বিশেষ খবর

বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট কমাতে অনলাইনে ক্লাস 

করোনা তা-বের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে সেশন জট নামক ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়েছে; অথচ কোনো ক্লাস, কোর্স সম্পন্ন, পরীক্ষা নেওয়া কিছুই সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই সেশন জট নামক এই ভয়াবহ ব্যাধি রোধ করতে বা কমিয়ে আনতে ছাত্র-শিক্ষক উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে।করোনা ভাইরাস মহামারীর কালে উচ্চ শিক্ষায় সেশনজট কমাতে অনলাইনে ক্লাস চালু ও পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা, মোবাইল হ্যান্ডসেট ও ল্যাপটপ সরবরাহের এবং একইসঙ্গে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন তারা।উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ের কতজন শিক্ষার্থীর মোবাইল হ্যান্ডসেট ও ল্যাপটপ লাগবে, সেই হিসেব সঠিকভাবে বের করা আবশ্যক। অনলাইনে ক্লাস চালু রাখার জন্য প্রয়োজনে বাজেটে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।শিক্ষাখাতকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যাংকগুলোর করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি প্রোগ্রাম বা সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের আরও বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন। সর্বপরি, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট সেশনজট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে।

 

অনলাইন ক্লাসের সুফল পাচ্ছে না প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা  

করোনাকালে উচ্চশিক্ষার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। সরকারি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সবেমাত্র অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনো এর ব্যবহার পদ্ধতি ও উপযোগিতা ঠিকমত বুঝে উঠতে পারছেন না। আর হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই নামকাওয়াস্তে অনলাইন ক্লাস চলছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা, যার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই গ্রাম ও মফস্বলের। তাঁদের অনলাইন ক্লাস এখনো শুরু হয়নি। উন্মুক্ত ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আরো খারাপ। করোনা মহামারির মধ্যে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ অনলাইন শিক্ষা। কিন্তু ইন্টারনেট ডাটার চড়ামূল্য আর নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকেই অনলাইন ক্লাসের বড় বাধা বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লি­ষ্টরা। কারণ বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মোবাইলে ডাটা প্যাকেজ ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেন। শহরের শিক্ষার্থীরা স্বল্পমূল্যের ব্রডব্যান্ড সুবিধায় অনায়াসে ক্লাস চালিয়ে যেতে পারলেও গ্রামাঞ্চলে ও অনেক মফস্বল শহরে উচ্চমূল্যের মোবাইল ইন্টারনেটই একমাত্র ভরসা।অন্যদিকে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা কমেছে। ফলে এভাবে ডাটা কিনে অনলাইন ক্লাস করা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারের নিকট দাবি, সকল শিক্ষার্থী যেন বিনামূল্যে বা একদম স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারে, সেদিকে সদয় দৃষ্টি দেয়া দরকার। এছাড়া প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ

Like Us