Planets Sun Sun Sun Sun

ক্যাম্পাস পত্রিকার অডিটোরিয়ামে ইংলিশ কোর্সের উদ্বোধনে লায়ন এম কে বাশার

১২ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ২৪তম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিক্ষাদ্যোক্তা, শিক্ষাক্ষেত্রে সৃজনশীল ও ব্যতিক্রম ধারার প্রবর্তক, আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী, ছাত্র-যুবকদের অনুকরণীয় লায়ন এম কে বাশার।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জাকির হোসেন, সরকারের উপসচিব আবদুল্লাহ মাসুদ, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন এবং দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক ও সফেন ইনোভেশন এর ফাউন্ডার ড. খান আসাদুজ্জামান, ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফ্যামিলি লাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের, প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউটের প্রবক্তা ড. আলমাসুর রহমান, ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্সের রিসোর্স পারসন এডভোকেট এম গোলাম কিবরিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেয়া হয় এবং উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বই; ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত দেশোন্নয়নের ২টি মডেল, বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির।
ব্যতিক্রমী ও ডায়নামিক বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ-পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ, জ্ঞানের আলোয়ে ছাত্র-যুবকদের উজ্জীবিত করে শিক্ষিত জনশক্তি তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে অগ্রণী ব্যক্তিত্ব লায়ন বাশারকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণের মাধ্যমে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল।
এরপর লায়ন বাশার এর শিক্ষা উন্নয়ন-প্রসার ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে একটি বিশেষ উপহার অর্পণ করা হয়। শিক্ষা-সংস্কারক, ডায়নামিক শিক্ষাদ্যোক্তা ও আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা লায়ন এম কে বাশার শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের কাছে অপেক্ষাকৃত সাবলীল ও নান্দনিকরূপে তুলে ধরার মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সিএসআর এর মাধ্যমে সমাজসেবায়ও রেখে চলেছেন অসামান্য অবদান। তার এই অবদানের কিঞ্চিৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশে তাঁকে ক্যাম্পাস’র পরিবেশ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে সবুজ ডেকোরেটিভ গাছ অর্পণ করেন ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এর মহাসচিব ড. এম হেলাল।
ইংলিশ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশোন্নয়নে যোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথির হাতে আশা-জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। বক্তৃতার উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
ক্যাম্পাস ছাত্র-যুবকদেরকে ফ্রি ইংলিশ শিক্ষা দিয়ে যুগের চাহিদা মেটাচ্ছে। এরফলে ছাত্র-যুবকরা আধুনিক বিশ্বের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠছে -লায়ন এম কে বাশার
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বরেণ্য শিক্ষাদ্যোক্তা ও আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং ব্যক্তিজীবনে বিনয় ও সদাচার চর্চায় কঠোর অনুসারী লায়ন বাশার বক্তৃতার শুরুতে বলেন আমি ঢাকা কমার্স কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়েই ড. এম হেলালের সাথে আমার পরিচয় হয়। তিনি ঢাকা কমার্স কলেজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। সেই হিসেবে তিনি আমার শিক্ষক এবং আমি তাঁর ছাত্র। ড. এম হেলালের হাত থেকে কমার্স কলেজে ভর্তির ফরম নেয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। সেই দিনটির কথা এখনো আমার মনে পড়ে।
তিনি বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে হয়তো আজ অনেক কথাই বলা সম্ভব হবে না। তবে হেলাল ভাই রাজি হলে এবং আপনারা সম্মত হলে অন্য আরেক দিন ক্যামব্রিয়ানের কোনো এক অডিটোরিয়ামে মিলিত হতে চাই। তাঁর এ প্রস্তাবে ছাত্র-যুবকরা ব্যাপক উল্লাসে সম্মতি জানান।
লায়ন এম কে বাশার বলেন মানুষ খুব কম সময় বাঁচে। এই সময়টা স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের জন্য খরচ বা নিজের জন্য অর্থ সঞ্চয়ে ব্যয় না করে প্রকৃত স্বার্থপরের (স্বার্থ+পর=স্বার্থপর) মতো মানবসেবায় ব্যয় করতে হবে, তাহলে মানবজীবন স্বার্থক হবে। যে জীবন অন্যের কাজে লাগে না, তার মূল্যই কতটুকু? মূল্যহীন সে জীবন। আমাদের জীবন গড়তে হবে প্রকৃত স্বার্থপর ড. এম হেলাল এর মতো। যে জীবন তিনি ব্যয় করছেন জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনের কাজে; দেশের যুব সমাজকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজে। এভাবেই পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। ড. হেলালের মতো কিছু মানুষ এভাবে ভেবেছে বলেই সেই আদি থেকে আজ পর্যন্ত এতো সমৃদ্ধ হয়েছে পৃথিবী। পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে শিক্ষা। এর কোনো বিকল্প নেই।
লায়ন এম কে বাশার বলেন পৃথিবীতে সাড়ে সাতশ’ কোটি মানুষের মধ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ কোটি। তাই সব ভাষাভাষী মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হলে ইংরেজি ভাষা শিখতে হবে। ক্যাম্পাস ছাত্র-যুবকদেরকে ফ্রি ইংলিশ শিক্ষা দিয়ে যুগের চাহিদা মেটাচ্ছে। এরফলে ছাত্র-যুবকরা আধুনিক বিশ্বের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠছে। তাই ক্যাম্পাস’র এসব কার্যক্রমে আমাদের সবারই সহযোগিতা করা উচিত। আমি ক্যাম্পাসকে একটি ডিজটাল স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করে দেব। তাঁর এ ঘোষণাকে ছাত্র-যুবকরা বিপুল করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন শিক্ষাহীনতা অন্ধত্বের শামিল। শিক্ষাই বেঁচে থাকার পথ দেখায়, সুন্দরের পথ দেখায়। শিক্ষাই পারে যেকোনো অসুন্দর, কুৎসিত, কালোকে জয় করতে। মহৎ কাজে বাধা আসবেই, তাই বলে থেমে যাওয়া নয়। মনে রাখতে হবে, ঘঙ মানে থেমে যাওয়া নয়। ঘঙ মানে ঘবি ঙঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু। আমরা পৃথিবীতে এসেছি, পায়ের চিহ্ন রেখেছি, কিছু না করে চলে যাওয়ার জন্য নয়। মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে হবে। এমন কিছু করতে হবে, চলে যাওয়ার পরও যাতে পায়ের চিহ্ন থেকে যায়। জীবনে সফল হতে হলে সমস্ত ভয় এবং বাধাকে জয় করে এগিয়ে যেতে হবে। সত্য দিয়ে, সুন্দর দিয়ে সেই বাধা অতিক্রম করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাই সাহস যোগাবে, শক্তি যোগাবে সকল বাধা অতিক্রম করে জীবনে সফল হতে। শিক্ষাই সুপ্ত প্রতিভা ফুটিয়ে তুলে ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ করে।
লায়ন বাশার বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২৫ হাজার ছাত্র বিদেশে পড়তে যায়, চীন থেকে কয়েক লক্ষ বিদেশে পড়তে যায়। নেপাল থেকে পড়তে যাওয়ার হার বাংলাদেশের চাইতেও বেশি। অন্যদিকে অষ্ট্রেলিয়ার রেমিটেন্স এর ১৩% আসে শিক্ষা খাত থেকে। কানাডা, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র তারাও শিক্ষা খাত থেকে লাভবান। তাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদেরকেও নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। গার্মেন্টস্ শিল্প থেকে আমাদের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আসছে। কিন্তু এই শিল্পটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয় এর বর্জ্য নষ্ট করছে আমাদের বাতাস, পরিবেশ, সর্বোপরি নষ্ট করছে একজন কর্মীর জীবনীশক্তি। কিন্তু শিক্ষা আমাদের জন্য একটি ঝুঁকিমুক্ত রেমিটেন্স হতে পারে।
লায়ন বাশার মনে করেন, যারা অন্যের উপর নির্ভর করে তারা কখনোই টিকে থাকে না। টিকে থাকার জন্য, এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা খুব জরুরি। আর ব্যক্তি স্বনির্ভর হলে দেশ স্বনির্ভর হয়। তিনি দেশকে স্বনির্ভর করতে শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। শিক্ষার নিম্নমান নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আমাদের শিক্ষার মান এতোটাই নিচে নেমেছে যে, এখান থেকে বাইরে পড়তে যেতে ১ বছরের একটি ফাউন্ডেশন কোর্স করতে হয় যা উদ্বেগজনক, দুঃখজনক। আমি মনে করি, দেশের সকল শিক্ষাব্যবস্থা একই স্ট্যার্ন্ডার্ডে নিয়ে আসা উচিত।
লায়ন বাশার বলেন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে; নির্ভুল, সৎ, নিঃস্বার্থ হতে হবে। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। কারণ আমাদের দেশে যোগ্য নেতৃত্বের খুব অভাব। ন্যায় ও সত্যের পথে থাকলে কোনো অশুভ শক্তি কখনোই আপনার অনিষ্ট করতে পারবে না। তখন আপনার কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। যারা কাপুরুষ, যারা ভুল করে তারা বার বার মরে। ন্যায় ও সত্য আপনাকে করবে চিরঞ্জীব, অমর। লায়ন বাশার বলেন পৃথিবীতে প্রতিদিন অনেক মানুষ জন্ম নিচ্ছে, আবার অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু ক’জনকে মানুষ স্মরণে রাখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এঁদেরকে মানুষ স্মরণে রেখেছে তাঁদের কর্মের জন্য। আমাদেরকেও এমন কিছু করতে হবে, যাতে আমরা পৃথিবী থেকে চলে গেলেও কর্মের কারণে মানুষ আমাদেরকে স্মরণে রাখে। এ কর্ম হতে হবে মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায়। তিনি বলেন, সবসময় পজিটিভ এটিচিউডের মানসিকতা থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে কেউ আপনার চেয়ে বড় নয়, কেউই আপনার চেয়ে ছোট নয়। এ বিশ্বে আপনি একজন ইউনিক মানুষ, শুধু আপনার নিজ কর্মের মাধ্যমেই আপনি সফল এবং শ্রেষ্ঠ হবেন।
এম কে বাশার ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় আমি খুব ডানপিটে ছিলাম। কেউ ভাবেনি আমাকে দিয়ে পড়াশোনা হবে। কিন্তু আমার এক শিক্ষকের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি আজ এই পর্যন্ত এসেছি। তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি গ্রামে পরিচিত হতে চাও, তবে গ্রামে থেকে যাও। যদি মনে কর এই আখাউড়ার সবাই তোমাকে চিনবে, তবে গ্রাম থেকে থানায় যেতে হবে; যদি তুমি চাও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবাই তোমাকে চিনবে, তবে তোমাকে জেলার কেন্দ্রে যেতে হবে; আর যদি চাও সারা বাংলাদেশ তোমাকে চিনবে, তবে তোমাকে গ্রাম-থানা আর জেলা ছেড়ে দেশের কেন্দ্রে গিয়ে সারা দেশের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।’ তখনই আমি আমার লক্ষ্য স্থির করি এবং সামনে এগুতে থাকি। কতদূর পেরেছি জানি না। কিন্তু আমি আমার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি বেঁচে থাকব আমার কাজের মাধ্যমে। কে কি বলল সেটা বড় কথা নয়। আমার কাজ যদি ভালো হয় মানুষ মূল্যায়ন করবে। খারাপ কাজে মানুষ মন্দ বলবে। আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কারো ক্ষতি না হয়, কারো অকল্যাণ না হয়; সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে আমরা চিরস্থায়ী পৃথিবীর জন্য যেনো কিছু সঞ্চয় করি। আর সেই সঞ্চয়গুলো হচ্ছে ভালো কাজ, মানুষের ভালোবাসা, মানুষের স্নেহ, মানুষের মমতা। মানবসেবায় যদি কোনো প্রতিযোগিতা হয়, তবে আমি পিছিয়ে থাকতে চাই না; সবসময় প্রথম হতে চাই। আমি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আপনারা দোয়া করবেন, আগামী দিনে আমি যেনো মানুষের জন্য আরো ভালো কাজ করতে পারি।
ছাত্র-যুবকদের অনুকরণীয় লায়ন বাশার এর বক্তব্য, পরামর্শ, পরিকল্পনা, বিনয়ে উপস্থিত ছাত্র-যুবকরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়। তারা লায়ন বাশারকে পুনরায় ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আসার জন্য এবং কোর্স শেষে তাদেরকে সনদ বিতরণের জন্য সমস্বরে আহ্বান জানায়। লায়ন বাশারও ছাত্র-যুবকদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুনরায় ক্যাম্পাস এ আসার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাকির হোসেন
কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জাকির হোসেন বলেন, আজ ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। স্মার্টনেস এর একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হলো, নির্দিষ্ট হওয়া। যেখানে যা বলা দরকার, যতটুকু বলা দরকার তা বলতে পারাও স্মার্টনেস। তাই আমি শুধু ছাত্র-যুবকদের উদ্দেশ্যে বলবো তোমাদের প্রচুর পড়তে হবে, জানার আগ্রহ থাকতে হবে। শুধু জানলেই চলবে না, জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শুধু নিয়ম প্রবর্তন করলে চলবে না, মানতেও হবে। নিজেকে বদলাতে হবে পজেটিভভাবে। তবেই যথার্থ সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে।
ক্যাম্পাস কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বভাব-কবি জাকির হোসেন বলেন ‘ভালো কাজ করা যদি প্রশংসার হয়, ভালো কাজকে সাপোর্ট করাও কম প্রশংসার নয়’। যুগোপযোগী নানা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ক্যাম্পাস আমাদের ছাত্র-যুবকদেরকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলছে। তাই তাদের এ কল্যাণকর কার্যক্রমে আমাদের সবার সর্বাত্মক সাপোর্ট ও সহযোগিতা থাকা উচিত।
কে এম বেলায়েত হোসেন
সম্পাদক, দৈনিক ভোরের ডাক

দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সেই ব্যক্তি, যিনি দেশের মেধাবীদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলায় জেলায় ঘুরেছেন। মেধাবী-দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তুলে এনে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন। সফলভাবে সে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমাদের দেশের জন্য এটি খুবই দরকার। ঠিক সে কারণে এই মহান ব্যক্তির প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। ক্যাম্পাস কার্যক্রমের প্রশংসা করে বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশের ভবিষ্যত গড়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাস’র কর্ণধার ড. এম হেলাল। এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। সফলভাবে সে দায়িত্ব তিনি পালন করে যাচ্ছেন। যত বাধা আসুক তিনি থামবেন না, এগিয়ে যাবেনই। এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই বলতে চাই ক্যাম্পাস’র বড় প্রকল্প, মহৎ প্রকল্প ‘ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার’ বাস্তবায়ন হবেই। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লায়ন বাশার এর মতো মহৎপ্রাণ মানুষরাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন। কারণ তিনি একজন বড় মাপের মানুষ, বড় মনের মানুষ।
আবদুল্লাহ মাসুদ
সরকারের উপসচিব

সরকারের উপসচিব আবদুল্লাহ মাসুদ বলেন, ক্যাম্পাস নামের প্রতিষ্ঠানটি যুব-সমাজকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। বড় হওয়ার স্বপ্ন, ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন। এ প্রসঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন, ‘তুমি যা ঘুমিয়ে দেখো তা স্বপ্ন নয়, যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না সেটাই স্বপ্ন’। তাই আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে- বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন, বড় কিছু করার স্বপ্ন, ভালো কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা, জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। আমরা যা করতে চাই সেটি যদি ঠিকমতো করি তবে কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় না, নতুবা সবাইকে তোয়াজ করে চলতে হয়। তাই আমাদের কাজের জায়গাটিতে আমরা সর্বোচ্চ শ্রম দেব। তবেই আমরা সফল, সম্মানিত হবো। জাতির জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারব।
ড. খান আসাদুজ্জামান
সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার

দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এর সম্পাদক এবং সফেন ইনোভেশন এর ফাউন্ডার ড. খান আসাদুজ্জামান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লায়ন এম কে বাশার আলোর মশাল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। যিনি দেশের ডিজিটাল শিক্ষার প্রাণপুরুষ, প্রবক্তা। তিনি যে সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমেই তাঁর গ্রামকে আলোকিত করেছেন। তাঁর মহৎ উদ্যোগের ফলস্বরূপ নিজ গ্রামে শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এর মহাসচিব ড. এম হেলালও একজন ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার মানুষ। জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
মহাকবি রুমির ভাষায় এই দুই মহতী মানুষের জন্য অনায়াসে বলা যায়, ‘পথে অনেকেই চলে, কিন্তু নতুন একটি পথ সবাই সৃষ্টি করতে পারে না।’ কিন্তু ড. হেলাল এবং লায়ন বাশার দু’জন অন্যের তৈরি পথ ধরে না হেঁটে নিজের মেধা ও শক্তি দিয়ে অভিনব পথ তৈরি করেছেন। এ দু’জন সৃষ্টিশীল মানুষ নতুন প্রজন্মের জন্য নিজেদের মেধা, শক্তি ও অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিয়ত যা করে চলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। একই মঞ্চে এ দু’জনের মিলনে আজ ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দু’জনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক। দেশমাতৃকার সেবায় দু’জনই নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। আমরা বাঙালিরা একটা কাজ শুরু করি, কিন্তু শেষ করি না; কিন্তু ক্যাম্পাস একটার পর একটা ভালো কাজ সমাজকে দিয়ে যাচ্ছে, যার সুফল পাচ্ছে দেশ; আর আমরা পাচ্ছি যোগ্য নেতৃত্ব। আমি ক্যাম্পাস এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
ড. আলমাসুর রহমান
প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউডের প্রবক্তা

ড. আলমাসুর রহমান বলেন আমি আজ ব্যক্তিগতভাবে খুব আনন্দিত, কারণ আজ এখানে একজন পজেটিভ মানুষ প্রধান অতিথি হিসেবে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন। উপস্থিত ছাত্র-যুবকরা তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখবে, জানবে। তাঁর পরামর্শগুলো ছাত্র-যুবকরা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারলে, সর্বোপরি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শের প্রতিফলন ঘটাতে পারলে তারাও হবে এক একজন লায়ন বাশার।
তাজকেরা খায়ের
ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফ্যামিলি লাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপার্সন

তাজকেরা খায়ের বলেন আমাদের দেশ গরমের দেশ; এখানে কালো কাপড় পরিধান করা কত কষ্টকর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সেই কালো কাপড় পরেই আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ক্যামব্রিয়ান পরিবার প্রতিক্ষণে দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিতে চান
আমরা এখনো আছি অন্ধকারে
যেতে হবে আলোর পানে।
কি সুন্দর প্রকাশ! সবকিছুতে আরো সুন্দর প্রকাশ এই ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এর। তাদের প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালিত হয় জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে। এখানে যখনই আসি নতুন কিছু শিখি, নতুন কিছু আত্মস্থ করি। যেকোনো সমস্যা সমাধানে এখানে সমন্বয় ঘটে কহড়ষিবফমব, অঃঃরঃঁফব আর চৎধপঃরপব এর। আমি আশা করি, এখানকার ছাত্র-যুবকরা এই চর্চা অব্যাহত রেখে তাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
তিনি বলেন ধূসর মরুভূমিতে একটি শহর গড়ার চেয়ে একটি মানুষকে মানুষ করাই বড় কাজ। ক্যাম্পাস সেই কঠিন কাজটিই করছে। তারা একটি প্রদীপ থেকে লক্ষ প্রদীপ জ্বালাবার মহাকর্মযজ্ঞে নিয়োজিত। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের কথা বিভিন্ন জায়গায় শুনি; কিন্তু কোথাও এর বাস্তবরূপ দেখি না। ক্যাম্পাস এ আসলে এর বাস্তবরূপ দেখা যায়। ট্রান্সপ্যারেন্সি, এ্যাকাউন্টেবিলিটির আদর্শ ক্যাম্পাস পরিবারের সদস্যরা নিজেরা চর্চা করে, অন্যকে শেখায়।
এডভোকেট এম জি কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্র্টনেস কোর্স এর রিসোর্স পারসন এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বলেন, আজকে একটি বিশেষ দিন। আজ আমরা এমন একজনকে প্রধান অতিথি হিসেবে পেয়েছি, যিনি নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। শপথ নিয়েছেন দেশ থেকে শিক্ষাহীনতা তথা অন্ধকার দূর করার। তিনি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিই নন, তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠান। এক একজন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র শিক্ষিত নয়, প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তুলছেন এই বিরল প্রতিভাধর দেশপ্রেমী মানুষটি। তাঁর কাছে শিক্ষাহীনতা অন্ধত্বের সামিল, তাই অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে চান দেশকে। তাঁর প্রতিশ্রুতি যতদিন পূরণ করতে পারবেন না, কালোই হবে তাঁর ও ক্যামব্রিয়ান পরিবারের পরিধান। একটি মানুষ কতটা সমাজ-সচেতন ও দেশপ্রেমিক হলে এভাবে ভাবতে পারেন! তাঁর স্বপ্ন পূরণে তিনি অবিরত কাজ করে যাচ্ছেন। সেই স্বপ্ন শিক্ষার আলো সবার মাঝে পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন। আমরা আশা করি তাঁর স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে, দেশ থেকে দূর হবে অশিক্ষার অন্ধকার। আলোয় আলোকিত হবে পুরো দেশ।
এডভোকেট কিবরিয়া বলেন ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র সার্টিফাইড ছাত্র-যুবকদেরকে কোয়ালিফাইড করার এক বিশাল দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে ছাত্র-যুবকদেরকে ধাপে ধাপে নিয়ে যায় ক্যাম্পাস’র শিক্ষানবিশ কর্মসূচির আওতায়। এর আওতায় সারা দেশব্যাপী সমাজ-সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-যুবকরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, সকল মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদপ্তর, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় সংসদ, হাইকোর্টসহ দেশের বিভিন্ন কোর্ট-কাছারি; জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, এসপি, সিভিল সার্জন, এলজিইডি ও পৌরভবন থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করে এবং জাতি-জাগরণী বিভিন্ন সেøাগান সংবলিত ক্যালেন্ডার, ডেক্সসিøপ, স্টিকার, লিফলেট, বই বিতরণ করে থাকে। এর মাধ্যমে ছাত্র-যুবকরা অফিস-আচরণ; শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা ও নেতৃত্বগুণ; ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা; আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠাঃ নিজের ওপর আস্থা বা সেল্ফ-কনফিডেন্স বৃদ্ধি; জড়তা, অলসতা ও ক্যালাসনেস দূর; কথায় ও কাজে দ্রুততা; দলভিত্তিক কার্যক্রম; অফিস-আদালত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ; স্মার্টনেস, শেয়ারিং-কেয়ারিং, এডজাস্টমেন্ট এন্ড ম্যাচিং ক্যাপাসিটি; গঠনমূলক সম্মুখ সমালোচনা; সম্পাদিত কাজের রিপোর্টিং ও মূল্যায়ন; সর্বোপরি নিজের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা-বুদ্ধি-সৃজনশীলতা বৃদ্ধি ইত্যাদি কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জন ও কর্ম-অনুশীলনের সুযোগলাভ করে হয়ে ওঠে কর্মযোগী, দক্ষ, স্মার্ট ও ডায়নামিক মানুষ।
এডভোকেট কিবরিয়া বলেন ক্যাম্পাস’র যুগোপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ছাত্র-যুবকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এখানে স্থান সংকুলানের জন্য সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলার ডায়নামিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমি আশা করব, ক্যাম্পাস শুধু আমাদের নয়, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও ক্যাম্পাস’র। তিনি সবসময় ক্যাম্পাস’র পাশে থাকবেন। ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
ড. এম হেলাল
মহাসচিব, ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র

ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ও ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর মহাসচিব ড. এম হেলাল বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লায়ন এম কে বাশার শিক্ষার আলো প্রচার, প্রসার ও মানোন্নয়নে নিজেকে সমর্পিত করেছেন। যেকোনো মূল্যে দেশকে অন্ধকারমুক্ত করার শপথ নিয়েছেন তিনি। একজন মানুষের মন কতটা আলোকিত হলে অন্যের প্রতি আলো বিতরণে নিজেকে সমর্পণ করেন, তার প্রকৃত উদাহরণ লায়ন এম কে বাশার। তাঁর রয়েছে যেকোনো ভালো কাজে অংশগ্রহণ আর মন্দ কাজকে বর্জনের সাহসী প্রয়াস। তিনি ক্যাম্পাস’র ভালো কাজকে সমর্থন করেন বলেই, তাঁর শত ব্যস্ততার মাঝে আজ এখানে এসেছেন। কারণ তাঁর বিচরণ সব ভালো উদ্যোগে, সব ভালো কিছুতে। তাঁকে দেখে, তাঁর কথা শুনে, তাঁকে অনুসরণ করে ছাত্র-যুবকরা আলোকিত হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস।
ড. হেলাল বলেন ক্যাম্পাস নিত্য-নতুন আইডিয়া জেনারেট করে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সমাজে-জাতিতে ও বিশ্ব পরিসরে। ছাত্র ও যুব উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ক্যাম্পাস, যার অন্যতম কর্মসূচি ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্স। এর মাধ্যমে ছাত্র-যুবকদেরকে ঝসধৎঃ ্ মষড়নধষ ুড়ঁঃয মবহবৎধঃরড়হ রূপে গড়ে তুলছে ক্যাম্পাস। এছাড়াও যুগোপযোগী নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে সার্টিফাইড ছাত্র-তরুণদের কোয়ালিফাইড করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এভাবে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ক্যাম্পাস’র এসব কল্যাণকর কর্মসূচিতে উদারপ্রাণ-দানশীল ব্যক্তিত্বগণের সমর্থন-সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের কথামালা
ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-যুবকদের মধ্যে কয়েকজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, এখানে আসার আগে যতটুকু এক্সপেকটেশন ছিল, এ ক’দিনে আমার এক্সপেকটেশন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্সে অংশগ্রহণ করে এ ক’দিনে যা শিখেছি এবং কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত যা শিখব বলে আশা করছি তা থেকে ২০ ভাগও যদি জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমার জীবন আরও সুশৃঙ্খল, আরো গোছানো হবে, যা আমাকে নিয়ে যাবে সাফল্যের শিখরে। এখানে তর্কপ্রিয় বাঙালিকে যুক্তিপ্রিয় বাঙালিতে, রিএকটিভ বাঙালিকে প্রোএকটিভ বাঙালিতে পরিণত করা হয়। ক্যাম্পাস’র এসব কাজের সাথে আমরাও আছি এবং সারাজীবন থাকব।
ইডেন কলেজের ছাত্রী জীবন্নেসা মিন্নাত বলেন, ব্যক্তি হিসেবে আমি খুব লাজুক। কখনো সভা-সেমিনারে দু’টি কথা বের হতো না আমার মুখ থেকে। ক্যাম্পাস’র এ কোর্সে অংশগ্রহণ করে আমি জড়তা কাটিয়ে সকলের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে শিখেছি। আমাকে এক্ষেত্রে সাহায্য করেছে আমার গাইড, আমার প্রশিক্ষক। তিনি বলেছেন, ভুল হোক তবুও বলো, লজ্জা পেলেও বলো। এভাবেই আমি নিজেকে প্রকাশ করার সাহস পেয়েছি, জড়তা কেটেছে, ভয় কমেছে। আমার ভিতরের লাজুক মানুষটিকে সাহসী মানুষে পরিবর্তন করেছে আমার শিক্ষক। এখন আমি জানি সাহস করে সামনে এগিয়ে গেলেই জয় করা যায় সবকিছু। এখানে ইংরেজি ছাড়াও ভালো মানুষ হওয়ার জন্য স্যার আমাদেরকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেন। এখন আমি মিথ্যা কথা বলতে গেলে স্যারের কথা মনে পড়ে, মিথ্যা বলতে পারি না; রাগের বিষয় হলেও আমি এখন চিন্তা করি আমার রাগ করা ঠিক হচ্ছে না। এভাবে নিজের ছোট-খাটো ভুলগুলো কাটিয়ে নিজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করছি। এটাই আমার জন্য ক্যাম্পাস থেকে বড় প্রাপ্তি। আমি ধীরে ধীরে যেভাবে পরিবর্তীত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছি, তাতে আমি সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে পারব বলে আশা করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ক্যাম্পাস এ ইংলিশ কোর্স করার আগে কম্পিউটার কোর্স করেছি। তখনই দেখেছি যে, এখানো কত আন্তরিকভাবে শিখানো হয়, এখানকার ভালোবাসাটা অন্যরকম ভালোবাসা, এখানকার পরিবেশটা অন্যরকম পরিবেশ। তাই বললে অত্যুক্তি হবে না যে, ক্যাম্পাস একটি ভিন্ন বাংলাদেশ। এখানে ইংলিশ কোর্সে আমি এতোটাই উপকৃত হয়েছি যে, আমার বন্ধুকেও প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে এসেছি। এখানে শুধু ইংলিশই শিখানো হয় না; এখান থেকে যে নীতি-নৈতিকতা শিখছি আমি মনে করি, প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, প্রত্যেক শিক্ষকের এভাবে কিছু শিক্ষা দেয়া দরকার। তাহলে অতিসন্নিকট ৫ বছরে বাংলাদেশে আমূল পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশ হবে এক নতুন বাংলাদেশ। ক্যাম্পাস’র সাথে আমি যুক্ত হয়েছি, আছি এবং শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাস’র সাথে থাকব।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্র মোঃ আরমান হোসেন বলেন আমি ক্যাম্পাস’র সাথে জড়িত হতে পেরে সত্যি গর্বিত, সত্যি আমি আনন্দিত। ক্যাম্পাস এ যেভাবে ইংরেজি শিখানো হয়, তাতে যেকোনো মেধার ছাত্রই খুব সহজে ইংরেজি শিখতে পারবে। আরেক ছাত্র মোঃ মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিনামূল্যে এতো ভালো ইংরেজি ভাষা শেখানো হয়! শুধু ইংরেজি শেখানো নয়, একজন ভালো মানুষের যে গুণগুলি থাকা দরকার সেগুলি ফুটিয়ে তুলে সঠিকভাবে গড়ে তোলার এতো সুন্দর ব্যবস্থা আছে, এটা এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না। আমি মনে করি, এখানকার শিক্ষকদের ক্লাস যারা করবে এবং তাঁদের নির্দেশনা জীবনে প্রয়োগ করবে, সেই ব্যক্তি শুধুমাত্র দেশ নয়, পুরো বিশ্বে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে এবং তাদেরকে ভালো কাজে উৎসাহিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কার প্রদান করেন ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর মহাসচিব ড. হেলাল এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লায়ন বাশার। উপহার হিসেবে দেয়া হয় ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বই।