বিশেষ খবর

ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এর ১৯তম ব্যাচের সনদ বিতরণ করেন রবি-এয়ারটেলের এমডি এন্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ১৯তম ব্যাচের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টেলিকমিউনিকেশনের দক্ষ-বলিষ্ঠ-ডায়নামিক ও সুদৃঢ় নেতৃত্বদানকারী, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গীর অনন্য ব্যক্তিত্ব; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এশিয়ান ট্যালেন্ট ও লিডার পার্সোনালিটি; পেশাগত দক্ষতায় অনন্যশীর্ষ, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের বাংলাদেশি আইকন; ঐতিহ্যে ভাস্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ততোধিক গৌরবোজ্জ্বল হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের গর্বিত এলামনাই; রবি ও এয়ারটেলের এমডি এন্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলালের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সরকারের সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার একেএম এনায়েত উল্লাহ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান, শিক্ষাদ্যোক্তা ও সমাজসেবী প্রফেসর মোঃ আব্দুল হাকিম; বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রথম নির্বাহী পরিচালক ও সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব এম এ রশিদ খান; সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব ও গ্রন্থকার হাজেরা নজরুল; সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশ্বব্যাংক বিষয়ক কনসালটেন্ট এবং ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ফ্যামিলিলাভ মুভমেন্টের চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের; প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউডের প্রবক্তা ড. আলমাসুর রহমান; সোফেন ইনোভেশন এর ফাউন্ডার, সমাজসেবী ড. খান আসাদুজ্জামান; ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেয়া হয় এবং উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বই; ক্যম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত ২টি মডেল এবং বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির। এ প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বের অধিক প্রতিভা বিকাশের প্রত্যাশায় একটি বিশেষ উপহার অর্পণ করা হয়। বাংলাদেশের ন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়া তথা বাংলাপিডিয়ার ১৪ খন্ডের সেট অর্পণ করেন সরকারের সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার একেএম এনায়েত উল্লাহ এবং ঢাবি একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল হাকিম। এরপর তাঁকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণ করেন সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল।
ইংলিশ কোর্সের ট্রেইনীরা যাতে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশোন্নয়নে যোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথি আশা-জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। এরপর সফল ট্রেইনীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। সনদ বিতরণ শেষে শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব।
মাহতাব উদ্দিন আহমেদ
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বর্ণিল গুণাবলি ও বহুমাত্রিক প্রতিভার কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্যে ভাস্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ততোধিক গৌরবোজ্জ্বল হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের গর্বিত এলামনাই, রবি আজিয়াটার সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন ইয়াং জেনারেশনের সামনে আছে বিপুল সম্ভাবনার হাতছানি। ছাত্রাবস্থা থেকেই লিডারশিপ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমি আজ এ পজিশনে আসতে পেরেছি- কারণ আমার চেষ্টা ছিল প্রবল, বিশ্বাস ছিল দৃঢ়। এ অবস্থানে আসা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়, আমি তা প্রমাণ করেছি। ভিশন ঠিক থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছানো দুঃসাধ্য নয়। মাহতাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছে। অনলাইনে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ই-কমার্স বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে। তাই ছাত্র-যুবকদেরকে তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করে নিজকে গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। তিনি বলেন, দৃষ্টি রাখবেন সামনের দিকে; এতে পাবেন আলোর সন্ধান। পেছনে তাকালে থিম ক্লিয়ার হবে না, সফল হতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন জীবনে সফল হতে হলে সিম্পল হতে হবে, কনফিডেন্ট থাকতে হবে, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে প্রতিনিয়ত, ভবিষ্যত সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে, হতে হবে ওহড়াধঃরহম ও ওসধমবহধঃরাব.
কর্মজীবনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো যুবকদের পরামর্শ দিয়ে মাহতাব উদ্দিন বলেন, কর্মজীবনে প্রবেশের পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দু’ব্যক্তির সমালোচনা করা হয়। প্রথমজন হলো বস, আর দ্বিতীয় হলো ঐজ চীফ। মনে রাখবেন, ইড়ংং রং ধষধিুং ৎরমযঃ. তাঁর কোয়ালিটি আছে বলেই তিনি ইড়ংং. এ সম্পর্কে তিনি একটি কৌতুক বলেন এক লোক ছেলেকে নিয়ে মেলায় গেছেন; ছেলে পাখি কিনতে চাইলে তিনি এক ময়না পাখি বিক্রেতার কাছে গিয়ে একটি পাখির দাম জিজ্ঞাসা করেন। পাখি-বিক্রেতা ৩ হাজার টাকা দাম চান, কারণ পাখিটি কথা বলতে পারে। দ্বিতীয় পাখিটির দাম চান ৫ হাজার টাকা, কারণ পাখিটি কথা বলার পাশাপাশি গানও গাইতে পারে। সর্বশেষ তৃতীয় পাখিটির দাম চান ১০ হাজার টাকা। এত দাম চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন এই পাখিটি চুপ থাকে; কিন্তু অন্য দু’টি পাখি যখন কথা বলে, তখন তারা ৩য় পাখিটিকে বস্ বলে সম্বোধন করে। যেহেতু একে অন্যরা বস্ বলে মানে কিংবা বস হওয়ার মতো কোয়ালিটি তার রয়েছে, তাই এর দাম ১০ হাজার টাকা।
মাহতাব উদ্দিন বলেন, কর্মজীবনে প্রবেশ করে কাজে ১০০% মনোযোগ দেবেন। কাজে মনোযোগ না দিয়ে ঊর্ধ্বতনের সমালোচনা করলে কিংবা শুনলে কিংবা সমালোচনায় মনোযোগ দিলে আপনার কাজ কমে যাবে; আর কাজ কমে গেলে আপনার উন্নতিও কমে যাবে। ইড়ংং এর উপর আনুগত্য না থাকলে কিছুতেই উন্নতি করতে পারবেন না। ভুল হলে স্বীকার করবেন, নিজেকে সংশোধন করবেন এটাই উন্নতির উপায় এবং তা না করলে নিজের মস্তিষ্ক থেকে খারাপ জিনিস তাড়াতে পারবেন না। নিজের দোষ কখনোই অন্যের উপর চাপাবেন না। অন্যের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা মানে নিজের দোষ জিইয়ে রাখা এবং নিজকে নিকৃষ্ট পথে ধাবিত করা। তিনি বলেন নিজের মধ্যে ঐধঢ়ঢ়রহবংং রাখবেন, হতাশাকে প্রশ্রয় দেবেন না। এতে আপনার কর্মক্ষমতা অনেক বাড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবেন, পরিস্থিতির শিকার হবেন না।
মাহতাব উদ্দিন আরও বলেন, মানুষের জীবনে ৩টি বৈশিষ্ট থাকতে পারে এরাবৎ, ঞধশবৎ এবং গধঃপযবৎ. লিডার সেই হবে, যে এরাবৎ অর্থাৎ ত্যাগের মানসিকতা যার আছে। ঞধশবৎ ও গধঃপযবৎ বেশিদূর এগুতে পারবে না।
ইঞ্জিনিয়ার একেএম এনায়েত উল্লাহ
সরকারের সাবেক সচিব, শিক্ষাদ্যোক্তা, সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার একেএম এনায়েত উল্লাহ বলেন ক্যাম্পাস একটি আলোকিত প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ড. হেলাল একজন দূরদর্শী স্বপ্নদ্রষ্টা, ব্যতিক্রমী বিশেষ মানুষ। তাঁর গবেষণালব্ধ জ্ঞান সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত তাঁর এ কল্যাণকর্মে সহযোগিতা করা। তিনি বলেন, স্বল্প পরিসরের এ অফিস-অডিটোরিয়ামে তারা বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি, এখানে গরমে অনেক কষ্ট হয়। তাই আমি এ অডিটোরিয়ামকে এসি-সুবিধার আওতায় এনে দিয়েছি। এ অবদান রাখতে পেরে আমি আনন্দিত।
ইঞ্জিনিয়ার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রবি আজিয়াটার দেশীয় প্রথম এমডি এন্ড সিইও; তিনি আমাদের গর্ব। তাঁর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটাও সামাজিক দায়বদ্ধতার সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান। রবি এবং ক্যাম্পাস সমমনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরস্পরের উন্নয়ন-সহযোগী হয়ে গতিশীল অগ্রযাত্রার পাশাপাশি বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে রাখতে পারে ব্যাপক ভূমিকা। তাই ক্যাম্পাস’র চলমান সমাজ-সচেতনতা কর্মসূচি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি রবি-এয়ারটেলের ঈঝজ কার্যক্রম বিপুল জনমনে সঞ্চারের লক্ষ্যে রবি আজিয়াটা লিঃ থেকে ক্যাম্পাসকে ১টি গাড়ি উপহার হিসেবে প্রদানের যে আবেদন এখানে উঠেছে, সেটি বাস্তবায়ন হলে রবি’র ভালো প্রচার হবে এবং ঈঝজ এর ক্ষেত্রে রবি’র অবদান মানুষ ভালোভাবে অবলোকন করতে পারবে। তাই এটি বিশেষ দৃষ্টিতে বিবেচনা করার জন্য রবি পরিবারকে অনুরোধ করছি।
প্রফেসর মোঃ আব্দুল হাকিম
ঢাকা ইউনিভার্সিটির একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, আমি আজ গর্বিত। কারণ, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আমার সরাসরি ছাত্র। তিনি বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি রবি আজিয়াটার এমডি এন্ড সিইও। তাঁর একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল, তিনি এ কোম্পানির শীর্ষে যাবেন। তিনি তার স্থিরলক্ষ্যে অটল ছিলেন বলে আজ এ অবস্থানে এসেছেন। আশা করি, তিনি আরও অনেক এগিয়ে যাবেন। দেশ-উন্নয়ন ও জাতি জাগরণে ক্যাম্পাস’র পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে রবি’র সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক রবি-ক্যাম্পাস উভয়েই অত্যন্ত উপকৃত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাই আমি এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে নজর দেবার জন্য বিশেষ অনুরোধ করছি।
আব্দুর রশিদ খান
সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব, খাজা ইউনুস আলী ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আব্দুর রশিদ খান বলেন, ক্যাম্পাস আলোকিত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। জাতি-জাগরণে, সমাজপ্রগতিতে, মানবকল্যাণে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে ক্যাম্পাস। আমি অনেক প্রতিষ্ঠানেই যাই; কিন্তু ক্যাম্পাস’র মতো এত সুশৃঙ্খল, কর্মচঞ্চল, প্রাণবন্ত, জনকল্যাণকর্মে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান আমি কোথাও দেখিনি। তাই আমি সুযোগ পেলেই এখানে আসি। এখানে আসলে আমি প্রশান্তি লাভ করি। আমার মনে আশার সঞ্চার হয়।
তিনি বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও একজন আলোকিত মানুষ, তিনি আমাদের গর্ব। দেশ ও জাতির উন্নয়নে পরিচালিত ক্যাম্পাস’র কল্যাণকর বহুমুখী কর্মসূচি আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে নিশ্চয়ই আকৃষ্ট করবে। আমি আশা করি, তিনি ক্যাম্পাস’র কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে উদার সহযোগিতা করবেন। বিশেষত কিছু কম্পিউটার এবং ১টি গাড়ি প্রদান দেশব্যাপি ক্যাম্পাস’র সমাজ সচেতনতা আন্দোলনকে গতিশীল করবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করবে।
আলী হায়দার
নিম্নতম মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা জজ) আলী হায়দার বলেন, ড. এম হেলাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা। অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করে তিনি এ পত্রিকাকে বর্তমান অবস্থানে এনেছেন। যা আজ শুধু একটি পত্রিকাই নয়, অনেকের জন্য অনুকরণীয় প্রকাশনা ও সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ড. এম হেলাল সমাজউন্নয়ন ও জাতিজাগরণে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তাতে কল্যাণকামী ব্যক্তিত্বদের সক্রিয় সহযোগিতা পেলে সেসব কর্মসূচি আরও ব্যাপক পরিসরে সফলভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে।
তাজকেরা খায়ের
বিশ্ব পারিবারিক ভালোবাসা আন্দোলনের চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাঙালি জাতির গর্বিত সন্তান। তিনি আলোকিত সমাজের মানুষ। ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠানে এসে তিনি ছাত্র-তরুণসহ সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এ ধরনের ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসতে পারলে ছাত্র-তরুণরা অনুপ্রাণিত হয়, জীবন গড়ার দিকনির্দেশনা পায়।
তিনি বলেন ক্যাম্পাস অফিসে আসলে যে কবিতাটির কথা আমার মনে ভেসে ওঠে, তার চরণ হলো ‘ঊষর মরুর ধূসর বুকে একটি যদি নগর গড়ো, একটি মানুষ মানুষ করা তার চেয়েও অনেক বড়’।
ক্যাম্পাস সেই দুঃসাধ্য কাজটিই অবিরাম করে চলেছে। তাই ক্যাম্পাস’র এসব কল্যাণ-কর্মসূচিতে সমাজহিতৈষীদের আন্তরিক সহযোগিতা করা উচিত। এক্ষেত্রে রবি আজিয়াটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
ড. আলমাসুর রহমান
প্রোএকটিভ ও পজিটিভ এটিচিউড আন্দোলনের প্রবক্তা ড. আলমাসুর রহমান ছাত্র-তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদেরকে কোয়ালিটি শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কোয়ালিটি শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলে বর্তমান সমাজে টিকে থাকা যাবে না। ক্যাম্পাস থেকে তোমারা যা শিখেছ, এটি কোয়ালিটি শিক্ষা। তোমরা হয়ত অচিরেই কর্মজীবনে প্রবেশ করবে; তাই তোমাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুউন্নত হতে হবে। মন থেকে হতাশা দূর করতে হবে। তা না হলে কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
ড. খান আসাদুজ্জামান
সোফেন ইনোভেশন এর ফাউন্ডার ড. খান আসাদুজ্জামান বলেন ক্যাম্পাস একটি আলোকিত প্রতিষ্ঠান, যার কর্ণধার ড. এম হেলাল হলেন একজন আলোকিত বিশেষ মানুষ। তাঁর প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস সমাজে আলো ছড়াচ্ছে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছে। তিনি বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও একজন আলোকিত বিশেষ মানুষ। তিনি কর্মজীবনে শুধু নিজেকে নয়, দেশকেও গৌরবান্বিত করেছেন। আমি প্রধান অতিথিকে আহ্বান করব তিনি যেন ক্যাম্পাস’র কল্যাণকর্মে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
এডভোকেট এম গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পার্সন এডভোকেট এম গোলাম কিবরিয়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র; কর্মজীবনে অত্যন্ত সফল ব্যক্তিত্ব। তিনি আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করেছেন। এজন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন ক্যাম্পাস এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। এখানে ছাত্র-যুবকদেরকে সময়োপযোগী নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্যাম্পাস তার কার্যক্রমকে আরও ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে উত্তরায় ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলার বিরাট প্রকল্প শুরু করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণ খুব কঠিন বিষয় নয়। এক্ষেত্রে সমাজের দানশীল, মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্বদের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি একজন মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর কোম্পানির সিএসআর এর আওতায় ক্যাম্পাস’র কল্যাণকামী ডায়নামিক কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশাবাদী।
মোঃ কামাল হোসেন
ক্যাম্পাস’র শিক্ষানবিশ কর্মসূচির উজ্জ্বল কর্মী, বার্ষিক ক্যাম্পেইন এর বেস্ট লিডার মোঃ কামাল হোসেন ক্যাম্পাস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন আমি ক্যাম্পাস’র সমাজ-সচেতনতা ও শিক্ষানবিশ কর্মসূচির আওতায় বাৎসরিক ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেছি। এর আওতায় বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় গিয়েছি। রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ, সকল মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদপ্তর, হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টসহ দেশের সকল কোর্ট-কাচারী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এসপি অফিস, জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরভবন, সিভিল সার্জন কার্যালয়, এলজিইডি ভবন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সমাজ-সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেছি। নিজ হাতে ক্যালেন্ডার-স্টিকার লাগিয়েছি, যা থেকে আমরা প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
আজকে আমাকে বলার সুযোগ দেয়ায় আমি আমার অভিজ্ঞতা যেমনি শেয়ার করছি, তেমনি এ কাজে আমাদের যে কষ্ট হয়, তাও আজকে বলতে চাচ্ছি। এর প্রধান কারণ ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গাড়ি না থাকা। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর কয়েকমাসের জন্য গাড়ি স্পন্সর করে, কিন্তু বাকি মাসগুলোতে ক্যাম্পেইনের জন্য গাড়ি থাকে না। পাবলিক পরিবহনের মাধ্যমে এ কাজ করায় আমাদের অনেক পরিশ্রম হয় এবং আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যাপক পরিসরে কাজও করা সম্ভব হয় না। তাই আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির কাছে শিক্ষানবিশদের পক্ষ থেকে আমার একটি অনুরোধ তিনি যেন আমাদের এ কষ্ট লাঘবে এবং ক্যাম্পেইনকে গতিশীল করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে তাঁর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটার পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসকে একটি গাড়ি উপহার দেন। গাড়ির গায়ে লেখা থাকবে ‘সমাজ-সচেতনতায় ও জনজাগরণে রবি-ক্যাম্পাস’। এতে তাঁর প্রতি আমরা অনেক কৃতজ্ঞ থাকব।
ড. এম হেলাল
অনুষ্ঠানের সভাপতি ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দেশের একজন গর্বিত সন্তান। রবি’র সিইও হিসেবে তিনি এরই মধ্যে তাঁর ক্যারিশম্যাটিক পরিচালনায় রবিকে একটা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছেন। রবি-এয়ারটেল এর মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রথম বাঙালি সিইও এর দায়িত্ব লাভ করে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন করে তিনি জাতির মাথা উঁচু করেছেন; সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন আমরাও ম্যানেজমেন্টে সেরা, আমরাও পারি। তরুণ সমাজ তাঁর এই সাফল্য থেকে প্রেরণার উৎস খুঁজে পাবে। ড. এম হেলাল বলেন জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাস নিরলস কাজ করছে। ছাত্র-যুব উন্নয়নে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে নানামুখী কর্মসূচি। ক্যাম্পাস এ দায়িত্ব পালন করছে দেশপ্রেম, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাই ক্যাম্পাস’র এসব কল্যাণকর কর্মসূচিতে জ্ঞানী-গুণী, সচেতন দেশপ্রেমী ব্যক্তিত্বগণের সমর্থন-সহযোগিতা একান্ত কাম্য।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ