ক্যাম্পাসঃ মিথ্যার আশ্রয় নেই যে প্রতিষ্ঠানে

আমি যখন ভবঘুরের মত ঢাকা শহরে ঘোরাফেরা করছিলাম, তখন একদিন পরিচয় হয় আনোয়ার সাহেবের সাথে।কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম, উনি একটি সিকিউরিটি কোম্পানীর মালিক; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড সরবরাহ করেন। আমার অসহায়ত্ব বুঝতে পেরে তিনি আমাকে তার কোম্পানীতে চাকরি দিলেন এবং আমি একটি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতে থাকলাম। চাকরি করাকালীন একদিন আমার মালিক আমাকে বললেন, তোমাকে একটা নতুন অফিসে ডিউটি করতে হবে।শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান, ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র (সিএসডিসি)। তারা সৎ ও নিষ্ঠাবান লোক চায়। তোমাকে সেখানে ১০০% সততার সাথে কাজ করতে হবে। তার কথায় রাজী হলে তিনি আমাকে পরদিন এখানে নিয়ে আসেন। এভাবেই ক্যাম্পাস’র চাকরিতে আমার যোগদান। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে এসে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং জেনেছি। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সকলেই অত্যন্ত কর্মসচেতন, সময় সচেতন, সৎ, নিষ্ঠাবান ও নিবেদিতপ্রাণ। সবার সাথেই উনাদের ব্যবহার ভদ্র, অমায়িক ও বিনম্র, এমনকি আমার সাথেও। আমি একজন গার্ড হয়ে উনাদের কাছ থেকে যে সাহায্য-সহযোগিতা, আতিথেয়তা ও বন্ধুত্ব পেয়েছি, তা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে পাইনি। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রধান, ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসি’র মহাসচিব এম হেলাল স্যারের দয়া ও মহানুভবতা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে। উনি নিজের বাসা থেকে কোনদিন একটি ভাল খাবার আনলে তা আমাকে না দিয়ে কখনও খান না। আর সম্পাদক স্যারের ক্ষমার বিষয়টিও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি একটি কাজে ভুল করলে উনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে বলেন, তুমি সংশোধন হয়ে যাও। এ রকম পরপর কয়েকবার উনি আমাকে ক্ষমা করে ভাল হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। অন্যত্র এ সুযোগ পেতাম কি না সন্দেহ।

ছোটবেলায় অভাবের কারণে পড়াশোনায় এগুতে পারিনি। পরিবারের বড় ছেলে হওয়াতে সংসার নামক জীবন-যুদ্ধের হাল ধরতে পড়ালেখা ছেড়ে কাজের সংস্থানে বের হতে হয়েছে। নিজে পড়তে পারিনি, কিন্তু ছোট ভাই-বোনদের পড়ানোর অদম্য ইচ্ছায় দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমারও যদি একটা বড় ভাই থাকত, হয়ত আমিও পড়ালেখা করতে পারতাম। তাই ওদের পড়াতে পারলে আমার না পড়ার দুঃখ সুখে পরিণত হবে এই ভেবে যে, ভাই-বোনদের জন্য কিছু করতে পেরেছি। তাছাড়া ক্যাম্পাস-এ এসে এখান থেকে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা আমি নিয়মিত পড়ি। সে সুবাদে পড়ালেখা না করতে পারার দুঃখ আমার কিছুটা হলেও ঘুচেছে।

ক্যাম্পাস’র লেনদেন খুবই প্রশংসনীয়। আমার জানামতে-এই প্রতিষ্ঠানে কোন পাওনাদার এসে কোনদিন বলে নাই, আমার পাওনা দেন। কেউ বলার আগে বা চাওয়ার আগেই তার পাওনা দিয়ে দেয়া হয়। আমি আজ পর্যন্ত একজন লোককেও দেখিনি বা বলতে শুনিনি যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস -এর কাছে তার পাওনা নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছে কিংবা ক্যাম্পাস পাওনা পরিশোধে দেরি করেছে। লেনদেনে এমন স্বচ্ছ কর্মাধ্যক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের কথা আমি আর শুনিনি।

আর একটা বিষয় না বললেই নয়, সেটা হল- এই অফিসের আপ্যায়ন-ব্যবস্থা। অফিসে সম্পাদক স্যার যখন যা ভাল খাবার খান, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিওন-দারোয়ান পর্যন্ত সবাই তার ভাগ পায়। অফিসে কোন ভোজ থাকলে সম্পাদক স্যার নিজ হাতে অন্যদের খাবার পরিবেশন করেন, এমনকি আমাকেও। তিনি খান সবার পরে। অনেকে আছেন, যারা কোনদিন অভিভাবকের হাত থেকে খাওয়ার সুযোগ পাননি, তারাও স্যারের এ আপ্যায়নে মুগ্ধ হন, খান পরিতৃপ্তির সাথে।

এই প্রতিষ্ঠানের সাহচর্যে এসে অনেক ছাত্র-যুবক নিজেকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে নিয়েছে, যা সম্ভব হয়েছে সম্পাদক স্যারের সঠিক দিক-নির্দেশনার কারণে। আল্লাহ উনাকে শত বছর হায়াত দিক। সেই সাথে ক্যাম্পাস’র সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করছি। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার ‘ক্যাম্পাস পরিবার’ কলামে সবার লেখা ছাপানো হচ্ছে দেখে আমিও লেখায় আগ্রহী হই। তাই আর দেরি না করে আজ ৮ জানুয়ারি ২০১০ অফিস খোলার আগেই আমি গেইটে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে ক্যাম্পাস সম্পর্কে আমার অনুভূতি লিখেছি। আমার এই লেখা পড়ে যদি কারও ভাল লাগে, তাহলে খুবই প্রীত হব এবং জীবন সার্থক মনে করবো।