বিশেষ খবর

আমি সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন যাকে বঙ্গবন্ধু ভালোবেসে উপাধি দিয়েছেন ‘মুজিববাদী তাহের’

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ মতামত
img

মুজিববর্ষ ঘিরে অনুভূতির কথা জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রবাদপ্রতিম জনকল্যাণকামী মেয়র এম এ তাহের আবেগকম্পিত কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে ভালোবেসে ‘মুজিববাদী তাহের’ উপাধি দিয়েছিলেন। আমার পরম সৌভাগ্য যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাকে সবার সামনে নিজের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি সবাইকে বলতেন, কামাল-জামালের মত তাহেরও আমার এক ছেলে। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে ছেলে হিসেবে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। আমি যতবার বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছি, ততবারই তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। আর যতবার তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন, ততবারই আমি তাঁর বুকে মুখ গুঁজে ডুকরে ডুকরে কেঁদেছি। এ যে আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে কত বড় সৌভাগ্য, কত বড় পাওয়া, তা ভাষায় প্রকাশের অতীত। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আবেগঘন অনুভূতিতে আবিষ্ট হয়ে তিনি বলেন, আমি সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন, যাকে বঙ্গবন্ধু ‘মুজিববাদী তাহের’ উপাধি দিয়েছেন। তিনি জানতেন, আমি তাঁর একজন অন্ধ ভক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে কারো কোন কথা আমি বরদাশত করতাম না। আমার সামনে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে কেউ পার পেয়ে যেতে পারত না। আমার সম্পর্কে একথা সবাই জানতো। সবাই বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে আমার এই অন্ধ ভক্তির কথা বলতো, আর তাই বঙ্গবন্ধু আমার নাম দিয়েছিলেন ‘মুজিববাদী তাহের’। আজ আমার এ নাম অনেকেই ভুলে গিয়েছে, কিন্তু আমার জীবনে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ‘মুজিববাদী তাহের’ নামটি জাতির পিতার একটি অবিস্মরনীয় অবদান; যা আমার নামের সাথে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বঙ্গবন্ধুর এক অমর অনবদ্য স্মৃতিরূপে। মুজিববর্ষ ঘিরে অনুভুতির কথা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে তিনি আরো বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমি সকল আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। ৬২ সালে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ সালের ৬ দফা, ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে যোগদান করেছি। লক্ষীপুর থেকে বারবার ঢাকায় ছুটে গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে তাঁর আদর্শে দীক্ষা গ্রহণ করেছি, উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি। ঢাকা থেকে লক্ষীপুর ফিরে এসে সে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছি সর্বত্র। ৭১ এর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল আমার জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধায় রূপান্তরিত করেছে। ২৫ মার্চে যখন বঙ্গবন্ধুকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার নির্দেশে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে গেল, কালরাত্রিতে বাঙালি নিধন যজ্ঞে পাকিস্তানীরা মেতে উঠলো, আমরা বুঝলাম যে যুদ্ধ অনিবার্য। তখন আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। সুদীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলাম। ৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন। মনে হলো, হারানো পিতাকে ফিরে পেলাম। তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা। লক্ষীপুর থেকে বহুকষ্টে ঢাকায় এলাম। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করলাম। বঙ্গবন্ধু আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘তাহের এসেছে, আমার তাহের, মুজিববাদী তাহের’। আমি হু হু করে কেঁদে ফেললাম। আমার দু’ চোখের আনন্দ-বেদনার অশ্রুতে বঙ্গবন্ধুর বুক ভিজে গেল। বঙ্গবন্ধু সস্নেহে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, আর কাঁদিস না, আমি তো ফিরে এসেছি তোদের মাঝে, এখন আর চিন্তার কিছু নেই, এখন আমরা সবাই মিলে দেশ গড়বো। মুজিববর্ষে তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- পৃথিবীর ইতিহাসে একটি জঘন্যতম হত্যাকা-। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করার ইতিহাস পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নৃশংস ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। আমার হৃদয় তখন বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো। বুক ফেটে কান্না এসেছিলো। মনে হয়েছিলো, নিজের পিতাকে হারালাম। এই শোক আজীবন বহন করে চলেছি আমি। আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে তাঁর জীবনে শতবর্ষ পূর্ণ হতো আর এদেশও উন্নয়ন অগ্রগতিতে এগিয়ে একটি সুউন্নত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হতো আরও অনেক আগেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সুযোগ আমাদের সামনে আজ তাঁর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপনের তাৎপর্য। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে আমরা কতটুকু অগ্রসর হয়েছি বলে আপনি মনে করেন? এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জননন্দিত পৌরমেয়র আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য অগ্নিকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশ ও বিশ্বের আরেক বিস্ময়! বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণ তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। সে লক্ষ্য পূরণে তিনি অহর্নিশি সংগ্রাম করে চলেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি পিতার স্বপ্ন পূরণের এক বিরল উদাহরণ, এক জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি হাসিমুখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নিজের জীবনের সকল আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি জলাঞ্জলি দিয়ে। পিতার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন বিসর্জন দিতে সামান্যতম কুন্ঠিত নন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের গুণে আজ এদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির বেগবান ধারায় এগিয়ে চলেছে। তাই স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে আমরা অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি বলে আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কার কি ভূমিকা আছে বলে আপনি মনে করেন? জানতে চাইলে প্রজ্ঞাবান এ রাজনীতিবিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সকলেরই ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি। তবে এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য অগ্নিকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি একজন অনমনীয় কঠোর মনের মানুষ। যখন পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, আমি কাছেই একটি বাসায় ছিলাম। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্পাত কঠিন কঠোর মনোভাব বিদ্রোহীদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আমরাও তাঁর দৃঢ় মনোভাব দেখে বিস্মিত হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর মনোভাবের ফলেই বিদ্রোহীরা থমকে গিয়েছিল। তাঁর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে এই বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর অদম্য মনোবল এবং অসীম সাহস আজ তাঁকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত করেছে। আমি আমার ৭৬ বছর বয়সের জীবনে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর মতো সাহসী মানুষ আর দেখিনি। আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আল্ল­াহ যেন তাঁকে শতায়ু দান করেন। নেক হায়াত দান করেন। এ দেশের মানুষের জন্য তাঁর বেঁচে থাকাটা খুব দরকার। আর বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আমাদের সকলেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ