বিশেষ খবর

উদারপ্রাণ শিক্ষাদ্যোক্তা, ইউরোপে বাংলার গর্ব ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই, জেপি

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
img

ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন একজন আলোকিত ব্যক্তিত্বের নাম, একজন সফল সংগঠকের নাম। তিনি এমনই বিরল প্রতিভা যাঁকে নিয়ে দেশ ও জাতি গর্ব করতে পারে নিঃসন্দেহে। সুদূর যুক্তরাজ্যে নিজ মেধা, মনন, শ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠার গুণে তিনি বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। শুধু যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম কিংবা বাংলাদেশই নয়, ড. ওয়ালীর সুনাম-সুখ্যাতি, কৃতিত্ব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। বাঙালির গর্ব, বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই, জেপি পেশাগত ও সামাজিক জীবনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।
ড. ওয়ালী ব্রিটেন থেকে ১৯৯৫ সালে এমবিই এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তাঁকে কুইন মার্গারেট ইউনিভার্সিটি কলেজ বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনে অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রি এবংNapier University সম্মানসূচক গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি প্রদান করে। ড. ওয়ালী এশিয়ান ও মুসলিম বিভিন্ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান। বিদেশে বাঙালি কমিউনিটির শান্তি ও সমৃদ্ধিতে কাজ করার জন্য ব্রিটেনের রাণী ১৯৮৪ সালে ড. ওয়ালীকে জাস্টিস অব পিস খেতাবে ভূষিত করেন। স্কটল্যান্ডে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি এ খেতাব পান। তিনি ১৯৯৩ সালে স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল এবং ১৯৯১ সালে ইয়ং স্কট অব দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হন। কমিউনিটিতে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে Heriot-Watt University থেকে অনারারী ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করেন। উদ্যোক্তা ও দাতার স্বীকৃতি হিসেবে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেন তিনি।
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন বিশিষ্ট শিক্ষাদ্যোক্তা এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। তিনি বাংলাদেশস্থ সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল এর সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে চীফ কো-অর্ডিনেটর; বাংলাদেশ ফিমেল একাডেমি এর ট্রাস্টি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সাইন্সেস এন্ড টেকনোলজি এর উপদেষ্টা, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন বিজনেস স্কুল এডভাইজরি গ্রুপ এর চেয়ারম্যান, বাংলা-স্কট ফাউন্ডেশন এর ফাউন্ডার-ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ-ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স এর সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর ফাউন্ডার ও জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট।
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন সমাজসেবক হিসেবে যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড ও বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে অবদান রেখে আসছেন। তিনি বাংলাদেশে সাইক্লোনে নিরাপত্তার জন্য এবং মডেল ভিলেজ ও ট্রেনিং সেন্টারের জন্য অনুদান প্রদান করেন। এছাড়া তিনি শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করেন। তিনি পৃথিবীর ১২০টিরও অধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
ওয়ালী তসর উদ্দিন এর জন্ম ও বংশপরিচয়
ওয়ালী তসর উদ্দিন ১৯৫২ সালের ১৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার সদর থানার নালিহুরী গ্রামের বড় বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বৃহত্তর সিলেটের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রতিনিধি ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ৩ ভাই ও ৬ বোনের মধ্যে চতুর্থ। তাঁর বাবা আলহাজ্ব মকসুদুর রহমান চৌধুরী এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি এক সময় পোস্ট মাস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মা মরহুমা তৈয়বুন্নেসা খানম ছিলেন ধর্মপ্রাণ বিশিষ্ট সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব। ড. ওয়ালীর ৬ বোনের মধ্যে ৩ বোন বাংলাদেশে এবং ৩ বোন লন্ডনে বসবাস করেন। তাঁর বড় ভাই ফখরুল ইসলাম নিউইয়র্ক প্রবাসী স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। কনিষ্ঠ ভাই শরফ উদ্দিন এডিনবরায় ব্যবসা করছেন।
ড. ওয়ালীর বর্ণিল শিক্ষাজীবন
ড. ওয়ালীর সাফল্য ও অর্জনের দিকে তাকালেই শিক্ষা জীবনের মেধা ও সাফল্যের গৌরবগাঁথা সম্বন্ধে উপলব্ধি করা যায়। ওয়ালী তসর উদ্দিন ছোটবেলায় স্থানীয় বারন্তী প্রাইমারী স্কুল এবং মৌলভীবাজার সরকারি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে লন্ডনে চলে যান এবং বাংলাদেশে এসে ১৯৭১ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যস্থ সাউথ-ওয়েস্ট লন্ডনের পাটনী কলেজ থেকে মটর ভেহিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ এইচএনসি কোর্সে ডিগ্রি অর্জন করেন। ইংল্যান্ডের লুটন থেকে সেলস এন্ড মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ফেলোশিপ লাভ করেন। ওয়ালী তসর উদ্দিন হেরিওট ওয়াট ইউনিভার্সিটি থেকে ডিলিট ডিগ্রি এবং কুইন মার্গারেট ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
ড. ওয়ালীর আলোকিত পারিবারিক জীবন
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাইদা আক্তার চৌধুরী (হুসনা) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী সাইদা চৌধুরী সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানাধীন বারোহালা এলাকার খিলো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মইজুল হক চৌধুরী। সাইদা চৌধুরী একজন সমাজসেবক। ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ও সাইদা চৌধুরীর দীর্ঘ ৩৩ বছরের দাম্পত্য জীবনকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন তাঁদের ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। প্রথম ছেলে শাহান মোঃ এহতেশাম উদ্দিন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, দ্বিতীয় ছেলে আহসান মোঃ সুহান উদ্দিন। প্রথম মেয়ে হাফিজা আক্তার (জলি) বিবাহিতা। তাঁর স্বামী ইঞ্জিনিয়ার তাওহীদ খান। তিনি লন্ডনে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। দ্বিতীয় কন্যা সুহেলী আক্তার এডিনবরায় বিজনেস এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত। কনিষ্ঠা কন্যা রুহেলী আক্তার কলেজে অধ্যয়ন করছেন।
ড. ওয়ালীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
ড. ওয়ালীর কর্মজীবন শুরু হয় যুক্তরাজ্যের চীফ উইকে কিসমত রেস্টুরেন্টে শিক্ষানবিশ ওয়েটার হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টীড হীথের শাহানশাহ রেস্টুরেন্ট, মিডল্যান্ডের চেস্টার ফিল্ডের তাজমহল রেস্টুরেন্ট, উইম্বলডিনের রয়েল বেঙ্গল রেস্টুরেন্ট এবং লন্ডনের গ্লোস্টার রোডে কারী হাউস এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি নিজেই হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ড. ওয়ালীর রয়েছে প্রচুর সুখ্যাতি। প্রচন্ড পরিশ্রম, সততা আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে তিনি সুদূর যুক্তরাজ্যে গড়ে তুলেছেন ব্রিটেনের শ্রেষ্ঠ হোটেল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হোটেল ব্রিটানিয়া স্পাইস ইতোমধ্যে পর পর ৩ বার শ্রেষ্ঠ হোটেলের সম্মানে ভূষিত হয়েছে। ড. ওয়ালী শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, বাংলাদেশেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। তিনি গতানুগতিক চিন্তা-ধারায় বিশ্বাসী নন। তাই ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুনত্ব সৃষ্টিতে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। ব্যবসা ছাড়াও সমাজসেবাকে কর্ম হিসেবে গ্রহণ করে তিনি মানব কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর আলোয় আলোকিত আজ হাজারো মানুষ।
উদারপ্রাণ শিক্ষা উদ্যোক্তা ড. ওয়ালী
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন শিক্ষানুরাগী এবং শিক্ষার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কার্যকর উচ্চ শিক্ষার প্রসারে তিনি একজন অগ্রসৈনিক। ড. ওয়ালী শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, বাংলাদেশেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজ হসপিটাল, সিলেট প্রেসিডেন্সী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি, ব্লেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইনস্টিটিউট অব চার্টাড ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি।
অসাধারণ দক্ষ সংগঠক ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন
ড. ওয়ালীর আজকের যে ঈর্ষণীয় সাফল্য, এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা। একজন সফল সংগঠক হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে রেখেছেন অসামান্য সাফল্যের স্বাক্ষর। সংগঠক হিসেবে দক্ষতা তাঁকে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট অঙ্গনে অপার শ্রদ্ধার আসন। এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃস্থানীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনো অনেক সংগঠন ও সংস্থার তিনি প্রাণপুরুষ। ড. ওয়ালী ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট, ইউনিভার্সেল কোবা কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। সেগুলোর অন্যতম হচ্ছে কনভেনর, ভয়েস ফর জাস্টিস ইন স্কটল্যান্ড; ফাউন্ডার এন্ড চেয়ারম্যান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, এডিনবরা; এডভাইজার, সিলেট ফাউন্ডেশন। সুদূর যুক্তরাজ্যে বাঙালি কমিউনিটির শান্তি ও সমৃদ্ধিতে তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ব্রিটেনের রাণী কর্তৃক জাস্টিস অব পিস খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। ড. ওয়ালী এডিনবরার কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শাহজালাল মস্ক এন্ড ইসলামিক সেন্টারের ডাইরেক্টর, কমনওয়েলথ সোসাইটি অব এডিনবরা এন্ড বাংলা-স্কট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল প্রতিনিধি ড. ওয়ালী
ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন নিজের দক্ষতা, সততা ও অধ্যবসায়ের গুণে নিজকে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছেন। আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. ওয়ালী বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরছেন বাংলাদেশের মর্যাদা। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতায় আকৃষ্ট হয়ে স্কটল্যান্ডের সরকার তাঁকে সে দেশের অনারারী কনসাল জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তন্মধ্যে নেপিয়ার ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ২০০৭ সালে অনারারি ডিগ্রি; একই বছর হেরিয়ট ওয়াট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক অনারারি ডি-লিট ডিগ্রি; এডিনবার কুইন মার্গারেট ইউনিভার্সিটি সিটি কলেজ থেকে ডক্টর অব বিজনেস এডমিনিসট্রেশন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ব্যবসায়িক, সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিরন্তর ছুটে চলেছেন ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন।
ইউরোপের মাটিতে বাংলার গর্ব, দৃঢ় প্রত্যয়ী ডায়নামিক কমিউনিটি লিডার, শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনুকরণীয় পথিকৃৎ, বহুমুখী প্রতিভায় ভাস্বর, জাস্টিস অব পিস এবং মেম্বার অব ব্রিটিশ এম্পায়ার পদকে ভূষিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন ক্যাম্পাস অফিসে এলে তাঁর সাথে সাক্ষাৎকারে অংশ নেয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সাইফুল হক ও রিমেল বড়ুয়া। সেই সাক্ষাৎকারের টুকরো অংশ তুলে ধরা হলো।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসঃ ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এ›ড ই›ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কী কী কাজ করেছেন?
ড. ওয়ালী তসর উদ্দীনঃ আমি শুধু ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিই না; ইউকে ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম, ট্রেড ফোরাম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছি। ২০০৫ সালে বিশাল বাণিজ্যমেলা করেছি বারবিকান সেন্টারে। সেখানে প্রায় ১২০ টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। প্রায় ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড টার্নওভার হয়েছে। সেখানে আমরা বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করেছি। বাংলাদেশের অনেক সুনাম হয়েছে এবং বাংলাদেশ আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছে। আমি আমার গুডউইল দিয়ে বাংলাদেশকে সেখানে তুলে ধরেছি। বেশ কয়েক বছর আগে স্কটিশ সরকারকে বাংলাদেশে আর্থিক সহযোগিতা করতে অনুপ্রাণিত করেছি।
তবে আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরে ফায়ার প্রবলেম, চাইল্ড লেবার প্রবলেম আছে এগুলো সমাধান করতে হবে। তাহলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সুবিধা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমি একটি প্রকৌশলী প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি ইন্ডাষ্ট্রি খাতে এনআরবি বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনার জন্য যা অত্যন্ত ফলপ্রসু হয়েছে।
আমাদের বাংলাদেশে অনেক প্রকৌশলী আছেন। কিন্ত তাদের অনেকেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়, এ জায়গাটায় আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। শিল্পখাতে প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়াতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি ব্রিটেন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে হবে সে লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। এতে এদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বি ক্যাঃ ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম ও লক্ষ্য কী?
ড. ওয়ালীঃ ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইবিএফ) হলো একটি ফেডারেশন। এটি বাংলাদেশের এফবিসিসিআইর মতো ব্যবসায়িক একটি সংগঠন। বাংলাদেশ ও ইউরোপের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে এটি গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি ব্রাসেলস্ এ ইবিএফর উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ইউরোপের ২১টি দেশ এর প্রতি সাড়া দিয়েছে। আশা করি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশকে ইবিএফর সাথে একাত্ম করতে পারবো। বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, আর্থিক উন্নয়নে আরও ভালোভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ইবিএফর জন্ম।
ইবিএফর কার্যক্রম হচ্ছে কনফারেন্স, সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনকে অর্গানাইজ করা। অনেক প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রোডাক্ট আছে যেগুলোর কোনো মার্কেটিং নেই, বিজনেস প্রমোশন নেই এসব ব্যাপারে ইবিএফ সহযোগিতা করবে। এ সংগঠন সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান কমিশন ও ইউরোপিয়ান মেম্বারস্ অব পার্লামেন্ট এর সাথে সংলাপের মাধ্যমে সদস্য দেশসমূহের মধ্যে ব্যবসার উন্নয়ন করবে। ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে তা দূর করার জন্যও এ ফেডারেশন কাজ করে যাবে। এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান থাকাকালীনই আমি এরকম একটি ফেডারেশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা উপলব্ধি করি। সে উপলব্ধির সফল বাস্তবায়নই আজকের ইবিএফ।
সবার সাথে সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে ভালো কিছু করা ইবিএফর লক্ষ্য।
বাংলাদেশে ইউরোপিয় দেশগুলোর দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ইবিএফ কাজ করতে আগ্রহী। ইউরোপিয়ান বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথেও আমার সু-সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপিয়ান ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেভিড মার্টিন এর সাথে গত ২০ বছর ধরে কাজ করছি। মার্টিনকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ইবিএফর সম্পৃক্তির ব্যাপারে কথা বলেছি। সব জায়গায় লবিয়িং এর মাধ্যমে এ সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। এ ফেডারেশন শুরুর সময় ৭২৭ জন পার্লামেন্ট মেম্বারকে মেসেজ দেয়া হয়েছে। এখন নেটওয়ার্কিং, লবিয়িং, আধুনিক টেকনোলজির ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে এ নতুন প্রতিষ্ঠানটি সামনে এগিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি মনে করি, বাংলাদেশে অনেক কোয়ালিটি পণ্য তৈরি হয়; প্রয়োজনীয় ব্র্যান্ডিং এর অভাবে প্রাপ্য গুডউইল থেকে এ দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ইবিএফ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
প্রবাসে বাংলাদেশীদের দেশিয় রাজনীতি নিয়ে বিভক্ত হয়ে যাবার বিষয়টি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। যখন দেখি বাংলাদেশি যুবকরা বিদেশের রাস্তায় ফুল বা অন্য কিছু বিক্রির মতো সাধারণ কাজ করে তখন বেশ কষ্ট পাই। বাংলাদেশি যুবকরা কেন ভালো অফিসে কাজ করতে পারবে না, কেন প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না, কেন ইন্ডাস্ট্রি করতে পারবে না এসব বিষয় আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়।
ইবিএফর লক্ষ্য থাকবে এসব প্রবাসী যুবক যাতে ব্রিটেন তথা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সম্মানজনক জীবিকা অর্জন করতে পারে; ইবিএফর সাথে একাত্ম হয়ে ব্যবসা করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা।
বি. ক্যাঃ ইউরোপিয়-বাংলাদেশিদের অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে কীভাবে উৎসাহ দিয়ে আসছেন? এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কি?
ড. ওয়ালীঃ আমি ইউরোপের ২৭ টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। কিন্তু বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা আছে। সেটা আমরা দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি, যাতে ইউরোপিয় বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে পারি। আমাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সব উদ্যোগ ভেস্তে যায়। তবে সরকার প্রধান সব সময়েই আন্তরিক এটাই আমাদের আশান্বিত করে। এই যে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে একদল উৎসাহী প্রকৌশলী নিয়ে এসেছি এটা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্ত করবে। সেটি ইউরোপিয় হোক কিংবা নিদেনপক্ষে এনআরবি এর হোক বিনিয়োগের জন্য এটা একটা শুভ লক্ষণ। বাংলাদেশে আমরা ইউরোপিয়-বাংলাদেশি এনআরবিদের বিনিয়োগে উৎসাহী করতে সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমরা আশা করি, আমাদের পরিচালনায় একদিন তা কাঙ্খিত সফলতা আনতে সক্ষম হবে।
বি ক্যাঃ বিদেশে বাংলাদেশিদের এখনকার অবস্থাটা কেমন? বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে প্রবাসীরা কীভাবে দেখছেন?
ড. ওয়ালীঃ বর্তমানে অবস্থা অনেক ইতিবাচক। বিশেষ করে বিগত দশকে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা খুবই খুশি। কিন্তু রাজনীতির চিরন্তন দলাদলিটা অবশ্য এখনো আছে। এটা থাকতেই পারে, কিন্তু নেতিবাচক কোনো কিছু না হলেই হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে; কেননা শেখ হাসিনা মানেই দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন। দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছে তাতে প্রবাসীরা আনন্দিত। তারা এটা বুঝতে পেরেছে যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বেই অর্জন করা সম্ভব। আর বাংলাদেশে এসে আমি উন্নয়নের যে দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখলাম তাতে মনে হলো জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ একদিন ব্রিটেনের চেয়েও উন্নত দেশে পরিণত হবে।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে উন্নয়নকামী এই সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা করেন? এ বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে হলে প্রথমে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সকল পর্যায়ে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্যে প্রকৌশলীদের নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তাছাড়া সরকার ঘোষিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল খুব দ্রুত চালু করতে হবে। এতে দেড় কোটি তরুণ-বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে যা বেকারত্ব দূর করে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশে অনেক শিক্ষা উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন আপনি, এর কারণ কী?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশ আমার জন্মভুমি; আর ব্রিটেন আমার কর্মস্থলের দেশ। ব্রিটেনের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক উন্নত আর আমাদের দেশে এখনো অনেক মানুষ নিরক্ষর। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থাও চালু নেই। তাই আমি এদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে শিক্ষান্নোয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রজন্মের শিক্ষার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকার কথা জানতে চাচ্ছি।
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ছেলেমেয়েরা যাতে বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকি। এসব কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যস্থ সকল বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও ব্রিটেনস্থ বাঙালি প্রজন্মের শিক্ষার ব্যবস্থা করে আসছে। একাডেমিক শিক্ষা ছাড়াও আমরা আমাদের সন্তানদের বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করে তুলছি।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আমাদের কী কী শিক্ষণীয় রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি, কলেজ ও স্কুলে যোগ্য শিক্ষকের দারুণ অভাব। অথচ ব্যাঙের ছাতার মতো স্কুল গজাচ্ছে। ২২ বছর বয়সী ম্যাডামও প্রিন্সিপাল হয়ে যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। আমাদের প্রয়োজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের মেডিক্যাল সেক্টর অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু নার্সিং এখনও তেমন উন্নত হয়নি। এই সেক্টরকে আরও অনেক উন্নত করতে হবে। কারণ প্রপার নার্সিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ্যাপোলো হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল ইতোমধ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। আমি মনে করি সাধারণ মানুষের জন্য, গরিবের জন্য কিছু করা প্রয়োজন যাতে তারা সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পায়।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশে শিক্ষা উন্নয়নের বিষয়ে আপনার পরিকল্পনার কথা বলবেন কি?
ড. ওয়ালীঃ ১৯৯১র ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় আমরা সাইক্লোন প্রজেক্টর সাথে সেখানে স্কুল-কলেজও প্রতিষ্ঠা করি। সেখানে এখন প্রায় ৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে, বৃত্তি পাচ্ছে। এটা করতে পেরে আমি গভীর তৃপ্তি পেয়েছি। ভবিষ্যতে এরকম আরো কাজ করার ব্যাপারে আমি আগ্রহী। এ ব্যাপারে অন্যান্য প্রবাসীরাও এগিয়ে আসবে বলে আমি আশাবাদী।
বি ক্যাঃ কানেক্ট বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের দাবি ছিলো যে দ্বৈত নাগরিক যারা, তাদের ভোটাধিকার দেয়া হোক, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের মতো সমান সুযোগ সুবিধা দেয়া হোক। যারা আপনারা ইউরোপের প্রবাসী, আপনাদের এ ধরনের কিছু চাওয়া-পাওয়া আছে কি?
ড. ওয়ালীঃ অবশ্যই প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশি নাগরিকের মতো সমান সুযোগ সুবিধা এবং ভোটাধিকার ক্ষমতা দেয়া এ সরকারের দায়িত্ব। আমরা দ্বৈত নাগরিক হলেও আমাদের বাংলাদেশের প্রতি বেশি অধিকার ও টান কাজ করে। আমরা প্রবাসীরা এদেশে উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স পাঠাই যা দেশের জিডিপির গ্রোথ বৃদ্ধি করে। আমরা দেশে এসে নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করি, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। কাজেই আমাদের এদেশের ওপর বেশি অধিকার আছে। এজন্যই আমরা দ্বৈত নাগরিক হলেও আমাদেরকে সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। আমাদের ভোটাধিকার দিতে হবে। এছাড়া সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে আমাদের সহযোগী হিসেবে রাখতে হবে। দেশের উন্নয়নে কাজ করার অবাধ সুযোগ দিতে হবে।
বি ক্যাঃ আপনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। কোন্ প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে এসব সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন?
ড. ওয়ালীঃ যেহেতু আমি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি সেহেতু বাংলাদেশের প্রতি আমার নাড়ির টান, প্রাণের টান কাজ করে। তাই আমি এদেশে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। এটা আমাকে আনন্দ দেয়। আনন্দের জন্যই আমি এদেশে নানা ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করি।
বি ক্যাঃ বিশেষ কোনো অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব আছে যিনি আপনাকে এসব বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন, পেছনে কারও অনুপ্রেরণা কাজ করে কি?
ড. ওয়ালীঃ আমি আসলে একজন সেলফ মেইড ম্যান। আমি নিজের ভেতর থেকেই দেশের জন্য কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত হই। তবে জন্মসুত্রে যে টানটা অনুভব করি এদেশের জন্য, সেই টানটা দেশের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে উৎসাহিত করে। এছাড়া বাবা-মায়ের দোয়ার বরকতে আমি এসব করতে পারি বলে মনে করি।
বি ক্যাঃ ব্রিটেনে কীভাবে উদ্যোক্তা জীবন শুরু করে সাফল্য পেলেন? নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
ড. ওয়ালীঃ আমি কখনোই কোনো কাজকে ছোট করে দেখি না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের সমষ্টিই বড় কাজ গড়ে তোলে। আমি জীবনের শুরুতেই শিক্ষানবিশ ওয়েটার হিসেবে কাজ করে এক পর্যায়ে বড় বড় হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন থেকেই একটা বড় হোটেল করার পরিকল্পনা কাজ করতো মনে। সেখান থেকেই আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু। আস্তে আস্তে কাজ শুরু করলাম এবং এরপর ধৈর্য ধরে লেগে থেকে সাফল্য লাভ করলাম। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো কোনো কাজকে ছোট করে দেখা চলবে না, আর ধৈর্য ধরে কাজে লেগে থাকতে হবে। বি ক্যাঃ ব্রিটানিয়া স্পাইস এর আইডিয়াটা কীভাবে এলো আপনার মাথায়?
ড. ওয়ালীঃ যেহেতেু রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটা আমি ব্রিটেনেই শুরু করেছি; আর ব্রিটেনের লোকজন যেহেতু স্পাইস অর্থাৎ মসলার খুব ভক্ত; তাই দুটিকে মিলিয়ে নাম দিলাম ব্রিটানিয়া স্পাইস। বলাবাহুল্য, ব্রিটিশরা এই নাম লুফে নিল। আর আমার ব্রিটানিয়া স্পাইসও পরপর ৩বার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করলো।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যে ও বাংলাদেশে কর্মের মূল্যায়ন সম্পর্কে বলবেন কি?
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যে যারা কাজ করে তাদের সম্মান করা হয়। সুতরাং আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে প্রকৃত অর্থেই কাজ করে সেভাবে তাদেরকে গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য, জাতির জন্য আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ ঘুমিয়ে সময় কাটিয়ে দিলে জীবনের কোনো সার্থকতা নেই। তাছাড়া কর্মের মাধ্যমে মানুষের মূল্যায়ন হয়। সুতরাং যে যেই কাজে নিয়োজিত রয়েছি, সেই কাজ সার্থক ও সুন্দরভাবে করাই আমাদের লক্ষ্য এবং আদর্শ হওয়া উচিত।
বি ক্যাঃ ব্রিটেনে চাকরি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোন্ কোন্ শ্রেণির পেশাজীবীর সুযোগ রয়েছে? এ সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আপনার পরামর্শ জানতে চাচ্ছি।
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যে ক্যাটারিং ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরির বেশি সুযোগ রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে ভাই, ভাতিজা, ভাগিনাসহ অনেককে নিয়ে এসে এই পেশায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। এখন দক্ষ, শিক্ষিত ও মেধাবী লোকজনকে আমরা এ পেশায় দেখতে চাই যাতে করে তারা আমাদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে। তাছাড়া যারা ভালো কাজ করবে তাদেরকে দেশে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করতে হবে। ভারতে ভালো কাজের জন্য সরকারিভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য কী কী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে এবং এসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশিদের স্বার্থ সংরক্ষণ বা ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কি ভূমিকা রাখছে?
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আমাদের দেশের স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন দিবস উদযাপন করে আসছে এবং দেশ সম্পর্কে পজেটিভ বক্তব্য তুলে ধরছে। এছাড়া ব্রিটেনে আমাদের কারি এন্ড রাইস রেস্টুরেন্টসমূহ বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এসব রেস্টুরেন্টে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত খেতে আসেন। ব্রিটিশরা এখন বুঝতে পারছে বাংলাদেশিরা এসব রেস্টুরেন্টের মালিক। আগে মনে করতো এগুলো ভারতীয়দের। এই রেস্টুরেন্ট খাত থেকে প্রতিবছর আমাদের সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার টার্নওভার হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশিদের তারা মূল্যায়ন করছে। ব্রিটিশরা বুঝতে পারছে এই ইন্ডাস্ট্রি তাদের লাভবান করছে। এভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বিরাট ভূমিকা পালন করে চলেছে।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশের দুর্যোগ যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভাবিয়ে তোলে কি?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশ আমাদের শেকড়। আমরা দেশের কাছে দায়বদ্ধ। এদেশের সুখ-দুঃখে আমরা আন্দোলিত হই। বাংলাদেশের দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আমরা ৫ হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কী ধরনের ভূমিকা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমরা প্রবাসীরা যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড ও বাংলাদেশে কাজ করছি। সিলেটে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ নামে একটি হাসপাতালের সাথে আমি সম্পৃক্ত রয়েছি। এখানে রোগীদের জন্য আধুনিক সুচিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সুদূর যুক্তরাজ্য বা স্কটল্যান্ডে বসবাস করলেও আমাদের মন সবসময় জন্মভূমি বাংলাদেশেই পড়ে থাকে। বাংলাদেশের কেউ যুক্তরাজ্য বা স্কটল্যান্ডে গেলে আমরা সহযোগিতার চেষ্টা করি।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশের সাথে কীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করেন?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশের কাছে আমি দায়বদ্ধ। কারণ বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। সেখানে আমার মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন সবাই আছে। যদিও ছোটবেলায় যুক্তরাজ্যে এসেছি তারপরও নিজের দেশের কথা, নিজের বাড়ির কথা ভুলতে পারি না। আমাদের জাতির জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে আমরা প্রবাসীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য দু দেশেরই নাগরিক। সেজন্য আমরা মনে করি, যুক্তরাজ্যেও আমাদের কিছু করণীয় আছে।
বাংলাদেশিরা শিক্ষাদীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের উন্নত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই দেশে গিয়ে মেডিক্যাল সেন্টার, এডুকেশন সেন্টার ও বিজনেস সেন্টার চালু করছে। আমরা বাংলাদেশে ট্রেড মিশন নিচ্ছি, যদিও অনেক সময় ব্রিটিশরা বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা করতে চায় না। আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষের সাথে কাজ করছি।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার সার্বিক ধারণা কি?
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশ একটি অনন্য সুন্দর দেশ। আমার বিশ্বাসযোগ্য ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব পেলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে এক নম্বর দেশ হিসেবে পরিগণিত হতে পারবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে বাংলাদেশিরা যদি সফল হতে পারে, তাহলে দেশের মাটিতেও তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে। এদেশের নতুন প্রজন্ম স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে দেশে পরিবর্তন আনতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। এদেশের মানুষের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা, ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাব। দেশের সাধারণ মানুষকে দায়ী না করে তাদেরকে মোটিভেট করতে হবে। আধুনিক টেকনোলজির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উন্নতি করা সম্ভব।
বি ক্যাঃ প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
ড. ওয়ালীঃ যাঁরা দেশ চালান, বুরোক্র্যাট, নেতা, নেতাদের নেতা, তাদের সত্যিকার অর্থে সৎ ও দেশপ্রেমী হতে হবে। বাংলাদেশের নেতারা দেশের স্বার্থের কথা না ভাবলে শুধু প্রবাসীরা কিছু করতে পারবে না। যিনি রাজনৈতিক নেতা হবেন, ব্যবসায়ী নেতা হবেন, তাঁর চরিত্র ঠিক থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন সাধনে অঙ্গীকার থাকতে হবে। ভালো কাজের প্রকৃত স্বীকৃতি দিতে হবে। এ দেশে এখন উন্নত মননের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দরকার। তবেই বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে আপনার কেমন লাগছে?
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যকে এখন নিজের দেশই মনে করি। বাংলাদেশের চেয়ে এখানে অনেক বেশি স্বাধীন জীবনযাপন করছি। আমরা সব আত্মীয়স্বজন মিলে এখানে আনন্দেই আছি। আমি ১৯৬৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছি।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যের সভ্যতা-সংস্কৃতি আপনাকে কীভাবে আলোড়িত করে?
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা উন্নত হলেও বাংলাদেশের মতো এখানে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় নয়। বাংলাদেশে যেমন ঈদের সময় মা-বাবা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে আনন্দে কাটাই, সবার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, কুশল বিনিময় হয় এই মজা বা আনন্দ এখানে আমরা পাচ্ছি না।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যের কোন্ কোন্ বিষয় আপনার ভালো লাগে?
ড. ওয়ালীঃ ব্রিটেনে কাজের সঠিক পারিশ্রমিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এখানে নাগরিকদের সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাষ্ট্র। এখানের লোকজন কাজে ফাঁকি দেয় না। বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের এটাই পার্থক্য। এসব কিছু ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশিরা বিভক্ত। বাংলাদেশের রাজনীতি আমাদের আহত করে। রাজনৈতিক দলাদলির কারণে বাংলাদেশিদের ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা যেহেতু বিদেশে এসেছি কাজ করতে সেহেতু বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে আমাদের আলাপ-আলোচনা কিংবা অংশগ্রহণ করা ঠিক নয়। বি ক্যাঃ বাংলাদেশের তুলনায় ব্রিটেনের কোন্ কোন্ বিষয় আপনার ভালো লাগে না?
ড. ওয়ালীঃ ব্রিটেনের কালচার আমার পছন্দ নয়। এখানে ছেলেমেয়েরা চুল কেটে হাউ-মাউ করে কথা বলে -এটা আমার ভালো লাগে না। ব্রিটিশরা আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করে, কিন্তু কখনও কখনও বাংলাদেশিদের ভালো কাজেও তারা বাধাদান করে। এটা আমার কাছে খারাপ লাগে। বাংলাদেশের দলীয় নোংরা রাজনীতির কারণেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্রিটেনের মানুষের বা মূল অধিবাসীদের ধারণা কিরূপ?
ড. ওয়ালীঃ ব্রিটেনের মূল অধিবাসীদের ধারণা বাংলাদেশ বন্যা ও ঘুর্ণিঝড়ের দেশ, বাংলাদেশিরা খুব গরিব, বেশি মিথ্যা কথা বলে ও প্রতারণা করে। বাংলাদেশ থেকে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে ব্রিটেনে আসলেও তাদেরকে এখানে যথার্থ মূল্যায়ন করা হয় না। অর্থাৎ বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা বেশিরভাগই নেতিবাচক।
বি ক্যাঃ দেশের কল্যাণে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাঙ্গালিদের কী ভূমিকা আছে বলে আপনি মনে করেন?
ড. ওয়ালীঃ প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা অনেক। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে বন্যা বা কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। আমাদের দেশবাসীরা কীভাবে দিনযাপন করছেন, এ চিন্তায় আমাদের নিদ্রাভঙ্গ হয়ে যায়। কারণ বাংলাদেশে যারা থাকেন তারা স্ব-চক্ষে বিভিন্ন ঘটনা দেখে অভ্যস্ত হয়ে যান। অন্যদিকে দূর থেকে নানা চিন্তা আমাদেরকে তাড়া করে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ চায় খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে। কিন্তু যখন দেখি সাধারণ মানুষ কষ্ট করছে, তখন খুব খারাপ লাগে। এই মানুষদেরকে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা বিভ্রান্ত করছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা কৃষক তাদের কৃষিকাজেও যদি আমরা সহযোগিতা করতে পারি তাহলেও অনেক উপকার হবে। আমাদের দেশের গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন হতে হবে।
বি ক্যাঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি নতুন প্রজন্ম আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য কতটুকু জানার ও লালন করার সুযোগ পাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
ড. ওয়ালীঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্রিটিশদের মতোই মনে করে। তারা মনে করে বাংলাদেশ বসবাসের জন্য উপযোগী নয়, এখানের মানুষ বেশি মিথ্যা কথা বলে এবং দেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে বর্তমান সরকারের কাজের প্রতি তারা আশাবাদী। ইংরেজিতে দুর্বলতাসহ দক্ষতা না থাকায় বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা যুক্তরাজ্যে ভালো চাকরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে ভারতীয় ছেলেমেয়েদের ইংরেজিতে দক্ষতা থাকার কারণে তারা ভালো চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি আমার প্রতিষ্ঠানেও অনেক ভারতীয় ছেলেমেয়ে কাজ করছে। এছাড়া নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্যের লোকও আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে।
বাংলাদেশি ছেলেরা চাচা-মামাকে ধরে যুক্তরাজ্যে এসে শুরু করে দেয় বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি, মারামারি ও অশোভন আচরণ। ফলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় না এবং ভালো চাকরির সুযোগও হয় না। কিন্তু অন্যান্য দেশের ছেলেমেয়েরা এখানে এসে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভালো চাকরি পেয়ে যায়। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশের ছাত্র-যুবকদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ জানতে চাচ্ছি।
ড. ওয়ালীঃ বাংলাদেশের ছাত্র-যুবকদের আমি দোষারোপ করবো না। কারণ তাদেরকে আমরা সঠিকভাবে সহযোগিতা করতে পারছি না। আমি মনে করি, তাদেরকে পড়াশোনার সঠিক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিৎ। তবে ছাত্রদের কোনো রাজনীতিতে জড়ানো ঠিক নয়। অর্থাৎ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদেরকে পড়াশোনা ও গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া ভালো জিনিস গ্রহণ করতে হবে এবং খারাপ জিনিস বর্জন করতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও শিক্ষার্থীরা ভালো জিনিস গ্রহণ করে এবং খারাপ জিনিস পরিহার করে। এসব কারণে আইটিতে ভারত আজ অনেক এগিয়ে গেছে। নিজের দেশকে ছাত্র-যুবকদের ভালোবাসতে হবে। দেশের প্রতি তাদের থাকতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা।
বি. ক্যাঃ ক্যাম্পাসর ৩ যুগ/৩৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আপনার প্রত্যাশা ও অভিমতের কথা বলবেন কি?
ড. ওয়ালীঃ ক্যাম্পাস একটি স্বপ্নের নাম। লন্ডন থেকে আমি ৩ বার এসেছি এই ক্যাম্পাসর আমন্ত্রণে। ছাত্র-যুবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাস একটি যুগোপযোগী কাজ করছে। ক্যাম্পাসর ৩ যুগ/৩৬ বছর পূর্তিতে আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো। এটা একটা বিস্ময়কর ব্যাপার আমার কাছে মনে হয় যে ক্যাম্পাসর ৩ যুগ পূর্তি হয়ে গেছে। যেখানে একটি পত্রিকা ১ যুগই পার করতে পারে না, সেখানে ক্যাম্পাস ৩ যুগ পার করেছে। ক্যাম্পাসকে আমি সশ্রদ্ধ স্যালিউট জানাই।
ক্যাম্পাসর স্টাডি সেন্টার একটা মহৎ পরিকল্পনা, যা বাস্তবায়ন হলে দেশের ছাত্র-যুবকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এই মহৎ পরিকল্পনার সাথে আমি ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। ক্যাম্পাসর কার্যক্রমকে আবারও স্যালিউট জানাই এবং ক্যাম্পাসর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ