বিশেষ খবর

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল -২৯

ক্যাম্পাস ডেস্ক বিশেষ নিবন্ধ

॥ পূর্ব প্রকাশিতের পর -২৯॥
॥পর্ব ৫॥
মেডিটেশন ও মাইন্ড কন্ট্রোল
MEDITATION এর বাংলা অর্থ ধ্যান, আরবিতে বলা হয় মোরাকাবা। শরীরকে শিথিল করে মনের গভীরে প্রবেশ, অতঃপর অবচেতন মনের অসীম শক্তিকে ব্যবহার করে নিরাময়, সুস্বাস্থ্য, সাফল্য, অর্থবিত্ত, বিদ্যা-বুদ্ধি, যশ-খ্যাতি ও ক্ষমতা অর্জনের জন্য বিজ্ঞানসম্মত মাধ্যম হচ্ছে ধ্যান। ধ্যান ছাড়া প্রকৃত ও মৌলিক জ্ঞানার্জন সম্ভব নয়, তাই ধ্যানই জ্ঞান। ধ্যানের মাধ্যমে দেহ শিথিল হলে ব্রেন তরঙ্গ আলফা লেভেলে চলে আসে; ব্রেনের ডান বলয় সজাগ হয়ে ওঠে। শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দের ফলে কমে আসে মানসিক চাপ, টেনশন, উৎকন্ঠা, ভয়, রাগ, ক্ষোভ, রক্তচাপ। মনে জাগে একাগ্রতা, আনন্দ ও প্রশান্তি। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কমবেশি সৃজনীশক্তি থাকে। কিছু বিষয়ের নিরন্তর চর্চার মাধ্যমে অন্তর্নিহিত এ সৃজনীশক্তিকে সহজেই সৃষ্টিকর্মে লাগানো যায়। যেমন মানবিক গুণাবলি অর্জন, প্রাকৃতিক ও প্রকৃত হওয়া, টেনশন ফ্রি বা মানসিক চাপমুক্ত ও ভারমুক্ত থাকা, দায়িত্ববোধ সম্পন্ন হওয়া এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকা, হিংসা-ক্রোধ-লোভ-পরনিন্দা-পরচর্চা-অহংকার পরিহার, নিজের মধ্যে সত্য-ন্যায়-ভালোবাসা ও প্রেম জাগ্রত করা, সর্বোপরি স্রষ্টার প্রতি সার্বক্ষণিক সুদৃঢ় ও সরল বিশ্বাস। এসব গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজের মধ্যে তৈরি হয় আস্থা বা আত্মবিশ্বাস, বিকশিত হয় ব্যতিক্রমী বিশেষ এক শক্তি; ইংরেজিতে যাকে বলে ‘অঁৎধ’, আরবীতে ‘নূর’, বাংলায় ‘জ্যোতি’ বা ‘আলো’। যে আলোয় আলোকিত হলে মানুষ পরিণত হয় বিশেষ মানুষে, ঐ মানুষের চিন্তার পরিধি প্রসারিত হয়ে যায় বলে সে নিজকে নিবেদিত করে দেয় আপামর মানুষের সেবায় তথা সৃষ্টির কল্যাণে। এতে একদিকে তার আত্মার প্রশান্তিলাভ ও জীবনের লক্ষ্য অর্জিত হয়, অন্যদিকে স্রষ্টা কর্তৃক পৃথিবীতে তাকে প্রেরণের উদ্দেশ্যও সার্থক হয়। এসব গুণ ও বৈশিষ্ট্য অর্জন কারো কারো জন্য সহজ নাও হতে পারে। তবে নিয়মিত চর্চায় অভ্যাসে পরিণত করার মাধ্যমে একবার আয়ত্তে এসে গেলে জীবনটা এমনই ভারমুক্ত-সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে যায় যে, নিজের অন্তরে সর্বদাই আনন্দানুভূতি বিরাজ করতে থাকে। সুস্থ-সহজ-সরল-সবল সেই মনোজগতে তখন সবই ভালো লাগে। সবকিছুর সাথে মনের অফলঁংঃসবহঃ থাকার ফলে অসুখ-বিসুখ, প্রতিকূল বা নেতিবাচক পরিস্থিতিতেও বিচলিত বা বিব্রত হতে হয় না। ধীর-স্থির, দৃঢ় ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তির কাছে যেকোনো প্রতিকূলতা শেষতক অনুকূল ও ইতিবাচক হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ইতিবাচক শক্তি ও মননের এ মানুষটি সব পরিবেশকে নিজের বশীভূত করে বলে ওঠে ‘আমার এ পৃথিবী, আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব, যা ইচ্ছা তাই করব’। সরল চিন্তা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রকৃতি ও স্রষ্টার মহাশক্তির সাথে নিজকে সংযোগ বা অষরমহ করে আত্মশক্তি বৃদ্ধি করা যায়। তাই ‘সরল চিন্তা’ জীবন যুদ্ধের জ্বালানীরূপে কাজ করে, যে ‘জ্বালানী’ সর্বদাই শক্তিতে পরিণত হয়ে লক্ষ্য অর্জনকে করে তোলে সহজ ও নিশ্চিত। এজন্যই বলা হয়, ণড়ঁৎ ঃযড়ঁমযঃ রং ুড়ঁৎ বহবৎমু ধহফ বহবৎমু রং ঃযব ঢ়ড়বিৎ. ধ্যান বা মেডিটেশনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও মানবিক গুণাবলি অর্জন এবং সত্য ও ন্যায়ের পতাকা উড্ডীন তথা ইতিবাচক ও কল্যাণ মানসিকতা অর্জন খুবই সহজ। ইতিবাচক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি জীবনকে আনন্দময় করে তোলে, সুস্থতা ও শতায়ু লাভের পথকে করে সহজ।
মেডিটেশন করবেন কীভাবে
মেডিটেশনের প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে ব্রেনকে আলফা লেভেলে নিয়ে যাওয়া। বিভিন্ন টেকনিক অবলম্বনে আলফা লেভেলে পৌঁছা যায়। যেমন ডীপ ব্রিদিং বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে, কাউন্ট ডাউন করে (থ্রি টু ওয়ান মেথড বা টেন টু ওয়ান মেথড) অথবা মনের আইডিয়াল প্লেস অব রিলাক্সেশনে গিয়ে ইত্যাদি। এভাবে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ব্রেনকে বারংবার আলফা লেভেলে নিয়ে যেতে থাকলে এবং দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে থাকলে মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। একবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তারপর প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বা মাঝে মধ্যে ব্রেন ও মনের এ লেভেলে বিচরণ-চর্চা অব্যাহত রাখলে মানুষ দুশ্চিন্তামুক্ত, হতাশামুক্ত, সুস্থ ও উদ্যমী থাকে। এদের আত্মিক উন্নতি হয়, দৃষ্টিশক্তি হয় প্রখর, চিন্তাশক্তি হয় গভীর, তীক্ষè হয় শ্রবণশক্তি, স্মরণশক্তি বাড়ে, বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, অনাকাক্সিক্ষত অভ্যাস বর্জনে সহায়ক হয়। এদের ধৈর্য ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে, জীবন হয় চিরসবুজ। এরা দীর্ঘায়ুলাভ করে এবং হয়ে ওঠে অন্যের নিকট আকর্ষণীয়, অনুকরণীয় ও বরণীয়। নিয়মিত ধ্যানচর্চায় এরা এক সময় প্রোএকটিভ বা বিশেষ মানুষ তথা উন্নততর মানুষে পরিণত হয়। এদের নিকট তখন কোনো কিছুই অসম্ভব বলে মনে হয় না। প্রথমে নিজের ওপর, তারপর অন্য মানুষের ওপর এবং অতঃপর অন্য প্রাণির ওপর, উদ্ভিদের ওপর, শেষতক জড় পদার্থের ওপর এরা প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সহজেই কাক্সিক্ষত সাফল্যলাভে সক্ষম হয়। এরূপ মানুষ কারো কোনো ক্ষতি করে না, করতে পারেও না। ব্রেনকে পজিটিভ চিন্তা ও ধারণা সম্পর্কে কমান্ড দিতে দিতে ভালোমানুষী এমনিভাবে লালিত হয়ে যায় যে, তখন অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা মনেই আসে না। মনের এ লেভেলে কারো ক্ষতির চিন্তা করলে তখন তার ক্রিয়েটিভ লেভেল নষ্ট হয়ে যায়। উন্নত দেশের ততোধিক সুউন্নত মানুষরা মন ও মস্তিষ্কের এ চর্চায় ক্রমান্বয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। তাই হিলারী ক্লিনটনের মতো প্রচন্ড কর্মব্যস্ত ব্যক্তিত্বরাও দৈনিক অন্তত ১৫ মিনিট ধ্যানচর্চা করেন। দুঃশ্চিন্তামুক্ত, মানসিক চাপমুক্ত-ভারমুক্ত, সুখময়-আনন্দময়, সৃজনশীল-সুস্থ-সমৃদ্ধ জীবন গঠন ও লালনে আপনিও করতে পারেন ধ্যানচর্চা।
মেডিটেশন বা ব্রেন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহ সুস্থ থাকে যেভাবে
কারো সাথে দেখা হলে ‘কেমন আছেন’ প্রশ্ন আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি। এ প্রশ্ন যেমন কেবল করার জন্যই করা হয়, তেমনি কখনো কখনো এর মধ্যে আন্তরিকভাবে কুশল জানার ব্যাপারও থাকে। অথচ আমরা কিছু না ভেবেই এর দায়সারা জবাব দেই, যেমন ক) ভালো নেই, খ) বেশি ভালো নেই, গ) আছি কোনো রকম, ঘ) কাটছে একরকম, ঙ) এই বেঁচে আছি আর কি, চ) আছি মোটামুটি ইত্যাদি। একটা কিছু জবাব দিতে হয়, তাই এসব বলা। কিন্তু এরূপ নেতিবাচক জবাব দিয়ে যে কত ক্ষতির বীজ বপন করছি, তা বুঝলে কখনোই কেউ এমন বলত না। এবার একটু গভীরে যাওয়া যাক। আপনি সুস্থ। দৈনন্দিন প্রয়োজনে আপনি বাড়ির বাইরে বের হয়েছেন সকাল বেলা। পথে নামতেই পরিচিত কারো সাথে দেখা। কেমন আছেন? আপনার জবাব আছি কোনোরকম, আর থাকা! এভাবে সারাদিনে যতজন এ প্রশ্ন করলো, সকলকেই এমন জবাব দিতে থাকলেন।
শারীরিক ও মানসিক সার্বিকভাবে সুস্থ বলেই কিন্তু আপনি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। এটি আপনি যেমন জানেন, তেমন আপনার ব্রেনও জানে। উক্ত প্রশ্নের নেগেটিভ জবাব দেবার আগ পর্যন্ত আপনার ব্রেন জানে যে দেহের সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, দেহ সুস্থ। আপনি যখন প্রথমবার বললেন ভালো নেই, তখন সে তথ্যকে আপনার ব্রেন হয়ত খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। কিন্তু একই কথা যখন বারবার কানের মাধ্যমে ব্রেনে পৌঁছবে, তখন ব্রেন নিজ কোষে লিপিবদ্ধ তথ্যের সাথে তা মিলিয়ে দেখবে এবং আপনার তথ্যের সাথে তার তথ্যের অমিল পাবে। একটু আগ পর্যন্ত ব্রেন জানত যে, আপনার দেহের সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণে এবং সবই ঠিক আছে। কিন্তু ‘ভালো নয়’ এ তথ্য যখনই বারংবার ব্রেনে পাঠাতে থাকবেন, তখন ব্রেন বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। নিজের ওপর আস্থা কমে শরীরের ওপর ব্রেনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। একসময় সে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে আপনার দেয়া তথ্যটাকেই গুরুত্ব দেবে বেশি, কারণ দেহের বাইরের কোনো কিছুতেই ব্রেনের নিয়ন্ত্রণ নেই। আর ভালো বা খারাপ লাগার অনুভূতির ব্যাপারটিতো নিয়ন্ত্রণ করে মন। আপনি নিয়ন্ত্রণ করেন আপনার মন, আর মন নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ব্রেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেহের বাইরের কার্যক্রম ও অনুভবের ব্যাপারগুলোতে ব্রেন নিজের লিপিবদ্ধ তথ্যকে পাল্টে আপনার দেয়া তথ্যমতো লিখবে ‘নিশ্চয়ই দেহের কোথাও এমন খারাপ কিছু হয়েছে, যা আমি (ব্রেন) দেহের ভেতর থেকে বুঝতে পারছি না। কিন্তু দেহের মালিক তা বুঝতে পেরে অনবরত সেটিই বলে যাচ্ছেন। আর আমি বার বার দেহের ভেতরের সব স্থানে খোঁজ খবর নিয়েও কিছুই ধরতে বা বুঝতে পারলাম না বিষয়টা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু। সুতরাং আমার যিনি মালিক, তার দেয়া তথ্যানুসারেই আমি আমার সার্বিক তথ্যকে পরিবর্তন করে নিলাম, আমি এখন সম্পূর্ণ সৃস্থ নই, কোথাও কোনো না কোনো অসুবিধা আছে, যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’ সকালে আপনি বেশ সুস্থ শরীর নিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এখন যেন কেমন দুর্বল দুর্বল ঠেকছে, শরীরটা একটু একটু করে খারাপ লাগতে শুরু করছে। আপনি যখন বাড়ি ফিরবেন তখন নিজেকে মনে হবে উদ্যমহীন, দুর্বল, অবসন্ন, ক্লান্ত-শ্রান্ত। কথায় কথায় ‘ভালো নেই’ বলা যখন আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস হয়ে যাবে, তখন আপনি বিষণœ অনুভব করবেন এবং প্রায়ই অসুস্থবোধ করবেন। আপনার কথামতো ‘ভালো নেই’ তথ্য দৃঢ়ভাবেই আপনার ব্রেনে লিপিবদ্ধ হয়ে যেতে যেতে একসময় চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। ফলে আপনার ব্রেন সেভাবেই তৈরি করে নেবে দেহটাকে। সবসময় ‘ভালো নেই’ বলার কারণে ব্রেনের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ করার ইচ্ছাও কমে যেতে থাকবে। ব্রেন তখন ভাববে ‘অসুবিধাগুলো যখন কেবল মালিকই বুঝতে পারছে, তখন তা দূর করার জন্য নিশ্চয়ই মালিক সচেষ্ট হবে।’ অথচ বাস্তবেতো আপনি তা করছেন না। দেহকে সার্বিকভাবে সচল ও সুস্থ রাখতে দেহাভ্যন্তরে নিঃসৃত হরমোন প্রবাহকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখা দরকার এবং সেটি করে ব্রেন। কিন্তু আপনি ব্রেনকে স্বাধীনভাবে সেটি করতে দিচ্ছেন না। চিরস্থায়ী এক নেতিবাচক মনোভাব দিয়ে ব্রেনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছেন। এতে দেহের ভেতর সব ধরনের হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘিœত হয়ে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। হরমোন প্রবাহের তারতম্যের কারণে দেহের নানা অংশের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আপনি আস্তে আস্তে একসময় বেশ পীড়িত হয়ে পড়বেন এবং তা কেবল আপনার অনুভবেই ধরা পড়বে। ব্রেনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘেœ চলতে না পারায় আপনার দেহ রোগজীবাণু দ্বারা বাহির থেকে সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যাবে। বছরের বেশিরভাগ সময় আপনি কোনো না কোনোভাবে অসুস্থবোধ করবেন। জীবন চলার পথ সাবলীল না হয়ে বরং হয়ে উঠবে কষ্টকর অনুভবের বোঝা। এ অসুস্ততা আপনার নেতিবাচক চিন্তা ও কথা থেকে সৃষ্ট। সত্যিকারভাবে সুস্থ থেকেও তা আড়াল করে নিজের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে তুলেছেন আপনি নিজেই। নিজের সমস্যা নিজেই তৈরি করেছেন। তাই এমন মনোভাব থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট হোন। সবসময় ‘ভালো আছি’ অথবা ‘পূর্বের চেয়ে ভালো আছি’ (ইবঃঃবৎ ঃযধহ নবভড়ৎব) বলুন। আপনি অবশ্যই লাভবান হবেন।
এখন থেকে যা বলবেন ও করবেন
১। খুব অসুস্থ না থাকলে দ্বিধাহীনভাবে সরাসরি বলুন, আমি ভালো আছি বা আমি ভালো।
২। অসুস্থ থাকলেও বলুন ভালো হচ্ছি, ভালো হব এবং আগের চেয়ে ভালো।
৩। যখন যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন, সেটির মধ্যেই পজিটিভ বা সুখটাকে খুঁজুন এবং সেটিতেই নিজেকে সুখী ভাবুন, সন্তুষ্ট থাকুন।
৪। কোনোকিছু জটিলভাবে দেখবেন না। এতদিন যে দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখুন না কেন, এখন থেকে সবকিছু সহজ-সরলভাবে দেখার মানসিকতা তৈরি করুন।
৫। সুস্থ ও ভালো থাকার জন্য এবং তা বলতে পারার মানসিকতার জন্য প্রথমে সৃষ্টিকর্তাকে এবং তারপর নিজেকে ধন্যবাদ দিন।
৬। কিছু প্রত্যাশা করার বা পাবার পূর্বে ভাবুন, আপনি আপনার পক্ষ থেকে অবলীলায় কতটুকু দিতে পেরেছেন।
৭। আপনার ধারণার চেয়ে মানসিকভাবে আরো বড় ভাবুন আপনাকে।

এখন থেকে যা একেবারেই করবেন না
১। বেশি ভালো নেই, আছি কোনোরকম, কাটছে একরকম, আর ভালো থাকা, যা দিনকাল পড়েছে তাতে কি ভালো থাকা যায়! বেঁচে আছি আর কি ইত্যাকার নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির কথাবার্তা একেবারেই বলবেন না।
২। বিনয়ী হওয়া ভালো, তবে অতি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজেই নিজের সমস্যা হয়ে দাঁড়াবেন না।
৩। অন্যের কোনো সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হবেন না, সে সাফল্য তার নিজের একান্ত চেষ্টার ফল।
৪। আপনার নিজের অতীত ব্যর্থতার কথা মনে আনবেন না কখনো বরং আপনার যেকোনো সাফল্যের কথা ভাবুন, তা যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন।
৫। ব্যর্থতা বা না পাওয়ার জন্য নিজের বিশ্লেষণ করবেন না, আবার চেষ্টা করুন। কিছুতেই নিরাশ হবেন না।
৬। আপনার কী নেই, তা না ভেবে বরং খুঁজে বের করুন আপনার কী কী আছে।
আসুন, এখন থেকে অবলীলায় বলি ভালো আছি, ভালো থাকব।

মেডিটেশনের মাধ্যমে হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ন্ত্রণ
হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। গত শতকের শেষ ভাগে বিশ্বজুড়ে নানা গবেষণার ফলে বিভিন্ন প্রাণঘাতি রোগ বিশেষত হৃদরোগের সঙ্গে স্ট্রেসের সংযোগের বিষয়টি এখন স্পষ্ট। ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর ডাঃ মেয়ার ফ্রেডম্যান ও ডাঃ রে রোজেনম্যান গবেষণার পর দেখান হৃদরোগের সঙ্গে অস্থিরচিত্ততা, বিদ্বেষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বা নেতিবাচক জীবন পদ্ধতির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য চাই মানসিক প্রশান্তি ও সঠিক জীবনদৃষ্টি। আর মানসিক প্রশান্তি ও চাপমুক্ত জীবনের জন্য মেডিটেশনের ভূমিকা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আমাদের দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নিয়মিত প্রার্থনা ও মেডিটেশন করা উচিত। চাপমুক্ত জীবনযাপন, মানসিক সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য রিলাক্সেশন বা শিথিলায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি এখন প্রমাণিত সত্য যে, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় দু’ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখে মেডিটেশন। রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল হার্ট এটাকের অন্যতম কারণ। অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে মেডিটেশন। মেডিকেল কলেজ অব জর্জিয়ার গবেষক বার্নেস ১১১ জন তরুণের ওপর গবেষণার পর বলেন কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ ব্যবহার করে যে ফল পাওয়া যায়, সে একই ফল পাওয়া সম্ভব মেডিটেশনে।
শুধু তাই নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে মেডিটেশনের ভূমিকার সত্যতা এখন স্থান পাচ্ছে কার্ডিওলজির প্রধান প্রধান পাঠ্য বইগুলোতেও। যেখানে বলা হচ্ছে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস শরীরের ব্যথা বেদনা ও দুশ্চিন্তা দূর করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এ পদ্ধতিতে মানসিক চাপ কমে এবং রোগ নিরাময় হয়। এছাড়া মেডিটেশন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতাও বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন করুন। আর তা সম্ভব নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যানমগ্নতায়। কারণ মেডিটেশন একটি সাধন পদ্ধতি; নিজের ভেতরের শক্তি কাজে লাগানোর জাদুকরী গুণ। দৈনিক ৩০ মিনিট মেডিটেশন আপনাকে বেঁধে রাখবে সুস্থ জীবনে, প্রশান্তি হবে আপনার নিত্যসঙ্গী। অযাচিত সব দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক সরে যাবে দূরে। আপনি হয়ে উঠবেন সুস্থ, প্রাণবন্ত এক নতুন মানুষ।
জীবনকে উপভোগ করতে এরূপ আত্মোন্নয়ন-চর্চায় আগ্রহী হলে মাসের ১ম ও ৩য় শনিবার ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আসুন। বিনামূল্যে পরিচালিত ধ্যান বা মেডিটেশন কর্মসূচিতে অংশ নিন। হতাশামুক্ত, উদ্যমী, কর্মযোগী, উচ্ছল-উজ্জ্বল, আলোকিত জাতি গড়ার লক্ষ্যে ক্যাম্পাস বিনামূল্যে এ সার্ভিস প্রদান করছে দীর্ঘদিন থেকে। অতীতের দুঃখ-হতাশা ঝেড়ে ফেলে নবোদ্যমে জীবন রাঙাতে, জীবনকে ভেঙে নতুন করে গড়তে, আপনার নিজের ভেতরের আপনাকে নিত্য-নবরূপে আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দানে সদা প্রস্তুত আমার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র (সিএসডিসি)। ক্যাম্পাস’র এসব কর্মসূচিতে যোগ দিলে দেখবেন, অল্পদিনেই আপনি হয়ে উঠছেন কেমন প্রোএকটিভ ও ডায়নামিক বিশেষ মানুষ; আপনার নানা সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রতিভাদীপ্ত সম্ভাবনার দ্বার আপনি নিজেই উন্মোচন করে ফেলছেন। দেখুন, আপনার জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ কত অবারিত ও উন্মুক্ত। এরূপ সত্য ও সুন্দরের পথে স্বাগত।
চলবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ