বিশেষ খবর

নদীদখল ও দূষণকারীরা এ যুগের রাজাকার

ক্যাম্পাস ডেস্ক সংবাদ
img

নদীদখল ও দূষণকারীরা এ যুগের রাজাকার। এটি নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এর বচন। আক্রমণটা অযথা নয়। একাত্তরে রাজাকাররা মানুষের প্রাণ নিয়েছে। এখন নদীদখলকারীরা নদীর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বেপরোয়া দখলে বিপর্যস্ত আদি বুড়িগঙ্গা ও এর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তাগণ এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, রাজধানীর চারটি নদী, বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা দখল-দূষণের কথাই বেশি করে উচ্চারিত হয়। যদিও নদীবহুল বাংলাদেশের অসংখ্য নদী দূষণের শিকার হয়ে বিপন্ন বিপর্যস্ত; মানুষের অপরিণামদর্শিতার কারণে বহু নদী ধুঁকে ধুঁকে মরছে। বিশ্বের আর কোথাও এদেশের মতো এমন নদীহত্যার নজির নেই।
বহির্বিশ্বে প্রকৃতির উপহার সংরক্ষণের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেয়া হয়। নদীকে প্রাণবন্ত, দূষণমুক্ত রাখা এবং তার প্রবাহ অবাধ রাখার জন্য রীতিমতো আইন প্রণয়ন হয়। এককালে খরস্রোতা ছিল এমন বেশ ক’টি নদীÑ যেমন বলেশ্বর, ব্রহ্মপুত্রের মরণদশার যে চিত্র উঠে এসেছে তা উদ্বেগজনক। এসব নদীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। ফসলী মাঠ আর ইটের ভাঁটিতে যেন রূপান্তরিত হয়ে গেছে এক সময়ের খরগ্রোতা নদীর দেহবাঁক। পানি হ্রাস পাওয়ায় একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল, অন্যদিকে তেমনি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠেছে চাষাবাদ। ক্রমাগত পলি জমে নদীসমূহের নাব্যতা ক্রমশই কমে যাচ্ছে। রুগ্ন এ নদীর দু’পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে মাটি।
আমরা বার বার বলছি নদীকে বইতে দিতে হবে তার নিজস্ব ছন্দে। প্রকৃতির ওপর অত্যাচার চালানো হলে এক পর্যায়ে প্রকৃতি প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হয়Ñ এমন উদাহরণ যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও মানুষের স্বেচ্ছাচারী ব্যবসায়িক কর্মকান্ড থেমে নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী দখলকারীদের স্থাপনা ভেঙে দেয়াসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে মাঝেমধ্যে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে অবৈধ উপায়ে নদীতীরে কারখানা স্থাপনের তুঘলকি কা- ঘটে কিভাবে! আরও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এইসব নদীর করুণ দশা প্রত্যক্ষ করেও দীর্ঘদিন পুনর্খনন বা সংস্কার করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন যাবতই রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী দূষণের কথা বলা হচ্ছে। কালে কালে সেই দূষণ এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নদীটির পানি শোধনের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বহুকাল ধরে হাজারীবাগের ট্যানারি থেকে সরাসরি বর্জ্য ফেলা হয়েছে বুড়িগঙ্গায়। ঢাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ২২০ থেকে ২৩০ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে থাকে মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও ময়লা। দীর্ঘ সময় ধরে ফোটানো হলেও কিছু এলাকার ওয়াসার পানি থেকে দুর্গন্ধ যাচ্ছে না, তা পানযোগ্যও করা যাচ্ছে না।
শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার পানি এতটাই দূষিত যে তা শোধন করেও পানযোগ্য করা যাচ্ছে না। রাজধানীর চারপাশের চার নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনার কথা সংসদে উচ্চারিত হয়েছে বার বার। ভূমিদস্যু ও নদী হন্তারকরা আইন আদালতের তোয়াক্কা করে না। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জরিপ পর্যালোচনায় বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে দেশের উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার বিষয়টি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে ‘ডাইরেক্ট এ্যাকশন’ গ্রহণই যুক্তিযুক্ত। আলোচনা-সমালোচনা বাক্যবাণ যথেষ্ট হয়েছে। দেশবাসী চায় শুধু বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে নয়, সচেতন মন্ত্রিবর্গ নদীদূষণ ও দখলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে এখনি উদ্যোগী হবেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ