শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে
সিঙ্গার বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান জনাব মাহবুব জামিল

২৭ জানুয়ারি ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) আয়োজিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ২০০৯ -এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সফল শিক্ষানবিশদের সনদ প্রদানের পাশাপাশি বেস্ট লিডার,বেস্ট কো-লিডার এবং বেস্ট পার্টিসিপেন্ট পুরস্কারও প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসি’র মহাসচিব এম হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী,ফরেন ইনভেস্টরস ফোরাম এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি, সিঙ্গার বাংলাদেশ -এর চেয়ারম্যান জনাব মাহবুব জামিল;বিশেষ অতিথি ছিলেন পারটেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জনাব কে এম আলী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ -এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. তফাজ্জল হোসেন; দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার জনাব এম এ রশিদ খান; বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও বিআইডিএস’র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ; পারটেক্স গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার জনাব রাশিদুল হাসান; কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা ও ছড়াকার মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।

মাহবুব জামিল
চেয়ারম্যান,সিঙ্গার বিডি
প্রধান অতিথির ভাষণে জনাব মাহবুব জামিল বলেন-বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ, কিন্তু বাঙালির কিছু খারাপ বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদের অনেক সাফল্য হাতছাড়া হয়ে যায়। বাঙালিদের বড় সমস্যা-তারা বাকপটু,অলস ও ঈর্ষাকাতর। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা অনেকেই দেশের কথা-ভাষার কথা বলেন,কিন্তু তাদের সন্তানরাই চলে যায় বিদেশে। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সমাজের পঁচন রোধকল্পে আন্দোলন করতে হবে। বাংলার শাশ্বত মূল্যবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তরুণ শিক্ষানবিশদের লক্ষ্য করে জনাব জামিল বলেন-তোমাদের সামনে রয়েছে অবারিত সুযোগ,তোমরা যা বলবে তা করবে,যা বিশ্বাস করবে তা পালন করবে। জীবনের শুরুতে মস্তিষ্কে একটি খারাপ চিন্তা ঢুকলে তা থেকে অব্যাহতি পাওয়া খুব কঠিন। আজকাল প্রায় ক্ষেত্রেই মানুষ যানজটের অজুহাত দেয়,যানজট কোন অজুহাত হতে পারে না। এটি এখনকার বাস্তবতা। কাজেই যানজটকে হিসেবে রেখেই কাজ করতে হবে। যানজট বা বৈরী পরিবেশের কাছে আত্মসমর্পণ করে নয়,তাকে জয় করেই তোমাদের অগ্রসর হতে হবে। তোমরা জীবনকে কর্মময় ও সুন্দর করে গড়ে তোল। জনাব জামিল আরও বলেন-ক্যাম্পাস ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে, সমাজে যারা দুর্নীতি করে তাদের বয়কটের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে।আজকের যুবকরাই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। যুব সমাজকে কাজে-কর্মে হতে হবে নিষ্ঠাবান।

কে এম আলী
সিইও,পারটেক্স
সফল শিক্ষানবিশদের উদ্দেশ্যে বিশেষ অতিথি জনাব কে এম আলী বলেন-আমাদের সমাজের ৮৫% লোক এভারেজ বা গড় মানের আর ১৫% উচ্চস্তরের। কিন্তু ১৫% দিয়েত’দেশ চলবে না,কাজেই ৮৫% -এর দিকেই আমাদের নজর দিতে হবে। ৮৫ ভাগের মধ্যে পরিবর্তন না এলে মধ্যমানের দেশ হওয়া সম্ভব হবে না। আমাদেরকে সৎ ও ইফিসিয়েন্ট হতে হবে; অন্যকে নয়, আগে নিজেকেই ভাল করতে হবে। জনাব আলী আরও বলেন,আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিকে গ্রহণ করার উদার মানসিকতা আমাদের থাকতে হবে। আমাদের বিশাল তরুণ সমাজকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়তে হবে-ক্যাম্পাস’র উদ্যোগ তারই অংশ। ক্যাম্পাস যে মানুষ তৈরির কারখানা,তা এর বহুমুখী কার্যক্রম থেকেই প্রমাণিত। চীন যদি ইংরেজি ভাষাকে যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারতো তাহলে বিশ্ব-বাণিজ্যে সে থাকতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ভারত এক্ষেত্রে সংস্কারমুক্তভাবে ইংরেজিকে গ্রহণ করেছে,বিশ্ববাজারে সে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে চলেছে, আইটিতে তার অগ্রগতি বিস্ময়কর। জনাব কে এম আলী বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্র-তরুণদের ট্রেনিং দেয়ার প্রস্তাব করেন। তাঁরএ প্রস্তাব অভিনন্দিত হয়।

প্রফেসর ড. তফাজ্জল হোসেন
ভাইস-প্রেসিডেন্ট,এআইইউবি
প্রফেসর ড. তফাজ্জল হোসেন বলেন,ক্যাম্পাস নিজস্ব উদ্যোগে তরুণদের মধ্যে লিডারশীপ গড়ে তুলছে। আমি জানি-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস একটি জায়গার জন্য সরকারের কাছে বেশ ক’বছর আগে আবেদন করেছে, কিন্তু তাদের পক্ষে অনুকূল সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। এ জায়গাটা বরাদ্দ হলে ক্যাম্পাস উন্নয়নমূলক কাজ আরও ভালোভাবে,আরও সফলভাবে করতে সমর্থ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আবদুর রশিদ খান
ট্রেজারার,দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি
জনাব আবদুর রশিদ খান বলেন,নবীন-প্রবীণের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আজকের অনুষ্ঠানে এসে খুবই প্রীতবোধ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস -এর মাল্টিডাইমেনশনাল কার্যক্রম আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। কারণ এখানে আমার মনের খোরাক আছে। তথ্য-প্রযুক্তির এই স্বর্ণালী সময়ে ক্যাম্পাস ন্যায়ভিত্তিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে,তা সমাজ প্রগতিতে বিশেষ অবদান রাখবে।

ড. নাজনীন আহমেদ
রিসার্চ ফেলো,বিআইডিএস
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন-ক্যাম্পাস’র শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ছাত্র-যুবকরা নিজেদের জড়তা কাটাতে সক্ষম হচ্ছে,তারা নিজেদের মধ্যে লিডারশীপ গড়ে তুলতে শিখছে,বাড়িয়ে তুলছে স্পিকিং ক্যাপাসিটি। ক্যাম্পাস’র কাছে পরিশ্রম করার যে শিক্ষা তারা পাচ্ছে তা ধরে রাখতে হবে,প্রয়োগ করতে হবে কর্মজীবনে। সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচির অধীনে ঘুষ-দুর্নীতি বিরোধী স্টিকার যে যুবক আজ লাগাচ্ছে,কর্মজীবনে ঘুষ খেতে গিয়ে একটু হলেও তার বুক কাঁপবে, ঘুষ থেকে সে সরে আসবে। এভাবেই ক্যাম্পাস ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে।

রাশিদুল হাসান
জেনারেল ম্যানেজার,পারটেক্স
রাশিদুল হাসান বলেন,অফিস-কার্যক্রম দেখতে আমাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। এই সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পাস’র ক্যালেন্ডার এবং স্টিকার দেখেছি। স্টিকারে থাকে জাতীয় সমস্যা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার বাণী। জাতি গঠনমূলক কাজে honesty, dedication & sincerity -এর প্রতিফলন ঘটে ক্যাম্পাস’র ক্যালেন্ডার ও স্টিকারে। শিক্ষানবিশদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের আজকের সাফল্য জীবন চলার পথে মাইলফলক হিসেবে থাকবে।

এম হেলাল
মহাসচিব,সিএসডিসি এবংসম্পাদক,বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা
অনুষ্ঠানের সভাপতি এম হেলাল বলেন,শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে সফল অংশগ্রহণকারীগণ সকাল ৮টায় কাজে বেরিয়ে যায়,ফিরে আসে বিকেল সাড়ে ৫টায়। আজ তারা স্বীকৃতি পেল,সফল মানুষদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করলো। তিনি বলেন, কম্পিউটার ট্রেনিংপ্রাপ্ত এসব কর্মী তাদের সুপার কম্পিউটাররূপী মস্তিষ্ক থেকে নেগেটিভ চিন্তা-চেতনা দূর করে সেখানে স্থাপন করতে পারে পজিটিভ আইডিয়া। তারা আত্মসমালোচনা করে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে। শুধু তাই নয়, গ্রুপ-লিডারদের ভুল-ত্রুটিরও সমালোচনা করে। তারা ক্যাম্পাস থেকে যা শেখে ঘরে ফিরে তার মূল্যায়ন করে। এভাবে ক্যাম্পাস প্রো-একটিভ ও পজিটিভ এটিচিউডের মানুষ তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি শিক্ষানবিশদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করেন। শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ২০০৯ -এর অধীনে বেস্ট লিডার নির্বাচিত হন-মোঃ মহিন উদ্দিন, বেস্ট কো-লিডার হন মোঃ জালাল উদ্দিন,বেস্ট পার্টিসিপেন্ট (ঢাকায়)- স্বর্না শারমিন,বেস্ট পার্টিসিপেন্ট (সার্বিক) গোলাম মোস্তফা এবং ডি এম আবদুর রহিম। সার্টিফিকেট লাভকারী অন্যান্যরা হচ্ছেন -মোঃ ফরিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মোঃ আরিফুর রহমান, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মুক্তা আক্তার, আবু সাঈদ খান (মানিক), মোঃ আরিফুল ইসলাম, সিদ্ধার্থ ভৌমিক, মহিউদ্দিন আহমেদ (প্লাবন), মোঃ মারুফ হোসেন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ আনোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ রাজু, মোঃ শাকিল হোসেন, মোঃ নাজমুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।