বিশেষ খবর

নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ দক্ষ চিকিৎসক তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠান

ক্যাম্পাস ডেস্ক মেডিকেল কলেজ
img

নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রফেসর ড. এ ওয়াই এম আবদুল্লাহ এর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন আল্লাহর দরবারে হাজার শুকরিয়া যে, নর্দান মেডিকেল কলেজ পরিচালনার সুযোগ তিনি আমাকে দিয়েছেন। মানব সেবা করার স্বপ্ন আমার ছোটবেলা থেকেই ছিল; আল্লাহ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনায় কী ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, মেডিকেল কলেজ পরিচালনা খুবই জটিল; আমাদের প্রায় সবারই একটি সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়, তা হলো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের জন্যে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব। তবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছেন সবাই। মেডিকেল কলেজের সাথে একটি হসপিটাল থাকা বাঞ্ছনীয় বিধায় মেডিকেল কলেজ পরিচালনা ব্যয়বহুল। সাধারণ হসপিটাল থেকে আয় হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হসপিটাল থেকে আয় করা সম্ভব হয় না। তদুপরি আমাদের বড় সীমাবদ্ধতা হলো প্রতিবছর আমরা মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারি। এ সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা যেকোনো বিবেচনায় কষ্টসাধ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিএমডিসি’র চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক, ক্লাসরুম, ইকুইপমেন্টসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থী বেতন বা হসপিটালের আয় দিয়ে কখনোই তা সম্ভব নয়। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালাতে বড় বড় গ্রুপের দরকার; যারা মানুষের কল্যাণে, দেশের উন্নয়নে কিছু করতে চায়, রোগীর সেবা তথা চিকিৎসা দিতে চায়।
আপনার মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের গুণগত মান কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, আমি সত্যিই গর্বিত এজন্য যে, আমাদের যেসব ফ্যাকাল্টি-মেম্বার আছেন, তাঁরা দক্ষ এবং অভিজ্ঞ; তাঁদের পরিচালনায় শিক্ষার্থীরা দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে বের হচ্ছে। আল্লাহর শোকর এদিক থেকে আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি।
যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক তৈরি করার পেছনে আপনারা কী কী ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ বলেন, মেডিকেল কলেজে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, আধুনিক টেকনোলজির প্রয়োজন অপরিহার্য; সব রকমের ইকুইপমেন্টের সাপোর্ট আমরা দিতে পারছি না, তবে যতটুকু Requirement তা দিচ্ছি। এ ধরনের প্রকল্পে প্রচুর Investment দরকার। যেহেতু মেডিকেল কলেজগুলো জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলে তথা আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির শুল্কহার প্রত্যাহারসহ সহজ শর্তে ব্যাংক-ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে মেডিকেল কলেজগুলোর আধুনিকায়ন গতিশীল হবে। এতে দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে পারত। জনকল্যাণে এ বিষয়ের প্রতি সরকারের এখনই দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশ ঔষধশিল্পে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে বিদেশি ছাত্ররা এখন তেমন একটা আসে না, এর কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা মেডিকেল সায়েন্সে অনেক পিছিয়ে আছি, আমাদের হাতে কিছু ভালো ডাক্তার আছে, তবে দেশের চাহিদার ক্ষেত্রে তা খুব অপ্রতুল। ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশের রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্যে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে যাচ্ছে। এতে প্রতিবছর দেশের হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। কেন যায়, এর জবাব হলো এটা একটা Natural flow. এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা বা নির্ভরতা সৃষ্টি হচ্ছে না বলে প্রাণ বাঁচাতে রোগীদের বহির্গমন এবং দেশের সম্পদ বাইরে চলে যাওয়া। এজন্যই মেডিকেল শিক্ষায় গুণগত মানের দিকে সবিশেষ নজর দেয়া দরকার; দেশের মেডিকেল শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক হলে এর কোয়ালিটি উন্নত হবে। কেননা আধুনিক বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সাথে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মধ্যে বিরাট এধঢ় রয়েছে। এ এধঢ় পূরণের জন্য যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তাহলে আমরা আরও অনেক পিছিয়ে পড়ব। এখনই স্বাস্থ্য সেক্টরে একটা Revolution ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি Consultant এবং হাসপাতাল নির্মাণে বিদেশি বিনিয়োগ আসলে তাতে দেশের লাভ ছাড়া ক্ষতির কিছু নেই। তবে এক্ষেত্রে আমাদের পশ্চাদপদতার পেছনে বিশেষ মহলের স্বার্থ কিংবা সংকীর্ণ রাজনীতি রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। প্রাইভেট সেক্টরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, কিন্তু সেবা-সেক্টরে আমরা অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছি। এ স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে হবে, আমাদেরকে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। সব জড়তা, স্থবিরতা ভেঙ্গে দিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের পুরোনো ধ্যান-ধারণা বদলিয়ে নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত হতে হবে। এ চ্যালেঞ্জ ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে সরকারকেই নিতে হবে।
ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি মূল্যবান পরামর্শের কথা বলতে গিয়ে প্রফেসর আবদুল্লাহ বলেন, তাদের প্রতি আমার একটিই পরামর্শ আমার মেয়েকে প্রশ্ন করেছিলাম, তুমি কী হতে চাও? জবাবে সে বলেছিল, ডাক্তার হতে চাই। আমি আবার বললাম, তুমি চিন্তা করে বলো। সে পুনরায় বললো আমি ডাক্তার হতে চাই। তখন তাকে আমি বললাম ডাক্তার হতে চাও, কিন্তু সেবকের মানসিকতা তোমার মধ্যে আছে কী? তা ভেবে দেখো। তুমি টাকা আয় করবে, ধনী হবে, জৌলুসময় জীবনযাপন করবে তাহলে এ প্রফেশন তোমার জন্য যথার্থ হবে না। যারা সত্যিকার অর্থে মানুষকে ভালোবাসে, মানুষের সেবা করে, নিজেকে একজন বড় সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদেরই এই পেশায় আসা উচিত। আমি আমার মেয়েকে যে উপদেশ দিয়েছি, একই উপদেশ আমার ছাত্র-ছাত্রীদেরও দেব। যে শিক্ষা তোমরা নিতে যাচ্ছ, তা দিয়ে মানুষের সেবা করবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ