বিশেষ খবর



Upcoming Event

সুচিন্তা ও সুস্থ আচরণের মাধ্যমে বিশেষ মানুষ হয়ে সুস্থতা ও শতায়ুলাভ-৫০

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

৫। সময়, সুযোগ ও স্থানের সদ্ব্যবহার
Time & Tide wait for none. যে সময় চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। এটিই সময়ের নিষ্ঠুর নিয়ম; এটি ঘূর্ণমান ও বেরসিক ঘড়ির কাঁটার বিরামহীন ধেয়ে চলা। সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তবে সময়ের সঠিক ও যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যসূচি সম্পাদনের কলাকৌশল অবলম্বন করা যায়। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহারের জন্য নিজকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানতে হবে।
Ethics, System Ges Mind Control-এই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ গুণ দিয়ে যেকোনো স্থানে বা পরিবেশে যেকোনো সময়ে যেকোনো কাজ করার মানসিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। এর জন্য মনের গহীনে থাকা জরমরফরঃু তাড়িয়ে তদস্থলে Flexibility প্রতিষ্ঠা করা দরকার, অস্থিরতা কমিয়ে স্থিরতা বাড়ানো দরকার; যা আত্মোন্নয়ন, আত্মসুখ এবং সাফল্যের জন্যও জরুরি। কারণ আপনার ভুবনের যেকোনো পরিস্থিতি নির্ভর করে আপনার চিন্তা ও মননের স্থিতির ওপর।
অনেকে বলেন- অমন পরিবেশ না হলে আমি পড়তে পারি না, পড়ালেখার জন্য আমার তেমন পরিবেশ চাই; ঘুমানোর জন্য অমন ঘর, তেমন খাট বা বিছানা দরকার; খাবার টেস্টি না হলে আমি খেতে পারি না; আমার নাচার জন্য অমন মঞ্চ দরকার.. ইত্যাদি। অর্থাৎ অনেক কিছুর সাথে Adjustment or Matching এর সমস্যা। গ্রামীণ প্রবাদে আছে- নাচতে না জানলে বলে দাদার উঠোন বাঁকা। আসলে নাচের সুনিপুণ ও দক্ষ শিল্পী যেকোনো স্থানেই নাচতে পারে। ঋষবীরনষব মনের কারণে যেকোনো উঠোনের সাথে অফলঁংঃ করতে তার কোনোই অসুবিধা হয় না। তিনি উঠোনের বা অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজেন না। তাই জাতশিল্পীরা মঞ্চের দোষ না দিয়ে নিজের নৈপুণ্যের মাধ্যমে যেকোনো বৈরী অবস্থায়ও এমন কারিশমা তৈরি করেন, যাতে দর্শককে মঞ্চের ত্রুটি বুঝতে না দিয়ে সবাইকে আনন্দ সরোবরে মাতিয়ে নিজের মনোজগতে সুখের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলেন। অন্যদিকে সাধারণ শিল্পীরা অহংকার, ঔদ্ধত্য ও রিজিডিটির কারণে তথা দক্ষতার অভাবে মঞ্চের সাথে নিজকে এডজাস্ট করতে ব্যর্থ হয়ে দর্শককে করেন হতাশ। নেগেটিভ এটিচিউডের কারণে এরূপ মানুষ তার সংশ্লিষ্ট সকল জগৎ ও সংসারকে সদাসর্বদা করে তোলেন বিষাক্ত।
বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় অথবা নিজ মনের ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাবে অনেক পুষ্টিকর খাবারও খেতে পারেন না অনেকে এবং বলে থাকেন, এ খাবার টেস্টি নয়। অথচ আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না- তারা কি টেস্টের জন্য খান, না কি শরীরের প্রয়োজনে খান? যদি শরীরের প্রয়োজনেই খান, তাহলে সে খাবারে টেস্টের প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি- যে খাবার আমার শরীরের জন্য প্রয়োজন, সে খাবারই আমি সংগ্রহ করব এবং তা তিতা-মিঠা যাই হোক না কেন। মনের জগতে তথা চিন্তা ও জ্ঞানের রাজ্যে বিরাজিত আনন্দ সরোবরের টেস্ট মিলিয়ে আমি নির্দ্বিধায় নিঃসঙ্কোচে নিশ্চিতভাবে (Without a confusion or hesitation) শরীরের প্রয়োজনে যেকোনো খাবারই গ্রহণ করতে পারব। এজন্যই ডাইনিং টেবিলে যে খাবারটি অনেকের অপছন্দ, সেটিই হয়ে উঠছে আমার পছন্দের। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিরন্তর অধ্যয়ন ও জ্ঞান পিপাসার অভাবে বা কমতিতে হতভাগাদের মুখে যে শোনা যায়- অমুক সময় ছাড়া, তমুক পরিবেশ ছাড়া আমি লেখাপড়া করতে পারি না। অথচ আমার এ ভবঘুরের ছন্নছাড়া জীবনে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অবধি নির্দিষ্ট পড়ার টেবিলে খুব একটা বসেছি বলে মনে পড়ে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে পড়েছি চলন্ত বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে, রিকশায় বসে, অন্যের ওয়েটিং রুমে দর্শনার্থী হিসেবে। আর আমিতো কোন্্ ছার; বিশ্বখ্যাত বিদ্যার সাগর পরম শ্রদ্ধেয় ঈশ্বরচন্দ্র পড়েছিলেন রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোয়।
নিজের মধ্যেFlexibility, Adjustment capacity, Accept-ability এবং Politeness এর অভাবে তথা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় পড়ে অর্থাৎ সুবোধ মনের অবোধ নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে ইহকাল ও পরকালের কত রকমের সুখ ও শান্তি থেকে যে আমরা নিজকে বঞ্চিত করে চলেছি, তার হিসাব কে রাখে, কে জানে? নিশ্চিত আত্মসুখকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমরা নিজের দেহমনে কত রকমের দুর্ভোগ-দুশ্চিন্তা-অসুস্থতা লালন করে নিজের এবং আশপাশের মানুষদেরকে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত করে চলেছি। আমরা কেবলই খেয়ালের বশে ও গাফিলতের ভুলে মূল্যবান এ জীবনের কত যে সময় অপচয় ও অবহেলায় অতিবাহিত করে চলেছি, যার হিসাব কষলে নিজের কাছে নিজেই বোকা বনে যাব এবং ষোলআনা জীবনের চৌদ্দ আনাই মিছে বলে মনে হবে।
সেজন্যই যতটা সম্ভব পরিকল্পিতভাবে সময় ব্যয় করা উচিত। সর্বদাই ভাবুন- আজকের দিনটিই আমার সেরা দিন, এখনকার এ সময়টিই আমার শ্রেষ্ঠ সময়। তাই দৈনন্দিন জীবনের সর্বকিছুই সময়ের আবর্তে ও সময়ের পরিমাপে করা উচিত। ঘুম, টিভি, সিনেমা, আড্ডা, গল্প, বন্ধুত্ব বা ফোনালাপ -সবই সময়ের হিসাব-নিকাশে সম্পাদন হওয়া নিজ জনমের সার্থকতার জন্যই প্রয়োজন। সময় অতিবাহিত করা কোনো ব্যাপারই নয়। কিন্তু অতিবাহিত সময় কীরূপ সফল বা নিষ্ফল কাজের মধ্য দিয়ে ব্যয় হচ্ছে, সেটিই সাধারণ ও বিশেষ মানুষের মধ্যকার তফাতের বিবেচ্য বিষয়। গ্রামীণ প্রবাদে আছে- বলদ ও কামলার সময় চষে খেলেও যায়, বসে থাকলেও যায়। অর্থাৎ চাষবাস করলেও সময় চলে যায় আবার বসে থাকলেও সময় চলে যায়। আরেকটি প্রবচনে আছে- অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। অর্থাৎ পরিকল্পনাহীন কর্ম, বিশৃঙ্খল চিন্তা এবং অলস মস্তিষ্ক চলে যায় শয়তান বা ইবলিসের দখলে। এরূপ অলসতাকে বিজ্ঞানীরা ধূমপানের চেয়েও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, ভয়াবহ অসুস্থতা বলে হুঁশিয়ার করেছেন। তাই আপনার মূল্যবান সময় এবং প্রিয় এ জীবনটার অপচয় আর নয়। সময় অপচয়ের বিষয়গুলো চিহ্নিত করুন। অপ্রয়োজনীয় ফোন, হঠাৎ অতিথি আগমনে অধিক সময় দেয়া কিন্তু সময়ের সদ্ব্যবহার নয়।
সেলফোন ও ফেসবুক চর্চার পূর্বে শরীরচর্চা অনেক জরুরি। তাই ফেসবুকে বসার আগে এবং আড্ডা বা ফোনালাপের পূর্বে ভাবুন- আমি আজ শরীরচর্চা, সৌন্দর্যচর্চা এবং ধর্মকর্ম করেছি কিনা। এরূপ অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে ফেলে রেখে ফেসবুক চর্চা ও বন্ধুর আলাপনের ক্রেজ কি শয়তানের আছর প্রমাণ করে না? মনে রাখতে হবে- We shouldn’t run after momentary pleasure. ক্ষণিকের আনন্দে থাকবেনতো স্থায়ী সুখ বিসর্জন দিতে হবে। স্থায়ী সুখ এবং ক্ষণিকের আনন্দ, দু’টোই কিন্তু এক জীবনে পাবেন না। এটি শুধু আমার কথা নয়, বিজ্ঞানেরও সূত্র।
আমাদের সমাজে বন্ধুত্ব অনেক সময় এরূপ হয় যে, আলোর সন্ধানে অগ্নির কাছে গিয়ে সেই অগ্নিতে অঙ্গার হয়ে যাওয়া; স্বাস্থ্য, যৌবন এমনকি জীবন হানি করা অথবা দুঃখ ও যাতনাময় নেগেটিভ অভিজ্ঞতার সঞ্চয়ন। কারণ বিবেক-বিচার-সুবুদ্ধি ও সৎ চিন্তার বন্ধুত্ব এখানে একেবারেই বিরল। শুধু তা-ই নয়- One Bangalee means one party, two Bangalees mean two parties, three Bangalees mean four parties. যার কারণে এখানে অংশীদারী ব্যবসায়ে বা কোনো উদ্যোগে দীর্ঘসাফল্য একেবারেই বিরল। আত্মোন্নত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বন্ধুর কোনোই অভাব হয় না বরং অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুদের ভিড় এড়িয়ে চলতে হয়, যশ-খ্যাতির বিড়ম্বনার মতো। অন্যদিকে আত্মবিস্মৃত ও আত্মধ্বংসী ব্যক্তির ভালো বন্ধুতো জোটেই না, বরং পূর্ববন্ধুতাও নষ্ট বা নিঃশেষ হয়ে যায়। বন্ধুত্ব অনেকটাই মৌচাকের মতো, মধু আছেতো মৌমাছি-মানুষ সবই আছে, সুরা নাইতো সাকির নাচ-গানও নাই। অর্থাৎ-
আমি আছি, সবই আছে
আমি নাই, কিছু নাই।
জ্ঞান-গুণ আছেতো বন্ধু আছে
আমার আমি নাই, কেউই নাই ॥
বন্ধুত্ব এবং বন্ধুর সাথে আলাপ হয়তো সাময়িক আনন্দ বা আরাম দিতে পারে, কিন্তু এরূপ সাময়িক আনন্দ অনেকক্ষেত্রে বড় বড় সমস্যাও ডেকে আনে। তথাকথিত বন্ধুত্ব আপাত মানসিক চাপ সামলালেও অনেকক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনে; বিশেষত আমাদের নীতি-আদর্শহীন, স্বার্থপর ও নির্বোধ সমাজ ব্যবস্থায়। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- জ্ঞানী ও কল্যাণ চিন্তার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করো। যার তার সাথে বিশেষত অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিতের সাথে বন্ধুত্ব করো না; কারণ এরূপ বন্ধুর কাছ থেকে তুমি বিশেষ কিছুতো পাবেই না, বরং সে তোমার উপকারের চেষ্টা করতে গিয়ে শেষতক ক্ষতিই করে ফেলবে। আপন ভুবনে তথা অন্তর্জগতে আনন্দ-মহানন্দ তৈরি না করে বাইরের জগতে তথা বন্ধুত্বের পেছনে সময় ব্যয় দূরদর্শী ও কল্যাণ-জ্ঞানের পরিচায়ক নয়। তাই আসুন, অশুভ শঙ্কা ও ঝুঁকির পথে না গিয়ে বরং আত্মবোধন, আত্মআবিষ্কার, আত্মশক্তি বৃদ্ধি ও আত্মোন্নয়নের পথে এগোই।
স্বাস্থ্যচর্চা, অধ্যয়ন, ধর্মকর্ম, ইয়োগা, মেডিটেশন, মিউজিকের তালে তালে জগিং করা অথবা বাইরে হাঁটা, দৌড়ানো বা সাঁতার -এসবের অনুশীলনে নেতিবাচক শক্তির প্রভাবমুক্ত হওয়া যায় এবং নিয়মিতভাবে অনুশীলন করলে সে অপশক্তি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়; এতে আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে কুপ্রবৃত্তি ও খাসলতের দোষমুক্ত হওয়া যায় এবং নিরোগ, সুস্থ ও সুন্দর জীবনলাভ সহজ হয়ে যায়। বন্ধুকে সময় দেয়ার ক্ষেত্রে ভাবুন- আমার নিরাপদ ও নিশ্চিত আত্মোন্নয়নে উক্ত বিষয়গুলোর চর্চা করেছি কিনা। সম্ভবত এসব কারণে বিশ্বের এক নম্বর পরিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সন্তানদেরকেও ফেসবুক চর্চা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।
শয়তান! এ এক নেতিবাচক ক্ষমতাধর শক্তি। তাই মর্ত্যরে এ পৃথিবীতে মানুষকে বিভ্রান্ত করার বজ্রকঠিন শপথে বলীয়ান ইবলিস বা শয়তানকে রোখার মতো মানসিক শক্তি মানুষের মধ্যে থাকলেও সেই সুপ্ত শক্তি জাগ্রত করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। মানব জীবনের প্রতি পলে শয়তানের ধোঁকাবাজি ও প্র্ররোচনা অবধারিত। কঠিন দুষ্টশক্তি এই শয়তানের কালোহাত থেকে আত্মরক্ষায় সেইসব মুষ্টিমেয় মানুষই সক্ষম হন, যাঁরা শক্তিমান শয়তানের চেয়েও অধিক শক্তিশালী মন ও সুদৃঢ় চিন্তায় প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউড লালন ও প্রয়োগ করতে সক্ষম।
মানুষকে পদে পদে হয়রানি ও খেসারতমুখী করে রেখে মানবজীবনে অসহায়ত্ব ও দুরবস্থা তৈরিই শয়তানের কাজ। কম বুদ্ধিমান, অতি বুদ্ধিমান, নির্বোধ, বোকা -এ চার শ্রেণির মানুষ বুঝতে না পেরে এবং হঠকারী ও একগুঁয়েমির কারণে তথা ঊমড় বা চংুপযড়-ঢ়ৎড়নষবস এর কারণে শয়তানের বলয়ভুক্ত হয়ে যায় এমনভাবে, যা নিজেও অনুধাবন করতে পারে না। তার এ শয়তানী তাড়াতে কোনো শুভার্থী উদ্যোগী হলে সেখানেও চলে বিরোধিতা। অর্থাৎ নিজস্ব প্রবৃত্তি বা খাসলতের বাইরে সে যেতেই পারে না। শয়তান-আশ্রিতের কাছে সকল ভালোত্ব, যুক্তি ও বিজ্ঞান হার মেনে যায়। শয়তান বলয়ের এ কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে না পড়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে- সর্বদাই ভালো ও কল্যাণের অনুশীলন বা চর্চা নিশ্চিতকরণ এবং যুক্তি, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পথে সুদৃঢ় অবস্থান। আর এ সর্বক্ষণের মধ্যে প্রধান সময়টি হচ্ছে- এই এখন বা Just now.
লিও টলস্টয় বলেছেন, The most important time is now. এ প্রসঙ্গে ক্যাম্পাস’র কথা- What you do today determines where you will be tomorrow. সময় বিজ্ঞানের এ বাস্তব সত্যকে যারা কাজে লাগাতে পারেন, তারাই জীবনকে মহীয়ান করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাই অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির জন্য বর্তমানের সময়কে যথাযথ কাজে লাগানো জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানের কাজ। সৃষ্টি জগতের রহস্য অন্বেষণ তথা প্রকৃতির পাঠ, নিরন্তর অধ্যয়ন, শিক্ষা-গবেষণা ইত্যাকার লক্ষ্যভিসারী কাজ নাইবা করলাম। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের মূল্যবান সময়কে অবহেলায় বা অপচয়ে ব্যয় করা শয়তানের কাজ নয় কি? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি- ভালো ছাত্র এবং শিক্ষিত যুবক-যুবতীরাও তাদের সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করে অযথা ফোনালাপ, ফেসবুক, আড্ডা বা অনুরূপ কম গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে। অথচ এরা ঠিকই জানে তাদের মূল্যবান সময়ের অপচয় ও অপব্যবহারের কথা; তবু জেনেশুনেও তা-ই করে যাচ্ছে।
বারংবার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এদেরকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সচেতনতায় আনতে পারলেও পরবর্তীতে আবার ছিটকে বা পিছলে চলে যায় ঐ ভুল পথেই। অর্থাৎ তারা ক্ষণিকের জন্য আত্মসচেতন হলেও দীর্ঘমেয়াদে আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে না শয়তানের কারসাজিতে। শয়তান বা নেগেটিভ ইমোশন কন্ট্রোল করার মতো সুদৃঢ় মানসিক শক্তি না থাকার কারণে এরা জেনেশুনেও বিষপান করে যাচ্ছে এবং অন্ধগলির আলো-আঁধারিতে সত্য ও সুন্দরের সাথে লুকোচুরি খেলছে। তাই রাত জেগে তারা নিজকে মাতোয়ারা রাখে ফোনালাপ, ফেসবুক ও আড্ডায়। নিজের ব্যক্তিগত সামর্থ্যতো নেই-ই; বাবার সামর্থ্য থাকুক আর নাই থাকুক, এদের একেক জনের ফোনসেট থাকে একাধিক, আর সিম থাকে ততোধিক। শয়তানের পাল্লায় পড়ে এরা বুঝতেই চায় না যে- বন্ধুচর্চার চেয়ে শরীরচর্চা ও জ্ঞানচর্চায় আনন্দ, সুখ, প্রশান্তি, নিরাপত্তা, সফলতা-সমৃদ্ধি ঢের বেশি। পড়ালেখা বা পেশাগত কাজ, ধর্মকর্ম, স্বাস্থ্যচর্চা, মেডিটেশন, ইয়োগা এবং অনুরূপ ভালো কাজ আগামীকাল করার বা পরে করার প্রবণতা, আলসেমি ও ঢিলেমি যার মধ্যে দেখা যায় -তার মধ্যে শয়তানের প্রভাব রয়েছে বলে বুঝতে হবে এবং সেই প্রভাব হতে পারে সামান্য, মাঝারি বা তীব্র। তবে মানুষ যুক্তিবাদী বা জধঃরড়হধষ ধহরসধষ বলে দীর্ঘমেয়াদে তীব্র আছর কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ শয়তানের মাঝারি বলয়ে থাকে। আর সামান্য প্রভাবে থাকে কম সংখ্যক মানুষ। শয়তানের আছরের বাইরে থাকে অতি নগণ্য সংখ্যক দৃঢ়চেতা মানুষ।
নিজের মধ্যে অথবা অন্য কারুর মধ্যে শয়তানের আছর পরীক্ষা করতে চাইলে তার আচার-আচরণেই তা স্পষ্ট বোঝা যাবে। যেমন ধরুন- ঐ মানুষটি ঘরে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নামাজ-আহার-বিশ্রাম-স্বাস্থ্যচর্চা-পড়ালেখা কিংবা পেশাগত ও পারিবারিক কর্ম বা দায়িত্ব, ঘুম -এসব অগ্রগণ্য বিষয়ের পূর্বে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের অনুপ্রবেশ করায় কিনা; যদি না করায়, তাহলে বুঝতে হবে তিনি ভালো মানুষ বা Solid person. আর যদি প্রবেশ করায় এবং যত বেশি করায়, তাতে এ ব্যক্তি শয়তানের দ্বারা তত বেশি প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত বলে বুঝতে হবে। এটি খুবই স্পর্শকাতর বিষয় বিধায় তাকে বারণ করলে বা সমালোচনা করলে সে উল্টো আপনার ওপর ক্ষেপে যেতে পারে। তাই এরূপ বিপথগামীদেরকে ভালোবেসে, মায়া-মমতায় অথবা শ্রদ্ধা-ভক্তি দিয়ে নিবিড় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে আনতে হয়। এটি কঠিন না সহজ কাজ, তা নির্ভর করে কাউন্সেলিংয়ে দক্ষতার ওপর।
শয়তানের পাল্লায় পড়ে অঘটন ঘটিয়ে তা থেকে উদ্ধারে অন্যের সাহায্য চাওয়া আর নয়। আসুন, সময়ের সদ্ব্যবহারে শয়তান থেকে পরিত্রাণে ক্যাম্পাস’র উপরোক্ত বিভিন্ন দর্শন বা পথনির্দেশিকা অবলম্বন করি এখন থেকেই। এভাবেই সময়, সুযোগ ও স্থানের সদ্ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবন ও কর্মে শৃঙ্খলা ও যুক্তিভিত্তিক আচার-আচরণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেকোনো মানুষেরই সুস্থ চিন্তা ও স্বাস্থ্যবান দেহমন তৈরি করা খুব কঠিন নয়। সময়, সুযোগ ও স্থানের সঠিক এবং বেঠিক ব্যবহার মানে আকাশ-পাতাল বা স্বর্গ ও নরকের ফল লাভের মতো। এগুলোর সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারার দলকেই উদ্দেশ্য করে সম্ভবত শরৎচন্দ্র বলেছিলেন- সময়, সুযোগ ও স্থান এই ৩টি বিষয়ের অভাবে মানুষ পবিত্র থাকিয়া যায়। শরৎবাবুর এই ছোট্ট কথা থেকে ছোটবেলায় আমি যা বুঝেছি, তা হচ্ছে- সময়, সুযোগ ও স্থানের সঠিক ব্যবহার মানুষকে যেমনি পবিত্রতা, ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধি দিতে পারে -তেমনি এগুলোর অপব্যবহারে ঐশ্বর্য বা সমৃদ্ধিতো দূরের কথা, মানুষ নিজের পবিত্রতাটুকুনই হারিয়ে ফেলতে পারে।
ইচ্ছা করলেই আমরা সবাই পারি মন নিয়ন্ত্রণ তথা নিয়মিত মেডিটেশন চর্চার মাধ্যমে এবং সর্বক্ষেত্রে অবিরাম ভালোর চর্চা ও অনুশীলনে সত্য, সুন্দর ও স্বচ্ছতার অবলম্বনে শয়তান বা অশুভের প্রভাবমুক্ত হতে এবং থাকতে। জীবন বদল ও আত্মোন্নয়নের এরূপ বিভিন্ন বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও অনুশীলন করে থাকে ক্যাম্পাস পরিবার। জীবন বদলাতে চাইলে আপনিও সে বিজ্ঞান অবলম্বনে শয়তানমুক্ত থেকে জীবনচর্চার মাধ্যমে বিশেষ মানুষে পরিণত হতে পারেন। তাই আর কালক্ষেপণ নয়, সন্দেহ সংশয় নয়, খেয়ালের বশে বা খাসলতের দোষে নয়, নিজের মনের ওপর বা নেগেটিভ এটিচিউডের ওপর এবং সর্বোপরি ক্ষমতাধর শয়তানের ওপর নিজ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করি। সর্বদাই ভাবি- I am the powerful being, so I am the master of every situation and I am the creator of my own destiny. আসুন, বিলম্বে হলেও এসব পাঠ যেন এখন থেকেই মেনে চলি। হে প্রভু, আমাদের এ সহজ সঠিক পথের দিশা দাও, কামিয়াব করো, আমিন।
-চলবে।


বিশ্ববিদ্যালয় কম্পাস পত্রিকার সংখ্যা সমূহ

আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img