বিশেষ খবর

রাজউক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিবেদন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২৮ আগস্ট রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সততা ও নীতিনিষ্ঠায় প্রোজ্জ্বল গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর সুদক্ষ ও কর্মযোগী চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউক’র কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ চিত্রের প্রর্দশনী এবং রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রচনা প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাব্বির হোসেন ১ম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব নাগ ২য়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল ইসলাম ৩য় ও ইউডা’র সুরভী আক্তার ৪র্থ স্থান লাভ করেন। বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এরপর শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব। প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দের বক্তৃতার উল্লেখযোগ্য অংশ নিম্নে সন্নিবেশিত করা হলো।
প্রধান অতিথি গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের স্থপতি। ‘বাংলাদেশ’ তিনি নির্মাণ করেছেন তাঁর জীবন ও সংগ্রাম দিয়ে। মূলতঃ ’৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৪৮-৪৯ সালে দলগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে তাঁর রাজনৈতিক বলিষ্ঠতা প্রকাশ পায় আর ’৭০এর নির্বাচনে তিনি লাভ করেন মানুষের ভালোবাসার স্বীকৃতি। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ দেয়া পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় ভাষণটি তাঁকে অমর করে তোলে। এই একটি ভাষণের মধ্য দিয়েই তিনি ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের অভুদ্যয় ঘটান, হয়ে ওঠেন অবিসংবাদিত নেতা। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় ‘বাংলাদেশ’ নামক স¦াধীন রাষ্ট্র, যা বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি। গণপূর্তমন্ত্রী আরো বলেন, পরাজিত অপশক্তি কিন্তু তাদের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা অপেক্ষা করেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সেই অপশক্তি তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে তাদের জিঘাংসা মিটিয়েছে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হয়েছেন, কিন্তু তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার হত্যাকারীদের বিচার করে শাস্তি দিয়েছেন। আমেরিকার মতো পরাশক্তি এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের অনুরোধেও ঘাতকদের শাস্তি দিতে তিনি পিছপা হননি। তিনি তাঁর পিতার মতোই সিদ্ধান্তে অটল। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য অগ্নিকন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে তাঁর পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে দিবানিশি কাজ করে যাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে দেশের মানুষ তাঁকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি বাংলাদেশেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছেন। আগামীতে তাঁর নেতৃত্বে এদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে এটাই আপামর জনসাধারণের বিশ্বাস।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে শাহাদাত বরণ করেন। যারা এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, তাদেরকে ঘৃণাভরে ধিক্কার জানাই এবং বিচার দাবি করি। সেইসাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সকল শাহাদাত বরণকারীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি। ইতোমধ্যে অনেকের বিচার হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে অনেকের ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদন্ডও কার্যকর হয়েছে। যাদের শাস্তি এখনো কার্যকর হয়নি, তাদেরও শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে- জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের আত্মত্যাগকে শক্তি হিসেবে নিয়ে আমাদের শোককে বজ্রশপথে পরিণত করতে হবে উন্নত দেশ ও জাতি গঠনের লক্ষ্যে। তিনি আরো বলেন- দার্শনিক হেগেলের মতে, মানুষের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে ‘রাষ্ট্র’। আর আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। বঙ্গবন্ধু ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের অমর স্রষ্টা। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর নামও বাংলাদেশের সাথে থাকবে। কেউ কোনোদিন তাঁর নাম মুছে ফেলতে পারবে না, বাংলাদেশের সাথে তাঁর নামও উচ্চারিত হবে চিরদিন। উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করেছে, তাদের নাম একদিন কেউ মনে রাখবে না। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ আর বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর-চিরপ্রোজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার আদর্শ ও ডায়নামিক নেতৃত্বে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়ন ও অগ্রগতির বেগবান ধারায়।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, জাতির জনকের নাম আজ সারা বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত। তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। বাংলাদেশ নামক মহাকাব্যের অমর কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে ঘাতকরা হত্যা করলেও শেষ করতে পারেনি তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ। ৭ই মার্চের ভাষণ আজ আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু তাই সমার্থক। 
রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ
অনুষ্ঠানের সভাপতি বহমুখী প্রতিভার ও বর্ণিল গুণাবলীর কর্মযোগী, রাজউক’র ডায়নামিক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকীতে সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্রষ্টা। বাংলাদেশের নামের সাথে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম।
তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ এখন ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। এরপর ড. সুলতান আহমেদ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি গভীর ব্যঞ্জনাময় কবিতা পাঠ করেন। পাঠশেষে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু’র সুযোগ্য উত্তরসূরি বিশ্বনন্দিত জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত দেশে পরিণত হবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ