দক্ষতা-স্মার্টনেস ও লিডারশীপ বৃদ্ধিতে
ক্যাম্পাস’র শিক্ষানবিশ কর্মসূচির এওয়ার্ড ও সনদ বিতরণ করেন
আধুনিকও চৌকস নারী উদ্যোক্তা ফারজানা চৌধুরী

উচ্ছল-উজ্জ্বল আলোকিত জাতি গঠনের উদ্দেশ্যে এবং ছাত্র-যুবকদেরকে দেশ উন্নয়নে সুসংগঠিতকরণে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি। ছাত্র-যুবকদের মাঝে শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞানার্জনের অবসরে সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষা জীবনেই ছাত্র-যুবকরা অফিস-আচরণ; শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব গুণ; নিয়মানুবর্তিতা ও ন্যায়নিষ্ঠা; আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা; কথায় ও কাজে দ্রুততা; দলভিত্তিক কার্যক্রম; অফিস-আদালত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ; জড়তা-অলসতা ও কেলাসনেস দূর; শেয়ারিং-কেয়ারিং ও এডজাস্টমেন্ট; সম্পাদিত কাজের রিপোর্টিং ও মূল্যায়ন; সৃজনশীলতা ও স্মার্টনেস বৃদ্ধি ইত্যাকার নানা বিষয়ে সম্যক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। তাছাড়া দৈনিক পকেটমানি পেয়ে ছাত্র-তরুণ বয়সেই তারা নিজেদের করছে স্বাবলম্বী।
গত ২৩ জানুয়ারি ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ২০১২-’১৩ সালের শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে নেতৃত্বদানকারী দক্ষ লিডার, কো-লিডার এবং সফল পার্টিসিপেন্টদের সনদ ও এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকিং ও বিমাক্ষেত্রে আধুনিকতা আনায়নে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব,ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে সৃজনশীল ধ্যান-ধারণার প্রবক্তা, চৌকস নারীনেত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফারজানা চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব এম হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ড. নাজনীন আহমেদ; বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নাজমা বেগম; ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষা হোসনে আরা বেগম; ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন মোঃ গোলাম কিবরিয়া; কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা ও ছড়াকার মোহাম্মদ মোস্তফা; রাজউক’র পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা প্রমুখ।
শিক্ষানবিশদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সফল নেতৃত্বদানকারী দক্ষ লিডার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ; ক্যাম্পেইনের কো-লিডার ও সিটি কলেজের ছাত্রী শারমিন সুলতানা সনি;সফল পার্টিসিপেন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ইরফাত জাহান। উপস্থাপনায় ছিলেন ক্যাম্পাস’র শিক্ষানবিশ ও ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র নাজমূল হুসাইন এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী ও শিশু কলামিস্ট আনতারা রাইসা। তাদের প্রাণোচ্ছল উপস্থাপনায় এবং ক্যাম্পাস থীম সং পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো হয় ক্যাম্পস’র বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ডক্যুমেন্টারি।

অতিথি বরণ
প্রধান অতিথি ফারজানা চৌধুরীকে পুষ্পমাল্যে বরণ করেন ক্যাম্পাস’র উপ-পরিচালক উম্মে সালমা রনি। অন্যান্য অতিথিদেরও পুষ্পমাল্যে বরণ করেন রাজু আহমেদ,রাজিব গুপ্ত,মুনমুন গুপ্তা ও আরিফ হোসেন। সবুজ ও প্রাকৃতিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে প্রধান অতিথিকে পুষ্প-পল্লবিত শুভেচ্ছা উপহার অর্পণ করেন সিএসডিসি’র মহাসচিব এম হেলাল। ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত ২টি মডেল ও বিভিন্ন সিডির সেট অর্পণ করেন ক্যাম্পাস’র উপ-সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান। ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত ৪টি বইয়ের সেট অর্পণ করেন রাজউক’র পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা। সৃজনশীল,প্রতিভাদীপ্ত ব্যক্তিত্ব প্রধান অতিথি ফারজানা চৌধুরী বয়সে নবীন হয়েও তিনি ইতোমধ্যে বীমা ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রে রেখেছেন ব্যতিক্রমী প্রতিভার প্রোজ্জল স্বাক্ষর। নারীকল্যাণ ও সেবায় অনন্য অবদানের জন্য ফারজানা চৌধুরীকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণ করেন ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এম হেলাল।
এছাড়াও একটি বিশেষ উপহার প্রদান করা হয় প্রধান অতিথিকে। ক্যাম্পাস পরিচালিত ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ৮২তম ব্যাচের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অতিথি হয়ে এসেছিলেন। সেদিনের সেই অনুষ্ঠানের একটি পোট্রেট ছবি প্রধান অতিথির হাতে ক্যাম্পাস’র পক্ষে তুলে দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নাজমা বেগম।

মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন
শিক্ষানবিশদের সমাজসেবা কার্যক্রমের আলোকোজ্জ্বল ফল্গুধারা সর্বস্তরে বিকশিত করতে অনুষ্ঠানে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। প্রদীপ জ্বালান প্রধান অতিথি ফারজানা চৌধুরী। এতে সহযোগিতা করেন রুমা, মাহীর, সুইটি, রিফাত ও মুনমুন।

বেস্টদের পুরস্কার ও সফলদের সনদ বিতরণ
এ পর্বে শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বেস্ট লিডার,কো-লিডার এবং সফল পার্টিসিপেন্টদের সার্টিফিকেট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের ভোটে এবং ক্যাম্পাস’র বিবেচনায় বেস্ট লিডারের এওয়ার্ড লাভ করেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও ইউসুফ আলী রানা;বেস্ট কো-লিডারের এওয়ার্ড লাভ করেন মাসরুল আলম আকাশ ও শারমিন সুলতানা সনি;বেস্ট পার্টিসিপেন্টের এওয়ার্ড লাভ করেন শাহাদত হোসেন সাগর ও সৈয়দা তাহসিনা হৃদিতা। এছাড়া সফল শিক্ষানবিশ হিসেবে প্রধান অতিথির হাত থেকে সনদ লাভ করেন আবু সুফিয়ান রিপন, সফিউল্লাহ সারওয়ার, ইরফাত জাহান, শাহ আলম শরীফ, রাকিবুল ইসলাম, নাহিদ সুলতানা মুক্তা, মাইনুল ইসলাম, জাকির হোসাইন, তারিকুল ইসলাম, আবু সায়েম, নাজমুল হাসান, মুনমুন গুপ্তা এবং ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী সর্বকনিষ্ঠ পার্টিসিপেন্ট ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, স্কাউট লিডার ও শিশু কলামিষ্ট মাহীর হেলাল। এরপর ফিল্ড ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপস্থিত বুদ্ধি ও প্রত্যুতপন্নমতিতা এবং গঠনমূলক সমালোচনার জন্য কয়েকটি ছোট্ট কিন্তু বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন রাজু আহমেদ,সাবিকুন নাহার সুইটি,আবু সায়েম ও মাহীর হেলাল।

বক্তৃতা পর্ব
সফল শিক্ষানবিশদের এওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট প্রদানের পর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। প্রধান অতিথিসহ সকল বক্তাই ছাত্র-যুবকদের উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে বক্তৃতা করেন এবং ক্যাম্পাস’র এ ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

নতুন প্রজন্মকে চৌকসরূপে গড়ে তোলার জন্য ক্যাম্পাস যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে,তা সময়ের সাহসী উদ্যোগ -ফারজানা চৌধুরী
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি,চৌকস নারী-উদ্যোক্তা ও প্রগতিশীল সংগঠক ফারজানা চৌধুরী বলেন-ইতিপূর্বেও আমি ক্যাম্পাস কার্যালয়ে এসেছি,অনেকদিন পর আবার আসলাম। এসে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। ক্যাম্পাস’র যেমন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে,তেমনি তারা পরিবর্তন করছে মানুষের চিন্তা-চেতনাকে। ক্যাম্পাস আমাদের আশা-ভরসার স্থল। ক্যাম্পাস’র জীবনমুখী কার্যক্রমগুলো শুধু নামেই চমৎকার নয়,বাস্তবেও রয়েছে এর অতলস্পর্শী গ্রহণযোগ্যতা। নতুন প্রজন্মকে চৌকসরূপে গড়ে তোলার জন্য ক্যাম্পাস যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা সময়ের সাহসী উদ্যোগ। ক্যাম্পাস সাহসের সাথে সত্য কথা বলে; ক্যাম্পাস’র সাথে যারা সম্পৃক্ত,তারাও সাহস নিয়ে সোজা-সাফ্টা কথা বলেন-যা সত্যিই অনুকরণীয়।
তিনি বলেন-ক্যাম্পাস আরও বড় হবে। তাদের দীপ্ত পদচারণায় আঁচ করা যায়,দেশের বাইরেও একদিন জানাজানি হবে-বাংলাদেশে একটি প্রগতিশীল সংস্থা আছে, যার নাম ক্যাম্পাস। প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশকে বলা হয় যুবকের দেশ। জনসংখ্যার বিপুল অংশই যুব শ্রেণিভুক্ত। কাজেই এদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়ী। যুব শ্রেণির সামনে রয়েছে বিশাল ভবিষ্যৎ। তাদেরকে নিয়ে আসতে হবে উজ্জ্বল আলোর ঝরনা তলায়;দেখাতে হবে আলোর পথ। ক্যাম্পাস সেই কাজটিই করছে,নতুন প্রজন্মকে Superior human being হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ কর্মকান্ডে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে ফারজানা চৌধুরী বলেন-বাবার অনুরোধ রক্ষা করে প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়ে ইন্স্যুরেন্সে এসেছি। এটি নতুন কর্মক্ষেত্র, তবে বৈচিত্রহীন নয়। নতুন করে শুরু করতে হয়েছে। Nothing imposible- ক্যাম্পাস’র এ শিক্ষায় আমিও বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন-আমি যখন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত হলাম,তখন সমাজে আরও কিছু নারী উদ্যোক্তা যোগাড়ের দায়িত্ব অনুভব করলাম। কিন্তু এ কাজে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বাস্তবে দেখেছি,আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে পুরুষের সহযোগিতা ছাড়া নারীরা খুব কমই দাঁড়াতে পারছে। নারী জাগরণে,নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষের উদার মানসিকতা,একাত্মবোধ থাকতে হয়। সেটি লক্ষ্য করেই আমরা গ্রীন ডেল্টা ইন্সুরেন্সে মহিলাদের জন্য বিশেষ ইন্স্যুরেন্স চালু করেছি; স্টুডেন্টদের জন্যও চালু করেছি ইন্স্যুরেন্স।
স্মরণীয় ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফারজানা চৌধুরী বলেন,নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আমি আমেরিকার হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছি;মার্কিন সরকারের স্টেট ডিপার্টমেন্ট পরিদর্শন করেছি। শিক্ষানবিশদের উদ্দেশ্যে ফারজানা চৌধুরী বলেন-শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় ক্যাম্পাস’র সাথে যুক্ত থেকে তোমরা অগ্রগতির যে মাত্রা জীবনে যোগ করেছ, তাতে তোমাদের আগামীর চলার পথ অনেক সহজ হবে। তোমাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিতে তোমরা দৃঢ়প্রত্যয়ী। কৃতি ও সাফল্যের জন্য তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই।

ড. নাজনীন আহমেদ
ক্যাম্পাস’র অনারারী রিসার্চ ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন,ক্যাম্পাস কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে-ছাত্র-তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা,তাদেরকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী হিসেবে চৌকস ও স্মার্টরূপে গড়ে তোলা। শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাস’র অর্জন তাৎপর্যপূর্ণ। এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছাত্র-যুবকরা Better human being হিসেবে গড়ে উঠছে; তারা তাদের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলছে। ড. নাজনীন বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অনেক দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করেন; অনেক কম বয়সে তিনি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে কাজ করে যুব-সমাজের কাছে অনুকরণীয় হয়েছেন। তাঁর পিতা কিংবদন্তি বিমা ব্যক্তিত্ব নাসির এ চৌধুরীর ধীর-স্থির ও শান্তভাব অনেকের কাছে ছিল বিস্ময়ের ব্যাপার। তাঁর সুযোগ্যা কন্যা ফারজানা চৌধুরীও পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
ড. নাজনীন বলেন,ক্যাম্পাস’র কোনো প্রতিষ্ঠিত পুঁজি নেই; শূন্য থেকে আমাদের শুরু করতে হয়েছে। ক্যাম্পাস’র সে শুরুর দিকে মাত্র দু’তিন জন উদারপ্রাণ দরদী ব্যক্তিত্ব ক্যাম্পাস কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা দিয়েছিলেন, নাসির এ চৌধুরী তাঁদের অন্যতম। তাঁর আশ্বাস এবং সাহস আমাদেরকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁরই সুযোগ্যা কন্যা, তিনিও আমাদের কার্যক্রমে তাঁর সহযোগিতার হাত আরও বাড়িয়ে দেবেন -এই কামনা করি।

রোকন উদ-দৌলা
রাজউক’র পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট থাকার সময় ভেজাল-বিরোধী আন্দোলনে আমার কঠোর অবস্থানকে উৎসাহিত এবং সমাজের সচেতন অংশকে উজ্জীবিত করতে আমার ছবিসহ ক্যাম্পাস পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে,যা ছিল সাহসী উদ্যোগ। ক্যাম্পাস নিজেরা যেমনি সাহসের সাথে সত্যের পথে থাকে, তেমনি আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজকেও সত্যের পথে থাকতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে।
তিনি বলেন,আমাদের সমাজে নারীরা এখনো অসম্মানিত ও নির্যাতিত হয়। নারীমুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলে,এ তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস পত্রিকায় লেখালেখি চালু করার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি ক্যাম্পাস কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য প্রধান অতিথিকে আহ্বান জানাচ্ছি।

অধ্যাপক নাজমা বেগম
প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নাজমা বেগম বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা চিরদিনই আমার প্রিয়। শিক্ষকতা পেশায় স্নেহ-মমতা ও শাসনে শিক্ষার্থীদের মানুষ করেছি। ক্যাম্পাস-এ এসেও সেই তরুণদের সান্নিধ্যেই আছি। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে অন্তর্নিহিত শক্তি আছে-ক্যাম্পাস তা জাগিয়ে তুলছে। স্বপ্নময় দেশ বাংলাদেশ;আমাদের তরুণরা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে, ক্যাম্পাস’র মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনা পেলে। ছাত্র-তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখবে; সুন্দর দেশ গড়ার অবিনাশী চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেবে ন্যায়ের পথ ধরে।

অধ্যক্ষা হোসনে আরা বেগম
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষা হোসনে আরা বেগম বলেন-প্রশংসাপত্র হলো পারফরমেন্সের সার্টিফিকেট, যা আজ শিক্ষানবিশরা পেয়েছে। তাদেরকে ভাবতে হবে -এটি সোনার হরিণ নয়, ভালো কাজের স্বীকৃতি। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস’র সূচনা সংগীত ছাত্র-তরুণসহ আমাদের সবাইকে উজ্জীবিত করে। ক্যাম্পাস অঙ্গনে কোনো নেগেটিভ শব্দ নেই। তরুণদের সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলে ক্যাম্পাস।

মোঃ গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস পরিচালিত ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এম জি কিবরিয়া বলেন,ক্যাম্পাস পরিবর্তনের কথা বলে। ছেঁড়া কাথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখাকে যারা নিরুৎসাহিত করে,তাদের সমালোচনা করে ক্যাম্পাস;ভুল রেফারেন্স সংশোধন করে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে হাজার কোটি টাকার স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন,সমাজ ও দেশের জন্য ক্যাম্পাস কাজ করছে। ছাত্র-যুবকদের মাঝে সাহস, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, সহনশীলতা গড়ার এমন একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসকে সহযোগিতা করলে তা সমাজ পরিবর্তন ও জাতীয় মানস গঠনে কার্যকর হবে। প্রধান অতিথি ক্যাম্পাস কার্যক্রমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন -এটিই প্রত্যাশিত।

গিয়াস উদ্দিন আহমেদ
ক্যাম্পাস’র অতিরিক্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ কীভাবে কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজেকে চৌকস ডিজিটাল স্টার হিসেবে গড়ে তুলেছেন, সে সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি দেশের ৬৪ জেলার ৫ শত থানার প্রত্যেকটিতে অন্তত ১০ বার ঘুরেছি। দেশের এমন কোনো সার্কিট হাউজ বা রেস্ট হাউজ নেই,যেখানে আমি থাকিনি। ক্যাম্পাস’র সমাজ সচেতনতা কর্মসূচির সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষেও আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সংসদভবন,সচিবালয়,হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পাস’র পরিচিতি আজ ঈর্ষণীয়। প্রতিদিন ৩/৪ জন ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে আমার দেখা হয়,কথা হয়; ক্যাম্পাস আমাকে সে সুযোগ দিয়েছে। এজন্য আমি ক্যাম্পাস’র কাছে কৃতজ্ঞ। গিয়াস উদ্দিন বলেন,বাংলাদেশে এখন তারুণ্যের জয়জয়কার। আমরা যদি তারুণ্যের সাথে থাকতে পারি, ভালো কাজের মধ্যে থাকতে পারি -তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।

এম হেলাল
সভাপতির ভাষণে এম হেলাল বলেন-ক্যাম্পাস নিত্য-নতুন জ্ঞান ও আইডিয়া সৃষ্টি করে তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্র-যুবকদেরকে সৎ, সাহসী ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বরূপে গড়ে তুলছে। প্রধান অতিথির উদ্দেশ্যে এম হেলাল বলেন-যারা সমাজে অবদান রাখছেন,প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন,আজকের প্রধান অতিথি তাদেরই একজন। তিনি প্রতিভাদীপ্ত উজ্জ্বল যুব-উদ্যোক্তা। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ছাত্র-তরুণদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে অনুষ্ঠানে এসেছেন,এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন,প্রধান অতিথির বাবা নাসির এ চৌধুরী ক্যাম্পাস’র অতি আপনজন। ক্যাম্পাস যখনই কোনো সংকটে পড়েছে,নাসির এ চৌধুরী এগিয়ে এসেছেন;শুধু অর্থই নয়,তাঁর আশ্বাসও প্রেরণাদায়ক। এভারগ্রীন নাসির এ চৌধুরী ক্যাম্পাস’র প্রিয় ব্যক্তিত্ব,তিনি ফারজানা চৌধুরীকেও গড়ে তুলেছেন Green Delta এর Dream Girl হিসেবে। ক্যাম্পাস এবং গ্রীন ডেল্টা একই লক্ষ্যে চলছে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এ দু’প্রতিষ্ঠান একাত্ম হয়ে কাজ করলে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠন সহজ হবে।