বিশেষ খবর

বইয়ের পাতা থেকে

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ মতামত

বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুক নিয়ে লেখা লিখেছিলাম। ফেসবুকের ভালো-মন্দ নানান দিক তুলে ধরেছিলাম। ফেসবুকে অনেক রকম পেইজ আছে, আছে অনেক গ্রুপও। সে এমন এক পেইজ আছে, যেখানে বই সংক্রান্ত অজস্র তথ্য আছে। দেশে-বিদেশের লেখকদের সব ধরনের বই পাওয়া যায়। সাইন্স-ফিকশন থেকে শুরু করে ছোটদের গল্পের বই, পড়াশোনার বই সবই পাওয়া যায়। বইপ্রেমিক আমি, অনেক আগে থেকেই ছিলাম। গল্পের বই হোক, সেটা ইংরেজি বা বাংলাদেশের লেখক, বই পড়তে বরাবরই আগ্রহ ও উৎসাহ ছিল। শৈশবের সময় যখন বান্ধবীরা খেলার জন্য ডাকত, তখন আমি বই পড়তে ব্যস্ত। আবার অনেক সময় দূরে কোথাও ভ্রমণ করতে হলে, তখনো সাথে বই নিয়ে নিতাম। পড়তে পড়তে অনেকটা রাস্তা পার করে দিতাম। বইপ্রেমীদের কিন্তু একটা নামও আছে- তাদের বলা হয় বিবলিওফিলিয়া (Bibliophilia)। বলতে পারেন আমিও এদের মধ্যে একজন।

এমন এক ছোট্ট ঘটনা, ঢাকা থেকে যেতে হবে বগুড়া, এক আত্মীয়ের বিয়ে খেতে। সাথে করে নিয়ে নিলাম হুমায়ূন আহমেদের রং পেন্সিল। ব্যাস, যেতে যেতে পড়ে নিলাম অর্ধেক খানেক এবং ফেরার পথে পড়ে নিলাম অর্ধেকটা। এক জার্নিতে বই পড়া শেষ। এভাবে বিদেশ ভ্রমণের সময়ও অরুন্ধতী রায়ের ‘God Of Small Things’, আনিসুল হকের ‘মা’, হুমায়ূন আহমেদের ‘অপেক্ষা’ ইত্যাদি রকমের বই পড়ে শেষ করেছি।

এখন আসা যাক মূল কথায়। ঠিক কিছুদিন আগে ফেসবুকে এক বইয়ের পেইজে লাইক দিয়েছিলাম। সেখানে সব নতুন নতুন পাবলিশ করা বই তারা অফার দিচ্ছিল। তো আমিও এই অফারের সদ্ব্যবহার করলাম। অর্ডার দিয়ে দিলাম বেশ কিছু বই। এগুলোর মধ্যে একটি বই ছিল যার নাম ‘IKIGAI - The Japanese Secret to a Long and Happy Life.’

এটি মূলত একটি জাপানিস লেখকের বই, কিন্তু ইংরেজিতে অনুবাদ করা। মূল লেখক হচ্ছেন- Hector Gracia and Francesc Miralles ও অনুবাদ করেছেন Heather Cleary.বইটি প্রধান পটভূমি হচ্ছে কীভাবে জাপানিজ মানুষেরা তাদের জীবন খুব ছিমছাম ও সুখে-শান্তিতে কাটিয়ে দেয়। বইটি প্রথমে শখের বসে পড়তে বসি। IKIGAI শব্দটি কেমন যেন একটা কৌতূহল সৃষ্টি করলো আমার মনে। শুরু করি বইটি পড়া। ধীরে ধীরে জাপানিজদের জীবনধারা নিয়ে শিখতে শুরু করলাম। তারপর দেখলাম, কেননা আমি নিজেও তাদের এই বিধি বা কনসেপ্টগুলো মেনে চলার চেষ্টা শুরু করি, খুব সফল না হলেও মন্দ মনে হয় হবে না।

প্রথমেই IKIGAI এর মানেটা বোঝার চেষ্টা করলাম। পড়তে কঠিন মনে হলেও কনসেপ্টেটা কিন্তু খুব কঠিন না। সহজ-সরল ভাষায় যদি বলা যায় তাহলে মানে দাঁড়ায়, ‘সর্বদা ব্যস্ত থাকায় সুখ’; ইংরেজিতে যা The Happiness of always Being Busy. খুব সহজ তাই না? আমরা যদি নিজেদের ব্যস্ত রাখি অবশ্যই ভালো কাজে, তাহলে কিন্তু খারাপ বা কু-চিন্তা আমাদেরকে হেয় করবে না। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে- An idle brain is devils workshop অনেক আগে পড়েছিলাম. IKIGAI-এর সাথে যদি আমরা এই প্রবাদকে মিলাই তাহলে দেখা যায় জাপানিজদের এই কনসেপ্টটা খুবই কার্যকরী। যদি আমরা IKIGAI কনসেপ্টটা ফলো করি, তাহলে ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারব ও ভালো কাজ করে মানুষকে উপকার করতে পারব। দ্বিতীয় একটা কনসেপ্ট হলো- ঐধৎধ যধপযর নঁ। এটার ইংরেজি মানে দাঁড়ায় Fill your belly 80 percent ও বাংলায় মানে হলো- আপনার পেট ৮০% পূর্ণ করুন। যদিও বোঝা মুশকিল ঠিকঠাক ৮০% কত; কিন্তু একটা ধারণা করা যায় যে, যখন আমরা ফিল করি আমাদের পেট আস্তে আস্তে ভরে যাচ্ছে তখনই খাওয়া থামিয়ে দেয়া উচিত। এখানে খাবার পরিবেশন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেমন জাপানিজরা ছোট ছোট প্লেটে খাবার উপস্থাপন করে। জাপানে একটি রেস্তরাতে এক আইটেম খাবার একটি ট্রেতে করে পাঁচটি প্লেটে পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যে চারটি খুব ছোট এবং মূল খাবারটি খানিকটা বড়। এতে করে খাবার বেশি দেখালেও, খাবার খাওয়া হয় কম। এসব কারণে জাপানিজদের ওজন হ্রর্স থাকে ও তারা ট্রিম থাকে।

আরেকটা কনসেপ্ট হল- MOAI: Connected for life. Moai একটি অআনুষ্ঠানিক গ্রুপ, সাধারণ স্বার্থে যারা একে অপরের সন্ধান করে। গড়ধর গ্রুপের সদস্যরা গোষ্ঠীতে একটি নির্দিষ্ট মাসিক অবদান রাখেন। তারা সহায়তা বজায় রাখে। একে অপরের বিপদে আগ বারিয়ে আসে।

এমন অনেক জাপানিস কনসেপ্ট দিয়ে ভরা। জাপান নিয়ে আগে কখনো এতো ভাবিনি বা পড়তে আগ্রহ বোধ করিনি যেমনটা এখন করছি। খুব সহজ-সরল সাধারণ জীবনযাপন তাদের। পড়ে যেমন খুব ভালো লাগলো, তেমনি ফলো করতে পারলে আরো ভালো লাগবে। ওদের এই কনসেপ্ট ফলো করতে পারলে হয়তো আমরাও সুন্দর জীবন কাটাতে পারব। এই প্রত্যাশা রইল।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ