বিশেষ খবর

শিক্ষাখাতে চাই পরিকল্পিত বাজেট

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিবেদন

॥ জুবের আহমদ ॥

একটি উদাহরণের মাধ্যমে লেখাটা শুরু করি। এক স্কুলে একতলা বিল্ডিং করা হয়েছে, কিন্তু ফাউন্ডেশন পাঁচ তলার, বাকি চার তলার বাজেট বরাদ্দ করা হয়নি। ফলে বাকি চার তলা নির্মাণ না করে ওই বিল্ডিং ব্যবহার করে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। কয়েক বছর পর ওই স্কুলে বাকি চার তলা নির্মাণের বাজেট বরাদ্দ না করে সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। নতুন বিল্ডিং নির্মাণ না করে পুরোনো বিল্ডিংয়ে বাকি চার তলা নির্মাণ করা হলে সরকারের ব্যয় কমত। বাজেটে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি খরচের দিকনির্দেশনাও থাকা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনো খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থ জমা-খরচের হিসাব রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে এরপর প্রয়োজনে উত্তোলন করে খরচ করতে হবে। এতে ব্যাংকে জমা-উত্তোলনের হিসাব থাকবে। দুর্নীতির সুযোগ কমবে।

যেসব স্কুলে বহুতল ফাউন্ডেশনে বিল্ডিং একতলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, ওইসব স্কুলের বিল্ডিংয়ে অবশিষ্ট তলা পূর্ণ করার আগে নতুন বিল্ডিং করা যাবে না। অর্থাৎ কোনো স্কুল পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনের বিল্ডিংয়ে যদি একতলা নির্মাণ করে পরিচালিত হয়, কয়েক বছর পর ওই স্কুলে নতুন বিল্ডিং করার অর্থ বরাদ্দ করার আগে অবশিষ্ট চার তলা পূর্ণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে। যেসব স্কুলে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ হয়নি, সেসব স্কুলে নতুন বিল্ডিং নির্মাণের আগ পর্যন্ত যে স্কুলে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে, সেই স্কুলে নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করা যাবে না। এতে সুষম বণ্টন হবে।

প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রাইভেট স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আসনের চেয়ে শিক্ষার্থী বেশি ভর্তি করতে হতো। অনেক শিক্ষার্থী আসন না পেয়ে ঝরে পড়ত। সব শিক্ষার্থীর আসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে নতুন করে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হতো। এতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেত। এ খাতে ব্যয় কমানোর জন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নতুন মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে হলে যে জেলায় নেই, সে জেলায় আগে নির্মাণ করতে হবে। যে জেলায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সে জেলায় এগুলো নির্মাণের জন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্কুলের ভবন নির্মাণ, উন্নয়ন, পরিচালনা ব্যয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করা হলে দুর্নীতি করার সুযোগ কমবে। মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সাধারণ অনার্স, মাস্টার্স কোর্সের যেসব সাবজেক্ট বিদেশে পড়ানো হয় কিন্তু বাংলাদেশে এখনো চালু হয়নি, সেসব সাবজেক্ট বাংলাদেশে চালু করতে হবে। পরিকল্পিত বাজেটের মাধ্যমে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে। লেখকঃ প্রাবন্ধিক


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ