বিশেষ খবর

ছায়া জাতিসংঘ কনফারেন্স থেকে আমার অভিজ্ঞতা

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিশু ক্যাম্পাস
img

২০১৫ সালের ৩০ জুলাই থেকে ১ আগষ্ট পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ছায়া জাতিসংঘ কনফারেন্স বা মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমিও একজন অংশগ্রহণকারী ছিলাম। নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির মডেল ইউনাইটেড নেশনস ক্লাব এই কনফারেন্সটির আয়োজন করে। জাতিসংঘ বা ইউনাইটেড নেশনস এর আন্তর্জাতিক কনফারেন্সগুলোর আদলে ছায়া কনফারেন্স আয়োজিত হয়, যেখানে মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স এর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়া হয়। নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী এ কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইংল্যান্ড, আমেরিকা, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে ।
সেমিনারের প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী এক একটি দেশকে Represent করে অর্থাৎ সে একটি দেশের Delegate হিসেবে কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে। কনফারেন্সের আয়োজকরাই নির্ধারণ করে দেয় কে কোন্ দেশের Delegate হবে। আমাকে Cuba এর Delegate হিসেবে মনোনীত করা হয়। ইউনাইটেড নেশনস এর ১১টি কাউন্সিল যেমন- United Nations Human Rights Council, Security Council, SAARC, United Nations Industrial Development Organization, United Nations High Commissions for Refugees, United Nations Environment Programme প্রভৃতি এর গঠন অনুযায়ী উক্ত সম্মেলনে মডেল কাউন্সিল তৈরি করা হয়। প্রত্যেকটি কাউন্সিলের জন্য Chair, Co-chair, Director ইত্যাদি পদ নির্ধারণ করা হয়।
আমি ছিলাম UNHRC বা United Nations Human Rights Council এ। আমাদের Council এ মূলত যে Agenda নিয়ে আলোচনা করা হয় সেটি হলো Internet Freedom of Speech. তিন দিন ধরে চলা বিভিন্ন সেশনে আমরা যে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, সেই দেশের প্রচলিত Internet বিষয়ক আইন মানবাধিকার রক্ষায় যথেষ্ট কিনা; Internet এর ব্যবহার কী রকম হওয়া উচিত -ইত্যাকার বিষয়ে মতামত প্রদান করেছি। আলোচনাটি এক পর্যায়ে বিতর্কে পরিণত হয়। যেখানে, এক দেশের প্রতিনিধি অপর দেশের প্রতিনিধির মতামতের উপর প্রশ্ন করতে পারবে অথবা তার অন্য কোনো যুক্তি থাকলে সে যুক্তি প্রদর্শন করতে পারবে। এভাবে আলোচনাটি বেশ আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এখানে সবচেয়ে শিক্ষণীয় বিষয় ছিল, সবকিছু একটি নিয়মের ভেতর পরিচালনা। যেমন- যখন একজন Delegate মতামত প্রদান করবে, তখন আরেকজন Delegate কথা বলতে পারবে না; তাকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। কাউকে কিছু বলতে হলে সে যে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, সে দেশের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরতে হবে। অধিবেশনের Chair তাকে অনুমতি দিলে তবেই সে কথা বলতে পারবে। এরকম আরও অনেক নিয়ম, যেগুলো জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সগুলোতে অনুসরণ করা হয়, সেগুলো আমাদের শেখানো হয়েছিল। যেমন- অপ্রাসঙ্গিক কোনো কথা বলা যাবে না; যখন যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তখন কেবল সে বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা যাবে। তবে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হতে হবে, স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে হবে। এভাবে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের গভীর আমেজ এই ছায়া কনফারেন্সে আমরা পেয়েছি। এখানে উল্লেখ্য যে, এটি যেহেতু একটি International মডেল কনফারেন্স, তাই সকল আলোচনাই ছিল ইংরেজিতে।
তিন দিন নানা রকম আলোচনা-পর্যালোচনার পর সকল Delegate এর ভোটের মাধ্যমে Internet Freedom of Speech বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঠিক জাতিসংঘ কনফারেন্সের মতোই সিদ্ধান্তগুলো মানবাধিকার সংস্থা থেকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয়, সেগুলো চূড়ান্তভাবে পাসের জন্য। পুরো ব্যাপারটাই আমাদের কাছে বেশ উপভোগ্য ছিল। ছায়া জাতিসংঘ কনফারেন্স থেকে ঐ তিন দিনে অনেক নতুন কিছু শিখেছি। সর্বোপরি Smartness এর এক বিরাট চর্চা হয়েছে এ কনফারেন্সে। আমি এটুকু বলতে পারি যে, এখন সত্যিকারের আয়োজিত যেকোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে আমি দ্বিধাগ্রস্ত কিংবা বিচলিত হব না।

লেখকের ওয়েবঃ www.raisa.helal.net.bd ই-মেইলঃ nazneen7ahmed@yahoo.com


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ