বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস থেকে শেখা টিম-ওয়ার্কের সফল ব্যবহারে নবীন-বরণ আয়োজন

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিশু ক্যাম্পাস
img

॥ রাইসা হেলাল ॥
স্নাতক (সম্মান), ১ম বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছোটবেলা থেকে ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং ক্যাম্পাস পত্রিকার নানা গঠনমূলক কাজে অংশ নিচ্ছি। এগুলোর অন্যতম হলো বার্ষিক ক্যাম্পেইন, যেখানে শেখানো হয় টিম-ওয়ার্ক, নিয়মানুবর্তিতা, পরিশ্রম, কমিউনিকেশন-স্কিল ইত্যাদি। বেশ ক’বার বার্ষিক ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে এসব জীবনমুখী গুণের যে চর্চা হয়েছে, তা হাতে-কলমে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সাফল্য ও প্রশংসা কুড়িয়েছি `তা নিয়েই আজকের লেখা। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর Disaster management and vulnerability studies তথা আমার বিভাগের ২০১৫-’১৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন-বরণ। অর্থাৎ নবীন হিসেবে আমাদের বর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণের জন্য অনুষ্ঠান। এ বিভাগটি নতুন, বয়স মাত্র ৪ বছর। তাই এখানকার শিক্ষার্থী সংখ্যা কম। নবীন-বরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করার পর সিনিয়র শিক্ষার্থীগণ জানালেন যে, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হবার ফলে নতুনদেরও এ প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে। এমন প্রস্তাবে সবাই ইতঃস্তত করতে লাগল। কিন্তু আমার মনে হলো, নিজেদের নবীন-বরণ বলে বসে বসে দেখব, আর সিনিয়ররা সব আয়োজন করবে `এমনটি হতে পারে না। ক্যাম্পাস’র টিম স্পিরিট আমাকে মনে করিয়ে দিল, ভালো কাজে কোনো সংকোচ নয়। সিনিয়ররা আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছে প্রত্যেকের Creativity দেখানোর। তাই আমিসহ আরও দু’একজন এই সুযোগটি লুফে নিলাম। গান, অভিনয়, আবৃত্তি, যাত্রা কি করিনি আমরা? সবকিছুতেই Senior এবং Junior একত্রিত হয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফল করেছি।
যেহেতু আমাদের কোনো Sponsor ছিল না, তাই মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে গেইট সাজানো, ছবি তোলা, মিউজিক, সাউন্ড ব্যবস্থা `সব নিজেদেরকেই করতে হয়েছিল। প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষের সবাই এগিয়ে এসেছিল নবীন-বরণ অনুষ্ঠানটি সফল করার কাজে। তবে টিম এ কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকে বুঝতে পারছিল না `কীভাবে নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে টিমের সাথে তাল মেলাতে হয়। আমার কিন্তু একটুও সমস্যা হয়নি `অনায়াসে টিম এর দেয়া সময়ে Rehearsal এ অংশ নিয়েছি, ক্লান্তি ভুলে নিখুঁত Performance এর জন্য বার বার অনুশীলন করেছি, অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে তার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছি।
অবশেষে ২ সপ্তাহের পরিশ্রমের পর আমরা একটি সফল অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সক্ষম হই। ৩ ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানের অনুমতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে সেই অনুষ্ঠানকে ৬ ঘন্টা করা হয়। কারণ কেউই তাদের Performance উপস্থাপন না করে অনুষ্ঠান শেষ করতে রাজি নয়। প্রায় ২৫টির মতো Performance ছিল `যার মধ্যে ছিল যাত্রা, মুকাভিনয়, গান, পালাগান, একক নৃত্য, দলীয় নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, ফ্যাশন-শো, নাটক, টক-শো, শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা শোনা ইত্যাদি।
অনুষ্ঠান শেষে অন্যরা যখন আমারও প্রশংসা করছিল, তখন আমি মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম ক্যাম্পাস এর বার্ষিক ক্যাম্পেইন কর্মসূচিকে, যা আমাকে পরিশ্রমী করেছে, করেছে প্রোএকটিভ। তাছাড়া স্কুল-কলেজ জীবনে স্কাউটিং এর সুবাদে পরিশ্রম করার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারজন্য স্কাউটিং কর্মসূচিকেও ধন্যবাদ। ডিপার্টমেন্টে আমার আজকের পরিচিতি এসব অভিজ্ঞতার জন্যই। তাই জয়তু ক্যাম্পাস! জয়তু স্কাউটিং!


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ