বিশেষ খবর

বেসরকারি মেডিক্যালে ৫০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ

ক্যাম্পাস ডেস্ক মেডিকেল কলেজ
img

এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে বিদেশি কোটায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে ভারত থেকে ৫শ শিক্ষার্থী আনার জন্যে মাঠে নেমেছেন বেসরকারি মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদেশি কোটায় আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি মেডিক্যালে এ সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনের দিনক্ষণ নির্ধারণী এক বৈঠকে এ সুপারিশ করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অনলাইনে জমা দেয়ার পক্ষে এ সুপারিশ করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইয়ুবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সশরীরে বাংলাদেশের দূতাবাসে আবেদনপত্র জমা দিতে আসার ভোগান্তি দূর করতে অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণের এ সুপারিশ করা হয়।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এ সুযোগ কাজে লাগাতে ইতোমধ্যে দেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের মালিক কর্তৃপক্ষ প্রতিবেশী দেশ ভারতে চিকিৎসা বাজার সৃষ্টি করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি বছর দেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে কমপক্ষে ৫০০ ভারতীয় শিক্ষার্থী ভর্তির টার্গেট নিয়েছেন তারা। জানা গেছে, মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকায় গত ক’বছর আসন শূন্য থাকায় অধিকাংশ বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ বন্ধের উপক্রম হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ প্রতি মাসে বিপুল অংকের টাকা লোকসান দিতে হয় মেডিক্যালগুলোকে। যে কারণে ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিপিএমসিএ’র পক্ষ থেকে সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কোটা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। বিপিএমসিএ তথ্য অনুযায়ী ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৫৫টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মোট ৪ হাজার ৯৭৫টি আসন রয়েছে। এরমধ্যে সাধারণ আসনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৪২টি। যার মধ্যে ১ হাজার ৬৭৭টি আসন শূন্য ছিল। এছাড়া বিদেশি কোটায়ও ৯৫৬টি আসন শূন্য ছিল।
এ প্রসঙ্গে বিপিএমসিএ’র মহাসচিব ও ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ সেলিম বলেন, এ দেশের বেশ কিছু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের চাহিদা রয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে। গত বছর পর্যন্ত শতকরা ৪০ ভাগ আসনে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির কোটা নির্ধারিত থাকায় চাহিদা সত্ত্বেও ভর্তিচ্ছু সবাইকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, এ বছর ৫০ ভাগ কোটায় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারলে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। এদিকে ৫০ ভাগ বিদেশি কোটা পূরণের লক্ষ্যে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিবেশী দেশ ভারতে চিকিৎসার বড় বাজার সৃষ্টি করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কমপক্ষে ৫০০ ভারতীয় শিক্ষার্থী ভর্তির টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থী পেতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের মালিকরা কাশ্মীর, দিল্লি, আহমেদাবাদ, কলকাতা, গৌহাটিসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ সফর করেছেন।
তারা স্থানীয় কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন হোটেলে সভা-সেমিনার করে ওই দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনের প্রক্রিয়া সহজতর করতেও অনুরোধ জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের মালিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ভর্তির ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্গতির বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তারা বলেন, একটি ভালো মানের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনায় প্রতি মাসে বিপুল অংকের অর্থ খরচ হয়। দেশি শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে সে খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ বছরের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ হাজার ডলার নেয়া হয়।
বিপিএমসিএ’র মহাসচিব ও ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ সেলিম বলেন, বাংলাদেশে কলেজ ভেদে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার ডলার নেয়া হয়। কিন্তু ভারতে মেডিকেলে পড়তে একজন শিক্ষার্থীর ৫০ হাজার ডলার থেকে দেড় লাখ ডলার ব্যয় করতে হয়। সেদিক থেকে বাংলাদেশে শিক্ষার মান যেমন ভালো, তেমনি খরচ কম। তাই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ঠিকভাবে প্রচার চালাতে পারলে ভারতসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে মেডিক্যাল শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠবে। সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা) প্রফেসর ডাঃ এবিএম আবদুল হান্নান বলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় তারা অর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সামগ্রিক বিবেচনায় ও তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ বছর থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কোটা ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার সিদ্ধান্ত দেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় এখনও সরকারি আদেশ জারি হয়নি। তিনি দেশে ফিরলেই আদেশ জারি করা হবে। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে ফিরে মঙ্গলবার বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজসমূহের বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের জন্যে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজসমূহের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। তিনি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের আসন বাড়াতে নিয়মিত সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সভায় ৫০শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়। খুব শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হতে যাচ্ছে বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডাঃ দীন মোঃ নুরুল হক, বিএমএ মহাসচিব প্রফেসর ডাঃ এম, ইকবাল আর্সলানসহ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ