বিশেষ খবর

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ডিজিটালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে -চেয়ারম্যান, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ট্রাস্ট

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
img

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে প্রথম সারির যে ক’টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তন্মধ্যে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে এটি একটি উল্লেখযোগ্য নাম। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বৈশিষ্ট্য হলো সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা, কোয়ালিটি শিক্ষার ক্ষেত্রে আপোশ না করে শিক্ষা পদ্ধতির উৎকর্ষ সাধন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মহাকর্মযজ্ঞে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ যথাযথ সাড়া দিয়ে তাদের অবস্থান থেকে ডিজিটালাইজেশন কনসেপশন নিজেদের মধ্যে ধারণ করেছে। তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ, শাখা-প্রশাখাকে ডিজিটালাইজ করে দেশের প্রথম ডিজিটালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার গৌরব অর্জন করেছে।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজড করার রূপকার হলেন এর চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ। আপাদমস্তক একজন শিক্ষক এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ ও দক্ষ শিক্ষাপ্রশাসক প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ এরই মধ্যে শিক্ষার বিস্তৃত অঙ্গনে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন। একজন ডায়নামিক শিক্ষাদ্যোক্তা হিসেবে প্রফেসর আব্দুল্লাহ লাভ করেছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সম্প্রতি তাঁর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সহকারী সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তাঁদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ ক্যাম্পাস পত্রিকার কন্ট্রিবিউটর মোহাম্মদ মোস্তফার অনুলিখনে নিচে সন্নিবেশিত হলো।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোজনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখানে সরকারি-বেসরকারি বলে বিভক্তি টানার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত অধিকার। তা সরকারি ব্যবস্থাপনায়ই হোক আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ই হোক; মূল কথা হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুশিক্ষা নিশ্চিত করা। বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি হচ্ছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) প্রযুক্তি। মূলত ৮০’র দশক থেকে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাপী প্রাইভেটাইজেশন এর কথাও আমরা জানি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অধিকতর সুযোগ রয়েছে বিধায় শিল্পের প্রাইভেটাইজেশন হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় শিক্ষা-শিল্পের প্রাইভেটাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সাথে বর্তমান সরকার শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ইউজিসি’র ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট শিক্ষাদ্যোক্তা প্রফেসর আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সঠিক ধারায় পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ইউজিসি’র ভূমিকা অভিভাবকসুলভ বলে আমি মনে করি। ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় ভৌত কাঠামো নির্মাণ, আধুনিক শিক্ষা সরঞ্জামাদির যোগান ইত্যাদি ক্ষেত্রে মঞ্জুরি কমিশনের সার্বক্ষণিক নজরদারি ইতিবাচক অবদান রাখছে। সত্যি কথা বলতে মঞ্জুরি কমিশনের এ অভিভাবকসুলভ এবং নজরদারিমূলক ভূমিকাটুকু না থাকলে প্রাইভেট সেক্টরে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্যের প্রসার ঘটার সম্ভাবনা ছিল, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করত। শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন এক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন করে তাকে কার্যকরী ভূমিকায় নিয়ে আসা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জমি ক্রয় ও অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানোন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া, বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রামে পরিচালিত কারিকুলাম ও সিলেবাসের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইউজিসি’কে আরো এগিয়ে আসা দরকার বলে আমি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান সাহেবের সাথে আমার কয়েকবার দেখা ও একান্তে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য তাঁর রয়েছে এক মহাপরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে তিনি একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ঘুরে দাঁড়াবার জন্য তাঁর এই সাহসী ইচ্ছাকে আমি স্বাগত জানাই।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে শিক্ষাব্রতী আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, এটি সর্বজনজ্ঞাত সত্য। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই যেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব আরো প্রকট। এমনিতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সিলেবাস হচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমের, তার উপরে সিলেবাসগুলো হচ্ছে নর্থ আমেরিকান। দেশে এখন কাজ করছে প্রায় ৮০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সার্বিক বিবেচনায় এতোগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দক্ষ শিক্ষক যোগান দেয়া, এটি অত্যন্ত বড় একটি চ্যালেঞ্জ বৈকি!
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সঙ্কটের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে। খ-কালীন শিক্ষক দিয়ে কী ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল-টাইম পড়াশোনার কাজ চালিয়ে নেয়া সম্ভব? এই শিক্ষক সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ কী এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষক হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ বা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশিরভাগ শিক্ষক খন্ডকালীন এবং শিক্ষক সংকটের কারণে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয় এ তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয়। যেমন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯০ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩২০ জন শিক্ষক স্থায়ী বা পূর্ণকালীন। মূল কথা হচ্ছে, মানসম্মত শিক্ষাদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খন্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা একেবারেই কম। তবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী সুযোগ মতো খন্ডকালীন শিক্ষকও নিয়োগ করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস কতোটা জরুরি বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল্লাহ বলেন, যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস বা অবকাঠামো নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি একটি বিষয়। উন্নত শিক্ষা প্রদানে গুণগত মান নিশ্চিত করা, ছাত্র-শিক্ষকের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করা, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন করা, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ তৈরি করাসহ সব কিছুতেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে গেলে স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রয়োজন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উদ্যোক্তা এবং এর উপাচার্যগণকে নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তিনি স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। তবে এক্ষেত্রে যে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ, তা হলো জমি সংকট। শুধুমাত্র বৃহত্তর ঢাকা শহরেই প্রায় ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এতোগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরির জন্য এত বিপুল পরিমাণ জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে, এ সংকটের একটি সমাধান হওয়া দরকার।
সম্প্রতি আপনার বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে এমন জিজ্ঞাসার জবাবে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাদ্যোক্তা প্রফেসর ইউসুফ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রযুক্তি বিপ্লবের কারণে হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন ছাত্র-শিকক্ষকে এক জায়গায় মিলিত হয়ে সরাসরি ক্লাস করার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। উন্নত বিশ্বে ভিডিও কনফারেন্সের প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে একজন শিক্ষক ক্লাসে না এসেও তার সকল ক্লাস সময়মতো নিয়ে নিচ্ছেন। উন্নত বিশ্বে এসব বিষয় আজ পুরনো ব্যাপার। মুদ্রিত বইয়ে সুসমৃদ্ধ লাইব্রেরি জাদুঘরে রূপান্তরিত হতে পারে যেকোনো সময়। কেননা, ইলেক্ট্রনিক বই পত্রিকা আর সাময়িকী ইতোমধ্যেই মুদ্রিত বইয়ের স্থান দখল করে নিয়েছে এবং নিচ্ছে। প্রযুক্তিগত এ পরিবর্তনগুলো প্রতিনিয়ত প্রচন্ড গতিতে বেড়ে চলছে। দেশে আজ সব পত্রিকার ইন্টারনেট সংস্করণই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
গত প্রায় ৩ বছর ধরে টানা নিরলস পরিশ্রম করে আমরা নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করার কাজটি করে এসেছি। অনলাইন এডমিশন, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, ভার্চুয়াল ক্লাস ফ্যাসিলিটি, ই-লাইব্রেরি, ই-পেমেন্ট, অনলাইন গ্রাজুয়েট ডিরেক্টরি এবং অটোমেশনের জন্য ঊজচ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করেছি। এসবের আওতায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ভিত্তিক নানাবিধ সুবিধা পেতে থাকবে।
উচ্চ শিক্ষার্থে এদেশের শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাত্রাকে আপনি কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুল্লাহ বলেন, আমার দৃষ্টিতে এদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ গমনের কারণে বিপুল পরিমাণ মেধা এবং অর্থ সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। টঘঊঝঈঙ এর ২০১৪ সালের একটি সমীক্ষার কিছু অংশ তুলে ধরতে চাই। যেখানে ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও কানাডাতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১৫০৩৪ জন। সমীক্ষা অনুযায়ী, এ পাঁচটি দেশে পড়তে যাওয়া ১৫০৩৪ জন শিক্ষার্থীর গ্রাজুয়েশন এবং পোস্ট-গ্রাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করতে ৬ বছরে খরচ হবে প্রায় ২৪০,১৪,১০,০৯৮ আমেরিকান ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১৯২১১,২৮,০৭,৮৪৮ টাকা, অর্থাৎ যা কি না প্রায় ১৯২ বিলিয়ন টাকার সমান। যদি ধরা যায় এদের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের সন্তানদের পড়ালেখার খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করবেন, তাতেও প্রায় খরচ রয়েছে ১২১০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, উক্ত সমীক্ষার বাদ বাকি দেশে পড়তে যাওয়া প্রায় ৮১৫১ জন শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য খরচ এখানে ধরা হয়নি।
দেশ থেকে মেধা পাচার রোধে কার্যকর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্বে মেধা পাচারকে যে অর্থে বলা হতো আমার মনে হয় এখন ওই অর্থের গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের এই ছোট্ট দেশে অনেক মেধাবী মানুষ রয়েছে, কিন্তু মেধার যথাযথ মূল্যায়ন বা ব্যবহারে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। আপনি যদি আমাকে বলেন, বিদেশে পড়তে গিয়ে ফিরে না আসাকে মেধা পাচার বোঝায়। আমি বলব এটি একটি ভুল ধারণা। এখন প্রচুর সংখ্যক মেধাবী দেশে আছে এবং আরো তৈরি হচ্ছে। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার সংস্থান করাকে মেধা পাচার বলা আমি সমীচীন মনে করছি না; বরং আমি বলব, দেশে মেধার অপচয় হচ্ছে এবং এটি খুবই ভয়ংকর। তাই আমি মনে করি, সর্বপ্রথম দেশে মেধা ও মেধাবীদের জন্য সুষ্ঠু-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে প্রচুর পরিমাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে মেধাবীদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। একই সাথে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ জীবনযাত্রার সার্বিক ক্ষেত্রে মানব কল্যাণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।
এ প্রসংগে আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই, প্রতিবছর দেশের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষার্জনের জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। সাথে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকা। এটি একটি জাতির জন্য বিশালাকার ক্ষতি। দেশ ও জাতি বঞ্চিত হচ্ছে শানিত মেধার ব্যক্তিদের সেবা থেকে। এ উভয় প্রকার ক্ষতির মেয়াদ যদি আরো দীর্ঘায়িত হয় এবং এটিকে যদি সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা না যায়, তাহলে জাতি হিসেবে আমাদেরকে পিছিয়ে পড়তে হবে।
ঈইঐঊ (ঈৎড়ংং ইড়ৎফবৎ ঐরমযবৎ ঊফঁপধঃরড়হ) আইন পাস হয়েছে। এ আইনের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনো সমস্যার সম্মুখীন হবে বলে কী মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে দূরদর্শী শিক্ষাদ্যোক্তা প্রফেসর আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ বলেন, আধুনিকায়নের এ যুগে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা আমরা কেনো হারাব? আমরা কি পারি না ৮/১০ বছর ব্যাপী মেগা পরিকল্পনা নিয়ে এ দেশে বিশ্বমানের ৫/৭টি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে? আমরা কি পারি না ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশের ৪/৫টি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল এদেশে স্থাপন করতে? আমাদের জমি রয়েছে, মানব সম্পদ রয়েছে, প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, বিশ্বমানের শিক্ষকও রয়েছে... তাহলে আমরা পারছি না কেনো? আমাদেরকে পারতেই হবে, দেশের মেধা ও অর্থ সম্পদ দেশেই রাখতে হবে এবং দেশকে গড়তে হবে। প্রয়োজন শুধু সাহসী সিদ্ধান্তের।
সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে এর একটি ছোট বিকল্পও রয়েছে। অবশ্যই সেটি হচ্ছে ঋড়ৎবরমহ ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ। ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া এবং কানাডার ৫/১০টি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ঋৎধহপযরংব ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ করে আমরা আমাদের মেধা এবং অর্থ দুটোই কিছুটা হলেও দেশে রাখতে পারি। জাতীয় স্বার্থে ঋৎধহপযরংব ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ এর পথ ঙঢ়বহ করে দেয়া দরকার। বিদেশের অ এৎধফব এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এদেশে আসুক এবং চবৎভড়ৎস করুক। আমরা দেখেছি, দুবাইতে অনেকগুলো বিশ্বমানের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় সফলতার সাথে কাজ করছে। তারাতো পেরেছে, আমরা কেনো পারব না?
প্রফেসর আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব; আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ঞড়ঢ় এৎধফব এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এদেশে চবৎভড়ৎস করার সুযোগ দিন। আমি অবশ্যই নিম্নমানের বা বাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা বলব না। ঞড়ঢ় এৎধফব এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের যে দেশেই ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ করুক না কেনো, তারা ছঁধষরঃু’র সাথে আপোশ করবে না। তারা নিয়মিত ছঁধষরঃু পড়হঃৎড়ষ করবে। বাংলাদেশ নিয়ে তারা ভাববে না, তারা ভাববে তাদের ছঁধষরঃু নিয়ে। সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেই তারা ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ বাতিল করবে। শুধুমাত্র ঝঃঁফু ঈবহঃবৎ এর ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ করে কোনো লাভ হবে না। ঋৎধহপযরংব ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ এর মাধ্যমে তাদেরকে এখানে ঙঢ়বৎধঃব করার সুযোগ করে দিতে হবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাই, ঈইঐঊ এর কারণে উচ্চশিক্ষা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না বরং উচ্চ শিক্ষার গুণাগুণ এবং প্রতিযোগিতা বাড়বে।
উচ্চ শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন সম্পর্কে কিছু বলবেন কি? এ ব্যাপারে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা কী এমন প্রশ্নের জবাবে দৃঢ় প্রত্যয়ী শিক্ষাবিদ প্রফেসর ইউসুফ আব্দুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ‘দ্য কমনওয়েলথ অব লার্নিং’ এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন ডানিয়েল উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণের ওপর জোর দেন। উচ্চশিক্ষার বেসরকারিকরণ তথা এ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কন্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য ‘প্রযুক্তিগত রূপান্তরের অঙ্গীকার’ গ্রহণ করতে তিনি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষা তথা উচ্চ শিক্ষাকে মানসম্মত করা এবং এটিকে সম্পদে পরিণত করতে হলে এটি হবে ব্যয়সাপেক্ষ। খরচ হ্রাস করতে চাইলে প্রাপ্তি ও মানের ক্ষেত্রে অনিবার্য ঝুঁকিতে পড়তে হবে।’ জনাব ড্যানিয়েল আরো বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি অর্জন করা যায়, উচ্চমান লাভ করা যায় এবং একই সাথে খরচও কমানো যায়। এটিই একটি বিপ্লব। যা পূর্বে কখনো ঘটেনি।’ তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সফলতার কথা তুলে ধরেন (যেমন ইন্দিরা গান্ধী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)। তিনি সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উৎকর্ষের উদাহরণস্বরূপ এমআইটি’র উন্মুক্ত শিক্ষামূলক প্রোগ্রামগুলোর কথা তুলে ধরেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় বহু আউট-ক্যাম্পাসের সমন্বয়ে। এমআইটি তাদের আউট-ক্যাম্পাসের কাজকে ত্বরান্বিত করবার জন্য এর পরিপূর্ণ ডিজিটালাইজেশন করেছেন অর্থাৎ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেছেন।
বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের টঘউচ ও টঝঅওউ ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃবফ অপপবংং ঃড় ওহভড়ৎসধঃরড়হ চৎড়মৎধস এর নীতিনির্ধারক উপদেষ্টা, ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইংলিশ ইন একশন এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক সেমিনারে বলেন, ‘ঊফঁপধঃরড়হ রং মড়রহম ড়ঁঃংরফব ঃযব নঁরষফরহম’.
উক্ত দু’জনের সারগর্ভ বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ইংগিত পাওয়া যায়, তা হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। এখানে বিল্ডিং বা ভবন মুখ্য বিষয় নয়। বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য শুধুমাত্র ভবনকে আঁকড়ে ধরে থাকলে চলবে না, আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাসমূহ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি যুগান্তকারী ঘোষণা, একটি স্বপ্ন। এ স্বপ্নের বাস্তবায়নে প্রত্যেককেই যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। পুরনো ধ্যান-ধারণা ত্যাগ করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সুশিক্ষিত জাতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্পর্কে স্বপ্নদ্রষ্টা শিক্ষাদ্যোক্তা প্রফেসর আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ বলেন, সুশিক্ষিত জাতি ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি জাতি গঠনের পূর্বশর্ত। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, সুশিক্ষিত জাতি ও দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া উন্নত জাতিতে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়, পরনির্ভরশীলতা আমাদের কাটবে না। এসব পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ওহঃবহংরাব ঈষধংং এর আওতায় এনে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার নেই বললেই চলে।
আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মানবপ্রেমী নিবেদিত শিক্ষক প্রফেসর ইউসুফ আব্দুল্লাহ বলেন, মঞ্জুরি কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৫% ছাত্র-ছাত্রীকে টিউশন ফি মওকুফের কথা থাকলেও আমরা প্রতি সিমেষ্টারে ১০% এর অধিক দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর টিউশন ফি মওকুফ করছি। গত আর্থিক বছরের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৭,৮০,০০,০০০ (সাত কোটি আশি লাখ) টাকা আমরা খরচ করেছি শুধুমাত্র বৃত্তি ও উপবৃত্তি খাতে। অথচ বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আমরা অনেক কম টিউশন ফি নিয়ে থাকি।
আপনাদের এ দ্রুত সফলতার পেছনে কোন্ জিনিসটির অবদান বেশি বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নে নিষ্ঠাবান শিক্ষা ব্যক্তিত্ব প্রফেসর আব্দুল্লাহ বলেন, দ্রুত সফলতার পেছনে কোনো একটা জিনিসের অবদানকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করার খুব একটা সুযোগ নেই। তবে এর অন্যতম প্রধান কারণটি হচ্ছে অপধফবসরপ ঊীপবষষবহপব তৈরি করা। প্রফেসর আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা এ জিনিসটির দিকেই নজর দিয়েছি বেশি। অপধফবসরপ ঊীপবষষবহপব তৈরি করার জন্য দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, মনোরম ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, সমৃদ্ধ ল্যাব ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা-সহায়ক আধুনিক সরঞ্জামের যোগান ইত্যাদি বিষয়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা-সহায়ক আধুনিক সরঞ্জামের যোগান দিতে আমরা ব্যয় করছি প্রায় ৬০% অর্থ, যেখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৭৫% ব্যয় হয় শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মকান্ডে। যে কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানেই আমরা ইন্টারনেট সমৃদ্ধ সুপরিসর শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ক্লাসরুমগুলোতে লেটেস্ট মডেলের মাল্টিমিডিয়া সংযুক্তকরণ, দ্রুত গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্রাউজিং ল্যাব প্রতিষ্ঠা, অনলাইনভিত্তিক সুবিশাল লাইব্রেরি, ডিপার্টমেন্টগুলোর জন্য আধুনিক মডেলের ল্যাবরেটরি স্থাপন, শিক্ষকদেরকে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য বিদেশে প্রেরণ, গবেষণার কাজে শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ ইত্যাদি কাজ আমরা দক্ষতার সাথে করছি।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সকল শ্রেণির মানুষের মাঝে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে, এর পিছনে কী কী কারণ রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞ শিক্ষা-প্রশাসক প্রফেসর আব্দুল্লাহ বলেন, শুরুতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জনমনে আগ্রহের পাশাপাশি কিছু আশংকাও ছিল। কিন্তু সে আশংকা শুধু আশংকাই থেকে গেছে, সব আশংকা এবং সমালোচনাকে পেছনে ফেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গণমানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে অল্পদিনের ব্যবধানেই অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আজ মাথা উঁচু করে বীরদর্পে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পড়াশুনার পরিবেশকে সমূলে ধ্বংসকারী ছাত্র-রাজনীতি বা শিক্ষক-রাজনীতি বলতে কোনো কিছু এখানে নেই, সেশনজট নেই, ছাত্র-ছাত্রীরা নির্ধারিত সময়েই তাদের কাক্সিক্ষত গ্রাজুয়েশন শেষ করতে পারছে, কর্মমুখী সিলেবাসের কারণে এখানকার গ্রাজুয়েটরা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারছে ইত্যাদি। ফলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশের সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা এবং আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নর্দান ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের সন্তানদেরকে সুশিক্ষিত এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলাম। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সে লক্ষ্য থেকে আমাদের সামান্যতমও বিচ্যুতি ঘটেনি। শিক্ষার উচ্চমান ধরে রাখা এবং একে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
নর্দানে নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ও মনন বিকাশে আপনারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আশাবাদী শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু ক্লাস ও পরীক্ষার পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদেরকে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ক্যারিয়ার গঠনমূলক ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, তথ্য-প্রযুক্তি বিস্তারে আইটি মেলা, নিয়মিত স্টাডি ট্যুর, গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক হেনরী ডুনান্ট মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি কাজ বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট, ফুটবলসহ বিভিন্ন গেমসে অংশগ্রহণ ইত্যাদি বহুরকমের এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ লাভের জন্য বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রম যেমন ডিবেটিং ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, প্রোগ্রামিং ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব ইত্যাদির ব্যাপক চর্চা রয়েছে। প্রাণচঞ্চল শিক্ষার্থীরা আর্ত-পীড়িত মানুষদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন কর্মকান্ড যেমন বন্যা দুর্গতদের সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি, গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ইত্যাদি কর্ম যথেষ্ট আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে পালন করছে।
আপনার ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কেমন করবে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুল্লাহ বলেন, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যথেষ্ট ভালো করছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম। তাছাড়া ফার্মেসি, বিবিএ এবং সিএসসি ডিপার্টমেন্ট অত্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার নেই বললেই চলে।
চেয়ারম্যান হিসেবে নর্দান ইউনিভার্সিটিকে ঘিরে আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. আব্দুল্লাহ বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটির সেøাগান ‘কহড়ষিবফমব ভড়ৎ ওহহড়াধঃরড়হ ধহফ ঈযধহমব’ নিয়ে শুরুতেই দু’টি কথা বলতে চাই। ঈযধহমব বা পরিবর্তন এর মূল কথা হচ্ছে, একটি অবস্থান থেকে আরো উন্নত অবস্থানের দিকে যাওয়া। আমরা একটি উন্নত ও গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়েছি। নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সমাজের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত জ্ঞান বা কহড়ষিবফমব প্রসারের কাজ করে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি, মানসম্মত ও প্রকৃত জ্ঞান-ই কাঙ্খিত পরিবর্তন সাধনে সহায়তা করে। প্রকৃতপক্ষে যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে এই সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আমরা আশা করছি।
প্রফেসর আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ আরও বলেন, আধুনিক শিক্ষা-পদ্ধতির পাশাপাশি নিবিড় তত্ত্বাবধানের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যেই নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে; তাই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এনইউবি দিনে দিনে আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের মেধা-মননের সমৃদ্ধি ঘটিয়ে তাদেরকে গড়ে তুলতে পারে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযুক্ত করে।
দেশের শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ পরামর্শ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন দেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৌশল, মেডিকেল এবং বাণিজ্য শিক্ষাসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই আধুনিক বিশ্বের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণাধর্মী এবং হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো অপরাজনীতি, ইভটিজিং এবং সংকীর্ণ মন-মানসিকতার প্রভাব থাকবে না বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রতিযোগিতা ও পরস্পর সহযোগিতামূলক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশীদার হতে হবে। একই সাথে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সহযোগিতার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিকে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। গবেষণা এবং শিক্ষক-প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিশেষভাবে প্রয়োজন।
আপনি কর্মজীবনে অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন, নর্দান ইউনিভার্সিটি কোন্ পর্যায়ে উন্নীত হলে আপনি সন্তোষবোধ করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ বলেন, দেশ এবং বিদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যাশিক্ষার সুযোগলাভ করেছিলাম। দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যেও আমি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ্। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার মাধ্যমে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় একটি হাজার বছরের প্রতিষ্ঠান। এটির বিকাশ লাভের কোনো শেষ স্তর নেই। তবে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়কে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর একটি বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ার লক্ষ্য রয়েছে আমার। এই প্রক্রিয়ায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চাই।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ