বিশেষ খবর

ছয় বছরের নিচে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নয়

ক্যাম্পাস ডেস্ক সংবাদ
img

এত দিন সর্বনিম্ন পাঁচ বছর বয়সেই শিশুরা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারত। কিন্তু আগামী বছর থেকে তাতে পরিবর্তন আসছে। বয়স ন্যূনতম ছয় বছর না হলে কোনো শিশু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে না। অর্থাৎ প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে একটি শিশুর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ছয় বছর এক দিন। সরকারি- বেসরকারি সব স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রেই এই বয়স প্রযোজ্য হবে।
আর চলতি বছর রাজধানীর সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির আবেদন করতে হয়েছে অনলাইনে। আগামী বছর থেকে জেলা পর্যায়ের সরকারি স্কুলগুলোতেও অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সামর্থ্য রয়েছে- এমন বেসরকারি স্কুলগুলোকেও অনলাইনে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়া হবে। এসব পরিবর্তন সামনে রেখেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ভর্তি নীতিমালা ২০১৫ প্রণয়ন সংক্রান্ত বৈঠক হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বিশ্ব শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে যেই এলাকার শিশু সেই এলাকার স্কুলে তার ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘শিশুরা যে এলাকায় বসবাস করে সেখানকার স্কুলগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার।’ এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য যে, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CSDC) এর মহাসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এম হেলাল এলাকাভিত্তিক স্কুলিং (Areawise Schooling) কনসেপ্ট এর ওপর বহুপূর্বেই গবেষণামূলক মডেল প্রকাশ করেন; যা ক্যাম্পাস পত্রিকায় ২০০৮ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
এরপর ২০১৩ সালে ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে এম হেলাল প্রণীত উক্ত মডেলটি বই আকারে বাংলায় ও ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। সেসময়ে মডেলটির নামকরণ করা হয়- দুর্বিষহ যানজট, অর্থ-শ্রম ও সময়ের অপচয়, মৌলিক শিক্ষায় ত্রুটি, ড্রপ-আউট, শ্রেণি-বৈষম্যসহ জাতীয় বহু সমস্যার একক সমাধানঃ এলাকাভিত্তিক স্কুলিং (Areawise Schooling)। এর কয়েক বছর পূর্বে ক্যাম্পাস গবেষণা সেলের আওতায় এম হেলাল প্রণীত আরেকটি মডেল বই আকারে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়; যার শিরোনাম- জাতির সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান PERMANENT SOLUTION OF ALL NATIONAL PROBLEMS Including Energy Crisis, Traffic Jam, Disaster, Unemployment & Poverty.
ক্যাম্পাস’র গবেষণায় এলাকাভিত্তিক স্কুলিংয়ের যে সুফল পাওয়া যাবে তা হলো, যানযট কমবে, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে; শিক্ষার্থীর জন্য অভিভাবকের টেনশন থাকবে না; শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের শ্রম ও সময়ের অপচয় রোধ হবে, ঝরে পড়ার হার কমবে, জ্বালানি তেল আমদানী ও গ্যাসের অপচয় রোধ হবে, সন্তানের জন্য বাবা-মা’র অফিসের গাড়ি বরাদ্দের দুর্নীতি বন্ধ হবে ইত্যাদি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীকে ১৬টি অঞ্চলে ভাগ করে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা করারও প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর।
এসব বিষয়ে মাউশি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে আগামী বছর থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ছয় করার প্রস্তাব দেব আমরা। চলতি বছরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছিল। আগামী বছর থেকে তা কার্যকর হবে। এ ছাড়া অন্তত সব সরকারি স্কুলের ভর্তি আমরা অনলাইনে করতে চাই। সেটা আগামী বছর থেকে না পারলে অন্তত জেলা পর্যায়ের স্কুলে করতে চাই। এ ব্যাপারে টেলিটকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা আমাদের সাপোর্ট দিতে পারবে। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গেও কথা হয়েছে, তারা এ ব্যাপারে একমত। এলাকা কোটার ব্যাপারে মাউশি’র মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও তাঁর কার্যালয়ের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা করার প্রস্তাব দেব। কারণ এ ব্যাপারটা মুখে মুখে বললে হবে না। তা ভর্তি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জানা যায়, রাজধানীতে নামিদামি বেসরকারি স্কুলের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। সরকারি- বেসরকারি সব মিলিয়ে এসব স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত আগামী বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। অথচ আবেদন করতে পারবে দুই লাখের কাছাকাছি। ফলে ভর্তিযুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।
মাউশি সূত্র জানায়, আগামী বছরও ভর্তির আবেদন ফরমের দাম ১৫০ টাকা রাখা হবে। টাকা পরিশোধ করতে হবে টেলিটকের মাধ্যমে। আর ৩৫টি স্কুলকে এলাকাভিত্তিক তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। একটি গ্রুপের একটি স্কুলেই আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে লটারির মাধ্যমে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের (বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিতে ২০) এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ১০০ নম্বরের (বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ ও গণিতে ৪০) দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ