বিশেষ খবর

পিইসি জেএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ॥ পিইসিতে পাস ৯৮.৫২ শতাংশ, জেএসসিতে ৯২.৩৩

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনীতে (পিইসি) এ বছর পাসের হার ৯৮.৫২ শতাংশ। আর জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার ৯২.৩৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে এ বছর ঢাকা বিভাগে পাসের হার ৯৮.৭৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে পাসের হার ৯৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে পাসের হার ৯৮.৯৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে পাসের হার ৯৮.৪১ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে পাসের হার ৯৮.৩০ শতাংশ, সিলেট বিভাগে পাসের হার ৯৬.৭৯ শতাংশ ও রংপুর বিভাগে পাসের হার ৯৮.৫৬ শতাংশ।
জেএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ২০ লাখ ৯৮ হাজার ৮২ জন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮৫.৪৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৯৩.৫৯ শতাংশ ও কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৯২.৫১ শতাংশ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফল হস্তান্তর করেন স্ব স্ব বোর্ডের প্রধানরা। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
২২ থেকে ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে মোট ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩ জন ও ইবতেদায়িতে ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
প্রতিটি ছেলেমেয়ের শিক্ষা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিয়েছি -প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি ছেলেমেয়ে যাতে শিক্ষা নিতে পারে সে সুযোগ করে দিচ্ছি। আমরা ১ কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। সবাই যাতে লেখাপড়া করতে পারে তার ব্যবস্থা করছি।
গণভবনে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফল গ্রহণ শেষে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেমেয়েদের পড়ার চাপ না দিয়ে খেলার মধ্য দিয়ে শিক্ষাটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন। তিনি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে দিলেন। ওই সময় একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে এতো সমস্যার মধ্যেও এভাবে জাতীয়করণ করা একটা বিশাল ব্যাপার। সব শিক্ষককে সরকারি চাকরি দিয়ে শিক্ষার ভিত্তিটা তৈরি করে দিয়ে গেলেন।
তিনি বলেন, আমরা সরকারে আসার পর তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করে দিয়েছি। চার হাজার শিক্ষককে সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়েছি। বাজেটে আমরা শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছি।
সুষ্ঠু পরিবেশে ভালো ফল -শিক্ষামন্ত্রী
জুনিয়র স্কুল সর্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এবারের ফলাফলে সব সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মন্ত্রী একইসঙ্গে যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের সান্ত¡না জানাতে শিক্ষক-অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন।
জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ফলাফলে প্রমাণ হয় শিক্ষায় সব সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সব দিক দিয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
পরীক্ষার সময় পরিবেশ ভালো ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা, প্রশ্নের নিরাপত্তাও ভালো ছিল। এই ফলাফলে আমরা আনন্দিত।
যারা পাস করেনি তাদের সান্ত¡না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারপরও কিছু শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, হয়তো হতাশ হবে। তারা যাতে হতাশাগ্রস্ত না হয়, নিরুৎসাহিত না হয় সেজন্যে শিক্ষক-অভিভাবকদের অনুরোধ জানাই, পাস না করতে পারলে যেন বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয়। এজন্য তাদের সান্ত¡না দেবেন। আর তাদের (অকৃতকার্যদের) বলবো সামনের জীবন পড়ে আছে, মন খারাপ না করে পড়াশোনায় মন দাও, সামনের বার তোমাদের নিয়ে আরও ভালো ফল ঘোষণা করবো।
জেএসসি-জেডিসিতে ৪৩ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
চলতি বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের চেয়ে ছয়টি কমেছে। কেউ পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার জেএসসিতে ২৩টি এবং জেডিসিতে ২০টি। সব মিলে এবার এমন প্রতিষ্ঠান ৪৩টি। তবে জেএসসিতে শতভাগ অনুত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের এ সংখ্যা গতবারের সমান। আর যে ছয়টি কমেছে তা মাদরাসা বোর্ডের।
গতবার সব মিলে শতভাগ অনুত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল ৪৯টি। এরমধ্যে ঢাকা বোর্ডে ছয়টি, রাজশাহী বোর্ডে পাঁচটি, যশোর বোর্ডে তিনটি, বরিশাল বোর্ডে একটি, দিনাজপুর বোর্ডে আটটি এবং মাদরাসা বোর্ডের ২৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ