বিশেষ খবর

আত্মোন্নয়ন : বারবার ভুল নয়

ক্যাম্পাস ডেস্ক আত্মোন্নয়ন
img

খুব কাছের কোনো বন্ধুকে আপনি ১০ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছেন। নেয়ার সময় বন্ধুর চেহারা দেখে মনে হয়েছে, এত নিষ্পাপ চেহারা আর কণ্ঠে যার মধু মাখা- তার পক্ষে আর যাই হোক টাকা নিয়ে টালবাহানা করা সম্ভব নয়। সরল বিশ্বাসে কষ্টার্জিত টাকাগুলো তুলে দিলেন নিষ্পাপ চেহারার মানুষটির হাতে। আপনি যদি আরেকটু আবেগী কিংবা মানব দরদি হৃদয়ের হয়ে থাকেন, তবে তো কথাই নেই, অন্যের থেকে ধার করে হলেও বন্ধুর প্রয়োজন মিটাবেন। যেমন মিটিয়েছিলেন আমার বড় ভাই। পাশের দোকানদারকে চার লাখ টাকা ঋণ দিয়েছেন বড় বিশ্বাস করে। পরের গল্প অন্য সব গল্পের চেয়ে আলাদা নয়। নিষ্পাপ চেহারার মানুষটির আসল চেহারা আর দেখা হল না। হবেই বা কীভাবে? টাকা নেয়ার পর থেকে যে তিনি লাপাত্তা। কোথায় দোকান আর কোথায় নিষ্পাপ চেহারার মানুষ- হাদিস জানে না কেউই। তবে ক্ষতি যা হওয়ার ততক্ষণে টের পেয়ে গেছেন বড় ভাই। মাথা আকাশ ভেঙে পড়েছে তার।
এ শুধু আমার বড় ভাইয়ের গল্পই নয়। এ রকম ঘটনা ঘটেছে আমার সঙ্গে, আপনার সঙ্গে। আমাদের কাছের দূরের মানুষের সঙ্গে। টাকা ধার দিয়ে ফেরত না পাওয়া- অবশ্য বড় ধরনের লোকসান। এর চেয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হবে যদি আপনি এর থেকে কিছু শিখতে না পারেন। আমি বলতে চাচ্ছি, টাকা খুইয়ে তো ভুল করেছেন-ই, এ ভুল থেকে যদি কিছু না শেখেন অথবা একই ভুল আবার করেন তবে ষোল আনার পরও আরও চার আনা বেশি লস গুণতে হবে আপনাকে। অর্থাৎ, আম-ছালাতো আগেই হারিয়েছেন, এখন হারাবেন ছালা বাঁধার মজবুত রশিটুকুও। অথচ ছোট্ট এই রশিও বড় ধরনের কাজে লাগতে পারত আপনার।
অনেক তো রশি হারায়-ই, সঙ্গে বাড়ি ফেরার পয়সাটুকুও ওই প্রতারকের বিকাশ একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। কীভাবে? অতিরিক্ত টেনশন কিংবা শোক করে। বছর চারেক আগের কথা। আমার পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের আব্বা বড় অংকের টাকা ধার দিয়ে ধরা খেয়েছেন। ওই টাকাটাও ছিল আরেকজন থেকে ধার করা। তিনি এত পরিমাণ দুশ্চিন্তা আর হতাশায় ভুগছিলেন, শেষ পর্যন্ত সুসাইড করেছেন ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে। আংকেল তো মরে গেলেন, কিন্তু ঋণ থেকে মুক্তি পেয়েছেন কী? তার পরিবারকে তো ঠিকই টানতে হয়েছে ঋণের ঘানি। একেই বলে আমছালা হারানোর পর বাড়ি ফেরার পয়সাটুকুও ওই ঠকবাজকে বিকাশ করে দেয়া।
এবার একজন বুদ্ধিমানের গল্প বলি। ইনিও আমার পরিচিতজন। মৌসুমী ব্যবসা করেন এক মৌসুম কাজ করে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছেন। বউ এর গয়না বেচে আরও কিছু টাকা হল। পুরো টাকাটা দিয়েছেন নতুন ব্যবসার নতুন পার্টনারকে। ব্যস! যা হওয়ার তাই হল। টাকাসহ পার্টনার উধাও। এ বেচারার অবস্থাও ওই আংকেলের মতো হল। একদিন আমাকে দেখে কেঁদে ফেললেন। বললেন, `ভাই, কত কষ্ট করে টাকাটা জমিয়েছি আমি জানি আর আমার আল্লাহ জানে।`
মাস খানেক পর আবার যখন ওনার সঙ্গে দেখা হল, তখন বেশ ফুরফুরে ভাব লক্ষ করলাম। চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক ছড়িয়ে কাজ করছেন। আমি ভাবলাম, টাকাটা বোধহয় ফিরে পেয়েছেন। জিজ্ঞেস করলাম, কীভাবে কী হল? তিনি বললেন, `প্রথম দশ-পনের দিন আমি দারুণ হতাশায় ভুগেছি। কখনও কখনও ভেবেছি সুসাইড করে ফেলি। স্ত্রীর সঙ্গেও কিছু শেয়ার করিনি। যখন দেখলাম আমার প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে, দিন দিন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি তখন তোমার ভাবির সঙ্গে শেয়ার করলাম। নিজেকে বুঝ দিলাম, বেঁচে থাকলে-সুস্থ থাকলে আগামী সিজনেই ডাবল টাকা ইনকাম করতে পারব। কিন্তু দুশ্চিন্তা করে যদি আমার কিছু হয়ে যায় তা হলে ফ্যামিলিকে দেখবে? সব টেনশন ঝেড়ে ফেলে কাজে মনযোগ দিলাম। মাসখানেকের মাথায় এখন আমি পূর্ণ সুস্থ।`
লোকটিকে বুদ্ধিমানই বলতে হয়। যে টাকা চলে গেছে তা নিয়ে টেনশন করার কোনো মানে হয় না। আর টেনশন যদি অতিরিক্ত হয়ে কাজ ও জীবনের গতি থামিয়ে দেয় তা হলে তো বোকামির শেষ নেই। তাই যারাই এ ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, ব্যবসায় অথবা ব্যক্তিগত জীবনে- অবশ্যই এ নিয়ে অতি টেনশন করে গতি হারাবেন না। দুটো কথা খুব ভালো করে মনে গেঁথে নিন- হারানো টাকা নিয়ে টেনশন করবেন না। নিজের না থাকলে কখনোই অন্যের থেকে ধার করে ধার দেবেন না।
আবারও বলছি, নিজের না থাকলে কখনোই অন্যের থেকে ধার করে ধার দেবেন না। কারণ, আপনার টাকা যদি `মাইর`ও যায়, আপনারই গেল। কিন্তু আরেকজন থেকে ধার করা টাকা লস গেলে কীভাবে শোধ করবেন? আরেকটি কথা, যা হয়েছে তো হয়েছেই, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। অবশ্যই টাকা ধার দেবেন, তবে চোখ-কান-মন-মস্তিষ্ক খোলা রেখে দেবেন। মিষ্টি কথায় কিংবা নিষ্পাপ চেহার দেখে গলে যাবেন না। মনে রাখবেন, সফলরা ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, ভুলের পুনরাবৃত্তি করে না।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ