বিশেষ খবর

মাস্টার ওয়াসিরের দিনলিপি-৩

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিশু ক্যাম্পাস
img

॥ মাহীর হেলাল ॥ ৯ম শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল
আমার ছোট ভাই ওয়াসিরকে নিয়ে এর আগেও দু’টি লেখা লিখেছি। ওয়াসির প্রতিদিনই কোনো না কোনো মজার কা- করে থাকে। তার এসব মজার কথা লিখতেও আমার ভালো লাগে। তাই এ লেখায় আমি তার সম্পর্কে আরও কিছু মজার কথা পাঠকের সাথে শেয়ার করব।
১। ওয়াসির যখনই বাইরে যায়, তখনই খেলনা কেনার বায়না ধরে। একদিকে খেলনা কেনায় অনেক টাকা প্রতিমাসে বাজেট করতে হয়, অন্যদিকে তার খেলনায় আমাদের বাসা-বারান্দা সব ভরে গিয়েছে। ওর খেলনা কেনার নেশা দূর করতে তার সাথে আলাপ-আলোচনা ও কাউন্সেলিং করে বাবা এ বিষয়ে একটি নিয়ম করে দিলেন যে- খেলনা কিনবে সে প্রতি শুক্রবারে। এভাবে চালু হলো- সপ্তাহে একবার তার খেলনা কেনার রীতি। তবে সেই রীতি দু’সপ্তাহও টিকেনি। কারণ ঐ নিয়ম ঠিক রেখেই সপ্তাহের মাঝের বিভিন্ন দিনে মা’র কাছ থেকেও বিভিন্ন খেলনা আদায় করে নেয়। এতে সে এমনভাবে বুদ্ধির কৌশল করে বা যুক্তি দেখায়, যাতে ঐ নিয়মের মধ্যে থেকেও মা তাকে খেলনা কিনে না দিয়ে থাকতে পারেন না।
আমার মা ড. নাজনীন আহমেদ এর প্রায়ই বিভিন্ন টিভিতে প্রোগ্রাম থাকে; সেরূপ এক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিভি প্রোগ্রাম পড়ে যায়। অর্থাৎ অফিস থেকে বাসায় ফিরেই তাঁকে আবার বাইরে যেতে হবে। ওয়াসির’র সাথে বেশি সময় থাকতে পারবেন না বলে তিনি ওয়াসির’র জন্য একটা খেলনা কিনে আনার কথা চিন্তা করলেন, যাতে উনি যতক্ষণ টিভিতে থাকবেন, ততক্ষণ ওয়াসির নতুন খেলনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই মা ফোন করে ওয়াসিরকে বললেন- তুমি যদি মা’কে বাইরে যেতে দাও, তাহলে তুমি একটা নতুন খেলনা পাবে; আর যেতে না দিলে খেলনা পাবে না। উত্তরে ওয়াসির বলল, সেটা ঠিক আছে; কিন্তু তার আগে বলো- আজকে যদি খেলনা কিনে দাও, তাহলে শুক্রবারের খেলনা কেনা ঠিক থাকবে কিনা! তার যুক্তিপূর্ণ প্রশ্ন শুনে মা’তো চিন্তায় পড়ে গেলেন। এভাবে মাকে চিন্তিত দেখে সে বলল- আজকে কিনলে যদি শুক্রবার আর না কিনে দাও, তাহলে তুমি বাসায়ই থাক; আজ খেলনা কেনার দরকার নাই। ওর যুক্তি শুনে মা অবাক। তখন উপায়ন্তর না দেখে মা বললেন, ঠিক আছে, এটা এ সপ্তাহের অতিরিক্ত খেলনা। আর শুক্রবারও খেলনা কেনা ঠিক থাকবে।
২। আমরা সকলেই জানি, কিছুদিন আগে ঢাকার বিখ্যাত শপিং কমপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগে। বসুন্ধরার আন্ডার-গ্রাউন্ডে অবস্থিত মোস্তফা সেন্টার থেকেই সাধারণত ওয়াসির খেলনা কিনে থাকে। যখন ওয়াসির ঐ ভবনে আগুন লাগার কথা শুনতে পেল তখন সে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল- হায় হায়, আমার খেলনাগুলো কি পুড়ে গেল! শুক্রবারের মধ্যে কি বসুন্ধরা ঠিক হয়ে যাবে? এখন আমি কোন্ দোকান থেকে খেলনা কিনব? অর্থাৎ সবাই চিন্তিত ওখানকার দোকান মালিকদের বিপদ-বিপর্যয় নিয়ে, আর ও আছে ওর খেলনার চিন্তায়!
৩। ওয়াসির এর পুরো নাম ওয়াসির হেলাল। তাকে আমরা সবাই অনেক আদর করি। তাই বাবা তাকে ‘আদর’ বলে ডাকতে পছন্দ করেন। সেজন্য ওয়াসির বলল- আচ্ছা তাহলে এখন থেকে আমার নাম হবে ‘ওয়াসির আদর হেলাল’। তবে ভাইয়া ও বাবা এ দু’জন আমাকে দু’নামে ডাকতে হবে। ভাইয়া ডাকবে ‘আদর ওয়াসির’ বলে, আর বাবা ডাকবে ‘ওয়াসির আদর’ বলে!
৪। মা ওয়াসিরকে ইংরেজি শব্দার্থ পড়াচ্ছেন- Mud মানে মাটি, Hut মানে কুঁড়েঘর ইত্যাদি। সে ধারাবাহিকতায় তিনি বললেন, Rug (রাগ) মানে মাদুর। ওয়াসির সাথে সাথে বলল মা, বাংলায় ‘রাগ’ শব্দের অন্য মানে হয়, আর তা হলো র্র্র্র্গ (সে দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে রাগের ভঙ্গি করল)। মা’তো হেসেই খুন!
৫। আজকাল প্রায় সব বাচ্চাই স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার চালাতে পারে। তবে ওয়াসির সেসব চালানোর পাশাপাশি ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন গেম ডাউনলোড এবং ইনস্টলও করতে পারে সেই তিন বছর বয়স থেকে। কিন্তু মুশকিল হলো, ইন্টারনেটে গেম সার্চ দিতে গিলে যে Keyword লিখতে হয়, তা ছোট্ট ওয়াসির এখনো টাইপ করতে জানে না। তাই সে যে ধরনের গেম ডাউনলোড করতে চায়, সেগুলোর উপযুক্ত Keyword নিজেই বুদ্ধি করে ঠিক করে এবং অন্যদের তা স্মার্টফোনে লিখে দিতে তথা টাইপ করে দিতে বলে।
একদিন বাবা অফিস থেকে আসার পর ওয়াসির অনুমতি নিয়ে তাঁর ফোনটি হাতে নিল। সে বাবাকে অনুরোধ করল, একটা গেম ডাউনলোড করতে; কিন্তু বাবা গেম-টেম ডাউনলোড সংক্রান্ত কিছু জানেন না। তিনি ওয়াসিরকে বললেন, তুমি আমাকে শিখাও কীভাবে ডাউনলোড করতে হয়। ওয়াসির তাতে রাজি হলো, তবে শর্ত দিল যে- প্রতিরাতে বাবা তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরতে হবে এবং ফিরেই তাঁর ফোনসেট কিছুক্ষণের জন্য দিতে হবে ওর খেলার জন্য। ঐ আবদারে বাবা রাজি হবার পর ও কেবল তার গেম এর Keyword বাবাকে দিয়ে লিখাল এবং বাকি স-ব অপারেশনের কাজ নিজেই করল অত্যন্ত Swiftly & Smartly. বাবাকেও বুঝিয়ে বলল, গেম ডাউনলোড করে কীভাবে এবং কীভাবে তা ইনস্টল করতে হয়। তার সুইফটনেস এন্ড স্মার্টনেস দেখে বাবা অত্যন্ত খুশি হয়ে তাকে একটা পুরস্কার ঘোষণা করলেন। এতে সে Excited হয়ে বলে উঠল- একসাথে আমার লাভ হয়েছে দু’টি; একদিকে পুরস্কার পেয়েছি, তাছাড়া এখন থেকে প্রতিরাতে বাবার মোবাইলে গেম খেলতে পারব।
এ ছিল ওয়াসিরের কিছু মজার ঘটনা। আসলে ওয়াসির প্রতিদিনই আকর্ষণীয় কিছু না কিছু করে। তার মধ্যে কিছু ঘটনা আমি তুলে ধরি। আপনারা সকলেই দোয়া করবেন ও যেন বড় হয়ে তার এসব বুদ্ধি মানুষের ও দেশের সেবায় কাজে লাগাতে পারে।
লেখকের ওয়েবঃ www.maheer.helal.net.bd ই-মেইলঃ maheer7helal@gmail.com


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ