বিশেষ খবর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ শিক্ষামন্ত্রীর

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন ছয় হাজার ৮২৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। শতকরা হিসেবে তা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরীক্ষায় নকলের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে সাত শিক্ষার্থীকে। এছাড়া একজন পরিদর্শকও বহিষ্কার হয়েছেন। পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এতথ্য জানানো হয়েছে।
১ ফেব্রুয়ারি এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কোরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ (সৃজনশীল) ও বাংলা-২ (সৃজনশীল) ও দাখিল ভোকেশনালে বাংলা-২ (সৃজনশীল) পরীক্ষা হয়েছে।
তিন হাজার ১৪৩টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দিন ঢাকা বোর্ডে ৮৪৭ জন, রাজশাহীতে ৪২১ জন, কুমিল্লায় ৫১০ জন, যশোরে ৪২৩ জন, চট্টগ্রামে ২৭৯ জন, সিলেটে ২৫২, বরিশালে ২৫০ এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৩০৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল দুই হাজার ৫৯৭ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী।
যশোর ও মাদ্রাসা বোর্ডে একজন করে এবং কারিগরি বোর্ডে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। মাদ্রাসা বোর্ডের একজন পরিদর্শককেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা নেই, গুজবে কান দেবেন না -শিক্ষামন্ত্রী
ফেসবুকে বা অন্য কোনোভাবে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো আশঙ্কাই নেই। এ ধরনের গুজবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কান না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছেলে-মেয়েরা হাসি মুখে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না, যে যার মতো করে পরীক্ষা উত্তরপত্র ভরাট করছে। এ সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো আশঙ্কা নেই। এ ধরনের গুজবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কান না দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে ভুয়া প্রশ্ন ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ব্যবস্থা নেবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়াম্যান আবু বকর ছিদ্দিকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
বদলে গিয়েছে ঢাকার বহু নামিদামি স্কুল-কলেজ এর পরীক্ষা কেন্দ্র
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের যোগসাজশে প্রশ্ন ফাঁসসহ অব্যাহত অনিয়ম বন্ধে কেন্দ্র নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত দুই-তিন বছরে পাবলিক পরীক্ষায় যেসব স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা শুরুর আগেই বান্ডিল খুলে প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের সকল কেন্দ্র রদবদল করা হয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের তদন্তে যেসব প্রতিষ্ঠান সন্দেহের তালিকায় এসেছে তাদের কেন্দ্রও পরিবর্তন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যেসব প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র একই স্থানে নির্ধারিত হয়ে আসছে পরিবর্তন করা হয়েছে তাদের কেন্দ্রও। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাতেই রাজধানী ও তার আশপাশে অবস্থিত প্রায় সকল নামি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্র বদলে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা কিছুটা কমতে শুরু করার পর এবার নতুন উদ্যোগে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ড কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যেই কেন্দ্র পরিবর্তন হওয়া সকল প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির কারণে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা কিছুটা কমতে শুরু করলেও এ সঙ্কট এবার নতুন মোড় নিয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। গত এক বছরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাতেই রাজধানীতে এমন ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বেশ কয়েটি নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। দুই প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে প্রশ্ন ফাঁসের বিনিময়ে লেনদেন হচ্ছে নগদ অর্থ, এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানকে ঘুষ হিসেবে দিচ্ছে জেনারেটর, এসিসহ নানা সুবিধা। প্রশ্ন ফাঁস ছাড়াও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর দেয়ার জন্যও হচ্ছে একই লেনদেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর পর রাজধানীতে এমন ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন নামি দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ শিক্ষক-কর্মচারী। পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে গেছে রাজধানীর ডেমরার গোলাম মোস্তফা মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিষ্ঠানের কেলেঙ্কারির ঘটনার পরই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। টানা তিন বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষায় একই অপকর্ম করে প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি প্রায় শতভাগ নিয়ে এসেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রমাণসহ ধরা খেয়েছেন গবর্নিং বডির সভাপতি, সদস্য, অধ্যক্ষসহ পুরো চক্র। গত বছর এইচএসসিতেও নির্দিষ্ট সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই এখানে পরীক্ষা নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরীক্ষার দিন ভল্ট থেকে প্রশ্ন বের করে সকাল সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের হলরুমে একত্র করে প্রশ্নের সমাধান করা হয়েছে। প্রমাণ মিলেছে নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষা নিয়ে ৬০ জনের মধ্যে ৫৯, অর্থাৎ ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ