বিশেষ খবর

শিক্ষার সব সূচকেই সাফল্য

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

সব পর্যায়ের শিক্ষায়ই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে; প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বৃদ্ধির হার উল্লেযোগ্য। বছর তিরিশেক আগে বেশির ভাগ গ্রামে মাধ্যমিক পর্যায় সম্পন্ন করা নারী শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল।
১৯৮০ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিল ৭৪ জন, আর ছাত্রী ছিল ২৬ জন। এটা গড় হিসাব; গ্রামে ছাত্রীর সংখ্যা খুবই কম ছিল। ১৯৯৪ সালে কোনো ধরনের শিক্ষাগ্রহণ না করা নারী ছিল ৩৬ শতাংশ। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
কয়েক বছর আগেই শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হয়েছে। এখন এই দুই পর্যায়ে ছেলের চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এটাকে বর্তমান সরকারের বড় সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষাবিদরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের অংশগ্রহণের হার ৫১ শতাংশ ও ছেলেদের ৪৯ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তরে মেয়ে ৫৩ শতাংশ ও ছেলে ৪৭ শতাংশ। ছয়-সাত বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষায়ও ছেলেমেয়ে সমতা অর্জিত হবে। শিক্ষা খাতের বিপ্লবের কারণেই এমডিজি পূরণে সরকারকে বেগ পেতে হয়নি। ২০০৯ সালে ৯ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যেত না। যারা যেত তাদের ৪৮ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে যেত। এখন প্রায় শতভাগ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ৪৮ থেকে ২১ শতাংশে নেমেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা কয়েক বছর আগেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ছেলেমেয়ে সমতা অর্জন করেছি। এখন ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। শিগগিরই উচ্চশিক্ষায়ও সমতা অর্জিত হবে। শতভাগ শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তাতেও আমরা সফল হয়েছি। মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন কারিগরিতে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ১ শতাংশ; সেটা এখন ১০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের কারণে উচ্চশিক্ষায়ও অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী বর্তমানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। বর্তমানে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর ৬৩ শতাংশ পড়ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণার সুযোগও বাড়ছে। একসময় বছরে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী শুধু ভারতে উচ্চশিক্ষা নিতে যেত। সেটা এখন শূন্যের কোঠায় নেমেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৬৩০ জন বিদেশি শিক্ষার্থীও অধ্যয়ন করছে।
কিছুদিন আগেও গ্রামের স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম অকল্পনীয় ছিল। এখন যে গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, সেখানেও আছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। সোলার প্যানেল বসিয়ে চালানো হচ্ছে এ ক্লাস। ডিজিটাল কনটেন্ট, ভিডিও এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। ২৩ হাজার ৩৩১টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিকের প্রায় ৬৬ হাজার স্কুলেও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সাড়ে সাত হাজার স্কুলে ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এ বছর থেকে ডিজিটাল বই দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। মার্চের মধ্যে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ বই পাবে। আগামী দিনে অন্যান্য শ্রেণির বইও ডিজিটাল হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের প্রথম কাজ ছিল শতভাগ এনরোলমেন্ট, ছেলেমেয়ের সমতা অর্জন ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। সেটা সরকার পেরেছে। এরপর আমরা কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর জোর দিয়েছি।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ভূমিকায় ক্লাস-পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কলেজে ভর্তি ও ক্লাস শুরুর জন্য নির্ধারিত সময় ছিল না। এখন সব কিছুতেই শৃঙ্খলা ফিরেছে। কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত সময়ে পাবলিক পরীক্ষা হচ্ছে। ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশিত হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ক্লাস শুরু হচ্ছে ১ জানুয়ারি। আর উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু হচ্ছে ১ জুলাই। ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য রাজধানীর বেশির ভাগ স্কুলে আবেদন করতে হয় অনলাইনে। আগামী বছর দেশের বেশির ভাগ স্কুলেই অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির আবেদনও অনলাইনে করা যায়। জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।
সরকারের বড় অর্জন সব শিশুকে বছরের প্রথম দিনে বিনা মূল্যে বই দেয়া। গত সাত বছরে প্রায় ২৬ কোটি শিক্ষার্থী ১৯০ কোটি বই পেয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, এবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি বিদ্যালয়ের চার কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার হার ছিল ১ শতাংশেরও কম। ছয় বছরে এ হার ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২০ সালের মধ্যে এ হার ২০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ধনী-দরিদ্র সব শিশুর দায়িত্ব সরকার নিয়েছে। বিনা মূল্যে বই দিচ্ছে তাদের। স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনতে এ বছর শতভাগ শিশুকে উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বছর পর্যন্ত প্রাথমিকের ৭৮ লাখ শিশুকে উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে, এবার দেয়া হবে এক কোটি ৩০ লাখ শিশুকে। তারা প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে পাবে।
অবকাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। দোচালা বা চারচালা টিনের ঘরে আর পড়তে হয় না এখন। গ্রামের স্কুলের জন্যও তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ভবন। স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ