বিশেষ খবর

গরিব রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবার পথপ্রদর্শক ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ

ক্যাম্পাস ডেস্ক মেডিকেল কলেজ
img

স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ‘সোনার হরিণ’ হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে মানসম্পন্ন যত্নের অভাব, বেসরকারি হাসপাতালের অস্বাভাবিক চিকিৎসা খরচ এ দু’য়ের মাঝে পড়ে গরিব রোগীদের ওঠে নাভিশ্বাস, চিকিৎসা-সেবা সুযোগ ক্রমাগতই তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনি সন্ধিক্ষণে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের উদ্ভব সবার জন্য চিকিৎসা উপযোগী ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে। ঢাকার মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় ২০ শয্যার এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। ট্রাস্টিদের ত্যাগের ফলে হাসপাতালটি সবার জন্য কোয়ালিটি চিকিৎসা-সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ মগবাজারে ৫০০ বেডের আধুনিক এবং প্রগতিশীল চিকিৎসার বিশাল হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। এটি বিশেষ রোগ সম্পর্কে নির্দেশনা এবং রোগ পরীক্ষা-কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ হাসপাতালটি বাংলাদেশে আর্সেনিক অনুসন্ধান, গবেষণা এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে আসছে। ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এ কেন্দ্রেই। এটি ট্রাস্টের মালিকানাধীন একটি বেসরকারি, অলাভজনক এবং স্ব-অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল। ট্রাস্টিগণ অবশ্য এ হাসপাতালকে দাতব্য চিকিৎসালয় এবং গরিবের হাসপাতাল বলে মনে করেন না, তাঁরা এটিকে ব্যবস্থাযোগ্য খরচে গ্রাম ও শহরের চিকিৎসার সমন্বিত ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবার মডেল হিসেবে দাবি করেন। হাসপাতালটি গ্রাম ও শহরে কমিউনিটি ভিত্তিক চিকিৎসা-কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। একটি কমিউনিটির ৩ হাজার পরিবারের প্রতি গৃহ থেকে প্রতিমাসে যদি ২০ টাকা প্রদান করা হয়, তাহলে তারা একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা লাভ করবে। ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল বাংলাদেশের ৩০টি লোকেশনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব কেন্দ্রে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রয়োজন-ভিত্তিক কমিউনিটি-কেন্দ্রিক দক্ষ ডাক্তার গড়ে তোলা এর লক্ষ্য। ছাত্রদেরকে আপডেটেড জ্ঞান দেয়া হয় যাতে তারা উপযুক্ত, নিবেদিত ও জবাবদিহিমূলক হয়ে স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরে নেতৃত্বের ভূমিকায় থেকে কমিউনিটির স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করতে পারে, ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে শক্ত পটভূমি গড়তে পারে।
লাইব্রেরি হাসপাতাল বিল্ডিংয়ে স্থাপিত লাইব্রেরিটি অনেক সমৃদ্ধ, আছে আরামদায়কভাবে বসার ব্যবস্থা। এতে রয়েছে সাধারণ টেক্সট বুক, রেফারেন্স বুক, জার্নাল এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখিত বইয়ের সমাবেশ। এর মাধ্যমে শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যাধুনিক তথ্য লাভ করতে পারেন। লাইব্রেরিটি ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার-সমৃদ্ধ। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্ররা কলেজে অথবা বাসায় নিয়ে পড়ার জন্য লাইব্রেরি থেকে বই ধার নিতে পারে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। বিশেষ ব্যবস্থাধীনে শুক্রবার কিংবা সরকারি ছুটির দিনে লাইব্রেরি খোলা রাখা হয়।
কলেজ ক্যাম্পাস ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ইতোমধ্যে নির্মিত ১০ তলা ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে কলেজে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১৭ জন। ইতিমধ্যে তিনটি ব্যাচে মোট ৯১ জন ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস পেশাগত ফাইনাল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া ক্লিনিক্যাল শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয় পার্শ্ববর্তী ৫০০ শয্যার হাসপাতাল কমপ্লেক্সে।
একাডেমিক ফ্যাকাল্টি কলেজের একাডেমিক ফ্যাকাল্টি খুব সমৃদ্ধ। বর্তমানে প্রফেসর, এসোসিয়েট প্রফেসর, এসিসট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারারসহ অন্যরা শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জড়িত রয়েছেন। প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মাকোলজি এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগসমূহে পর্যাপ্ত লোকবল, স্টাফ ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি এন্ড অব্স এবং সংযুক্ত ক্লিনিক্যাল ডিসিপ্লিন বিষয়সমূহ ও প্রয়োজনীয় লোকবল এবং সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যান্য কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, অভিভাবক সভা, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি ১০ জন ছাত্রের একাডেমিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক অথবা সামাজিক সমস্যা সমাধানের বিষয় দেখাশোনার জন্য একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়। ছাত্ররা খোলাখুলিভাবে মেন্টরের সাথে (দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক) আলাপ করতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে তার সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারে।
ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে প্রচলিত পদ্ধতির পড়ালেখার বাইরেও সমস্যা-কেন্দ্রিক শিক্ষাদানের (চইখ) ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণতঃ ছাত্র ও শিক্ষকগণ এতদসংক্রান্ত সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। তৃতীয় বর্ষের শুরু থেকে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিক্ষাপ্রদান শুরু হয়, শহর কিংবা গ্রামের ৫টি পরিবারের সাথে যুক্ত করে সেসব পরিবারের রোগ চিহ্নিত করা, চিকিৎসা করা, অসুখের কারণ নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়োজিত করা হয়। তাদের কাজ মনিটরিংয়ের জন্য হেল্থ কার্ড ব্যবহার করা হয়। এভাবে ভবিষ্যতের কমিউনিটি হেল্থ লিডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
যোগাযোগ
১৯০/১ বড় মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেইট, ঢাকা ১২১৭। ফোনঃ ৯৩৫১১৯০-৯১, ০১৭১১১৯৪৫৭৬।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ