বিশেষ খবর

স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পথপ্রদর্শক ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ

ক্যাম্পাস ডেস্ক মেডিকেল কলেজ
img

জনকল্যাণকামী স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু ২০০৪-০৫ সেশনে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। ইবনে সিনা ট্রাস্ট গঠিত হয় ১৯৮০ সালে, একদল উৎসাহী ভিশনারী মানুষের নেতৃত্বে। শুরুর সেই পদক্ষেপ ছোট থাকলেও তার বর্তমান কার্যক্রম অতিকায় মানুষের পদচিহ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্যোক্তাদের মনে এ বিশ্বাস প্রোথিত ছিল যে, হাজার মাইলের ভ্রমণ একটি পদক্ষেপ দিয়েই শুরু হয়। বিগত তিন দশকে ইবনে সিনা ট্রাস্ট বেসরকারি স্বাস্থ্যপরিচর্যার দিগন্ত উন্মোচন করেছে- স্থাপন করেছে বেশ ক’টি হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, কনসালটেশন সেন্টার, ঔষধ শিল্পকারখানা এবং সর্বশেষ এই গৌরবদীপ্ত স্বাস্থ্যশিক্ষার উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ। ইবনে সিনা ট্রাস্টের যাবতীয় আয় আর্ত মানবতার সেবায় নিবেদিত, যা শুধু স্বচ্ছল এলাকায় নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেবায়ও নিবেদিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চল রাঙ্গামাটি জেলার লংদু উপজেলা পর্যন্ত এর সেবা কার্যক্রম প্রসারিত। কিংবদন্তী চিকিৎসা-বিজ্ঞানী ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭) এর নামানুসারে এ ট্রাস্টের নামকরণ করা হয়। ইবনে সিনার বই ‘আল-কানুন ফিল তীব’ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা শাস্ত্রের বাইবেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ট্রাস্ট বোর্ড একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন দেখেন এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রচলনের জন্য মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা শুরু করেন ২০০৫ সালের ১ জুলাই থেকে। এবার ১২তম ব্যাচ ভর্তি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত এ কলেজ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের স্বীকৃত যারা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যোগ্য কর্তৃপক্ষ। ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের ৫ম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীরা বর্তমানে সংস্থার নিজস্ব হাসপাতালে ইনটার্নশিপ করছে। ২০১৫-১৬ সালের ভর্তির নিয়মাবলি অনলাইনে দেয়া আছে। কলেজ গভর্ণিং বডি প্রবর্তিত সরকারি আদেশের নিরিখে মেধাভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। উদ্দেশ্য ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলোঃ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন পেশাদার চিকিৎসক তৈরি করা; অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চিরায়ত মূল্যবোধের সাথে সম্পৃক্ত করা; সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পন্ন শিক্ষা দেয়া যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যার চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। পরম ধৈর্য ও যোগ্যতা নিয়ে সর্বোচ্চ পরিচর্যার মাধ্যমে রোগীদের সেবায় সক্ষম এমন ডাক্তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বায়ো-মেডিক্যাল সায়েন্স শিক্ষা প্রদান; পেশাগত আচার-আচরণ, দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে কমিউনিটিতে জ্ঞান সঞ্চার এবং দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সম্পৃক্ত হবার মন-মানসিকতা সৃষ্টি; আর্থিক অবস্থা, জাতি, ধর্ম ও শ্রেণি নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদেরকে আর্ত মানবতার সেবায় উদ্বুদ্ধ হতে প্রয়োজনীয় মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়নিষ্ঠতার বলিষ্ঠ চেতনা এবং মৌলিক দক্ষতাসম্পন্ন করা। অবস্থান রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রবিন্দু ১/১-বি, কল্যাণপুর, ঢাকা-১২১৬- এ ঠিকানায় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ অবস্থিত। ১৪ তলা একাডেমিক ভবনে সব বিভাগগুলোর স্থান হয়েছে, পাশে রয়েছে ২৫০ শয্যার একাডেমিক হাসপাতাল। ৬৫০ বেডের আরেকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ক্যাম্পাস এলাকার মধ্যে নির্মাণাধীন। এছাড়া আরেকটি উচ্চ বিশেষায়িত হাসপাতাল শুরুর অপেক্ষায় যেখানে প্রাগ্রসর স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং চিকিৎসা-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা কলেজে প্রতিবছর ৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়; একশ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম, (এ ব্যাপারে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে); উপযুক্ত ও স্বচ্ছন্দ ক্ষেত্রে গ্রাজুয়েটরা যাতে বিশেষায়িত শিক্ষা অর্জনে আগ্রহান্বিত হতে পারে সেজন্য তাদের মধ্যে প্রণোদনা সৃষ্টি করা; তরুণ ডাক্তারদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ করে তুলতে পারে তার ব্যবস্থা; ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা। কলেজের গভর্নিং বডি চেয়ারম্যান ইবনে সিনা ট্রাস্টের মনোনয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কর্তৃক অনুমোদিত। প্রতিনিধিঃ ইবনে সিনা ট্রাস্টের রয়েছে ৭ জন প্রতিনিধি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১ জন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত ২ জন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন; ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের ২ জন শিক্ষক; ২ জন অভিভাবক প্রতিনিধি এবং ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ (সদস্য সচিব)। যেসব বিষয় পড়ানো হয় এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োক্যামেস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিন, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী এন্ড অবসটেট্রিকস, পেডিয়াট্রিকস, ফিজিক্যাল মেডিসিন, সাইসিয়াস্ট্রি, ডারমাটোলজি, অর্থোপেডিক্স, ইয়ার, নোজ এন্ড থ্রোট; অফথালমোলজি, রেডিওলজি, এনসথিসিওলজি, ট্রান্সফিউসন মেডিসিন প্রভৃতি। সর্বোচ্চ একাডেমিক ভবন বর্তমান ১৪ তলা ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ ভবন ১ লক্ষ ২৯ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট। প্রতিটি তলার আয়তন ৯,২১৪ বর্গফুট; প্রতিটি তলায় বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের আলাদা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, গ্যালারি, টিউটোরিয়াল রুম, ল্যাবরেটরি, মিউজিয়াম ও শিক্ষক কক্ষ। এছাড়াও রয়েছে ক্যান্টিন, কমনরুম, ইনফরমেশন সেন্টার, অভিভাবকদের অভ্যর্থনা কক্ষ, প্রার্থনার সুযোগ। ভবনের ৭ম তলা হলো এর প্রাণ- এখানে রয়েছে অধ্যক্ষের অফিস, কনফারেন্স রুম, টিচারস্ লাউঞ্জ, প্রশাসনিক শাখা এবং লাইব্রেরি। চেয়ারম্যান যা বললেন- আর্ত মানবতার সেবা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসক গড়ে তোলা ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের লক্ষ্য কোন্ প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এলেন এমন প্রশ্নের জবাবে দূরদর্শী শিক্ষাদ্যোক্তা কমোডোর (অবঃ) এম এ রহমান বলেন, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ একটি ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জগদ্বিখ্যাত চিকিৎসাবিদ, যাঁর রচিত গ্রন্থ চিকিৎসা শাস্ত্রের “বাইবেল” বলে পরিচিত; তাঁর নামটি চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রথমে ইবনে সিনা ট্রাস্ট গঠন করি। পরে ট্রাস্টের আয় থেকে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ। বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য মেডিকেল কলেজের তুলনায় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের বিশেষত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব কমোডোর (অবঃ) এম এ রহমান বলেন, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ শুধু একটি কলেজ নয়, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী সৃষ্টির লক্ষ্যে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আর্ত মানবতার সেবা এ কলেজের অন্যতম লক্ষ্য। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে ১১তম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ালেখা করছে, যারা পাস করে বেরিয়ে গিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশের স্বপ্ন দেখছে। যুগোপযোগী মেডিকেল শিক্ষা বিস্তারে ফ্যাকাল্টি মেম্বার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাজ্ঞ শিক্ষাদ্যোক্তা কমোডোর (অবঃ) এম এ রহমান বলেন, ফ্যাকাল্টি মেম্বার নিয়োগের সময় আমরা শিক্ষকের পাঠদানের দক্ষতা, তাঁর মেধার কথা বিবেচনায় আনি। তাঁর পাঠদান পদ্ধতি কতটুকু শিক্ষার্থীমহলে গ্রাহ্য হয়, শিক্ষার্থীদেরকে তিনি কতটুকু এগিয়ে রাখতে পারছেন, শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসার জবাব, তথা তাদের চাহিদা পূরণ সন্তোষজনকভাবে করতে পারছেন কিনা তা বিবেচনা করা হয়। সর্বোপরি দেখা হয় তিনি একজন উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কিনা। মেধা ও দক্ষতার সাথে উল্লেখিত গুণসমূহের সমাবেশ ঘটলে সেই শিক্ষক হবেন সোনার মানুষ। আপনার মেডিকেল কলেজে মানসম্মত ল্যাব এবং এরূপ কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাব্রতী উদ্যোক্তা কমোডোর (অবঃ) এম এ রহমান বলেন, ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজের ৫৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৫টি অপারেশন থিয়েটার, ৪টি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, ৩টি মিউজিয়াম, ১টি লাইব্রেরি, ১টি ডিসেকশন হল রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এগুলো থেকে প্রাকটিক্যাল জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এ কলেজকে ঘিরে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে স্বপ্নচারী শিক্ষাদ্যোক্তা কমোডোর (অবঃ) এম এ রহমান বলেন, বর্তমান একাডেমিক ভবনে সব ডিপার্টমেন্টের অফিস ও কর্মপরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আমরা ৬৫০ বেডের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করেছি। এ হাসপাতালে অত্যাধুনিক মেডিকেল শিক্ষা দেয়া হবে, অন্যান্য ক্লিনিক্যাল সুযোগ-সুবিধারও ব্যবস্থা থাকবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ