অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্প্রতি ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম. শামসুল আলম লিটন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, তোমরাই নতুন বাংলাদেশের কারিগর। জুলাই আন্দোলনে তোমাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে সমৃদ্ধ করা। আমাদের এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে ইউজিসি’র চেয়ারম্যান ২ হাজার ৩২৬ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি ২৭ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ এওয়ার্ড প্রদান করেন। এরমধ্যে ৬ জন চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ড, ৫ জন বিওটি চেয়ারম্যান’স এওয়ার্ড এবং ১৬ জন শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর’স এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সমাবর্তন বক্তা ড. আনম এহসানুল হক মিলন সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কয়েক বছরের মেধা ও পরিশ্রমের বিনিময়ে আপনারা গ্র্যাজুয়েট সম্মান অর্জন করেছেন। কিন্তু এটা শেষ নয় বরং শুরু। আপনারা আজ থেকে এমন এক বিশ্বে পা রাখছেন, যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি এবং দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আপনাদের সাফল্য নির্ভর করছে আপনাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, সহনশীল আর পরিস্থিতির সঙ্গে খাপখাওয়ানোর সক্ষমতার ওপর। বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, একাদশ শতকের মহান বাঙালি পন্ডিত অতীশ দীপঙ্করের নাম-যশ ও কর্মের যথাযথ প্রতিফলন ঘটিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের উপযোগী নাগরিক গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম কারিকুলামের ওপর জোর দেন তিনি। অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড এর চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন বলেন, দেশে ৪০ লাখ উচ্চ শিক্ষিত বেকার থাকার বাস্তবতা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। তাই অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (এসডিআই) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাস্তব যোগ্যতা, ডিজিটাল দক্ষতা ও ভোকেশনাল অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তারুণ্যে বিনিয়োগ। আমরা বলি তরুণদের শিক্ষায় বিনিয়োগ তাদের নিজেদের এবং দেশের সমৃদ্ধির মূল নিয়ামক। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ লেজার শো অনুষ্ঠিত হয়।