Planets Sun Sun Sun Sun

২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ন্যায়ভিত্তিক ও
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে

ক্যাম্পাস’র বিভিন্ন কার্যক্রম

ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাস’র যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে, শিক্ষা ও যুব উন্নয়নমূলক পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে। সময়ের দাবিতে পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়াও দেশ গঠন ও জাতি জাগরণমূলক নানা প্রকল্প ও কর্মসূচিতে ব্যাপৃত হয় ক্যাম্পাস। এসব কর্মসূচিকে সুদূরপ্রসারী রূপদানে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র বা সিএসডিসি। দেশপ্রেমী-মানবতাবাদী ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের চিন্তাপ্রসূত এবং উদ্যমী, ত্যাগী ও কর্মঠ কর্মীদের পরিচালিত ব্যতিক্রমী এ প্রতিষ্ঠানের যুগোপযোগী নানা কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারিত ও সমাদৃত।
২০২০ সালের মধ্যে সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ক্যাম্পাস’র চলমান কর্মসূচিসমূহ নিম্নরূপ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকাঃ
শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন এবং ছাত্র-যুবসমাজের মুখপত্র হিসেবে ১৯৮৪ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে এ পত্রিকা। শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয় রোধ, সন্ত্রাসমুক্ত ও সুশৃঙ্খল শিক্ষা-পরিবেশ তৈরি, শিক্ষা-প্রশাসনের দুর্বলতা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সেসবের সমাধানে দিক-নির্দেশনা এ পত্রিকার অন্যতম কাজ। এটি সরকার নিরীক্ষিত শিক্ষাঙ্গনভিত্তিক একমাত্র নিয়মিত পত্রিকা। শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নানা সমস্যার সমাধানে ক্যাম্পাস পত্রিকার ভূমিকা অসামান্য। জন্মলগ্ন থেকেই পরীক্ষায় নকল, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাস পত্রিকা হয়ে উঠেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

ডায়নামিক কম্পিউটার ট্রেনিংঃ
এ কর্মসূচির আওতায় মেধাবী-অসচ্ছল ও বেকার ছাত্র-যুবকদেরকে বিনামূল্যে কম্পিউটার ট্রেনিং দেয়া হয়। ২০০৪ সালে এ কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১০ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৯টি ব্যাচে ফ্রি ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। বেসিক ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি ২০০৯ সালে চালু হয়েছে এডভান্সড্ কম্পিউটার ট্রেনিং। তাছাড়া ছাত্র-যুবকদের কম্পিউটার-দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে রয়েছে হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যারের ওপর নিয়মিত ওয়ার্কশপ। ফ্রি ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি জীবন ও জগৎ সম্পর্কিত নানা বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং আত্মোন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাদেরকে ডিজিটাল ইয়াং-স্টাররূপে গড়ে তুলে ডিজিটাল সোসাইটি গঠনের কাজও করে চলেছে ক্যাম্পাস।

শিক্ষানবিশ কর্মসূচিঃ
আলোকিত জাতি গঠনে ছাত্র-যুবকদের জন্য ক্যাম্পাস’র অন্যতম প্রয়াস ‘শিক্ষানবিশ কর্মসূচি’। পড়াশোনার অবসরে ছাত্র-যুবকদের কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জন, নীতি-নৈতিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, দেশপ্রেম, সমাজসেবা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মনোভাব সৃষ্টিই শিক্ষানবিশ কর্মসূচির লক্ষ্য। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অফিস-আচরণ, নিয়মানুবর্তিতা ও ন্যায়নিষ্ঠা; নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন; দলভিত্তিক কার্যক্রম ও টিম ওয়ার্ক; সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ; সম্পাদিত কাজের রিপোর্টিং প্রভৃতি সম্পর্কে ছাত্র-যুবকরা সম্যক জ্ঞান অর্জনের সুযোগলাভ করে থাকে। তাছাড়া সমাজসেবা ও মানব কল্যাণমূলক কাজে আস্থা স্থাপন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসবে তারা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচিঃ
সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় নানা বিষয় সংবলিত স্টিকার, লিফলেট, বুকলেট, পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন, ডেস্কস্লিপ, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি স্ব-অর্থায়নে মুদ্রণ ও বিতরণ করে থাকে ক্যাম্পাস। এসবে থাকে সময়োপযোগী সমাজ জাগরণমূলক বিভিন্ন বক্তব্য, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও আবাসিক ভবনে স্থান পায়।
ক্যাম্পাস বিশ্বাস করে- মানুষ সামাজিকভাবে সচেতন হলে সকল কাজ-কর্মে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব, যা কল্যাণ-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। এ চিন্তা-চেতনা থেকেই চালু করা হয়েছে সমাজ সচেতনতামূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে ক্যাম্পাস। এসব কার্যক্রমে ক্যাম্পাস কর্মীগণ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অংশগ্রহণ করে এবং অন্যদেরও এরূপ জাতি গঠনমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করে।
ক্যাম্পাস’র সুদীর্ঘ আন্দোলনের কারণে পরীক্ষায় নকল হ্রাস পেয়েছে, পাস হয়েছে ধূমপানবিরোধী আইন। দু’দশক পূর্বে ক্যাম্পাস’র শুরু করা দুর্নীতি বিরোধী সচেতনতা আন্দোলন তীব্রতর হয়ে এখন বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। নাগরিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও আধুনিকতা বৃদ্ধিতে নিবেদিত ক্যাম্পাস’র নয়া মিশন হচ্ছে- আইল ও দেয়াল রোধ; শ্রেণী-বৈষম্য হ্রাস; ভিসামুক্ত উদার ও অত্যাধুনিক বিশ্ব; এলাকাভিত্তিক স্কুলিং; ভূমিকম্প মোকাবেলার প্রস্তুতি এখনই...; প্রভৃতি।
সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্পর্কিত আধুনিক ধারণা সম্পর্কে স্বচ্ছতা তৈরির মাধ্যমে সেসবের প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা হয়। যেমনঃ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, আলোকিত জাতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ, ডিজিটাল সোসাইটি প্রভৃতি কী, কেন, কিভাবে সম্ভব ইত্যাকার বিষয়ে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে জন-উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি।
তাছাড়া সঠিক ও যথাযথ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও বাণী সম্বলিত স্টিকার মুদ্রণ করে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচার করে থাকে। যেমন- ‘সৎ প্রার্থীকে ভোট দিন, শেষ করুন দুর্দিন’; ‘অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রতিরোধ করুন’; ‘দুর্নীতিগ্রস্ত বা সন্ত্রাসীকে নির্বাচিত করে নিজকে অপরাধী করবেন না’; ‘আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও দেশপ্রেমী প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুন’; ‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাস আপনার শত্রু, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’; ‘ঘুষ-দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পরিবার ও সমাজে বয়কট করুন’; ‘ঘুষ-দুর্নীতির অর্থ বর্জন করুন, পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায়’; ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিশাপ থেকে দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুন’; ‘ঘুষ নেব না, ঘুষ দেব না’ ; ‘ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ, বয়কট করি আজ’ ইত্যাদি।

ক্যাম্পাস রিসার্চ সেলঃ
২০২০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভর ও সুখী-সমৃদ্ধ জাতি গঠনে ক্যাম্পাস নিরন্তর জ্ঞান অনুসন্ধান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ক্যাম্পাস’র সাম্প্রতিক গবেষণা-কর্মের উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
১। বিদ্যুৎ, যানজট, বেকারত্ব, দুর্যোগ, দারিদ্র্যসহ বাংলাদেশের সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধানঃ ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন মডেল;
২। যানজট, অর্থ-শ্রম ও সময়ের অপচয়, মৌলিক শিক্ষায় ত্রুটি, ড্রপ-আউট, শ্রেণী-বৈষম্যসহ বহু সমস্যার একক সমাধানঃ এলাকাভিত্তিক স্কুলিং;
৩। অসৎ ও নীতিহীনদেরকে কোণঠাসা করে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার ঝান্ডা উড্ডীন রাখতে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘ক্যাম্পাস সততা পুরস্কার’;
৪। ডিজিটাল সোসাইটির রূপকল্প তৈরি ও বাস্তবায়নে ক্যাম্পাস চালু করেছে ‘Digital Young-star Award’ কর্মসূচি;
৫। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মাঝে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে ঘুণেধরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ক্যাম্পাস প্রবর্তন করেছে ‘Campus Education Award’
তাছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে নিরন্তর জ্ঞানচর্চা, অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ক্যাম্পাস’র নিজস্ব দর্শন-তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয় ‘নতুন বিশ্বের সন্ধানেঃ বাংলাদেশ ও বিশ্ব অধ্যয়ন’ শীর্ষক নিয়মিত কলামে।
দেশ ও জাতির কর্ণধার যে ছাত্র-যুবসমাজ, তাদের অতীত ও বর্তমান স্বরূপের আলোকে ভাবি-বিশ্বের উপযোগী যোগ্যতা ও উপযুক্ততা নির্ধারণপূর্বক সেই পথ ও মতে ধাবিত করার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ক্যাম্পাস রিসার্চ সেল সর্বদাই কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

ফ্রি মেডিটেশন-ইয়োগা-আকুপ্রেশার কর্মসূচিঃ
আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করে জনগণের হতাশামুক্তি এবং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মঠ জাতি গড়তে বিনামূল্যে পরিচালিত হয় ফ্রি মেডিটেশন-ইয়োগা-আকুপ্রেশার কর্মসূচি। নেতিবাচক ধারণা পরিহার এবং ইতিবাচক ধারণা লালনের মাধ্যমে উন্নততর ও আলোকিত মানুষ তৈরিতে সহায়ক এসব কর্মসূচি। আলোকিত মানুষ গড়ার নিরন্তর প্রয়াস হিসেবে ক্যাম্পাস’র বিনামূল্যে ধ্যান কর্মসূচি জনমনকে উদ্দীপ্ত করছে।
জন্মের পর থেকেই পারিবারিক-সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন নেতিবাচক ও খারাপ চিন্তায় ভরে যায় মানব-মস্তিষ্ক। পরিণত বয়সে এসব খারাপ চিন্তা বাদ দিতে চাইলেও সেসবের প্রভাব কাটানো সহজসাধ্য হয় না, যা আলোকিত মানুষ তৈরি তথা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অন্তরায়। কম্পিউটার অপারেশনের মতই ধ্যানের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে খারাপ চিন্তা অকার্যকর করা এবং ভাল চিন্তা সংযোজন করা খুব সহজ। তাই সুস্থ, সবল, ভারসাম্যপূর্ণ, নীতিবান, সৎ ও সৃজনশীল মানুষ তৈরির লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত ধ্যান কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে ক্যাম্পাস। বাড়িতে বা গাড়িতে ধ্যানচর্চার সুবিধার্থে ক্যাম্পাস রিসার্চ সেলের আওতায় ৪টি সিডি বের হয়েছে।
এর পাশাপাশি ছাত্র-যুবকদেরকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ-সবল জাতি গড়ে তুলতে ক্যাম্পাস’র রয়েছে ফ্রি ইয়োগা এন্ড আকুপ্রেশার প্রোগ্রাম। এর মাধ্যমে ছাত্র-তরুণরা জানতে পারে প্রাকৃতিক চিকিৎসায় কিভাবে সুস্থ, নিরোগ ও শতায়ু লাভ করা যায়, কিভাবে প্রাকৃত ও প্রকৃত হওয়া যায় এবং প্রাকৃতিক শক্তিতে দৃঢ় শক্তিশালী হওয়া যায়।

ফ্রি সেমিনার অন প্রো-একটিভ এন্ড পজিটিভ এটিচিউডঃ
হতাশাগ্রস্ত ছাত্র-যুবক, ক্ষয়িষ্ণু সমাজ ও পশ্চাৎপদ জাতিকে ইতিবাচক মনোভাবে চাঙ্গা করে সম্মুখে এগিয়ে নিতে ক্যাম্পাস’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ “রেগুলার ফ্রি সেমিনার অন প্রো-একটিভ এন্ড পজিটিভ এটিচিউড”। দেশ ও জাতিকে ইতিবাচক মনোভাবে জাগ্রত করে নিত্য-নব উদ্যম ও স্বপ্নে প্রণোদনা সৃষ্টি এবং সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। সেমিনারে ছাত্রদের শেখানো হয় সাফল্য লাভের নানা কৌশল। নিজের মধ্যে কি কি গুণ তৈরি করলে সহজেই সফল ও জনপ্রিয় হওয়া যায় এবং সেসব গুণ কিভাবে অর্জন ও চর্চা করতে হয়, তা-ই শেখানো হয় এ সেমিনারে। একটি সুস্থ, সবল, সতেজ ও গতিশীল যুব সমাজের মাধ্যমে একটি উন্নততর দেশ গঠনের প্রয়াসে ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত এ সেমিনারের আয়োজন করছে ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাস ডায়ালগ প্লাটফরমঃ
ক্যাম্পাস’র নিজস্ব অডিটোরিয়ামে নিয়মিত আয়োজিত হয় সময়োপযোগী ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, মতবিনিময় সভা ও অনুষ্ঠান। ক্যাম্পাস’র রাজনীতি নিরপেক্ষ অবস্থান, স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকার কারণে এর আয়োজিত ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে দল-মত-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং খোলামেলা আলোচনা করেন।

ক্যাম্পাস সততা পুরস্কারঃ
সমাজের সৎ ও নিষ্ঠাবানদেরকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে সততা ও ন্যায়ের জাগরণ এবং এর মাধ্যমে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের কোণঠাসা করে ন্যায়ভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এ বিষয়ে প্রণীত হয়েছে সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনগ্রাহ্য নীতিমালা। সৎ ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করলে তারা যেমনি উৎসাহী হবেন, তেমনি অন্যরাও সৎ হতে অনুপ্রাণিত হবেন; সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠদের মাথা উঁচু করে দিলে অসৎরা লজ্জিত ও নিন্দিত হবে - দুর্নীতি ও অসততারোধের এ ধারণা থেকেই ক্যাম্পাস চালু করেছে সততা পুরস্কার কর্মসূচি। এ কর্মসূচির অধীনে আপাতত বছরে দশজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সৎ ব্যক্তিত্বদের মনোনীত করে সুপারিশ প্রেরণের জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে চিঠি পৌঁছানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিচারপতি, ভিসি, নেতৃস্থানীয় ব্যাংকার ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিত্বগণ পুরস্কার নির্বাচন কমিটিতে থাকতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

ওয়েব পোর্টাল অন এডুকেশন এন্ড ডেইলী নীডসঃ
এটি বাংলাদেশভিত্তিক প্রথম ডাটাবেজ ওয়েব পোর্টাল, ক্যাম্পাস’র দক্ষতার অন্যতম নিদর্শন ওয়েবের এ বন্দর। উপ-মহাদেশের বৃহৎ ওয়েব-বন্দর এটি। বাংলাদেশের ৭২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় বিষয় এমনকি রংমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও বয়সীদের জন্য নানা তথ্য রয়েছে এখানে। এক নাগাড়ে রাত দিন ২৪ ঘন্টা ব্রাউজ করলে ক্যাম্পাস’র ওয়েব পোর্টাল ব্রাউজিং শেষ করতে সময় লাগবে ৬২ দিন। এমন একটি বিশাল ওয়েব-বন্দর তৈরি সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র ক্যাম্পাস কর্মীদের কর্মনিষ্ঠা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও দূরদর্শীতার।

ক্যাম্পাস হেলথ সার্ভিসঃ
আলোকিত ও দক্ষ জাতির জন্য প্রয়োজন সুস্থ মানুষ। তাই সুস্থ, নিরোগ এবং সুখী-সমৃদ্ধ জীবন-যাপনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সভা, সেমিনার, ব্যানার, ফেস্টুন, স্টিকার, লিফলেট প্রচারণার মাধ্যমে ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। রাসায়নিক ঔষধের পরিবর্তে হারবাল ঔষধ ও পথ্য ব্যবহার এবং মাংসজাত খাদ্যের পরিবর্তে উদ্ভিদজাত খাদ্য গ্রহণের জন্যও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছে ক্যাম্পাস। এ বিষয়ে ক্যাম্পাস’র আলোড়িত শ্লোগান- ‘প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন, আদা-মধু-কালিজিরা-রসুন’; ‘হারবাল সামগ্রী ব্যবহার করুন, শতায়ু লাভ করুন’; ইত্যাকার কথা শোভা পাচ্ছে আবাসিক ডাইনিংরুমে ও অফিস-আঙ্গিনায়।

রেগুলার ওয়ার্কশপ অন ডিজিটাল সোসাইটিঃ
বর্তমান সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন সকলের প্রধান আলোচ্য বিষয়। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ কি, কেন বা কিভাবে তা করা সম্ভব - তা বেশিরভাগ মানুষেরই বোধে আসে না। যুব সমাজকে ডিজিটাল কনসেপ্ট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়ে তাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগদানে ক্যাম্পাস চালু করেছে ফ্রি ওয়ার্কশপ অন ডিজিটাল সোসাইটি।

ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপঃ
আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজির ব্যবহার এতই অত্যাবশ্যক যে, ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে না পারা আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অন্যতম বাধা। শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া এমনকি প্রতিবেশী ভারতও এ বিষয়টির গুরুত্ব বহুপূর্বে উপলব্ধি করে জনসাধারণ্যে ইংরেজি কথোপকথন চালুর মাধ্যমে শুধু নিজ দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়েও উন্নয়নশীল শ্রীলংকা কেবলমাত্র ইংরেজি-নির্ভর হয়েই আন্তর্জাতিক সর্ম্পক ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। অনুরূপভাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে দেশ-বিদেশের শ্রম-শক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি আধুনিক ও স্মার্ট যুব-সম্প্রদায় গড়ে তুলতে ক্যাম্পাস চালু করেছে ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ।

ক্যাম্পাস লাইব্রেরীঃ
লাইব্রেরী আন্দোলন কর্মসূচির অধীনে ছাত্র-যুবকদেরকে লাইব্রেরীমুখী করার মাধ্যমে নিরন্তর জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে ক্যাম্পাস। শাশ্বত বাংলা ও বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সম্ভাবনার ওপর রচিত বিভিন্ন পুস্তক, জার্নাল, পত্রিকা, গবেষণাপত্র প্রভৃতির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্যাম্পাস লাইব্রেরী, যা ৬ হাজারের অধিক পুস্তক-পুস্তিকায় সমৃদ্ধ।

শিক্ষাবৃত্তি ও ত্রাণ কর্মসূচিঃ
মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত হয় শিক্ষাবৃত্তি ও ত্রাণ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্র-যুবক এবং অসহায় ও দুর্গতদের সহায়তা করা হয়। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণে ক্যাম্পাস অত্যন্ত দক্ষতা, দ্রুততা ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়ে আসছে। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে এ কর্মসূচির জন্য রয়েছে পৃথক ব্যাংক একাউন্ট।

এসোসিয়েট ফোরামঃ
ক্যাম্পাস’র রয়েছে এসোসিয়েট ফোরাম, যার মেম্বার হয়ে ছাত্র-যুবক বা তরুণরা সমাজে নিজেদের চৌকস ও দক্ষ ব্যক্তি বা কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে। এসোসিয়েট-মেম্বারদের রয়েছে ক্যাম্পাস আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রম, সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কর্ম-অভিজ্ঞতালাভ করছে, পাচ্ছে পকেটমানি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা
ফ্রি-কাউন্সেলিং সার্ভিসঃ হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত, বিপথগামী ও বেকার ছাত্র-যুবকদের সাহায্যার্থে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং ও সাধ্যমত সহযোগিতা প্রদান।

আইন-জ্ঞান বৃদ্ধি কর্মশালাঃ আইন-কানুন ও নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জীবনযাপনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও অভ্যস্ত করতে এবং দৈনন্দিন জীবনে আইন-কানুনের ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করা।

প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ ও বিনামূল্যে প্রদর্শনঃ শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকতা আনয়ন এবং এসিড, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তা বিনামূলে প্রদর্শনের ব্যবস্থা।

গ্রামাঞ্চলে তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাঃ এরূপ কেন্দ্রে থাকবে স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; সঠিক চাষাবাদ প্রক্রিয়া, বীজ ও সারের ব্যবহার, উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বাজার দরসহ নানা তথ্য -যাতে গ্রামীণ জনপদের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য-প্রযুক্তি, সেচ, আবহাওয়া ইত্যাকার বিষয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সময়োপযোগী তথ্য পেতে পারে।

শেষ কথাঃ
দেশ গঠন ও জাতি জাগরণমূলক নানাবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সামাজিক আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এটি এখন শিক্ষা সহায়ক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত, সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে রেজিস্ট্রিকৃত এবং জাতীয় বাজেটে আবর্তক অনুদান খাতে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অন্তর্ভুক্ত।

দক্ষতা, সততা, স্বচ্ছতা ও মিতব্যয়িতার কারণে কোন বিদেশী অর্থ-সাহায্য ছাড়াই ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন থেকে ব্যাপক জনহিতকর কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে আসছে। ২০২০ সালের মধ্যে একটি সুখী-সমৃদ্ধ-আলোকিত জাতি গঠনে ক্যাম্পাস’র এ প্রয়াসে দেশপ্রেমী ও কল্যাণকামীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সাহচর্য একান্ত কাম্য।
শুভ হোক সকল মঙ্গল প্রয়াস।