বিশেষ খবর

ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাইম এ্যাসেট গ্রুপের ফাউন্ডার এমডি মোঃ মিজানুর রহমান

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

৭ নভেম্বর ক্যাম্পাস পত্রিকার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সের ২৮তম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পূর্বাচলে অত্যাধুনিক নতুন রাজধানী গড়ার পথিকৃৎ; ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ততোধিক গৌরবান্বিত ছাত্র; দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ভিশনারি ডায়নামিক লিডার, উদারপ্রাণ সমাজসেবী; প্রাইম এ্যাসেট গ্রুপের ফাউন্ডার এমডি মোঃ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেয়া হয় এবং উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বইয়ের সেট; ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত দেশোন্নয়নের ২টি মডেল, বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির।

আবাসন শিল্পের নানা সৌন্দর্য-সুষমায় উদ্ভাসিত; বহুমুখী প্রতিভায় ভাস্বর ও বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী; শিক্ষা ও সমাজসেবার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক এবং ছাত্র-যুবকদের প্রেরণা ব্যক্তিত্ব মোঃ মিজানুর রহমানকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণের মাধ্যমে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল।

ভালো কাজে পুরস্কার ও মন্দ কাজে তিরস্কার ক্যাম্পাস’র চিরায়ত রীতি। সে ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির মাধ্যমে ক্যাম্পাস’র দু’সদস্য- ভারপ্রাপ্ত অফিস সেক্রেটারি সুইট কুমার মন্ডল এবং ক্যাম্পাস’র উপ-পরিচালক সাইফুল হককে পুরস্কৃত করা হয়। তারা দু’জনই অফিসের শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য পুরস্কৃত হন।

ইংলিশ কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা যেন স্মার্ট এন্ড গ্লোবাল ইয়ুথ জেনারেশনরূপে দেশ ও জাতির অন্ধকার দূরীকরণে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথির হাতে আশা জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব।

প্রধান অতিথি মোঃ মিজানুর রহমান
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মোঃ মিজানুর রহমান বলেন- ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম দেখে আমি বিস্মিত, আনন্দিত এবং অভিভূত। দেশ ও জাতি গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ছাত্র-যুবকদের ফ্রি ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স, কম্পিউটার কোর্সসহ নানামুখী প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে ক্যাম্পাস অনন্য কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাম্পাস’র এই মহৎ প্রচেষ্টা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। দেশ ও জাতি আজ নৈতিকতা ও মানবিকতার সংকটে আক্রান্ত। এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কাজে যত বাধা বিঘœই আসুক না কেন, তা অগ্রাহ্য করতে হবে। নৈতিকতাকে জাগ্রত করতে হবে, মানবিকতা ও শুভবোধ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য ক্যাম্পাস’র মতো প্রতিষ্ঠানের আজ বড়ো বেশি প্রয়োজন।

ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, সব কাজ স্মার্টনেসের সাথে করতে হবে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে- স্মার্টনেস কাম ফ্রম নলেজ, নলেজ কামস ফ্রম রিডিং। তাই বেশি বেশি বই পড়তে হবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানগর্ভমূলক বই পড়তে হবে।

তিনি বলেন- এখনকার ছেলেমেয়েদের দেখলে আমার খুব দুঃখ হয়, এরা সবসময় মোবাইল-ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটিতে ব্যস্ত, অনেকেই দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত পড়ে না। অথচ আমরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়েছি। দৈনিক পত্রিকা আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মোবাইল-ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি না করে হাতে একটি বই কিংবা পত্রিকা নিয়ে পড়া অনেক স্বাস্থ্যকর। স্বাস্থ্যকর এজন্য বলছি যে, মোবাইল-ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগত চোখের এবং মগজের ক্ষতি করে। বই এবং পত্রপত্রিকা কখনো তা করে না; বরং বই-পত্রপত্রিকা কল্পনার জগতকে প্রসারিত করে, যা সুস্থ মেধা ও মননকে বিকশিত করে। এজন্য বেশি বেশি বই ও পত্রপত্রিকা পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-যুবকদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় ইংলিশ এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে দিয়ে ক্যাম্পাস অত্যন্ত যুগোপযোগী কাজ করছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, জ্ঞানহীন অনৈতিক মানুষ নেতা হিসেবে বেশিদূর যেতে পারে না। কাজেই আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নেতৃত্ব দিতে চাইলে নৈতিকতাসম্পন্ন জ্ঞানী মানুষ হতে হবে। তাই তরুণ ছাত্র-যুবকদের ক্যাম্পাস’র মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে নিজেকে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর উপযোগী সৎ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

তাজকেরা খায়ের
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফ্যামিলি লাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপারসন তাজকেরা খায়ের বলেন, ক্যাম্পাস অনন্য আলোর এক উজ্জ্বল বাতিঘর। আলোয় আলোয় সম্মিলনকারী এক মহিরুহ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের আলোয় আলোকিত আজ তরুণ ছাত্র-যুবকরা। বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছাত্র-যুবকদেরকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলছে ক্যাম্পাস। তাই ক্যাম্পাসকে সহযোগিতা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

ড. শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী
উদারপ্রাণ শিক্ষানুরাগী ড. শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী বলেন, ক্যাম্পাস’র আজকের প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান একজন মানবিক বোধসম্পন্ন উদারমনের মানুষ। তাঁর মানবিকতার উদারহাত তিনি ক্যাম্পাস’র কল্যাণে এগিয়ে দেবেন -এই প্রত্যাশা করি। এছাড়া ক্যাম্পাস’র তরুণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে অনুসরণ করে নিজেদের মধ্যে মানবিকতা, সততা, সহিষ্ণুতা লালন করে দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করবে বলে বিশ্বাস।

নাজবিন মুরশেদ ইলোরা
এডু-ট্রাস্ট্রের ফাউন্ডার এমডি নাজবিন মুরশেদ ইলোরা বলেন, ক্যাম্পাস’র সকল কার্যক্রমই অত্যন্ত ইতিবাচক। এখানে এলেই যেন সব রাগ-ক্ষোভ-হতাশা দূরীভূত হয়ে যায়, মনে এক অনির্বচনীয় আনন্দ জেগে ওঠে। ক্যাম্পাস যেন এক বটবৃক্ষ। এর শাখায় শাখায় সহস্র পাখিরূপি তরুণ-তরুণীর কলকাকলী।

এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ফ্রি ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সের রিসোর্স পারসন এডভোকেট এম জি কিবরিয়া বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁর মেধা ও সততার একনিষ্ঠতায় একজন সফল ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। আমাদের তরুণ ছাত্র-যুবকদেরও তাঁর মতো সততা ও একনিষ্ঠতায় সকল বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে জীবনে সফল হতে হবে।

এডভোকেট কিবরিয়া বলেন- মাত্র ১৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম ক্লাস শুরু করেছিলাম। এখন ব্যাচপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। ইংলিশ কোর্সের প্রতি ছাত্র-তরুণদের প্রবল আগ্রহ আমাদেরকে আশাবাদী করে তোলে। ইংলিশ কোর্স ছাড়াও এখানে সময়োপযোগী নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফাইড ছাত্র-যুবকরদেরকে কোয়ালিফাইড করার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে পূর্বাচলে স্থায়ী স্টাডি সেন্টার নির্মাণের জন্য আজকের মহানুভব উদারপ্রাণ প্রধান অতিথির সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

ড. এম হেলাল
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ভিশনারী ডায়নামিক লিডার। তাঁর কাছে তরুণ ছাত্র-যুবকদের শেখার অনেক কিছুই আছে। সততা ও নীতিনিষ্ঠায় প্রোজ্জ্বল মিজানুর রহমান জীবনে অনেক সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও তাঁর মতো ত্যাগ তিতিক্ষা ও সংগ্রাম করে জীবন সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করতে হবে।

ড. এম হেলাল বলেন- ক্যাম্পাস বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মননশীল ও সৃজনশীল কর্মের মানুষ গড়ে তুলছে। ক্যাম্পাস’র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাত্র-যুবকরা নিজেদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে কর্মে ও চিন্তায় সম্পূর্ণ নতুন মানুষরূপে গড়ে উঠছে। এসব ছাত্র-যুবক নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশকেও সমৃদ্ধ করছে।

ট্রেইনীদের কথামালা
ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সের ট্রেইনী আয়েশা আক্তার বলেন, এ কোর্স আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। আগে আমি জড়তার কারণে স্বতস্ফূর্তভাবে অনেক মানুষের সামনে কথা বলতে পারতাম না, এখন ক্যাম্পাস’র ট্রেনিংয়ের কারণে মঞ্চে অনেক মানুষের সামনে অনায়াসে কথা বলতে পারি।

জুবায়ের আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম সবসময় আমাকে প্রেরণা দেয়, আমি ইতিবাচক কাজ করার তাগিদ অনুভব করি। অনুপ্রেরণার এই ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু শেখার আছে।

তানভির আহসান তৌহিদ বলেন, ক্যাম্পাস’র ইংলিশ কোর্স করতে এসে আমার মধ্যে অনেক আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। আগে কোনো কাজ করতে গিয়ে ভীতি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলতো, এখন আমি কোনো কাজ করতে ভয় পাই না। আবদুর রহিম বলেন, ক্যাম্পাস’র ইংলিশ কোর্সের রিসোর্স পারসন গোলাম কিবরিয়া স্যার আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি সঞ্চারিত করেছেন। আমরা এখন যে কোনো ভালো কাজে এগিয়ে যেতে, নেতৃত্ব দিতে উৎসাহবোধ করি।

রাশেদুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাস’র ইতিবাচক প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে আমাদের মতো তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্যম তৈরি করে দেয়া হয়, যা ভালো কিছু করতে আমাদেরকে সবসময় উদ্বুদ্ধ করে।

রাজিয়া সুলতানা বলেন, ক্যাম্পাস’র ভূবন হচ্ছে আনন্দ-আলোর ভূবন। এখানে এলে বিষন্ন মনও ভালো হয়ে যায়, সব বিষণœতা কেটে গিয়ে মন অনাবিল আনন্দে ভরে যায়।

ফরহাদ রেজা বলেন, সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ তৈরির এক আশ্চর্য পরশপাথর হচ্ছে ক্যাম্পাস। এর সংস্পর্শে এলে সততা ও ন্যায়ের চর্চা করে ইতিবাচক মানুষে রূপান্তরিত হওয়া যায়।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ