ক্যাম্পাস পরিচালিত ফ্রি সেমিনার অন প্রোএকটিভ এন্ড পজিটিভ এটিচিউড

প্রেম-বিয়ে-দাম্পত্য
Happy Marriage Life: Husband-Wife Relationship

গত ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ফ্রি সেমিনার অন প্রোএকটিভ এন্ড পজিটিভ এটিচিউড এর ২২তম পর্ব। ব্যক্তিসত্তার যথার্থ বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মশক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) নিয়মিত পরিচালনা করে এ সেমিনার। সে ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এবারের সেমিনারের বিষয় প্রেম-বিয়ে-দাম্পত্য; Happy Marriage Life: Husband-Wife Relationship.
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব এম হেলালের সঞ্চালনায় উক্ত সেমিনারে মুখ্য বক্তা ছিলেন প্রোএকটিভ এটিচিউডের জনপ্রিয় প্রবক্তা, গবেষক ও চিত্তাকর্ষক উপস্থাপক ড. আলমাসুর রহমান।

ড. আলমাসুর রহমান
নান্দনিক উপস্থাপক ড. আলমাস বলেন- মানুষ বিয়ে করে সারাজীবন সুখে থাকার জন্য, একসাথে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করার জন্য। কিন্তু সুখী দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। এ প্রশিক্ষণ না নিয়েই মানুষ বিয়ে-পর্ব সেরে ফেলে। অথচ এ বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষণ দরকার।
তিনি বলেন- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের ১ বছর পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর সুসম্পর্ক থাকে, দু’বছর যেতে না যেতেই স্বামী-স্ত্রী একই ছাদের নিচে থেকেও দু’জন থাকে দু’দিকে; শুধু সামাজিক কারণে বিয়েটা টিকিয়ে রাখে। অথচ তারা জানে না Marraige is not an emotion; marraige is a decision, its a commitment. মনুষ্য সমাজে সবচেয়ে বড় চুক্তি হলো বিয়ের চুক্তি।
ড. আলমাস বলেন- প্রত্যেক মানুষের মন-মানসিকতা আলাদা, কারো সাথে কারো মিল নেই। ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা দু’জন ছেলে-মেয়ে সারাজীবন একত্রে থাকার চুক্তিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। এক্ষেত্রে সুখী থাকতে হলে দু’জন দু’জনকে বুঝতে হবে, মূল্যায়ন করতে হবে। বিবাহিত জীবনে মনে রাখতে হবে- একে অপরকে জানা, বোঝা, ক্ষমা করা, মূল্যায়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে স্বামীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- আপনার স্ত্রী দেখতে সুন্দর, তিনি ভালো রান্না করেন; কিন্তু আপনি তার প্রশংসা করেন না। অথচ প্রতিবেশী একজন আপনার স্ত্রীর রান্নার প্রশংসা করেন। আপনি আপনার বিজনেস পার্টনারের সাথে সুন্দর করে কথা বলেন, কিন্তু লাইফ পার্টনারের সাথে কথা বলতে বিরক্ত হন। তখন আপনার স্ত্রী ভাববে আপনি তার মূল্যায়ন করেন না। আর এভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়।
তিনি বলেন- স্বামী-স্ত্রী হলো পরস্পরের পোশাক; এটা মেইনটেইন না করলে সমস্যা সৃষ্টি হবে। পারিবারিক জীবনে সুখী হতে চাইলে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে Study করতে হবে; পরস্পরের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। স্বামীর ভালো-মন্দ স্ত্রীকে বুঝতে হবে; স্বামীকেও স্ত্রীর ভালো-মন্দ জানতে হবে। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে ড. আলমাস বলেন, বলিউডের বিশ্বখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে বিয়ে করার জন্য সুন্দরীদের বিরাট লাইন পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাকে বিয়ে করেন জয়া ভাদুড়ী। এক প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন- আমি অমিতাভকে বোঝার চেষ্টা করেছি, তার পছন্দ-অপছন্দকে মূল্যায়ন করেছি, তার ভালো-খারাপ দেখেছি। একজন অন্যজনকে যদি না বোঝেন, তাহলে সম্পর্ক টিকবে কীভাবে! স্বামী যা পছন্দ করেন স্ত্রী যদি তা না বোঝেন, তাহলে সম্পর্ক কীভাবে সুখের হবে!
ড. আলমাস বলেন, সম্পর্ক ভালো রাখতে ৩টি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন- কথা বলা, Appreciation বা প্রশংসা করা এবং Goal বা লক্ষ্য মেনে নেয়া। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা বলা অব্যাহত রাখতে হবে। যেকোনো বিষয় নিয়ে হোক, কথা বলার অবতারণা করতে হবে। অন্যদিকে মনের খাদ্য হলো প্রশংসা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। সব মানুষই তা চায়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনের জন্যই এটা প্রয়োজন। আর স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের লক্ষ্যকে নিজের লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরস্পরকে সাহায্য করতে হবে।
ড. আলমাস বলেন, সম্পর্কের অবনতির কারণও ৩টি। যেমন- Complain, Compare, Compromise. Complain অর্থাৎ অভিযোগ বা দোষারোপ পরস্পরের সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। দোষগুলোকে বড় করে না দেখে, সেগুলো Overlook করে গুণগুলোকে তুলে ধরতে পারলে দু’জনের সম্পর্ক ভালো হবে, দৃঢ় হবে। আবার অন্যের সাথে Compare বা তুলনা করলে ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগে। এ অভ্যাসটা বদলানো প্রয়োজন। নিজের যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকলে পারিবারিক-সামাজিক সংঘাত এড়িয়ে চলা সম্ভব; এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। আর Compromise করতে হবে; তবে সেটা আপোষ অর্থে নয়; Adjustment & Acceptance এর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে এটি গভীর রেখাপাত করবে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের উন্নয়নে পরামর্শ রেখে ড. আলমাস বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নে যে নিয়মটা অনুসরণ করতে হবে তা হলো -We respect each other, we adjust each other and we honour each other. দু’জন দু’জনকে মর্যাদা দেয়া, কথার গুরুত্ব দেয়া, স্বীকৃতি দেয়া, কথা বলা, অভিযোগ-অনুযোগ না করা -এগুলো গুরুত্ব সহকারে মেনে চললে সম্পর্কের অবনতি হবে না, সম্পর্ক আরও দৃঢ় এবং সুখময় হয়ে উঠবে।

এম হেলাল
সেমিনারের সঞ্চালক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসি’র মহাসচিব এম হেলাল বলেন, সারাজীবনের বন্ধনে আবদ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে জীবনের শুরু থেকে Adjustment এর দৃষ্টিকোণে Compromising মানসিকতা বজায় রেখে চলতে হবে। নিজের ইচ্ছা সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সঙ্গীর পছন্দ-অপছন্দের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। তার সাথে সহজ-সরল ও ন্যাচারাল কথা বলতে হবে, Thankful & Grateful থাকতে হবে -তাহলেই সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে, মধুময় হবে দাম্পত্য জীবন।
ক্যাম্পাস’র পরবর্তী প্রোএকটিভ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, বিকাল ৫ টায়। সেমিনারের বিষয়- How to Create Positive Thought.