বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস, মানুষ তৈরির কারখানা

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস ফ্যামিলি
img

সাপ্তাহিক নিয়মিত সভায় সম্পাদক এম হেলাল স্যার বললেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকায় ‘ক্যাম্পাস পরিবার’ শীর্ষক একটি নিয়মিত কলাম প্রতি সংখ্যায় থাকবে, যাতে স্টাফদের লেখা ছাপা হবে। এতে স্টাফদের লেখালেখির অভ্যাস তৈরি হবে এবং ক্রিয়েটিভ বিষয়ে অংশ নিতে সবাই সচেষ্ট হবে। ক্যাম্পাস’র স্টাফরা বিষয়টিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিলেন। কেমন যেন একটা খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়লো।

আসলে ব্যাপারটা বলতে গেলে খুশির চেয়েও বেশি। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) -এ কাজ করছি, তারা সবাই এত ভাল যে, মনে হয় এরা সহকর্মী নয়, আপন ভাই-বোন অথবা তার চেয়েও বেশি। ক্যাম্পাস’র নিয়মগুলোই ব্যতিক্রম, সব বিষয়ে open dialogue platform তথা খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সবাই মিলে তা বাস্তবায়ন করা হয়, যাকে বলা যায় participating management। যার ফলে যে কোন কাজে প্রত্যেকেই যেমন দক্ষতা অর্জন করে তেমনি একটি সিদ্ধান্ত তৈরি ও এর ভুল-ভ্রান্তি দূর করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা অর্জন করে।

আমরা যারা এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, তারা কেউই তেমন কোন দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নিয়ে এখানে আসিনি। কিন্তু সম্পাদক মহোদয়ের দূর দৃষ্টিসম্পন্ন কর্ম-পরিকল্পনা, যুক্তিভিত্তিক-জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক আচরণ, সর্বোপরি pro-active attitude ও Research ক্ষমতার জন্যই দিনদিন আমাদের উন্নতি ঘটছে। কেউ কেউ সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ারমেন্ট নিয়ে ক্যাম্পাস’র সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। সরকারি চাকরিতে তাঁদের অভিজ্ঞতা অনেক হলেও প্রায়ই তাঁরা আফসোস করে বিভিন্ন বক্তৃতায় বলেন, কেন তাঁদের যুবক বয়সে কেউ এমনভাবে গাইড করল না। তাহলে তাঁরা উন্নতির আরও উচ্চ শিখরে আরোহন করতে পারতেন।

ক্যাম্পাস’র সবচেয়ে বড় দিক হলো, মানুষের ভিতরের মনুষ্যত্ববোধ ও সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত করে তাকে দেশপ্রেম ও মানব-কল্যাণে নিয়োজিত করানোর প্রচেষ্টা। একজন মানুষ কিভাবে Superior human being হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, তার জন্য অন্তহীন প্রচেষ্টা থাকে ক্যাম্পাস’র। সে প্রচেষ্টার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে প্রতি শনিবারের স্টাফ মিটিং -এর কথা। যেখানে open dialogue platform -এর মাধ্যমে জানানো হয় সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পথের বাধাগুলো সম্পর্কে, শেখানো হয় তা দূর করার পদ্ধতি।

Superior human being হবার পূর্বশর্ত যে Natural হওয়া, তা আমিসহ অনেকেই ক্যাম্পাস -এ এসেই জেনেছি। যদিও প্রশ্ন করলে কেউ কেউ বলে, ‘আমি আগেই জানতাম, কিন্তু মানতাম না’। এরকম আরও যা যা শেখানো হয়েছে এবং হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্ষমা করার অভ্যাস তৈরি, Thanksful ও Grateful হওয়া, ভালকে ভাল এবং খারাপকে খারাপ বলার অভ্যাস; সর্বোপরি মানুষের সাথে এবং নিজের সাথে যুক্তিভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক আচরণে অভ্যস্ত হবার প্রক্রিয়া।

দ্বিতীয় যে প্রচেষ্টার কথা না বললেই নয় তা হলো- মেডিটেশন, যে ক্ষমতার বলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। মেডিটেশন মানুষের কাছে অতিপ্রাকৃতিক বা অলৌকিক বলে মনে হলেও মানব ইতিহাসে এর প্রমাণ অগুণিত। মেডিটেশনের মাধ্যমে মনকে নিজের আয়ত্তে আনার কৌশল শেখানো হয়, যা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে শিখতে গেলে মাত্র চারদিনের কোর্সের জন্য ৬,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা খরচ করতে হতো। কিন্তু ক্যাম্পাস-এ তা একেবারেই ফ্রি শেখানো ও অনুশীলন করানো হয়। মাসের ১ম ও ৩য় শনিবার বিকেলে ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইচ্ছা করলে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। আর এই কোর্সটি সম্পাদক মহোদয় ক্যাম্পাস স্টাফদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন, যেন আমরা দ্রুত মন নিয়ন্ত্রণ করে কর্মে সাফল্য আনতে ও উন্নততর জীবন গঠন করতে পারি। এছাড়া তিনি প্রতিদিন ৩০ মি. সময় বরাদ্দ করে দিয়েছেন স্টাফদের মেডিটেশন করার জন্য। মেডিটেশন ছাড়াও রয়েছে যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম কর্মসূচি। শরীরকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে যোগব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। আপনি প্রতিদিন সকাল-বিকাল ২ ঘন্টা মাঠে জগিং করে যে উপকার পাবেন তার চেয়ে বেশি উপকার পেতে পারেন প্রতিদিন ঘরে বসে ১৫-৩০ মিনিট যোগ-ব্যায়াম করে। ক্যাম্পাস-এ এই সুন্দর অনুশীলনের ব্যবস্থাটাও করেছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় সম্পাদক মহোদয়, যা প্রতিমাসের ২য় ও ৪র্থ শনিবার ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বলাই বাহুল্য, এটিও মেডিটেশনের মতই একটি ফ্রি প্রোগ্রাম, যা যে কেউ করতে পারে বিনা খরচে ক্যাম্পাস-এ এসে। যোগব্যায়ামও আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে প্রতি শনিবার ২ ঘন্টা থেকে ৩ ঘন্টা সময় অফিসের নষ্ট হলেও সম্পাদক মহোদয় কখনোই বলেননি ঐ সময়টুকু পুষিয়ে দেয়ার জন্য বাড়তি সময় কাজ করতে।

আর একটা প্রচেষ্টার কথা বলেই আমি আমার এ লেখার যবনিকা টানবো- তা হলো ক্যাম্পাস’র ‘ফ্রি কম্পিউটার ট্রেনিং’ -এর উদ্বোধনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানগুলোতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, ভিসি, মন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন গুণীজনের জীবন দর্শন আমাদের কাছে তুলে ধরা হয়, যাতে আমরা তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের জীবনকেও সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত করতে পারি। এসব অনুষ্ঠানে তাদের সাথে Dialogue -এর মাধ্যমে আমাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর আমরা পেয়ে যাই, যা আমাদের চলার পথে পাথেয়স্বরূপ।

পরিশেষে শুধু এটুকুই বলবো, ক্যাম্পাস’র কাছে আমরা ঋণী, বিশেষ করে শ্রদ্ধেয় সম্পাদক এম হেলাল স্যারের নিকট। যে ঋণ আমরা কেউ কখনোই শোধ করতে পারবো না। আজ যতটুকু বুঝতে পারি, যতটুকু natural, thanksful হতে পেরেছি, তার সবটুকু কৃতিত্বই তাঁর। Superior human being -এর পথে যতটুকুই অগ্রসর হইনা কেন, তার একক কৃতিত্ব এই গুণীজনেরই।

তাঁকে শুধু ধন্যবাদ জানালে ছোট করা হবে। কোন কিছুর বিপরীতে শুধু ধন্যবাদ জানালেই অথবা Yes Sir, Yes Sir করলেই সব হয় না। আমি মনে করি সব কিছুর ওপরে আছে আত্মিক একটা ব্যাপার। অন্তরের অন্তস্থল থেকে তাঁর জন্য দোয়া করি। তিনি যেন সুস্থ-সুন্দরভাবে অনেক দিন বেঁচে থাকেন। আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।
আমীন।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)
e-mail:ahmed.razu69@gmail.com


রাজু আহমেদ
ডিজাইনার


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ