ক্যাম্পাস পরিচালিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সনদ ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে
আরটিভি ও বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম

ক্যাম্পাস পরিচালিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে ৯ জুন, বুধবার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ন্যাশনাল টেলিভিশন লিঃ (আরটিভি) -এর চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিভি’র সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা এবং বর্তমানে আরটিভি’র প্রধান নির্বাহী ম হামিদ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসি’র মহাসচিব এম হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ; অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল শহীদুল ইসলাম বিশ্বাস, আরটিভি’র প্রশাসনিক নির্বাহী মোঃ মোস্তাফা কামাল, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা শিশু সংগঠক ও ছড়াকার মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।
জ্ঞানার্জনের অবসরে অর্থ উপার্জন ও সমাজসেবা এবং শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি -এ মানসিকতায় ছাত্র-যুবকদের গড়ে তুলতে ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র (সিএসডিসি) পরিচালনা করছে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে থাকে। কর্মমুখী বা জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার অভাবে আমাদের ছাত্র-যুবকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি বা কর্মজীবনের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কিছুই পায় না। শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র-যুবকদের বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে ক্যাম্পাস। এর মাধ্যমে তারা অফিস আচরণ, ন্যায়নিষ্ঠা, টিম-স্পিরিট এন্ড শেয়ারিং, কর্মদক্ষতা, রিপোর্টিং, সামনাসামনি অন্যের গঠনমূলক সমালোচনা, ব্যক্তিগত ভুল-ত্রুটির আত্মসমালোচনা এবং অফিস পরিচালনার ব্যাপারে সম্যক ধারণা লাভ করে নিজেদেরকে দক্ষ করে তুলতে পারে -যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের জন্য সহায়ক হয়। শিক্ষানবিশী কাজে ব্যাপৃত থাকার সময় তারা দৈনিক পকেটমানি পায়, যা তাদের অস্বচ্ছলতা দূর করতে সহায়ক হয়।
অংশগ্রহণকারী সফল শিক্ষানবিশদের পারফরমেন্সের মূল্যায়নের ওপর তাদের সনদ দেয়া হয়। পাশাপাশি বেস্ট লিডার, বেস্ট কো-লিডার এবং বেস্ট পার্টিসিপেন্ট নির্বাচিত করে তাদেরকেও পুরস্কৃত করে ক্যাম্পাস।
এ অনুষ্ঠানে বেস্ট লিডারের পুরস্কার লাভ করেন দেওয়ান মামুনুর রশিদ, বেস্ট কো-লিডার হন রাফিউল ইসলাম রাজু। বেস্ট পার্টিসিপেন্ট হন দু’জন-রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল হান্নান। অনুষ্ঠানে বেস্ট লিডার দেওয়ান মামুনুর রশিদ এবং বেস্ট কো-লিডার রাফিউল ইসলাম রাজু তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

মোরশেদ আলমঃ
প্রধান অতিথির ভাষণে মোরশেদ আলম বলেন,উন্নতমানের প্রকাশনার মাধ্যমে মনন ও কর্মের মাঝে রচিত হয় সেতুবন্ধন। কর্মই মানুষকে বড় করে,আলোকিত করে। এজন্যই কবি বলেছেন-‘জন্ম হোক যথা তথা,কর্ম হোক ভাল’। মানুষের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। সব ধর্মের মানুষেরই রক্তের রঙ লাল। প্রকৃতি মানুষের মাঝে কোন বিভেদ সৃষ্টি করেনি, তাই মানুষেরও উচিত নয় কোন ক্ষেত্রে কোন বৈষম্যের সৃষ্টি করা। কবির ভাষায়-
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভেতরে সবার সমান ফোটে,
ব্রাহ্মণ-শুদ্র,বৃহৎ-ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধূলায় লোটে।
Self-made man খ্যাত মোরশেদ বলেন,জীবনে সফল হতে হলে ৩টি গুণ থাকা প্রয়োজন-honesty, commitment, time maintainance. আমি এ৩টি বিষয়ে সিরিয়াস। আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল-আমাকে বড় হতে হবে,অন্য দশজনের চেয়ে আলাদা হতে হবে;আমি সেভাবে কাজ করেছি এবং হয়ত হয়েছিও। তবে একটা বিষয়ে আমি প্রতিজ্ঞ ছিলাম-অসৎভাবে বড় হব না। তাই ন্যায়ের পথে চলেছি,দরিদ্র-অনাথদের সাহায্য করেছি অকাতরে; মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় দান করেছি, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা সাহায্যের জন্য এলে তাদেরও ফিরিয়ে দিইনি। শিক্ষানবিশদের উদ্দেশ্যে মোরশেদ আলম বলেন-দেশকে ও মানুষকে ভালবাস,বড় হবার চেষ্টা করো। ক্যাম্পাস পরিচালিত যে সমাজ সচেতনতা কর্মসূচির সাথে তোমরা যুক্ত হয়েছ,তা সমাজ সেবা ও দেশ গড়ারই কাজ। মনে আকাঙ্খা থাকতে হবে বড় হবার। আমরা প্রদীপ জ্বালাই,নিভাই না। এক প্রদীপের আলো থেকে লক্ষ প্রদীপ জ্বালাই। তোমরা সেই সন্দীপন কর্মী, যারা জ্ঞানের আলো দিয়ে দূর করবে দেশ ও জাতির সকল অন্ধকার।
শিল্প-বাণিজ্য জগতের পুরোধা মোরশেদ আলম বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জন্য সরকার পরিচালিত ব্যবসা লাভজনকভাবে চলে না। আমরা স্বাধীনচেতা ব্যবসায়ীরা সরকারের সাথে ব্যবসা করি না। পুঁজি যাই হোক না কেন, উদ্দেশ্য ভাল হলে ও সততার সাথে কাজ করলে সফলতা আসবেই। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব মোরশেদ আরটিভি’র পক্ষ থেকে ক্যাম্পাস’র জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনের কর্মযজ্ঞকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। ক্যাম্পাস’র সমাজ সেবামূলক কাজে পৃষ্ঠপোষকতা হিসেবে তিনি এক লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।

ম হামিদঃ
বিশেষ অতিথি আরটিভি’র সিইও ম হামিদ তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন -দু’দশক আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সাথে আমি পরিচিত। সমাজ উন্নয়ন ও জাতি জাগরণের দুঃসাধ্য কাজ হাতে নিয়েছে ক্যাম্পাস, ভরসা তার উদ্দীপিত কর্মীবাহিনী। এভাবে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার কাজ করছে ক্যাম্পাস। জনাব হামিদ আরও বলেন, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের করে আনতে হবে জাতিকে। অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান -এসব মৌলিক অধিকারের বাস্তবায়নে উদ্ভাসিত প্রোজ্জ্বল যে রাষ্ট্র আমরা চেয়েছিলাম -এখনও তার বাস্তবায়ন হয়নি। তবে হতাশ হইনি, সে আশা এখনও মনে জাগ্রত রয়েছে। ক্যাম্পাস কার্যক্রম তরুণ সমাজকে পথ দেখাবে –উদ্যম, অধ্যবসায়, শ্রম দিয়ে জাতির চেতনায় যে আলো ক্যাম্পাস প্রজ্জ্বলিত করেছে, তা দেশ গড়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

ড. নাজনীন আহমেদঃ
বাণিজ্য মন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সিএসডিসি’র অনারারী রিসার্চ ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ তার বক্তব্যে ক্যাম্পাস কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন-সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাস। প্রথম কাতারের সৈনিক হিসেবে দেশ গড়ার কাজ করছে ক্যাম্পাস কর্মীরা। প্রো-একটিভ এন্ড পজিটিভ এটিচিউডের শিক্ষা গ্রহণ করে তারা মন থেকে হতাশা দূর করে জাতিকে আলোকিত করার দুঃসাধ্য কর্মযজ্ঞে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। ড. নাজনীন আরও বলেন-ক্যাম্পাস কোন বিদেশী সাহায্য ছাড়াই এগিয়ে চলেছে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নিবেদিত ক্যাম্পাস’র বহুমুখী কার্যক্রম। সততা পুরস্কার,ডিজিটাল ইয়াং-স্টার এওয়ার্ড, ক্যাম্পাস শিক্ষা পুরস্কার, ডিজিটাল সোসাইটি ওয়ার্কশপ, ফ্রি ইংলিশ কোর্স, ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং –ক্যাম্পাস’র এসব কার্যক্রম বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পরিচালিত হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস একদিন যে অভিযান শুরু করেছিল,তা আজ সফল হতে চলেছে। ক্যাম্পাস সমাজ সচেতনতা ও জাতিজাগরণে যেসব কর্মসূচি পালন করছে আরটিভি’র মাধ্যমে তা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে -এ প্রত্যাশা আমাদের সবার।

এম হেলালঃ
সভাপতির ভাষণে এম হেলাল সফল শিক্ষানবিশদের অভিনন্দন জানান। প্রধান অতিথিকে ছাত্র-যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আখ্যায়িত করে তিনি শিক্ষানবিশদেরউদ্দেশ্যে বলেন-জনাব মোরশেদ আলম একজন evergreen মানুষ। এত ইন্ডাস্ট্রি,এত টাকার মালিক-কিন্তু জীবন-যাপন এবং অন্যদের সাথে মেলামেশায় কত সাধারণ। মনের দিক থেকেও তিনি দৃঢ় -কখনও সততা,সময়ানুবর্তিতা,কমিটমেন্ট,টাইম মেইনটেন থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি আজ দেশ ও মানুষ উন্নয়নের কারিগরের ভূমিকায় অবদান রেখে চলেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন- বড় হতে হবে, সৎপথে। এখন তিনি সমাজের অন্যদের স্বপ্ন দেখান, এটাইত’সফল-সমৃদ্ধ জীবনের ধর্ম।
বিশেষ অতিথি জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ম হামিদের পরিচালনায় আরটিভি আগামীতে আরও সাফল্য বয়ে আনবে,দেশ ও জনগণের সেবায় থাকবে নিবেদিত। জনাব হেলাল বলেন-ক্যাম্পাস’র ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি বা ফ্রি ইংলিশ কোর্সে অংশ নিয়ে যুব সমাজ হয়ে উঠছে চৌকস, তৈরি হচ্ছে স্মার্ট এন্ড গ্লোবাল ইয়থ জেনারেশন। এদের নিয়ে গড়ে উঠবে ডিজিটাল সোসাইটি। এভাবে ক্যাম্পাস ছাত্র-তরুণদেরকে উজ্জীবীত করছে।