বিশেষ খবর

উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা আরো যুগোপযোগী হচ্ছে

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিবেদন

দেশের উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আরও বিস্তৃত হচ্ছে সরকারি কলেজের সংখ্যা, বাড়ছে শিক্ষকদের পদ ও পাঠ্য বিষয়ের পরিধি। এ লক্ষ্যে সরকারিকরণ প্রক্রিয়ায় আসছে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ের আরও ৪৬টি বেসরকারি কলেজ। এসব কলেজকে সরকারিকরণের ‘যৌক্তিকতা’ যাচাইয়ের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চারটি পরিদর্শন টিম গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সরকারি কলেজে নতুন করে আরও দশ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে নতুন আরও ৪৫টি বিষয়। কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে হচ্ছে চারটি নতুন সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীঘ্রই সরকারিকরণ প্রক্রিয়ায় আসছে দেশের আরও নতুন নতুন বেসরকারি কলেজ। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন করে ৪৬টি কলেজকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কলেজগুলোকে চারভাগে বিভক্ত করে চারটি টিমকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। টিমের সদস্যরা এখন এসব কলেজ পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত আর্থিক সংশ্লেষসহ নির্ধারিত ছক অনুসারে তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ৪৬টি কলেজকে প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে চারটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাউশি’র পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান, উপ-পরিচালক আবু সুলতান মোঃ এ কে সাব্রী ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তাজিব উদ্দিন ১২টি কলেজ পরিদর্শন করবেন। এই তালিকায় আছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মাহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার এমএ খালেক ডিগ্রি কলেজ, মাগুরার মহম্মদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান কলেজ, একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজ, যশোর সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মিঞা জিন্নাহ আলম ডিগ্রি কলেজ, ঝিনাইদহ সদরের ঝিনাইদহ ডিগ্রি কলেজ, একই জেলার কালীগঞ্জের মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ এবং সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ।
মাউশি’র উপ-পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন সরকার, সহকারী পরিচালক হেমায়েত উদ্দিন হাওলাদার, ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ও মোঃ আব্দুস সালাম ১১টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এ তালিকায় আছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, গাংনী ডিগ্রি কলেজ, জোড়াপুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজ। সাতক্ষীরার আশাশুনি ডিগ্রি কলেজ, খুলনার বটিয়াঘাটা (ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, বাগেরহাটের কচুয়া ডিগ্রি কলেজ, মোল্লারহাট উপজেলার খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ, বাগেরহাট সদরের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ, চিতলমারী উপজেলার শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ এবং নড়াইলের কালিয়া উপজেলার শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজ।
উপ-পরিচালক খ ম রাশিদুল হাসান, মোঃ উসমান ভূইয়া ও সহকারি পরিচালক আশেকুল হক পরিদর্শন করবেন ১১টি কলেজ। এ তালিকায় আছে, নওগাঁর পোরশা উপজেলার পোরশা ডিগ্রি কলেজ, একই জেলার ধামরাই হাট এমএম ডিগ্রি কলেজ, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হাজী কোরাপ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী ডিগ্রি কলেজ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পার্বতীপুর ডিগ্রি কলেজ ও বিরামপুর উপজেলার বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ, পাবনার সুজানগর উপজেলার ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ, নীলফামারীর সৈয়দপুর কলেজ, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর বঙ্গবন্ধু কলেজ, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজ এবং চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার করফুলেন্নেসা মহিলা কলেজ।
উপ-পরিচালক মোঃ দবিউর রহমান, এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার, সহকারী পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী ও হাফিজুর রহমান পরিদর্শন করবেন ১২টি কলেজ। তাদের পরিদর্শনের আওতাধীন কলেজগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইলের গোপালপুর কলেজ, ঘাটাইল উপজেলার জিবিজি কলেজ, জামালপুরের সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ, একই উপজেলার বঙ্গবন্ধু কলেজ ও সরিষাবাড়ী কলেজ। এ তালিকায় আরও আছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, জেলার ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজ, নেত্রকোনার পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ, বারহাট্টা উপজেলার বারহাট্টা কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ, শিবগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ এবং নাচোলের নাচোল ডিগ্রি কলেজ।
দশ হাজার শিক্ষক এবং ৪৫ নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে
সরকারি কলেজে নতুন করে আরও দশ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষক সংখ্যা বাড়িয়ে করা হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার। একই সঙ্গে সম্মান ও সমমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে নতুন আরও ৪৫টি বিষয়। উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও উন্নত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কলেজে পদ সৃষ্টি ও বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন বিষয় খোলার লক্ষ্যে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশে একটি সমীক্ষা করেছে। ২৩টি অঞ্চলের ২৩ জন মনোনীত কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠিত কমিটি দেশের প্রতিটি সরকারি কলেজে গিয়ে এই সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে। সমীক্ষাটি নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ এবং নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়টিকে সামনে রেখে করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো না থাকায় স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স উচ্চ শিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারছে না উল্লেখ করে সমীক্ষা কমিটি জেলা শহরে অবস্থিত সরকারি কলেজগুলোতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার সুপারিশ করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করার পর একাধিক বৈঠকে প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। তবে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়টি। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৩০৫টি সরকারি কলেজে ১২ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব কলেজে শিক্ষক রয়েছেন ১৪ হাজার ৮২০ জন। অর্থাৎ ৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে আছেন গড়ে মাত্র এক জন শিক্ষক। ফলে শিক্ষক বৃদ্ধি করা জরুরি। কমিটি সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ১৪ হাজার ৮২০ শিক্ষক থেকে ১০ হাজার ১৪৭ জন বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৯৬৭ জন করার প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে অধ্যাপক রয়েছেন ৫০৩ জন, প্রস্তাব করা হয়েছে দুই হাজার ৬০৬ জন। সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন দুই হাজার ২০১ জন, প্রস্তাব করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৭৯৪ জন। সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন চার হাজার ১৮৮ জন, প্রস্তাব করা হয়েছে সাত হাজার ৯২৮ জন। প্রভাষক হিসেবে রয়েছেন সাত হাজার ৯২৮ জন, প্রস্তাব করা হয়েছে আট হাজার ৫১৭ জন। সমীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচ্ছিন্নভাবে সরকারি কলেজগুলোতে বিভিন্ন বিভাগে পদ সৃষ্টি ও নতুন বিষয় খোলার বিষয়ে সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে যা মানসম্মত উচ্চশিক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর ও যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই সমীক্ষা কমিটি জেলা শহরে অবস্থিত সরকারি কলেজগুলোতেই স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রাখার পক্ষে সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে সরকারি কলেজগুলোতে ৬৭টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। আরও ৪৫টি বিষয় বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে সমীক্ষা প্রতিবেদনে। নতুন করে যুক্ত করার জন্য যেসব বিষয়কে বিবেচনা করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ফিশারিজ, ফরেস্ট্রি, ল্যান্ড স্কেপিং, ব্যাংকিং এ্যান্ড বীমা, নৃ-বিজ্ঞান, নৃত্যকলা, শব্দপ্রযুক্তি, লোক প্রশাসন, প্রফেশনাল এথিকস, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, সঙ্গীত ও যোগাযোগ, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, আদ-দাওয়া আল ইসলামিয়া, ইসলামী দর্শন, মঞ্চ ও অনুষ্ঠান যোগাযোগ, গার্মেন্টস এ্যান্ড টেকনোলজি, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এ্যান্ড ডায়াটেটিক্স, আরপি চাইল্ডহুড কেয়ার এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, ইনটেরিয়র ডিজাইনিং এ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি, কম্পিউটার সায়েন্স, এ্যাপারাল মার্চেন্ডাইজিং, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ বিজ্ঞান, আইন, ফ্যাশন ডিজাইনিং, গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান, ফার্মেসি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, শিক্ষা, সঙ্গীত ও নাট্যতত্ত্ব, মানব সম্পদ উন্নয়ন, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও শিশুবর্ধন, ড্রামা এ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, গাইডেন্স এ্যান্ড কাউন্সিলিং, চারু ও কারুকলা, প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্রাকটিস, ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, শিক্ষা ও গবেষণা, ব্যবসায় শিক্ষা, আরবি সাহিত্য এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ।
নতুন এ বিষয়গুলোর জন্য দুই হাজার ৩২৫ জন শিক্ষক নিয়োগেরও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে অধ্যাপক ২২৭ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৪৬৫ জন, সহকারী অধ্যাপক ৭২৬ জন এবং প্রভাষক ৯০৭ জন। যারা এ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন সেই কর্মকর্তারা বলেছেন, কিছু নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব এসেছে। এগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো বিষয় যুক্ত করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়।
কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে হচ্ছে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে উৎপাদনশীল হিসেবে তৈরি করতে এ খাত উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চারটি নতুন সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। রংপুরের পিরগঞ্জ, জামালপুর, গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহে এসব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এগুলো তৈরি করা হলে দেশে বস্ত্র-পাট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য এক্সিকিউটিভ পর্যায়ে টেক্সটাইল প্রযুক্তিবিদ তৈরি, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাসে অবদান রাখার পাশাপাশি দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির মাধ্যমে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ খাতের উত্তরোত্তর অগ্রগতির সঙ্গে প্রশিক্ষিত ডিগ্রিধারীদের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সংখ্যক টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ না থাকায় এ খাতে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি ডিগ্রিধারীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বস্ত্র দফতর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে একটি জরিপ পরিচালনা করে। সার্ভে টু এ্যাসেস দ্য রিকয়ারমেন্ট অব টেক্সটাইল/টেকনোলজিস্ট আপ টু ২০১৫ শীর্ষক এই জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের মধ্যে (২০১৫ সাল) টেক্সটাইল খাতে দেশে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীর চাহিদা হবে ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। বাংলাদেশের একমাত্র টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বছরে মাত্র ২ হাজার ৩৪ জন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা সম্ভব।
সম্প্রতি পাবনা, বেগমগঞ্জ ও বরিশালে অবস্থিত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উন্নীত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই টাঙ্গাইলে একটি নতুন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী একনেকে অনুমোদন পাচ্ছে পিরগঞ্জ এবং জামালপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। এছাড়া গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহে আরও দুটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কলেজ স্থাপিত হলে প্রতিটি কলেজ থেকে ৮০ জন করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যাবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ