বিশেষ খবর

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট

ক্যাম্পাস ডেস্ক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবি’র বাজেট ৬৬৪ কোটি টাকা
২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ৬৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। সারাদিন আলোচনা শেষে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের এই বাজেট পাস হয়। সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সিনেটের বিশেষ আমন্ত্রণে বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ কামাল উদ্দীন। বর্তমানে কোষাধ্যক্ষের পদটি খালি রয়েছে। এ সময় অধিবেশনে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান ও সিনেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাজেট অধিবেশনে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের ৫৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবার গবেষণা খাতে আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাজেটের প্রায় ৮৩ শতাংশই ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে। মোট বাজেটের ৮২ দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও পেনশনে। এর মধ্যে বেতন ও ভাতায় ৩৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা ও পেনশনে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাকি ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ মাত্র ৬০ কোটি ৮১ লাখ টাকা (৯ দশমিক ১৬ শতাংশ)। এর মধ্যে গ্রন্থাগারের জন্য বই কেনা, প্রকাশনা, যন্ত্রপাতি ক্রয়, শিক্ষাসফর, সেমিনার, পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ছাত্রদের ইন্টারনেট, শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তি, বিভাগীয় খেলা, ছাত্র পরামর্শ, ছাত্রকল্যাণ রয়েছে। ২০১৫-১৬ সংশোধিত অর্থবছরে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। গবেষণার জন্য বরাদ্দ ছিল ৭ কোটি টাকা। বাজেটের বাকি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ-গ্যাস-টেলিফোন বিল, চিকিৎসা সেবা, বিভাগীয় আপ্যায়ন ও সভা, পরীক্ষার খাতা, টিএডিএ, জ্বালানি তেল ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাধারণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে ব্যয় হবে। এবারের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় দেড় কোটি টাকা বাড়ছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ৬০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ৪১ কোটি টাকা নিজস্ব আয় ও ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘাটতি রেখে এই বাজেট করা হয়েছে। নিজস্ব আয়ের মধ্যে ছাত্রদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে ফি আদায় করা হবে ১৬ কোটি ৫০ লাখ, দালানকোঠা ও ভূসম্পত্তি থেকে ৮ কোটি ৮২ লাখ এবং বিবিধ দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অধিবেশনে সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আদর্শিক ও প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার আদর্শিক ও প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।
চবি’র ২৯৫ কোটি টাকার বাজেট
চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) জন্য ২৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে বাজেট ঘোষণা করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে বাজেট ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা। ড. কামরুল হুদা বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছ থেকে ৪১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। ইউজিসি থেকে পাওয়া গেছে ২৭৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ আয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত বাজেট ছিল ২৭৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বরাবরের মতো এবারও বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন খাতে। এবার ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য এই খাতে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরে সংশোধিত বাজেট ছিল ছয় কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ভাতা ৫২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, শিক্ষা ও আনুষঙ্গিক খাতে ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সরবরাহ ও সেবা (সাধারণ) খাতে ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, মেরামত, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন খাতে তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং মূলধন মঞ্জুরি (সম্পদ সংগ্রহ ও ক্রয়) খাতে ছয় কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল, ডিন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সিকান্দার চৌধুরী, সিনেট শিক্ষক প্রতিনিধি ও শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সুলতান আহমদ, প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী, অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহসহ সিনেট সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট
জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ১৯তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে সিনেট হলে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সিনেটের অধিবেশনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ২৮৯ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ২৭৪ কোটি ৫২ লাখ ৯৬ হাজার টাকার রাজস্ব ও ১৪৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার উন্নয়ন বাজেট পেশ করা হয়, যা সিনেট কর্তৃক গৃহীত হয়। অধিবেশনে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, প্রফেসর ড. মশিউর রহমানসহ মোট ৫১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে হুইপ মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, মোঃ মোতাহার হোসেন এমপি, বেগম হেপী বড়াল এমপি, প্রফেসর ড. শরীফ এনামুল কবির, অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার (ময়মনসিংহ), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন খান, ড. ওয়াহিদুজ্জামান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্টামফোর্ড ভার্সিটির বাজেট
সম্প্রতি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর সভা কক্ষে শিক্ষা, গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও উন্নয়ন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ২০১৬-২০১৭ সালের বাজেট ঘোষণা করা হয়। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম এ হান্নান ফিরোজের সভাপতিত্বে বাজেট উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক লুৎফর রহমান। বাজেটে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফাতিনাজ ফিরোজ, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মাহাবুব আলম জাকির, ফারহানাজ ফিরোজ, প্রফেসর তালাল রহমান, ব্যারিস্টার এ কে এম ফারহান, রুমানা হক রিতাসহ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদ, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কে মউদুদ ইলাহী, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মতিন এবং ডিরেক্টর ফিন্যান্স মোঃ জহিরুল হক খান।
জাবিতে ২৩২ কোটি টাকার বাজেট
২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য ২৩২ কোটি ৫ লাখ টাকার বাজেট পাস করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সিনেট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ বাজেট পাস করা হয়। এতে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল খায়ের ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ২০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য ২৩২ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাবিত মূল বাজেট উপস্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। উত্থাপিত বাজেটে দেখা যায়, ২১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আসবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মূল বাজেটের বার্ষিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর মোটঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অধিবেশনে সিনেট সদস্যরা উপাচার্যের ভাষণ ও কোষাধ্যক্ষের উত্থাপিত বাজেটনিয়ে আলোচনা করেন। এটি পরিচালনা করেন সিনেটের সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ