বিশেষ খবর

দুর্নীতিপরায়ণদের সঙ্গে রাজনীতির যোগসাজশ আছে -ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান

ক্যাম্পাস ডেস্ক সংবাদ
img

দুর্নীতিপরায়ণদের সঙ্গে রাজনীতির যোগসাজশ আছে। তারা সেখান থেকে প্রশ্রয় পাচ্ছে। দুর্নীতির সঙ্গে রাজনীতির এ যোগসাজশ দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
সম্প্রতি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক’র প্রধান কার্যালয়ে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ‘দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে দুদক। দুদক’র চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদক’র কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।
মামলার দুর্বলতা, অসম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন ও আইনগত ত্রুটিসহ নানা কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা আদালতে টিকছে না। এ কারণে দুদক’র মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তাঁরা বলছেন, দুর্নীতিবাজদের সাজা নিশ্চিত করতে না পারলে দুদক’র কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এজন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে।
সেমিনারে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। এটি একটি সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা। অনেকটা আক্ষেপের সুরে এই শিক্ষাবিদ বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নৈতিক বোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা কঠিন। দুর্নীতিবাজদের সাজা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান বলেন, দুদক’র প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি আরও গ্রহণযোগ্য করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এর মৌল কাঠামো এখনই বিশ্লেষণ করা উচিত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনতে হবে- এর কোন বিকল্প নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক বলে মনে করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে সবার কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, দুর্নীতি করে পার পাওয়া যাবে না। এজন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। তাহলে দুর্নীতিবাজদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ দুর্নীতির রাজনীতিকীকরণের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দুর্নীতি যেমন সরকারি দলে আছে, তেমনি বিরোধী দলেও আছে। দুর্নীতি কমাতে হলে ওপরের দিক থেকে কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, দেশে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের কদর বেশি। সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনে একজন অবৈধ শাসক ক্ষমতাচ্যুত হন। দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করেন। তারপরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এখনও প্রধান অনুঘটক।
দুদক’র সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান বলেন, দুদক’র স্বাধীনতার কথা শুধু মুখে বললে হবে না। স্বাধীনভাবে কাজ করতে হলে অন্যদের সহায়তা লাগবে। দুদক প্রতিবছর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু সে প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে কখনও আলোচনা হয় না। তিনি আরো বলেন, কেন জানি দুদক নিয়ে আলোচনা করতে সংসদ সদস্যদের অনীহা।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ