ অপেক্ষার অবসান হবে। গবেষকরা দেখেছেন, গর্ভের পানিতে ল্যাকটিক এসিডের হার বেশি থাকলে স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা কম থাকে। এই এসিডের পরিমাপের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়` জটিল প্রসব প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, নাকি সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিশুটিকে বের করে আনা হবে। ইতোমধ্যেই এ প্রক্রিয়া ইউরোপের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সুইডেন, নরওয়ে ও বেলজিয়ামের হাসপাতালে এ পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। সুইডেনের অবসটেকেয়ার কোম্পানি নতুন এ পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। গবেষণার নেতৃত্বে ছিল লিভারপুল ইউনিভার্সিটি ও লিভারপুল উইম্যান হসপিটাল।
মেরুদন্ডের চিকিৎসা হবে দাঁত দিয়ে
আঘাতপ্রাপ্ত বা ভাঙা মেরুদন্ডের চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর সম্প্রতি জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেন, মেরুদন্ড ভাঙা বা মেরুদন্ডে তীব্র ব্যথা অনুভবকারী রোগীদের চিকিৎসা দাঁতের শাঁস থেকে নেয়া স্টেম সেল দিয়ে করা সম্ভব। এ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী হাঁটার সক্ষমতাও ফিরে পেতে পারে।
দাঁতের এক্স-রে থেকে সাবধান
এক্স-রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পদ্ধতি, যার সাহায্যে চিকিৎসক খুব সহজেই রোগ নির্ণয় করে থাকেন। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রে ছাড়া রোগ নির্ণয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে অকল্পনীয় ব্যাপার। তবে ঘন ঘন এক্স-রে করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কারণ অতিমাত্রায় রেডিয়েশন ক্যান্সারের নিয়ামক ও সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ঘন ঘন এক্স-রে করার আরেকটি ক্ষতিকর দিক খুঁজে পেয়েছেন। নতুন গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন, অতিমাত্রায় দাঁতের এক্স-রে করার ফলে মস্তিষ্কের টিউমার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি ক্যান্সার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
চলবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ