সাধারণ শিক্ষার এত বিষয় থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা শিক্ষার দিকে আকৃষ্ট..." /> চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নত করতে শিক্ষকদের নিতে হবে অগ্রণী ভূমিকা -ডাঃ ঝুমু খান
বিশেষ খবর

বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে শিক্ষকদের নিতে হবে অগ্রণী ভূমিকা

ডাঃ জাহানারা ফেরদৌস (ঝুমু খান)

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
img

সাধারণ শিক্ষার এত বিষয় থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা শিক্ষার দিকে আকৃষ্ট হলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাহানারা ফেরদৌস (ঝুমু খান) বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার দিকে হঠাৎ করে ঝুঁকিনি; ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হবার স্বপ্ন ছিল; তাছাড়া আমার নানীও আমাকে ডাক্তার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে হলিক্রস কলেজে পড়ছিলাম তখন বায়োলজি আমার প্রিয় বিষয় ছিল -যা আমাকে চিকিৎসা পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করে।
আপনি লেজার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, মেডিক্যাল চিকিৎসার এত বিষয় থাকা সত্ত্বে¡ও আপনি এ বিষয়টিকে বেছে নিলেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ ঝুমু খান বলেন, আমি বেসিক্যালি ডারমোটলজিস্ট। ডারমোটলজিতে কাজ করার সময় আমি লেজার চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হই। সেখানে আমি অনেক সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছি; সেই সীমাবদ্ধতা থেকে লেজার চিকিৎসার প্রতি আমার উৎসাহ ও আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। তিনি বলেন, লেজার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য হলেও বেশ ফলপ্রসূ, কারণ আমরা লেজার চিকিৎসা বিষয়ক উন্নত প্রযুক্তি এদেশে নিয়ে এসেছি।
স্বাস্থ্যগত কোন্ ধরনের সমস্যায় পড়ে মানুষ লেজার চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ ঝুমু খাান বলেন, স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যায় বিভিন্নভাবে লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। চোখ, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।
লেজার পদ্ধতিকে অনেকে ভীতির চোখে দেখেন এ ব্যাপারে তাঁর অভিমত জানতে চাইলে ঝুমু খান বলেন, আমি দেশের বাইরে অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোথাও লেজার চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো বিরূপ মনোভাব লক্ষ্য করিনি। তবে নতুন কিছুকে ওয়েলকাম করা, সাদরে গ্রহণ করার মানসিকতা আমাদের সবার নেই। সেজন্য লেজার চিকিৎসার সমালোচনাও দেখা যায়। এ চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের উদ্ভাবিত নয়, উন্নতবিশ্বে এর উদ্ভব; পরবর্তীতে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশ্বে।
বাংলাদেশে লেজার চিকিৎসার ভবিষ্যৎ কী, এ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করে জনগণকে কীভাবে আরও আকৃষ্ট করা যায় এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ ঝুমু খান বলেন, এ চিকিৎসা নতুন ধরনের চিকিৎসা; এখনও সব জায়গায় এর কথা পৌঁছেনি। দিন দিন মানুষ জানতে পারছে এ চিকিৎসার বিভিন্ন দিক ও উপকারিতা। এখনও এ চিকিৎসা ঢাকা কেন্দ্রিক। তবে ঢাকার বাইরে থেকে লোকজন আসছে লেজার চিকিৎসা লাভের জন্য। জনগণের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে, সচেতনতা বাড়ছে। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে এ চিকিৎসা সেবা ঢাকার বাইরে বড় বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে।
উন্নত বিশ্ব হারবাল বা প্রাকৃতিক চিকিৎসার প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। বাংলদেশে প্রাকৃতিক চিকিৎসার সাথে লেজার পদ্ধতির চিকিৎসা যুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে প্রাকৃতিক চিকিৎসার অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ডাঃ ঝুমু খান বলেন, আমাদের দেশে অনেক যুগ আগে থেকে চলে আসছে হারবাল চিকিৎসা; অবশ্যই এর একটি সায়েন্টিফিক ভিত্তি আছে। কিন্তু অনেকে প্রাকৃতিক চিকিৎসার অপব্যবহার করে। প্রাকৃতিক চিকিৎসা মূলতই একটি ভালো চিকিৎসা পদ্ধতি। আমি আমার চিকিৎসা কেন্দ্রে একটি নতুন টেকনিক শুরু করেছি; যেখানে লেজার পদ্ধতির সাথে প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত দেশে এখন এ ধরনের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু আমাদের দেশে হারবাল চিকিৎসার নামে যা করা হয় সে সম্পর্কে অনিয়মের অনেক অভিযোগ শোনা যায়। সরকারের এ ব্যাপারে কঠোর হওয়া উচিত। হারবাল চিকিৎসা উপমহাদেশের একটি বড় এসেট; কিন্তু এর অপব্যবহার হয় সহজে। বাজারে যেসব হারবাল স্কীন ঔষধ পাওয়া যায়, সেগুলো ত্বকের অনেক ক্ষতি করে। এগুলোর মধ্যে অনেক ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থাকে, যা ত্বকের চিকিৎসায় সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য। এগুলো শুধু ত্বক নয়, সারা শরীরের জন্যই ক্ষতিকারক। লিভার-কিডনী-হার্ট যেকোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে হারবাল নামের ক্ষতিকারক ঔষধ বিপদ ডেকে আনে। এরা কিছু চটকদার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে, যাতে চটকদার কথা থাকে ওজন বাড়াতে চান কিংবা ওজন কমাতে চান, হারবাল চিকিৎসা গ্রহণ করুন। ৭ দিনে পূূর্ণ চিকিৎসার গ্যারান্টি! রঙ ফর্সা করার জন্য অনেক ক্রিম তৈরি হয়, কিন্তু সেগুলো ত্বকের সর্বনাশ করে দেয়। ৫০/৬০ টাকা দিয়ে ক্রিম কিনে ব্যবহার করার পর যখন অনেক ক্ষতি হয়ে যায়, তখন আমাদের কাছে আসে। তখন আমাদের পক্ষে তার চিকিৎসা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হচ্ছে; এ দু’টোর মধ্যে শিক্ষামানের কোনো তারতম্য আছে কী এমন প্রশ্নের জবাবে লেজার চিকিৎসা পদ্ধতির অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ডাঃ ঝুমু খান বলেন, চিকিৎসা মানের তারতম্য অবশ্যই আছে।
আমরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়েছি, আমরা একটি সাংঘাতিক কম্পিটিটিভ পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রথম ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়, এভাবে অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। প্রথম সারির মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে যা আশা করা যায়, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে তা আশা করা যায় না। মেডিক্যাল সায়েন্স প্রযুক্তিগত এমন একটি বিদ্যা, এখানে ধরে-বেঁধে পড়ানো যায় না; এ শিক্ষার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত তরুণের প্রয়োজন। 

                                          

ডাক্তারদের মধ্যে যে কোয়ালিটি থাকা দরকার সে অনুপাতে মেডিক্যাল কলেজগুলো অনেক পিছিয়ে পড়ছে। সেজন্য এমবিবিএস ডাক্তার পাচ্ছি, কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোয়ালিটি পারফরমেন্স পাচ্ছি না। উন্নত বিশ্বে আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন অনেক মানুষ আছে, কিন্তু তারা মেডিক্যাল শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না এজন্য যে, সেদেশের সরকার কোয়ালিটি মেইনটেন করছে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে একটিমাত্র মেডিক্যাল কলেজ আছে, যদিও সেখানে আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন লোকের অভাব নেই। সিঙ্গাপুর সরকার ইচ্ছা করেই মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বাড়ায়নি, তারা মেডিক্যাল শিক্ষায় কোয়ালিটির দিকেই সর্বোচ্চ নজর দিয়েছে। কোয়ানটিটি দিয়ে নয়, কোয়ালিটি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। আমারা যদি এ ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করি, তাহলে কোয়ালিটির ধাপ আরও অনেক নিচে নেমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ৫০/৬০টি মেডিক্যাল কলেজ দিয়ে আমাদের চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা চলছে। ডাক্তার উপচে পড়বে, তাহলে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে এ ধারণা ভুল। আমাদেরকে যেকোনো বামূল্যে কোয়ালিটির ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরকারি হাসপাতালের মান নির্ণয় হয় তার বেডসংখ্যা দিয়ে। কিন্তু বেডতো সব মানুষের বাসায় থাকে; মনে রাখতে হবে, তারা বেডে ঘুমানোর জন্য হাসপাতালে আসে না। আমাদের দেখতে হবে কত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ঐ হাসপাতালে হয়, কত উন্নত চিকিৎসা সেবা তারা দিতে পারে।
পতরুণ প্রজন্মের খবার-দাবার বদভ্যাস এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে তাঁর পরামর্শ জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসচেতন দূরদর্শী চিকিৎসক ডাঃ ঝুমু খান বলেন অভ্যাস ভালো, কিন্তু বদভ্যাস পরিত্যাজ্য। খাবার-দাবার আমাদের প্রাত্যহিক বিষয়। আমাদের তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ, তাদেরকে সুস্থ রাখতে হবে। একটি সুস্থ জাতি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এজন্য খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দামি খাবার খেতে হবে এমন নয়, আমাদেরকে খেতে হবে ভিটামিনযুক্ত পুষ্টিকর খাবার। শুধুু বেঁচে থাকা নয়, স্বাস্থ্যবান হয়ে বাঁচতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার ৪ দশকে পদার্পণ উপলক্ষে তাঁর অনুভূতি এবং এ পত্রিকার উন্নয়নে মূল্যবান পরামর্শের কথা জানতে চাইলে শিক্ষা-সংস্কৃতি জগতের অগ্রসরমাণ ব্যক্তিত্ব ডাঃ ঝুমু খান বলেন ক্যাম্পাস’র কর্মসূচিসমূহ সমাজ বদলের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ; জাতিজাগরণের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা; জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং আলোকিত জাতি গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ক্যাম্পাস পত্রিকা এবং ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র আশা জাগানিয়া প্রতিষ্ঠান; এর বাণী দিক-দিগন্তরে ছড়িয়ে পড়বে -এটি আমার প্রত্যাশা।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ