বিশেষ খবর

ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারের অতিঃ সচিব নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ২৭তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের সৃজনশীল, নিষ্ঠাবান ও চৌকস কর্মকর্তা, বহুমুখী প্রতিভায় ভাস্বর ও বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থার ডায়নামিক ও সুদক্ষ পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বই; ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত দেশোন্নয়নের ২টি মডেল, বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির।
অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে জাতীয় বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখা গণউন্নয়নের অগ্রসেনানী নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণের মাধ্যমে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল। ভালো কাজে পুরস্কার ও মন্দ কাজে তিরস্কার ক্যাম্পাস’র চিরায়ত রীতি। সে ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির মাধ্যমে ক্যাম্পাস’র দু’সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। কুইক রেসপন্স এর জন্য ক্যাম্পাস’র ওয়েব ডেভেলপার এন্ড গ্রাফিক্স ডিজাইনার রিমেল বড়–য়া এবং ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজের সৃজনশীল বই বিক্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভবতোষ কুমার সরকার পুরস্কৃত হন।
ইংলিশ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশোন্নয়নে যোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথির হাতে আশা-জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। বক্তৃতার উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
প্রধান অতিথি নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন- জাতির জনকের সুযোগ্য অগ্নিকন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি, জননেত্রী বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন-অগ্রগতির বেগবান ধারায়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সাধন করে অচিরেই একটি উন্নত দেশে পরিণত হবো। তিনি বলেন- আমাদের দেশ উন্নত হলেই শুধু হবে না, তার আগে আমাদের মন-মানসিকতা উন্নত করতে হবে। সেজন্য আমাদের সবসময় ‘ইব চড়ংরঃরাব’ অর্থাৎ ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। তাহলে আমাদের জীবন সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত হবে। নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার জন্ম হয়েছে অত্যন্ত গরীব একটি কৃষক পরিবারে। আমাদের স্কুল ছিলো ৩ মাইল দূরে। খালি পায়ে ৩ মাইল হেঁটে গ্রীষ্মকালে ধুলোবালি ও প্রচন্ড গরমে, আর বর্ষাকালে এক হাঁটু পাক-কাদার ভেতর দিয়ে স্কুলে যেতাম; শামুক-ঝিনুকের খোলসে পা কেটে যেত। কাটা পায়ে দুর্বাঘাস লাগিয়ে দিতাম। এভাবেই স্কুল করেছি। গ্রামের হতদরিদ্র কৃষকদের মধ্যে আমার বাবা একটু স্বচ্ছল ছিলো। আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ছিলো আমাদের চেয়েও গরীব। আমার শুধু একটা শার্ট আর একটা প্যান্ট ছিলো। সেই শার্ট আমি সপ্তাহে ৫ দিন পড়তে পারতাম। বাকি ২ দিন আশেপাশের সমবয়সীরা নিয়ে পড়তো। এমনই ছিল আমাদের হতদরিদ্র অবস্থা। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেভাবেই হোক পড়ালেখা করে বড় হতে হবে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। উচ্চশিক্ষিত হয়ে দারিদ্র্য ঘোচাতে হবে। এটা আমার পণ ছিলো। তাই আজ এ জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য আমি ছাত্র-যুবকদের উদেশ্যে বলবো, তোমাদের এরকম পণ করতে হবে; তাহলে জীবনে সফল হতে পারবে। তিনি বলেন, আবেগ বা ইমোশন মানবজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কাজেই সেই আবেগ যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইমোশনটা যেন ইতিবাচক হয় অর্থাৎ পজিটিভ হয়। আমি যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ি, তখন আমার বাবার সাথে আমি অন্যের জমিতে কাজ করেছি। তখন আমার মধ্যে ইতিবাচক ইমোশন বা অদম্য জেদ কাজ করেছে। সেই জেদ বা ইমোশনের কারণে আমি আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছি। অতিরিক্ত সচিব হতে পেরেছি বা বিএসইসি’র পরিচালক হতে পেরেছি। আমি যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ি, তখন ৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জন নারায়ণ ছিল। এর মধ্যে আমি ছিলাম নারায়ণ নাম্বার টু। কিন্তু আমি ছাড়া আর কোনো নারায়ণই এসএসসি পাস করতে পারেনি। আমি এসএসসি পাস করে জগন্নাথ কলেজে এলাম, সেখানে থাকার জায়গা নেই, পড়ার জায়গা নেই, খাওয়ার ঠিক নেই, বেতন দেয়ার উপায় নেই। তারপরও কলেজ-ইউনিভার্সিটি পার হয়ে আজকে এখানে এসেছি। আমার জেদ বা ইমোশন আজকের এই পর্যায়ে আনতে আমাকে সহায়তা করেছে। ইংরেজী প্রাকটিসের বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিবিএস প্রশাসন একাডেমিতে আমার একটা কোর্স ছিলো, কিভাবে ’ল এন্ড এ্যাডমিনিস্ট্রেশন চালাতে হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ। সেখানে সাজ্জাদ নামে একজন প্রশিক্ষণার্থী বললো যে, সে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবে না। কারণ হচ্ছে, সে ইংরেজি বলতে পারে না। আমি তাকে বলেছিলাম আমার সাথে ইংরেজিতে কথা বলো, যতোই ভুল হোক। যখন কোর্স শেষ হলো, তখন সে সবার চেয়ে ভালো ইংরেজি বলতে পারে। কাজেই ইংরেজি নিয়ে কথা বলতে না পারার জন্য দি¦ধা-দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাস্তবে ইংরেজিতে কথা বলতে হলে আরেকজনের সাথে অনবরত প্র্যাকটিস করতে হবে। ক্যাম্পাস’র কর্ণধার ড. হেলাল এর মহতী উদ্যোগের জন্য তোমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক এগিয়ে আছ। এটা তোমাদের বিরাট পাওয়া। ক্যাম্পাস’র সম্পাদক ড. হেলাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ড. হেলাল আমার ব্যাচমেট। সে চাইলে বা চেষ্টা করলে আমার মতো চাকরিতে আসতে পারতো। কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারতো এবং করলে সে খুব ভালো করতো, কারণ সে আমার মতো একাউন্টিংয়েই পড়াশোনা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু সে আমাদের মতো সহজ ও নিরাপদ জীবন বেছে নেয়নি। সে বেছে নিয়েছে সমাজ উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব; তার জীবনের লক্ষ্য হয়েছে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা। দেশ ও জাতির উন্নয়ন সাধন করা। সততা প্রসঙ্গে নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন- সততার কোনো বিকল্প নাই, আমাদের জীবনে অসততার কোনো স্থান হবে না। অসততাকে আমাদের জীবনের অভিধান থেকে তুলে দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের একজন স্যার ছিলেন, প্রফেসর শান্তি নারায়ণ ঘোষ। এক পরীক্ষার সময় আমাদের এক সহপাঠি স্যারকে বললো যে, স্যার ঐ ছেলেটা নকল করছে; স্যার বুঝতেই পারলেন না কীভাবে নকল করছে। অর্থাৎ নকল শব্দটি তাঁর অভিধানে নেই। তেমনিভাবে আমাদের জীবনের অভিধানে শুধু সততা থাকবে। অসততার কোনো স্থান হবে না জীবনে; তাহলে আমাদের জীবন পরিপূর্ণ হবে সততার মহিমায়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সততা একটি শক্তিশালী মানবিক অস্ত্র। এই সততার কাছে অসৎ সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। আর অযথা কাউকে সন্দেহ করা ঠিক নয়। তাতে মন ছোট হয়ে যায়। তাহলে পৃথিবীর আলোকিত অংশ আর দেখতে পাবে না। ক্যাম্পাস’র জগৎটা আলোকিত জগৎ। এই জগতের সংস্পর্শে থাকলে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং উন্নত ও আলোকিত জাতি গঠন করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমি কিছু কিছু বিষয়ে নিচের দিকে তাকাই আবার কিছু কিছু বিষয়ে উপরের দিকে তাকাই। আমি তখনই উপরের দিকে তাকাই, যখন কেউ আমার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকে। তখন আমার মনে হয়, সে আমার চেয়ে ভালো, আমাকে তার মতো হতে হবে। আবার আমি নিচের দিকে তাকাই তখনই, যখন আমার গায়ের শার্টটা খুব সস্তা থাকে; তখন আমি নিজেকে বোঝাই যে, আমারতো একটা সস্তা শার্ট আছে; ঐ ছেলেটা বা মেয়েটারতো তাও নেই। নিজের বয়স নিয়ে রসিকতা করে নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমাকে দেখে আপনারা বয়স আন্দাজ করতে পারবেন না। আমার বয়স আগামী ৩১ ডিসেম্বর ৫৯ বছর পূর্ণ হবে এবং আমি চাকরি থেকে অবসরে যাব। তবে আমাকে দেখে আমার বয়স বোঝা যায় না। কারণ আমি ভোর পাঁচটায় উঠে ২ ঘন্টা জগিং করি আর রাত ১১টায় ঘুমাতে যাই। আজ ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিস। আমি ডায়বেটিস কন্ট্রোল করে চলি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। কেননা সুস্থ দেহে সুস্থ মন। দেহ যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে মনও সুস্থ থাকবে না। বিএসইসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএসইসি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান ভর্তুকিতে চলে। বিএসইসি একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে কোনো টাকা নেয় না। উল্টো বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সরকারকে দেয়। বিএসইসিতে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট হচ্ছে। এরজন্য আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস এবং ডায়নামিক চেয়ারম্যানের ভূমিকা আছে। বর্তমান সরকারও উন্নয়নের সরকার। তাই আমাদের বিএসইসিতে উন্নয়নের গতি এসেছে। তিনি আরো বলেন, কোনো কিছু অর্জন করতে হলে ‘ইব চড়ংরঃরাব’ হওয়ার সাথে সাথে ঐ জিনিসটির জন্য সাধনা করতে হবে। আমি বিএসইসিতে এখন রেগুলার বেতন পাই; কিন্তু এর আগে যখন আমি চিনি শিল্প কর্পোরেশনে ছিলাম, তখন ১ মাসের বেতন ২ মাস পরেও পেতাম না। অথচ তাদের ত্রিশ হাজার কোটি টাকার ল্যান্ড প্রপার্টি আছে। চিনি শিল্পকে লাভের মুখ দেখানোর জন্য আমি তখন জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়েও কাওরান বাজারে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে চিনি বিক্রি করেছি। সেখানে আমি কোনো লজ্জাবোধ করিনি। বরং আমি মনে করি, এটা আমার ক্রেডিট। চিনি শিল্প কর্পোরেশন থেকে যখন আমি চলে আসি তখন কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা আমার জন্য কেঁদেছিল। তিনি বলেন- আমরা যে সাদা চিনি খাই, এটা আখের চিনি নয়; আখের চিনি হয় লালচে ধরণের। আর সাদা যে চিনি, সেটা বীটমূলের চিনি; তাতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সবারই আখের লালচে চিনিটাই খাওয়া উচিত। এটাই আসল চিনি। মহান দার্শনিক সক্রেটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস’র একটি ডকুমেন্টারীতে সক্রেটিসকে দেখলাম। আমার জীবনের আদর্শ হলো সক্রেটিস। আমি সকালে উঠে প্রার্থনা করি আর রাতে শোয়ার আগে গীতা পড়ি। গীতার মূল বাণী হলো- নিজেকে জানো, যেটা সক্রেটিসেরও কথা। মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে নারায়ণ দেবনাথ বলেন- একজন মানুষের আসলে প্রয়োজন খুবই সামান্য, যদি সে সক্রেটিসের ’নিজেকে জানো’ জেনে থাকে। যে যেখানেই থাকেন না কেন, প্রতিষ্ঠান আপনাকে কি দিল সেটা নিয়ে ভাববেন না; আপনি প্রতিষ্ঠানকে কি দিলেন; সেটা নিয়ে ভাববেন। দেশ আপনাকে কি দিল, সেটা নিয়ে না ভেবে দেশকে আপনি কি দিলেন, সেটা নিয়ে ভাবা উচিত।
ড. শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী
উদারপ্রাণ শিক্ষানুরাগী ড. শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী বলেন, আজকের মাননীয় প্রধান অতিথি নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ এর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে। ছাত্র-যুবকরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস’র সকল কার্যক্রমই দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিবেদিত। এসব কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির সহযোগিতা থাকবে বলে আমি আশা করি।
এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর রিসোর্স পারসন এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ তাঁর পেশাজীবনে একজন সফল মানুষ। তিনি একজন ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব বলেই আজ বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের মতো শ্বেতহস্তী প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। বিএসইসিতে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান ছিলো। লস খেতে খেতে সর্বশেষ এখন ৯টি প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ট আছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পেরেছেন। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে অবশ্যই লাভজনক হবে। তিনি আরো বলেন- নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ শুধু একজন ডায়নামিক সচিবই নন, তিনি একজন সুলেখকও বটে। তাঁর লেখা ‘বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক বই লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে। তাঁর বইটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই ক্যাম্পাস’র ছাত্র-যুবকরা এই মহাপ্রাণ ডায়নামিক মানুষটির জীবন অনুসরণ করে নিজেদেরকে ডায়নামিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাহলে ক্যাম্পাস’র এই উদ্দেশ্য ও প্রয়াস সফল হবে।
ড. এম হেলাল
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর মহাসচিব ড. এম হেলাল বলেন, নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ অনেক গুণে গুণান্বিত একজন সাধক পুরুষ। তিনি তার স্বাস্থ্য বিষয়ে সাধনা করে ডায়াবেটিসকে জয় করে সুস্থ-সবল কর্মযোগীর জীবনযাপন করছেন। কর্মস্থলে সাধনা করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অতুলনীয় অবদান রেখে চলেছেন। তাই সাধনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ছাত্র-যুবকদের বলবো- তোমরা তার মতো সাধক হও, সৎ হও, সাহসী ও বিনয়ী হও। সর্বোপরি তাকে অনুসরণ করে একজন ভালো মানুষ হও। তাহলে আজকে আমাদের এই আয়োজন সার্থক হবে।
ছাত্র-যুবকদের অনুভূতি
ক্যাম্পাস অনুষ্ঠানের বিশেষ দিক হলো ছাত্র-যুবকদের বক্তৃতার সুযোগ দেয়া। অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়ে ক’জন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ক্যাম্পাস’র ট্রেইনী আব্দুল্লাহ সোহাগ বলেন, ক্যাম্পাস আমাদের উন্নত মানসিকতা তৈরির শিক্ষা দেয়। আমরা এখানে একটি ভিন্ন বাংলাদেশ অবলোকন করি, যা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। মেহজাবিন নিপু বলেন, ক্যাম্পাস’র জগৎটা একটি ভিন্ন জগৎ। এখানে অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা ইংরেজি শেখার পাশাপাশি অনেক কিছু শিখতে পারছি এই ক্যাম্পাস’র মাধ্যমে। মাসুদ রানা বলেন, ক্যাম্পাস’র মাধ্যমে আমরা বাস্তবতাকে বুঝতে পারছি। অনুকরণীয়-অনুসরনীয় ব্যক্তিত্বদের সংস্পর্শে আসতে পারছি। এটি আমাদের বিশাল অর্জন। মোজাম্মেল হক বলেন, পৃথিবীতে কোথাও ফ্রি বলতে কিছু নেই। শুধু ক্যাম্পাস এ এসে দেখলাম অনেক কিছু ফ্রি। এটা আমার আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। রাশেদুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস আমাদের সাহসী হতে শেখায়। তাই আমি আজীবন ক্যাম্পাস’র সাথে থাকতে চাই। রায়হান উদ্দিন বলেন- ক্যাম্পাস আমাদের সামনে আলোর দরোজা খুলে দিয়েছে, তাই আমরা ক্যাম্পাস’র আলোয় আলোকিত হবো।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ