বিশেষ খবর

একান্ত সাক্ষাৎকারে ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
img

অধ্যাপক হোসনে আরা আপাদমস্তক একজন আলোকিত ব্যক্তিত্ব। তিনি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতকোত্তরদের একজন। তিনি আজিমপুর গালর্স স্কুল থেকে এসএসসি এবং ইডেন মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে কুমুদিনী সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর ঢাকা কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ, জগন্নাথ কলেজ, আনন্দ মোহন কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজে বিভিন্ন সময়ে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যে কলেজে একসময় তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। দেশ ও সমাজের মঙ্গলাকাঙ্খায় ব্রতী, আদর্শ শিক্ষকের প্রতিভূ, চিন্তা- চেতনায় যার সার্বক্ষণিক সঙ্গী শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন, মন ও মনন জুড়ে যার ছাত্রীদের কল্যাণ চিন্তা এমনই সব আদর্শ গুণে গুণান্বিতা, সৎ, কর্মনিষ্ঠ, স্পষ্টবাদী, সরলমনা, স্বতঃস্ফূর্ত ও সপ্রতিভ অধ্যক্ষ প্রফেসর হোসনে আরা। সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার প্রতিকার সঙ্গে এই চৌকস ব্যক্তিত্বের একান্ত আলাপের অংশবিশেষ এখানে উপস্থাপন করা হল।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসঃ একজন সচেতন অভিবাবক ও শিক্ষক হিসেবে দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী?
হোসনে আরাঃ আমাদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সবকিছুতে আধুনিক পদ্ধতির অবলম্বন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি। দেশের মধ্যে একমাত্র ইডেন কলেজেই শতভাগ আইটি সুবিধা ব্যবহার বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখানে ছাত্রীরা কলেজের বেতনও পরিশোধ করে মোবাইলের মাধ্যমে। প্রতিটি ক্লাশে ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্টারেক্টিভ স্মার্ট বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে সিসি ক্যামেরা, এখন ঘণ্টা বাজে ইলেক্ট্রিক। ক্যাম্পাসের ১৮ একর জুড়ে ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাইব্রেরি অটোমেশন করা হয়েছে। আমি মনে করি বর্তমান সময়ে শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনে এসমস্ত আধুনিক সুবিধাদি থাকা আবশ্যক।
বি ক্যাঃ একজন অধ্যক্ষ হিসেবে যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতেন?
হোসনে আরাঃ শিক্ষার প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাঙ্গনে লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেবাধর্মী কাজে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ওয়ার্কশপ, ভাষা উপস্থাপন প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে শিক্ষার্থীদেরকে পরিপূর্ণ মানুষ গঠন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। বর্তমানে আইটি বা ডিজিটাল পদ্ধতি জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর ব্যবহার বা প্রয়োগ ব্যতীত আধুনিক শিক্ষা অসম্পূর্ণ। তাই, আমি এর ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ গ্রহনে ছাত্রীদের সবসময় উদ্বুদ্ধ করে থাকি।
বি ক্যাঃ প্রতিয়োগিতামূলক বিশ্বে কিংবা চাকরির বাজারে আপনার কলেজের শিক্ষার্থীরা কেমন করছে?
হোসনে আরাঃ প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে আমাদের ছাত্রীরা খুবই ভালো করছে। যেহেতু আমাদের কলেজ হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার জন্য। সেহেতু এখানকার শিক্ষার্থীরা তো আর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না। তাই এদেরকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেই চাকরিতে ঢুকতে হয়। বিসিএস দিয়ে এবছরও আমাদের অনেক ছাত্রীর চাকরি হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যতগুলো কলেজ আছে, তার মধ্যে আমাদের রেজাল্ট সবচেয়ে ভালো। প্রতিবছর আমাদের কলেজ থেকে তিন-চার হাজার ছাত্রী ফার্স্ট ক্লাস বা প্রথম শ্রেণি পেয়ে থাকে। এছাড়া প্রায় প্রতি ডিপার্টমেন্টের প্রথম বিশ জনের মধ্যে আমাদের ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি থাকে। পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষ স্থান ধরে রাখার পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট ভালো করছে।
বি ক্যাঃ কলেজ পরিচালনায় একজন অধ্যক্ষকে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?
হোসনে আরাঃ আমি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হইনি। সহকর্মীদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা আমাকে নির্ভার হয়ে কাজ করতে উৎসাহ যোগায়। অধ্যক্ষ যদি নিজেকে অন্যদের সহকর্মী না ভেবে সবসময় বস ভাবেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। অধ্যক্ষ যদি মনে রাখেন, যারা আমার সহকর্মী আছেন তাঁরা আমার মতো বিসিএস দিয়ে এসেছেন, তারাও যোগ্য এবং নিজ নিজ বিষয়ে বা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ। তাহলে কোনো সমস্যা হবে না বরং সহযোগিতা মিলবে। এসব কথা মনে রেখে আমি আমার শিক্ষকদের নিয়ে একটা প্রাপ্যতা কমিটি করে দিয়েছি। যে কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকে। বিভিন্ন প্রাপ্যতা বা পরীক্ষার দায়িত্ব নিজেরাই সমতার নীতির মাধ্যমে করে থাকেন। আমি নিজে সব পরীক্ষার বিষয়ে মনিটরিং করি। ফলে তাঁদের মনে কোনো ক্ষোভ থাকে না।
বি ক্যাঃ অনেক অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, একজন অধ্যক্ষকে যেরূপ দায়িত্ব দেয়া হয়, সেরূপ ক্ষমতা দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা থেকে বলুন।
হোসনে আরাঃ আমি এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। প্রথম কথা হচ্ছে, শিক্ষাঙ্গন কোনো ক্ষমতা দেখানোর বা পাওয়ার এক্সারসাইজের জায়গা নয়। ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে আমি কখনো বাঁধাপ্রাপ্ত হই নি। আমি ইডেন কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের আগে বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ১১ মাসে অনেক কাজ করেছি। যেমন -সেখানে দু’টো বিষয়ে অনার্স খুলেছি, এগারোটা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করেছি, একটা মেডিকেল সেন্টার করেছি এবং একটি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর করেছি। ইডেনেতো করছিই। আমি সব জায়গায় সহযেগিতা পেয়েছি, কোথাও কোনো বাঁধা পাই নি। সুতরাং আমি মনে করি ঐসব অভিযোগ ঠিক না।
বি ক্যাঃ বাংলাদেশের নারী শিক্ষায় ইডেন মহিলা কলেজের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলুন।
হোসনে আরাঃ ইডেন মহিলা কলেজ শুধু বাংলাদেশেই সর্ববৃহৎ নয় এটি বিশ্বেরও সর্ববৃহৎ মহিলা কলেজ। আমাদের শিক্ষা সচিব বলেছিলেন, উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ। আমি তাঁকে বলেছি আমাকে একক মহিলা কলেজ হিসেবে আর একটি দেখান সারাবিশ্বে যেখানে ইডেনের চেয়ে বেশি ছাত্রী পড়ছে। আমি আপনাদেরও বলছি, সারাবিশ্বে যদি এর চেয়ে বড় মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পান আমাকে জানাবেন। আমি নেটের মাধ্যমে অনেক খুঁজেছি পাই নি। আমাদের কলেজে বর্তমানে পঁয়ত্রিশ হাজার ছাত্রী পড়ছে। সুতরাং বাংলাদেশের নারী শিক্ষায় এর ভূমিকা সহজেই অনুমেয়।
ঐতিহাসিক ভূমিকার ক্ষেত্রেও এর অবস্থান উজ্জ্বল। দেশের প্রতিটি সংকট মুহূর্তে ইডেনের ছাত্রীরা রাজপথে নেমে এসেছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ইডেন কলেজের ছাত্রীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে, বিশেষকরে ছাত্র আন্দোলন যখন নেতৃত্বে থাকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতারা তখন আমাদের ছাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করে এবং সহযোগিতা নেয়। এছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এক অর্থে ইডেনের ছাত্রী ছিলেন। যদিও তিনি বদরুন নেসায় পড়েছেন কিন্তু তখন বদরুন্নেসা ইডেনেরই অংশ ছিল। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী, অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীও ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিলেন। তাছাড়া আমরা সবাই জানি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারও এই কলেজেরই ছাত্রী ছিলেন। সুতরাং এই কলেজের রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ভূমিকাও কম নয়।
বি ক্যাঃ এক সময়তো ইডেন কলেজ ছাত্র-রাজনীতির ক্ষেত্রে বেশ সরব ছিল। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-রাজনীতি কতখানি যুক্তিযুক্ত বলে আপনি মনে করেন?
হোসনে আরাঃ ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই থাকা উচিৎ। এই ছাত্র-ছাত্রীরাই হবে দেশের কা-ারি। তারা যদি এর চর্চা না করে তাহলে রাজনীতি শিখবে কোথায়? তাই আমি মনে করি ছাত্র রাজনীতি হওয়া উচিৎ।
বি ক্যাঃ একটি সুন্দর শিক্ষাঙ্গান বহুলাংশে নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর উপর Ñএ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাচিছ।
হোসনে আরাঃ এই ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে একমত। শিক্ষাঙ্গনে এমন অনেক কাজ আছে যা ইচছা করলেই কোনো অধ্যক্ষ করতে পারেন। আমি বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, কাজ করতে গেলে টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি অনেক ভালো কাজ করতে গিয়ে আমি সরকারের আনেক টাকার সাশ্রয়ও করে দিয়েছি। এই কলেজের সৌন্দর্য বর্ধনের যত কাজ আমি করেছি, সরকারের একটি পয়সাও ব্যয় করা হয়নি।
বি ক্যাঃ এই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর কী কী উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন এবং আর কী কী কাজ জরুরীভাবে করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
হোসনে আরাঃ আমি এই কলেজে যোগদানের পর যে কাজ করেছি, তার অনেক কিছুই এখানে আসার সময় দেখে এসেছেন। কলেজের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দেয়ালের বাইরে আমি তিনটা থিমের উপর নয়টা ম্যুরাল করিয়েছি। যা শুধু কলেজের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করেনি, সেই সঙ্গে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং এসব আন্দোলন-সংগ্রামে ইডেন কলেজের ছাত্রীদের ভূমিকা তুলে ধরেছি। ছাত্রীদের জন্য বেগম ফজিলাতুন নেছা এগারো তলা হোস্টেলের কাজ সম্পন্ন করেছি এবং হোস্টেলের দেয়ালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছার সাড়ে সাত ফুট একটা ম্যুরাল করেছি। যা বোধকরি বাংলাদেশে তাঁর সবচেয়ে বড় ম্যুরাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্থিরচিত্র গ্যালারি করেছি। শিক্ষকদের জন্য আধুনিক শিক্ষক-লাউঞ্জ করেছি। দর্শনার্থী ও অভিভাবকদের বসার জায়গা করেছি, শিক্ষক এবং মেয়েদের জন্য জিম করেছি। কলেজের আঠারো একর জুড়ে ওয়াইফাই সংযোগের ব্যবস্থা করেছি, লাইব্রেরি অটোমেশন করেছি, প্রতিটি ক্লাশ রুমে ইলেক্ট্রনিক্স বোর্ড লাগিয়েছি, স্ট্রং ওয়েবসাইট করেছি, মোবাইলের মাধ্যমে ছাত্রীদের বেতন-ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া সরকারের দেয়া স¥ার্টবোর্ড, ডিজিটাল প্রজেক্টর এর ব্যবহার শিখানোর জন্য ইন হাউজ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। আমার দেখানো ইন হাউজ ট্রেনিং যা বর্তমানে অনেক কলেজ অনুসরণ করছে। যা’ আমার খুবই ভালো লাগছে এবং আমি খুবই আনন্দিত। সমস্ত ক্যাম্পাস জুড়ে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কলেজের মেডিকেল সেন্টারটির আধুনিকায়ন করেছি এবং ছাত্রীদের বিনামূল্যে ঔষধ প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। ইডেন কলেজের অডিটোরিয়ামের কোনো নাম ছিল না, এটির নামকরণ করেছি জননেত্রী শেখ হাসিনা অডিটোরিয়াম। আমি হোস্টেলের মেয়েদের দিয়ে আরেকটি কাজ শুরু করেছি, সেটি হচ্ছে মেয়েদের ইউট্রিয়াস ক্যান্সার প্রতিষেধক টীকা (ভ্যাক্সিন) দেয়ার কর্মসূচি। এই ভ্যাক্সিনটির মূল্য প্রায় বার হাজার টাকা। ছাত্রী-কল্যাণ তহবিলের টাকা দিয়ে, বাজারদরের চেয়ে অনেক কম মূল্যে কিনে দেয়া হচ্ছে। আমাদের কলেজের অডিটোরিয়ামটি আধুনিকায়ন করা জরুরি। আমি যখন ছাত্রী ছিলাম তখন যেরকম দেখেছি, এটি এখনো সেই অবস্থায়ই আছে।
বি ক্যাঃ এই কলেজকে ঘিরে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বা স্বপ্নের কথা জানতে চাই।
হোসনে আরাঃ এই কলেজকে ঘিরে আমার স্বপ্ন হচ্ছে, এই কলেজ যেমন বিশ্বের একক বৃহত্তম মহিলা কলেজ (ছাত্রী সংখ্যার দিক থেকে, কো-এডুকেশন বাদে) তেমনি লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও বিশ্বে অনন্য হিসেবে পরিচিত করাতে চাই।
বি ক্যাঃ সহশিক্ষা এবং ভিন্নভাবে শুধু নারী শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মানসিকতা গঠনে বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলে কি?
হোসনে আরাঃ না। আলাদা ভাবে নারী শিক্ষা মানসিকতা গঠনে কোনো প্রকার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না বরং শিক্ষা-পরিবেশ বেশি ভালো হয়। সহশিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় মেয়েরা তাদের ছেলে বন্ধুদের দ্বারা নানা ধরনের টিজিংয়ের শিকার হতে পারে। কিন্তু শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা থাকে না। যেখানেই সহশিক্ষা সে সব প্রতিষ্ঠানে এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র-ছাত্রীদের সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বা লাইব্রেরিতে দেখা যায় না। কিন্তু, আমাদের ক্যাম্পাসে মেয়েরা রাত ন’টা-দশটা পর্যন্ত অবাধে লাইব্রেরি ওয়ার্ক বা বাইরে বসে গ্রুপ ডিসকাশন করতে পারছে। আলাদা নারী শিক্ষাব্যবস্থাকে তাই আমি শিক্ষা ও জ্ঞানাহোরনের জন্য পজিটিভই মনে করি।
বি ক্যাঃ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
হোসনে আরাঃ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা অত্যন্ত যুগোপযুগী, শিক্ষা বিষয়ক পত্রিকা। আমি দেখেছি এটি শিক্ষার সকল বিষয়, প্রতিষ্ঠান, যেমন- মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, বুয়েট, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজ নিয়ে লিখেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখছে সবাই জানতে পারছে এবং প্রতিষ্ঠান গুলোও উদ্দীপনা পাচ্ছে। আমি এ পত্রিকার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ