বিশেষ খবর

নর্দান ইউনিভার্সিটি যুগোপযোগী শিক্ষা বিস্তারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

ক্যাম্পাস ডেস্ক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
img

দেশে অপ্রতুল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৯২ সালে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ঢাকায়। এরই ধারাবাহিকতায় নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এনইউবি) এর জন্ম রাজধানী ঢাকায় ২০০২ সালের শেষ দিকে, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও দেশের শিক্ষাখাতে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি Knowledge for Innovation and Change শ্লোগানে বিশ্বায়নের দাবি পূরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে যুগোপযোগী কোর্সগুলোকে এর পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি অনুষদে ১০টি বিভাগ রয়েছে, যেখানে ১৭টি কোর্সে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য এখানে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে টিম ওয়ার্ক হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্য বইয়ের সাথে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ক্যারিয়ার গঠনমূলক ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, তথ্যপ্রযুক্তি, আইটি মেলা, স্টাডি ট্যুর, গণিত অলিম্পিয়াড, আন্তর্জাতিক হেনরী ডুনান্ট মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবলসহ বিভিন্ন গেমসে সম্পৃক্ত করা হয়। এখানে শিক্ষকগণ যথেষ্ট উদার ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে যত্নবান।

শিক্ষকমণ্ডলী
দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট-এর মত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা মেধাবীদের এখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঐসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেয়া নামি-দামি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের এখানে পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১৩ জন শিক্ষক রয়েছে, যার অধিকাংশই পূর্ণকালীন। তাদের ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ২৬৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে।

লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব
নর্দানের লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব খুব উন্নত। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর জন্য এখানে পৃথক পৃথক কম্পিউটার রয়েছে। ক্লাস ছুটির দিনগুলোতেও কম্পিউটার ও লাইব্রেরি ব্যবহার করা যায়। এখানে ৬ টি সুবিশাল লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। বিভিন্ন বিভাগে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি ১৮টি, ১২টি কম্পিউটার ল্যাব ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সার্বক্ষণিক ৬টি ফ্রি ইন্টারনেট ব্রাউজিং ল্যাব রয়েছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে যে জিনিসটা বেশি দরকার তা হলো ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা। নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রতিটি বিভাগের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করতে পারে সেজন্য এখানে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নর্দানের আইন বিভাগ ও ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। পরিসংখ্যান মতে, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক হেনরী ডুনান্ট মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সকল সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে এ পর্যন্ত ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেছে। একদিকে তারা যেমন নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের এডভোকেসিশীপ নিয়ে নিচ্ছে, অপর দিকে তারা জুডিশিয়াল সার্ভিসে অত্যন্ত ভাল করছে। ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পাস করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ৭ম সিমেস্টারের ছাত্রী তাজমিন সুলতানা শিক্ষার মান সম্পর্কে বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো। এখানকার শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। ৫ম সিমেষ্টারের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের ছাত্রী আফিয়া ফারজানা শিক্ষকের মান সম্পর্কে বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা, শিক্ষক না তারা আমাদের বন্ধু। বন্ধু যেমন হেল্পফুল তেমনি আমাদের শিক্ষকরা পড়াশুনার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। ৪র্থ সিমেস্টারের ইলেকট্রিক এ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবুল হোসেন বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার মান অন্যান্য ৮/১০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক ভালো। এখানকার লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, ব্যবহারিক ল্যাবও খুবই উন্নত। মোঃ জয়নুর রহমান জনি, ইংরেজি বিভাগের ১১তম সিমেস্টারের ছাত্র বলেন, আমি প্রায় চার বছর ধরে এখানে পড়াশুনা করছি। এখানে পড়ালেখা করতে গিয়ে সব ধরনের আধুনিক সুবিধা যেমনঃ ইন্টারনেট ল্যাব, লাইব্রেরি ইত্যাদি সুবিধা পাচ্ছি। ক্লাসে পাঠদানে সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী খুবই আন্তরিক। তাঁরা সবসময় আমাদের সমস্যা সমাধান ও যুগোপযোগী শিক্ষাদানে সহায়তা করেন । বিবিএ বিভাগের ৮ম সিমেস্টারের ছাত্রী ইসমিতা সম্রাট বলেন, নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার মান যথেষ্ট ভালো। আামাদের শিক্ষকম-লী প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে বোঝান। এখানে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে ভালো ফলাফলের সুযোগ নেই।

স্থায়ী ক্যাম্পাস
সরকারী শর্ত সাপেক্ষে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ রাজধানী ঢাকার আশকোনায় (হাজী ক্যাম্পের পাশে) দ্রুত এগিয়ে চলছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে আগামী ফল সিমেস্টার-২০১৫ এর মধ্যে অন্তত ২/৩টি বিভাগ স্থায়ী ক্যাম্পসে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

ইউজিসি’র সাথে গবেষণা চুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিগত ২ বছর যাবৎ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিরূপণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালন করছে। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সর্ব্বোচ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গবেষণা ফান্ড প্রদানের জন্য এক চুক্তি করেছে।

সর্ববৃহৎ সমাবর্তন
গত ২৬ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোঃ আব্দুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বৃহত্তম সমাবর্তন সম্পন্ন করেন। উক্ত সমাবর্তনে প্রায় ৫,০০০ ছাত্র ছাত্রীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

চাকরি সহায়তা কেন্দ্র
নর্দানে রয়েছে চাকরি সহায়তা কেন্দ্র । শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম আরম্ভ করার পর এ সহায়তা কেন্দ্র বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা শেষে দ্রুত কাজ/চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।
উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে নর্দান ইউনিভার্সিটির ভূমিকা সম্পর্কে এনইউবি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সুশিক্ষিত জাতি ও দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া আমরা উন্নত জাতিতে পরিণত হতে পারবো না, পরনির্ভরশীলতা আমাদের কাটবে না এবং সর্বোপরি আমরা স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না। এসব পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানোর জন্য আমরা সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করীম বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন তথা গুণগতমান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা সহায়ক আধুনিক সরঞ্জামের যোগান দিতে আমরা ব্যয় করছি প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ, যেখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে। আমরা ইন্টারনেট সমৃদ্ধ সুপরিসর শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ক্লাসরুমগুলোতে লেটেস্ট মাল্টিমিডিয়া সংযুক্তকরণ, দ্রতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট ব্রাউজিং ল্যাব, অনলাইন ভিত্তিক সুবিশাল লাইব্রেরি, বিভাগগুলোর জন্য আধুনিক মডেলের ল্যাবরেটরি, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কোন না কোনো শিক্ষককে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য বিদেশে প্রেরণ, গবেষণার কাজে শিক্ষকদেরকে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ ইত্যাদি কাজ করতে পেরেছি। মেধাবী শিক্ষকদের একটি সমাবেশ এখানে ঘটাতে আমরা সক্ষম হয়েছি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ