কর্মক্ষেত্রে সাফল্যলাভ মোটেই কঠিন নয়

মানব জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তার কর্মক্ষেত্র। একটি মানুষ সফলরূপে তখনই গণ্য হয়, যখন সে একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকে এবং সেখানে তার পদ বা অবস্থান হয় গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাকে সামাজিক মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি অন্য অনেক দিক থেকেও গুরুত্ববহ। কারণ এ প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মের মাধ্যমে আয় করেই সে তার জীবন যাপন ব্যয় নির্বাহ করে। তাই ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সামাজিক যে দিক থেকেই বিবেচনা করা হোক না কেন, কর্মক্ষেত্র মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু এই কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অনেক ভুল ধারণা রয়েছে বলে আমার মনে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, একজন মানুষ খুব অল্প সময়েই কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পেয়ে যান, সফল হন। আবার একজনের বেলায় দেখা যায়- বছরের পর বছর গড়িয়ে যাচ্ছে, পদোন্নতির খবর নেই। এর কারণ কী? কারণ হিসেবে ২য় ব্যক্তি হয়ত বলবেন- সবই কপাল, অফিস আমার মূল্য বোঝে না। আবার ১ম ব্যক্তি হয়ত বলবেন- সবই তার নিজের কৃতিত্ব, অফিস তাকে কিছুই করেনি; তার নিজ যোগ্যতা দিয়ে সে এসব অর্জন করেছে। আমার মতে, এদের দু’জনের কথাই ঠিক; আবার একইভাবে ঠিকও নয়। আমার দৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তার সম্পর্ক Vice-Versa.

কোনো ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠান যদি তার স্টাফের মূল্য বা গুরুত্ব না বোঝে, তাহলে তেমন প্রতিষ্ঠানে কেউ কাজ করতে চাইবে না। আবার একইভাবে কোনো স্টাফ যদি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ না করে, তাহলে সে স্টাফকে প্রতিষ্ঠান মূল্য দেবে না। বিষয়টি অনেকটা বাড়ির টেলিভিশন বা ফ্রিজের মতো। টেলিভিশন-ফ্রিজ যদি আমাকে ভালো সার্ভিস না দেয়, তাহলে একসময় আমি বিরক্ত হয়ে সে টেলিভিশন-ফ্রিজের যত্ন নেয়া বন্ধ করে দেব। আবার একইভাবে আমি যদি জিনিসের (টেলিভিশন-ফ্রিজ) যথাযথ যত্ন না করি, তাহলে তা আমাকে ভালো সার্ভিস দেবে না -এটিও নিরেট সত্যি। এখন প্রশ্ন হলো- কে কাকে আগে সার্ভিস দিবে? আমার মতে, অবশ্যই টেলিভিশন-ফ্রিজ আগে সার্ভিস দেবে। আমি দোকান থেকে নতুন টেলিভিশন-ফ্রিজ কিনে আনলাম, এরপর বাড়িতে এনে তা যদি চালু না হয়, সার্ভিসই না পাই -তবে তার যত্ন নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তখন এই টেলিভিশন-ফ্রিজ বিদায় করতে পারলেই বরং বাঁচি। একইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও যে ব্যক্তি নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন, তাকেই প্রথমে তার সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানকে বুঝতে দিতে হবে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে শুরুতেই ধারণা করা যায় তার অতীত ইতিহাস, বর্তমান সাফল্য ও কর্মধারা, নিয়ম-নীতি-পদ্ধতি, আয়-ব্যয়, সমাজে তার অবস্থান প্রভৃতি দেখে। কিন্তু একজন নতুন লোক সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান প্রথমে কিছুই বুঝতে পারে না। তার চেয়েও বড় কথা প্রতিষ্ঠান কিন্তু এক অর্থে নির্জীব। বরং এটি প্রাণ পায় এর কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে এবং এরাই প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। এদের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও কর্ম দিয়েই প্রতিষ্ঠান চলে। তাই শুরুতেই প্রতিষ্ঠানকে আপনার সম্পর্কে ভালো ও স্বচ্ছ ধারণা দেয়া আপনারই কর্তব্য। প্রথমেই আপনাকে মূল্যায়ন করা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, সম্ভবও নয়।

এবারে আসা যাক এ ধারণা আপনি কীভাবে দিতে পারেন। আসলে আপনার ভেতরে যা আছে বা আপনি কি ধরনের ব্যক্তি -সেটাই প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবেন। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করে তার পড়াশোনার সার্থকতা খুঁজে পেতে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে কর্ম ব্যবস্থার ফারাক এত বেশি যে, চাকরি জীবনে প্রবেশ করে পড়া আর কর্মের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায় না। তবু সার্টিফিকেটের মূল্য আলাদা, তাই তা অর্জন করতেই হয়। সার্টিফিকেট গুণগত ও পরিমাণগত বিচারে আপনাকে একটি ভালো কাজ পেতে সহায়তা করতে পারে ঠিকই কিন্তু কর্মে প্রবেশের পর সেখানে সফলতা-ব্যর্থতা, টিকে থাকা কিংবা ঝরে পড়া এসবই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে একবার ঢুকে পড়লে সার্টিফিকেটের দায়িত্ব শেষ। এরপর আপনার পালা; নিজেকে দেখানোর, নিজেকে প্রমাণের। প্রতিষ্ঠান আপনাকে না জেনেও আপনার এতটুকু মূল্যায়ন করেছে যে, সার্টিফিকেটগুলোর বদৌলতে আপনাকে নিয়োগ দিয়েছে। এবার আপনি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিন আপনার আরো মূল্যায়নের। আস্থা, জায়গা বা অবস্থান আসলে কেউ কাউকে দিতে পারে না; নিজেকেই অর্জন করে নিতে হয়। তাই এবার সার্টিফিকেটের মাহাত্ম্য শেষে শুরু হলো আপনার গুণের দৌড়াত্ম্য।

যেকোনো ক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে- পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে আপনি রাত জেগে, কোথায়ও বেড়াতে না গিয়ে, বন্ধুর আড্ডার প্রলোভনে না পড়ে কতটা নিষ্ঠার সাথে খেটেছিলেন? কর্মক্ষেত্রেও ঠিক তাই। প্রতিষ্ঠান আপনার মাঝে সিনসিয়ারিটি দেখতে চাইবে। তাই আপনাকে যখন কোনো কাজ বা দায়িত্ব দেয়া হয়, সেটা আপনি পূর্ণ নিষ্ঠার সাথেই করবেন। আপনার মাঝে যখন নিষ্ঠা তথা সিনসিয়ারিটি থাকবে, তখন সে কাজে আপনি সফল হবেনই। এ সফলতার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে যখন এর সাথে যোগ হবে আপনার সততা। আপনি যখন দৃঢ়বিশ্বাসী যে আমি এ কাজটি করব, এতে আমি কোনোরূপ ফাঁকি দেব না, আমি কোনোরূপ মিথ্যার আশ্রয় নেব না, ছলচাতুরী করব না, অফিসকে বোকা বানানোর চেষ্টা করব না, যেনতেনভাবে কর্ম সম্পাদন করব না -তখন এ ধরনের দৃঢ় ও সৎ মানসিকতা আপনার নিষ্ঠা তথা সিনসিয়ারিটি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে। সততা ও নিষ্ঠা থাকলে নতুন কাজেও আপনি সফল হবেন, উপায় বা রাস্তা তখন আপনাআপনি ধরা দেবে আপনার হাতে। মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারার কৃতিত্বই আলাদা। প্রথম প্রথম আপনার কিছু ভুল হবে, যা স্বাভাবিক এবং আপনার অনভিজ্ঞতার ফসল। এই প্রথম ভুলের সময়টাতে ধীর-স্থির থাকা এবং প্রতিটা ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একটি কথা সবসময় মনে রাখবেন- মানুষ মাত্রই ভুল করে; কিন্তু এই ভুলের পরিমাণ কতটা এবং কারণ কী? -এর ওপর নির্ভর করবে আপনার ওপর ঊর্ধ্বতনের নির্ভরতা। আপনি যদি প্রতি ক্ষেত্রেই বলেন- বুঝতে পারিনি, ভুল হয়ে গেছে তবেই শেষ; কারণ আপনার ভুল করা মানে প্রতিষ্ঠানের পিছিয়ে পড়া। তাই আপনাকে প্রতি পদে পদে বুঝতে হবে, বুদ্ধি খাটাতে হবে, সিনিয়রের সাথে পরামর্শ করতে হবে। প্রথম প্রথম যেকোনো কাজে আপনি আপনার প্ল্যানিং ঊর্ধ্বতনকে অবগত করে তারপর কাজে নামবেন। এতে ভুলের আশংকা যেমন কমে তেমনি দায়-দায়িত্বও অনেকটা সিনিয়রের ওপর বর্তায়। তবে আপনি কিন্তু নিজে থেকে কক্ষনো সিনিয়রকে দায়ী করতে যাবেন না!! এটি অফিস ম্যানারের পরিপন্থী। আপনি সর্বদা এভাবে বিশ্লেষণ করবেন- আমি এটা কেন করলা, আমারতো বোঝা উচিত ছিল, আমি এমন না করে তেমন করতে পারতাম, আমি অমুককে আরেকবার জিজ্ঞেস করে নিতে পারতাম, এখন থেকে এরূপ ক্ষেত্রে আমি ঐরূপ করব ইত্যাদি। এভাবে আপনি যখন ভুলের পোস্টমর্টেম করবেন, বুঝবেন- ভুলটা আসলে আপনারই। ভুল করে ভেঙ্গে পড়বেন না, হতাশ হবেন না; প্রতিটি ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন। দেখবেন- একসময় আপনার অভিজ্ঞতার ভান্ডার কত পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে; ধীরে ধীরে আপনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন, সিনিয়র থেকে আরো সিনিয়র হচ্ছেন; টীম লিডার থেকে শাখা লিডার, শাখা লিডার থেকে কোর লিডার... এভাবে এগিয়েই চলেছেন। এসব তখনই সম্ভব হবে- যখন আপনার সততা ও নিষ্ঠার সাথে থাকবে ধৈর্য, আর সর্বক্ষেত্রে আপনি থাকবেন প্রোএকটিভ ও পজিটিভ।

যেকোনো ক্ষেত্রে নিজের ভুল নিজেই স্বীকার করবেন। কোনো ভুল বা অন্যায় ধামাচাপা দিতে গেলেনতো বুঝবেন, আপনার সর্বনাশের শুরু আপনার হাতেই হলো। কোনো ভুল হয়ে গেলে তা লুকোবেন না; বরং ভুল স্বীকার করে ভুল সংশোধনের পথে এগিয়ে যান। আপনার ভুল স্বীকারের বিনয় ও সততা আপনাকেই বড় করবে। তবে ভুল যত কম করা যায়, ততই ভালো। এজন্য পদে পদে বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে ভুলের কারণ খুঁজে বের করুন। মনে রাখবেন, যা-তা কারণ দিয়ে অন্যকে বোঝাতে গেলে নিজেরই ব্যক্তিত্ব হারাবেন। ভুলেরও সর্বদা যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে; সেটিই বের করুন, সংশোধনের পথে এগিয়ে যান।

কর্মক্ষেত্রে সময়মতো উপস্থিত হওয়া আপনার দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক। আপনার অফিস টাইম যদি হয় সকাল ৯টা, তবে এমনভাবে লাইফস্টাইল সেট করুন, যেন আপনি সকাল ৯টায়ই অফিসে উপিস্থত হতে পারেন। প্রয়োজনে আপনি ৫ মিনিট আগে যান, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ৫ মিনিট পরে নয়। মাত্র ৫ মিনিটে হয়তবা কিছু যায় আসে না বলে আপনার মনে হতে পারে; কিন্তু মনে রাখবেন, এই ৫ মিনিট দেরি আপনার ব্যক্তিজীবনে লুজ ম্যানেজমেন্টের বহিঃপ্রকাশ। আপনি নিজেকে বা পরিবারকে বা পরিবেশকে ম্যানেজ করতে পারেননি বলেই ৫ মিনিট দেরি হয়েছে -এটা আপনার সম্পর্কে কোনো ভালো ধারণা দেবে না। আবার কোনো কারণে আপনি হয়ত আপ্রাণ চেষ্টা করেও যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেননি -সেজন্য কখনো অজুহাত দাঁড় করবেন না, বিশেষত যদি সিনিয়র বা কর্তৃপক্ষ না জানতে চায়। আপনি যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেননি, এটা আপনারই অপরাধ। অপরাধ স্বীকার করুন, সরি বলুন। অজুহাত দেখিয়ে সহজ বিষয়কে ঘোলাটে করে তুলবেন না। একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন- কখনও সময় চুরি করবেন না। ৫ মিনিট দেরি করে এসে আপনি একটি ছোট্ট অন্যায় করেছেন। আর যদি দেরিতে এসেও আপনি উপস্থিত রেকর্ডে সময় কমিয়ে বা এদিক-ওদিক করে লেখেন, তবে সেটা হবে অমার্জনীয় অপরাধ; আপনার সরাসরি অসততা -যা আপনার সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের মনে মারাত্মক খারাপ ধারণা তৈরি করবে।

আমাদের সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। ধরা যাক, কোনো অফিস টাইম ৯-৬টা। এখন কোনো স্টাফকে যদি তার নির্ধারিত কাজ শেষ করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় অফিসে থাকতে হয়, তাহলে সে মনে করে- আমি আজ দেরি করে বাড়ি ফিরছি, আগামীকাল আমি দেরিতে আসব। মনে রাখবেন, কাজ করা বা শেষ করা আপনার ডিউটি। আর যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া আপনার রেসপনসিবিলিটি, অফিস রুল। এ দু’য়ের মধ্যে গলদ করে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে ছোট করবেন না।

তবে হ্যাঁ, আপনার যদি রোজ লেট হতে থাকে, সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতনের সাথে আলাপ করুন। অযথা নিজের মধ্যে অশান্তি চেপে রাখবেন না। যেকোনো বিষয়ে সবসময় সরাসরি কথা বলবেন। নিজের মধ্যে ক্ষোভ চেপে রাখলে তা আপনার শরীর ও মনের জন্যই ক্ষতিকর; পাশাপাশি আপনার কর্মেও এর মন্দ প্রভাব পড়বে। তাই যেকোনো কিছু আলাপ করে নেবেন। তবে মনে রাখবেন, যা-তা বিষয় নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে সিনিয়রের মেজাজ খারাপের কারণ হবেন না। বারবার ভেবে নিন, আপনি যা বলতে যাচ্ছেন তা আদৌ বলার প্রয়োজন আছে কি না।

কাজ করুন সর্বদা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। যে কাজ এখনই প্রদর্শন করতে হবে, তা আগে করুন। যা ২ দিন বা ৪ দিন পরে লাগবে, তা পরেই করুন। সবসময় আপনি সব কাজের গুরুত্ব নাও বুঝতে পারেন, সেক্ষেত্রে সিনিয়রের সাথে আলাপসাপেক্ষে অগ্রাধিকার ঠিক করে নিন। এতে ভুল হবার সম্ভাবনা কমে। যখন দশজনের সাথে কাজ থাকে, তা তাদের সাথে তাদের দেয়া সময়েই করুন। নিজের একার কাজ অন্যদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে করার সিস্টেম চালু করুন। কর্মক্ষেত্রে সিনিয়র/জুনিয়র বা অন্য ডিপার্টমেন্টের কাজকে কখনোই ছোট করে দেখবেন না। প্রত্যেকের কাছে তার নিজ নিজ কাজ গুরুত্বপূর্ণ। তাই যথাসম্ভব চেষ্টা করুন অন্যকে সহযোগিতা করতে। লোক দেখানো সহযোগিতা নয়, যে সহযোগিতা আপনার কলিগের মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন সেই প্রয়োজনীয় সহযোগিতাই করুন। তবে আগ বাড়িয়ে কখনো অন্যের কাজে নাক গলাতে না যাওয়াই ভালো। কাজ ভুল বা মিস না করার আরেকটি ছোট্ট টিপ্স, যথাযথ নোট মেইনটেইন। মনে করে দেখুন, ভালো রেজাল্ট করার জন্য আপনি কীভাবে টিচারের ক্লাস লেকচার নোট করতেন। কর্মক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। আর কর্মক্ষেত্রে কাজের নোট মেইনটেইন ব্যক্তি জীবনের নোট মেইনটেইনের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিজীবনে আপনি নোট মেইনটেইন করেছিলেন আপনার একার ভালো বা সাফল্যের জন্য। আর কর্মক্ষেত্রে আপনার নোট মেইনটেইনের ওপর নির্ভর করবে আপনার নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের সাফল্য। এজন্য কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে আপনার ঊর্ধ্বতন বা বসের নির্দেশ বা কাজের প্রতি বিশেষ যত্নবান হোন, তাঁর অর্পিত কাজ যথাসময়ে যথাযথভাবে সম্পাদনে সচেষ্ট হোন। তাই কবে, কোন্ সময়, কি কাজ, মিটিং, রিপোর্টিং, মনিটরিং এগুলোর যথাযথ নোট বা ডাইরি মেইনটেইন করুন। এতে আপনার দায়িত্ববোধ প্রকাশ পাবে, আপনার ওপর প্রতিষ্ঠানের আস্থা বাড়বে।

একসাথে অনেকে বসে কাজ করলে টুকটাক কথা হতেই পারে। মনে রাখবেন, ব্যক্তিত্ব এমন জিনিস, যা একবার হারালে পুনরুদ্ধার করা যায় না বললেই চলে। তাই সর্বদা সব জায়গায় সব কথার জবাব দিতে যাবেন না। অফিস কলিগ, বস বা প্রাতিষ্ঠানিক ডিলিং যেখানে যার যাথে যে কথাই বলুন বা যেভাবে চলুন না কেন, ব্যক্তিত্ব বজায় রাখবেন। প্রয়োজনে কঠোর হোন, কিন্তু যার প্রতি কঠোর হচ্ছেন তিনি যেন এটুকু বুঝতে পারেন- আপনি মোটেই কঠোর হতে চাননি, তার নির্বুদ্ধিতা বা ভুলের কারণেই আপনি কঠোর হতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ তিনি আপনাকে যেন নিয়ম বা সিস্টেমের সৎ, সিনসিয়ার মনে করেন, কেবল রাগী মনে করলে আপনারই লস। সেক্ষেত্রে কলিগদের নিকট আপনি ভালো হবার পরিবর্তে Angryman বলে পরিচিত হবেন।

কর্মক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ঊর্ধ্বতনের মন-মানসিকতা ও মেজাজ বুঝতে পারা। আপনি যাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করেন, তাঁর সাইকোলজি বুঝতে পারলে আপনার জন্য অনেক কিছুই সহজ হয়ে যাবে। এ বোঝার মানে কিন্তু এই নয় যে, মেজাজ বুঝে তা ব্যবহার করা তথা খোশামুদি বা চাটুকারিতা। এসব করে আপনি আপাত কিছুটা লাভ করতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে আপনার লোকসানই হবে। বরং এক্ষেত্রে বোঝানো হচ্ছে যে, আপনার বস বা ঊর্ধ্বতন যদি কম কথার মানুষ হন, তাহলে তাঁর সে মানসিকতা বুঝে নিয়ে এমনভাবে তাঁর সাথে চলুন, যেন আপনার সাথে তাঁর বেশি কথা না বলতে হয়। আপনার বস একসময় বুঝতে পারবেন আপনি স্মার্ট, অল্পতেই কথা ধরতে বা বুঝতে পারেন। এভাবে আপনার ওপর তিনি ধীরে ধীরে নির্ভর করতে শুরু করবেন, বিশ্বাস করতে শুরু করবেন।

এতক্ষণ যে ক’টি বিষয়ে বললাম, এগুলো আসলে আমাদের ব্যক্তি জীবনের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ গুণ। বরং বলা চলে এগুলো মানুষের মৌলিক গুণ হওয়া উচিত। এই সাধারণ বিষয়গুলোর প্রতি যত্নশীল হলেই একসময় দেখবেন, আপনার সফলতা আপনারই হাতের মুঠোয়।

লেখকের ইমেইলঃ usrony@yahoo.com