বিশেষ খবর

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার অডিটোরিয়ামে ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস ফর লিডারশিপ কোর্সের সনদ বিতরণে গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

ক্যাম্পাস ডেস্ক ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠান
img

গত ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ক্যাম্পাস পরিচালিত ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স ফর লিডারশিপ এর ২৫তম ব্যাচের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাজ্ঞ-চৌকস ও প্রখ্যাত আইনবিদ, সততা ও নীতিনিষ্ঠায় প্রোজ্জ্বল, বার কাউন্সিল ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এর মহাসচিব ড. এম হেলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সরকারের সাবেক সচিব খন্দকার রাশেদুল হক; সরকারের অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ-দৌলা; ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার-প্রেসিডেন্ট লায়ন আফরোজা বেগম হ্যাপী; সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশ্বব্যাংক বিষয়ক কনসালটেন্ট এবং ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ফ্যামিলি লাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের; শিক্ষানুরাগী ড. মোঃ শরীফ আব্দুল্লাহ হিস সাকী; এডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্যা; এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী; লায়ন মোঃ আবদুর রশিদ; ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স এর রিসোর্স পারসন এডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেয়া হয় এবং উপহার হিসেবে অর্পণ করা হয় ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মোন্নয়ন ও জাতি জাগরণমূলক বিভিন্ন বই; ক্যাম্পাস’র নিজস্ব গবেষণায় প্রকাশিত দেশোন্নয়নের ২টি মডেল, বিভিন্ন সিডির সেট ও স্যুভেনির।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী; আর্তমানবতা-জনকল্যাণ ও সমাজসেবায় উৎসর্গীকৃত; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; উদার ও কল্যাণকামী রাজনীতিক শ ম রেজাউল করিমকে ক্যাম্পাস’র সম্মাননা ক্রেস্ট অর্পণের মাধ্যমে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন সিএসডিসি’র মহাসচিব ড. এম হেলাল। এরপর প্রধান অতিথিকে ক্যাম্পাস’র সবুজ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে জীবন্ত সবুজ গাছ অর্পণ করা হয়।
নীতিনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ গুণাবলীর ব্যক্তিত্ব এডভোকেট রেজাউল করিম এর মেধা, শ্রম, সময় ও কর্ম এ দেশকে উন্নত দেশ এবং এ জাতিকে বিশ্বশীর্ষ জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করবে -এ প্রত্যাশায় এবং তাঁর বিজয় আনন্দের অংশীদার হিসেবে তাঁকে ক্যাম্পাস’র বিশেষ সম্মাননাপত্র অর্পণ করেন সম্মিলিতভাবে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
এরপর মাননীয় প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এর সদ্য প্রয়াত পিতা এবং এডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্যা এর সদ্য প্রয়াত মাতার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া পাঠ করা হয়। দোয়াপর্ব পরিচালনা করেন ক্যাম্পাস’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক কামাল হোসেন। ইংলিশ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশোন্নয়নে যোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে, সে কামনায় প্রধান অতিথি আশা-জাগানিয়া মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। এরপর সফল ট্রেইনীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। সনদ বিতরণ শেষে শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন- একটা মানুষের ভেতরে দুইটা রূপ থাকে; মনুষ্যত্ববোধ ও পশুত্ববোধ। যখন তার মনুষ্যবোধটা জাগ্রত হয়, তখন রাস্তায় পড়ে থাকা একজন মানুষকে দ্রুত তুলে নিয়ে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়; অসহায় মানুষকে নিজের খাবার থেকে ভাগ করে খেতে দেয়। অপরদিকে পশুত্ববোধের ক্ষেত্রে ঘটে এর বিপরীত চিত্র। এই মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করতে হলে নিজেকে বলতে হবে- আমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আর যদি নিজেকে নিয়ে শুধু ভাবি, তাহলে আমি আফ্রিকা জঙ্গলের পশু। মানুষের সত্ত্বার জায়গাটা হচ্ছে তার মৌলিক সুকুমার বৃত্তি। এই বৃত্তিটাকে বৃহৎ করে বিত্তবান হতে হবে। এজন্য বলছি-‘বিত্তবান হতে হবে চিত্তে’।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনে মৃত্যু নিশ্চিত, শুধু সময়টা অনিশ্চিত। জীবনাবসানে অর্থাৎ পরজীবনে বিত্ত-বৈভব সঙ্গে যাবে না। বিত্ত যদি চিত্তে না হয়, তাহলে বাহ্যিক বিত্ত অর্থাৎ দালানকোঠা, টাকা-পয়সা ও সম্পদ এগুলো দিয়ে কিছু হয় না। কবরে যেতে হবে খালি হাতে, এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তারা কবরে টাকা পয়সা ধন-দৌলত কিছুই নিয়ে যেতে পারেননি। মৃত্যুর পর সবাই লাশ দাফনের অপেক্ষায় থাকে। লাশ নিয়ে কেউ থাকতে চায় না। যে স্ত্রী বা স্বামী বলে, তোমাকে ছাড়া আমি একদিনও থাকতে চাই না অথবা যে ছেলে বা মেয়ে বাবা-মাকে বলে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না; আপনি মারা যাওয়ার পর সেই আপনজনরাই বলে, এই মরা লাশ নিয়ে থাকতে পারব না। আপনার দেহের সবটুকু আছে শুধু প্রাণটা নেই, হৃদয়ে স্পন্দনটা নেই, এতটুকু পার্থক্যের সঙ্গে সঙ্গে আপনার পূর্ব পরিচিত একান্ত কাছের মানুুষজনের কাছে আপনি তখন মৃত লাশ, সবচেয়ে ভয়ের বিষয়। সেজন্য আমার আহ্বান রক্তমাংসের শরীর নিয়ে বড়াই করার কিছু নেই। মৃত্যুর পর তা মাটির সাথে মিশে যাবে; কিন্তু কীর্তি অবিনশ্বর। এজন্য মৃত্যুকে জয় করে নিতে হবে এবং তা সম্ভব হবে কেবলমাত্র অমর কীর্তির মাধ্যমে। ভালো কাজের মধ্য দিয়েই অমর হতে হয়। তাই যতক্ষণ বেঁচে আছি, ততক্ষণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।
মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, জীবনকে হতে হবে উজ্জীবিত। যে জীবনে গতি নেই, যে জীবনে উচ্ছ্বাস নেই, যে জীবনে রির্সাচ নেই, যে জীবন উৎসারিত হতে পারে না, উদ্বেলিত হতে পারে না -সে জীবন জড় পদার্থ। আমি যদি হাজার কোটি টাকার মালিকও হই, আমার পাকস্থলীতে যেটা ধরে এর বেশি খাবার খেতে পারব না। আমার যদি একশ তলা ইমারত থাকে, তাহলেও কিন্তু আমি একটা চৌকি ছাড়া একশ চৌকিতে ঘুমাতে পারব না; একশ তলার সবখানে একসাথে ঘুমানোর সুযোগ নাই। আমরা মনে করি, আমি একা সব করতে পারব। একজনকে যদি বলা হয় শব্দ করে এক হাতে তালি দেন, শত চেষ্টা করেও শব্দ হবে না। আপনার দুু’টি হাতকে একত্রে করে তালি দিলে শব্দ হবে। এক পা দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করে দেখেন হাঁটতে পারেন কিনা। একটা চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করে দেখেন পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারেন কিনা। সবকিছুতেই প্রয়োজন একটা সম্মিলিত প্রয়াস। জন্ম নেয়ার পর বাবা-মা এর হাত ধরে বাচ্চা হাঁটতে শেখে। সে সময়ে একটা হাতের সামান্য ছোঁয়া বাচ্চাকে অনেক বেশি সহায়তা করেছে। অর্থাৎ একটু ছোট্ট সহযোগিতা আরেকজনের অনেক বড় মঙ্গল বয়ে আনতে পারে।
মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাংলা গানে আছে- ‘মুখ দেখে ভুল করো না, মুখটা তো নয় মনের আয়না’। আমাকে আমার ভেতরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হবে, বাহ্যিক সৌন্দর্য চিরদিন থাকে না, একটি মেয়ে অপরূপ সুন্দর হতে পারে। একটি যুবক অসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারী হতে পারে। কিন্তু একদিন চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যাবে, তার কিছুদিন পর মুখে বলিরেখা দেখা দেবে। কিছুদিন পর মাথার চুল উঠে যাবে, তারপর একসময় চোখ গর্তে চলে যাবে; তবে যে সৌন্দর্য কখনো বিলীন হয় না, বরং দিনের পর দিন বাড়তে থাকে; সেই সৌন্দর্য হচ্ছে মনের সৌন্দর্য, সততার সৌন্দর্য, মূল্যবোধের সৌন্দর্য এবং নৈতিকতার সৌন্দর্য। এরূপ সৌন্দর্য্যপূর্ণ মানুষ হতে পারলে চেহারা কোনো বিষয় নয়। স্টিফেন হকিং বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী, নিজে কথা বলতে পারতেন না, মেশিন লাগিয়ে বুঝতে হতো তিনি কী বলতে চেয়েছেন। অথচ তিনি তাঁর বিস্ময়কর স্মৃতি রেখে যেতে পেরেছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে।
হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকও কিছু আবিষ্কার করতে পারবেন না, যদি তার ভেতরে আকাঙ্খা না থাকে, মৌলিকত্ব না থাকে, প্রত্যয় না থাকে, দৃঢ়তা না থাকে, অধ্যবসায় এবং গভীর মনোনিবেশ না থাকে। এগুলোর সমন্বয়ে মানুষ যদি এগিয়ে যায়, সাফল্য তার কাছে ধরা দিতে বাধ্য। আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেও বলেছি, এক পাই-পয়সা ঘুষ-দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। আমি বলেছি, আমার সন্তান ও স্ত্রীর জন্য ঘুষের টাকায় আহার সংগ্রহ করতে চাই না। তিনি আরো বলেন, আমার কাছে তদবীর করার আগে পুলিশকে আমি বলে দিয়েছি চালানটা আগে দেবেন। এটা আমার কড়া নির্দেশ ঝচ, উঈ, ঙঈ সকলের প্রতি।
মন্ত্রী বলেন, রাজউকে প্রথম দিনে এক কর্মকর্তার একটা ফাইল ছিলো আমার সামনে। আমি জিজ্ঞেস করলাম এটা কি? ওরা বললো, এটা প্রেষণে যাবার ফাইল। আমি বললাম, প্রেষণটা কি? ওরা বললো- প্রেষণতো অন্য দপ্তরের লোক আমাদের দপ্তরে কাজ করবে। উনি স্থাপত্য দপ্তরের। স্থাপত্য অধিদপ্তরে ৩ বছর চাকরি করেছেন, তারপর রাজউকে ১৩ বছর প্রেষণে। তিনি নাকি এত প্রতিভাবান তাকে ছাড়া রাজউক চালানো কঠিন। আমি বললাম- কেউ অনিবার্য নয়, তার প্রেষণ বাতিল করে দিলাম। আমি একটা এক্সিকিউটিভ অর্ডার করে দিলাম, প্রত্যেককে যার যার জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দিয়ে দিলাম। দায়িত্ব শেষ করার জন্য তারা দিনরাত কাজ করা শুরু করলেন। ১২ ঘন্টার মধ্যে যার যার দপ্তর ছেড়ে চলে গেলেন। রেকর্ড রুমে দেখলাম, রেজিস্ট্রার মুভমেন্ট নাই। ৭০০ ফাইল বাদে বাকী ফাইল নাই। আমি নির্দেশ দিলাম, যে ফাইল নেই সেই ফাইলের ছায়াকপি করতে হবে। তা না হলে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হবে। একটা নকশা পাসের জন্য আগে ১৬ জায়গায় যেতে হতো, আমি ৪ স্তরে নিয়ে এসেছি। আগে নকশা পাসের টাইম ছিল না, আমি টাইমফ্রেম করেছি সর্বোচ্চ ৫৩ দিন। আমরা সবকিছু অটোমেশন সিস্টেমে নিয়ে যাচ্ছি। সরকারের ও জনগণের কোনো কাজে গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি যদি ঘুষ না খাই, আমার উদ্দেশ্যে যদি সৎ থাকে, তাহলে কেউ কিছু করতে পারবে না। আমি যে কর্মযজ্ঞে নেমেছি, তা একটি কঠিন যাত্রা। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি আমার দপ্তরের চাপের কথা, সমস্যার কথা। তিনি বলেছেন, গো এহেড। আমার মতো শ ম রেজাউল করিমকে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কেবিনেটে মিনিস্টার করেছেন। এতবড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই জীবনে এটা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। এখন আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, আমার কাজ এখন শুধু দেয়ার। আসুন, সবাই মিলে এ দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলি, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
আমি নাগরিক সমাজের কাছে সহযোগিতা চাই। এই সমাজে দুর্নীতি করা লোকের সংখ্যা খুব বেশি না। অল্প কিছু মানুষের দুর্গন্ধে ভালো মানুষদের সুনাম দূরীভূত হবে। এজন্য দরকার সকলের সচেতনতাবোধ, সামজিক প্রতিরোধ। ঘবাবৎ পড়সঢ়ৎড়সরংব রিঃয ফরংযড়হবংঃু ধহফ পড়ৎঁঢ়ঃরড়হ. শ ম রেজাউল করিম বলেন- বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ রক্ত দিয়েছেন। ২ লক্ষ মা-বোন তদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তাঁদের অনেককে পাকিস্তানী জারজদের সন্তান গ্রহণ করতে হয়েছে। অনেকে আত্মঅভিমানে আত্মহত্যা করেছেন। অনেকে সমাজের বিদ্রুপের কারণে বাড়ি যেতে পারেনি। সে যদি আমার মা কিংবা বোন হতো, আমি কি তাকে তাড়িয়ে দিতে পারতাম! এজন্য মহান বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ধর্ষিতা অথবা যেসব শিশুর বাবার খবর নেই, তাদের বাবার নাম লিখে দাও শেখ মুজিবুর রহমান। যুদ্ধশিশুর পিতার নাম রাখো শেখ মুুজিবুর রহমান।
তিনি আরো বলেন- এদেশে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতারা এই জাতিকে হিমালয়সম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে যখন মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়, বলা হয়েছিলো- আপনার কবর খনন করা হয়েছে, এখন মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আপনার কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়া আছে কিনা? তখন বঙ্গবন্ধু বললেন, আমার একটা চাওয়া আছে। আমার লাশটা যেন দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এটাই হচ্ছে মহান মানুষের প্রাণের দৃঢ়তা। বঙ্গবন্ধুর হিমালয়ের মতো বিশাল হৃদয় ছিলো। তাঁর হৃদয় জুড়ে ছিলো মহানুভবতা-উদারতা। তিনি ছিলেন কালজয়ী মহাপুরুষ। তাঁকে আমাদের অনুসরণ করতে হবে।
তিনি বলেন- ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম দেখে আমি আপ্লুত হয়েছি, আমি মুগ্ধ হয়েছি। ক্যাম্পাস’র মতো আমাদের সবাইকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। আমরা শুধু মনে করি- সরকার সব করবে, তাতো ঠিক না। সরকার তো অশরীরী কেউ না, সরকার তো আপনার-আমার টাকায় চলে। আমি দেখলাম, নাগরিক দায়িত্ববোধকে সচেতন করার জন্য ক্যাম্পাস স্টিকার তৈরি করেছে। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন একটি বড় বিষয়। সামাজিক আন্দোলনে এগিয়ে আসা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। এসিড নিক্ষেপ একসময় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। সেগুলো আমরা দমন করতে পেরেছি। জঙ্গিদের এখন সবাই ঘৃণা করে। জঙ্গিদের লাশ নিজের বাবা-মাও দেখতে চায় না। তিনি বলেন, আদর্শ সন্তান তৈরি করতে হলে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব আছে। ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে সন্তানদের পেছনে। ব্যাংক-ব্যালেন্স কিন্তু আসল সম্পদ না, আসল সম্পদ আপনার সন্তান; যদি তাকে নৈতিকতা, সততা, মূল্যবোধ শেখানো হয়, তাহলে সে আদর্শ মানুষ হবে। তাই বিনিয়োগ করতে হবে সন্তানদের পেছনে।
তিনি বলেন, অনেকদিন পর ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে এসেছি। এখানে এসে আরেকটি জিনিস উপলব্ধি করেছি। সেটি হলো- আমরা বড় বড় অনুষ্ঠানে যাই, নিজেরাও অনেক অনুষ্ঠান আয়োজন করি; সেসব অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। এত ব্যয়ের মধ্যেও সেখানে থাকে কৃত্রিমতা। কিন্তু ক্যাম্পাস’র অনুষ্ঠানে এসে দেখলাম, ছোট্ট ছোট্ট সবুজ গাছ টবের মধ্যে লাগিয়ে টেবিল সাজানো হয়েছে। চারিদিকে গাছ-লতা-পাতার সমারোহ। আবার মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে, ছোট ছোট পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৃহৎ পরিকল্পনার আভাস দেয়া হয়েছে। এখানে অকৃত্রিম গাছের পাতাকে ছুঁয়ে মনে হলো, এখানকার সবকিছুই অকৃত্রিম এবং প্রাণবন্ত।
মন্ত্রী বলেন, আমার অনেক ভালো লেগেছে ক্যাম্পাস’র থিম সংটা; থিম সংটায় যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে এবং যারা গেয়েছেন তাঁদের বডি ল্যাংগুয়েজের যে দৃঢ়তা, উচ্ছ্বাস এবং আত্মপ্রত্যয় -তা অনেক মহীয়ান করে তুলছে থিম সংটিকে। ক্যাম্পাস’র থিম সংয়ে সুর আছে, চমৎকার মিউজিক আছে, সুুরের বেলায় যে তাল উত্থান-পতন থাকতে হয় সবকিছু আছে। তার চেয়েও অনেক বড় যা আছে, তা হলো মৌলিক কিছু কথা। এ সংটি দেশ ও জাতিকে সামনে এগিয়ে যাবার কথা বলে, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। সেজন্য আমার মনে হয়েছে, কথাগুলো অনেক বেশি দামী।
ক্যাম্পাস থেকে ইংলিশ কোর্স গ্রহণকারী ছেলেমেয়েরা আজ যে বক্তব্য রাখলো, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। এরা এতো চমৎকার বলেছে, তাদের বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ, শব্দচয়ন, বলার শুরু এবং শেষ, তাঁদের ভেতরে একটা অকৃত্রিম সহজাত একটা সংকোচবোধ লক্ষ্য করেছি; সংকোচবোধের ভেতর থেকেই প্রতিভাকে প্রস্ফূটিত করার জন্য তাদের একটা অদম্য ইচ্ছে ও প্রবণতা আমি লক্ষ্য করেছি। সবকিছু মিলে মনে হয়েছে, তাদেরকে নিয়ে ক্যাম্পাস’র যে কার্যক্রম, তাতে ক্যাম্পাস একটি শিক্ষা বিষয়ক ম্যাগাজিন থেকে শুরু হলেও এখন সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাস’র কর্ণধার ড. এম হেলাল বড় কোনো সাহায্য না নিয়েই ক্যাম্পাস’র এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আজকে ক্যাম্পাস সম্পর্কে আমার ধারণাটা আরো বেশি পরিবর্তিত হলো। আমাদের সকলকে ক্যাম্পাস’র কল্যাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। ড. হেলাল একা হলে হবে না। সকলকে ড. হেলাল হতে হবে। ক্যাম্পাস’র সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট, তাদের সকলের জন্য আমার শুভ কামনা। মন্ত্রী আরো বলেন- ক্যাম্পাস’র কর্ণধার ড. হেলাল আমার প্রিয় একজন মানুষ। তাঁর সাথে ২০ বছরের দীর্ঘ পরিচয়। তিনি একজন কাজপাগল কর্মব্যস্ত মানুষ। এই প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী কর্মযজ্ঞ নিয়ে তিনি সুদীর্ঘ ৩৭ বছর নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ ও জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে এবং শিক্ষা ও যুব-উন্নয়নে তাঁর অবদান অপরিসীম। জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ড. হেলাল এর ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় অবদান দেশ ও জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
সরকারের সাবেক সচিব খন্দকার রাশেদুল হক
সরকারের সাবেক সচিব খন্দকার রাশেদুল হক বলেন- আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম কিছুদিন আগে একটা কথা বলেছিলেন, আমার জীবনে আর কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। আমাকে আল্লাহ মন্ত্রী করেছে, আমি এখন শুধু মানুষের সেবা করে যেতে চাই। আমি তখন তাঁকে বলেছি- আপনি যদি সত্যিকারভাবে চান, তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার অবস্থান থেকে জনমানুষের সেবা করতে পারবেন। সমাজে আপনার যে পরিচিতি, আপনার যে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর, সবকিছু মিলিয়ে আপনার প্রতি আমাদের আশার সঞ্চার হয়েছে। আপনি একজন সৎ মানুষ। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো শক্ত প্রতিষ্ঠানের গুরুদায়িত্ব আপনাকে দিয়েছেন। তিনি এটা জেনে-বুঝেই দিয়েছেন। কেননা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো ঘুষ ও দুর্নীতি অনিয়মের আখড়া এই মন্ত্রণালয়কে পরিশুদ্ধ করতে হলে সৎ, ন্যায়-নীতিনিষ্ঠ একজন কঠোর মানুষকেই তা করতে হবে। আপনি নির্ভীক চিত্তে আপনার সাহসী কার্যক্রম চালিয়ে যান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং এদেশের জনগণ আপনার সাথে আছে।
সরকারের অতিঃ সচিব রোকন উদ-দৌলা
ক্যাম্পাস সততা পুরস্কারে ভূষিত, সরকারের অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ-দৌলা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’র কাছে আমি বহুভাবে ঋণী। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আমাকে প্রথম সততা পুরস্কার দিয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে ক্যাম্পাস’র কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রধান অতিথি করে আমন্ত্রণ করেছিল। আমি কৃতজ্ঞ ক্যাম্পাস’র কর্ণধার ড. এম হেলালের কাছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’র সামাজিক আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, এবং ভেজাল বিরোধী আন্দোলন ইত্যাকার নানাবিধ জাতীয় আন্দোলনের জন্য শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানাই। আমি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’র উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি। ক্যাম্পাস’র লক্ষ্য ও আদর্শ সারা দেশ ও বিশ্বে ছড়িয়ে পড়–ক। সারাদেশ ও বিশ্ব ক্যাম্পাস’র আলোয় আলোকিত হোক।
তিনি বলেন- আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এর প্রতি শ্রদ্ধাবশত শত ব্যস্ততার মাঝেও আজ ছুটে এসেছি। মাননীয় প্রধান অতিথিকে কৃতজ্ঞতা জানানোর কারণও আছে। তিনি যখন পূর্তমন্ত্রী হলেন, তখন আমার একটা বদলীর আদেশ ছিলো পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে; কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী আমাকে যে মূল্যায়ন করেছেন, সেটা সারাজীবন আমার মনে থাকবে।
লায়ন আলহাজ্ব মোঃ আবদুর রশিদ
উদারপ্রাণ সমাজসেবী লায়ন আলহাজ্ব মোঃ আবদুর রশিদ বলেন, আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত এবং অভিভূত হয়েছি। জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ক্যাম্পাস’র যে প্রচেষ্টা তা এদেশে বিরল। ক্যাম্পাস’র ছোট পরিসরে এই অনুষ্ঠান করার যে চমৎকার ব্যবস্থাপনা, তা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ক্যাম্পাস’র ব্যবস্থাপনা থেকে শিখে নিয়ে আমি আমার আগামী কর্মকান্ড পরিচালনা করবো। আমি ক্যাম্পাস’র মহতী কার্যক্রমে সহযোগিতা হিসেবে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেব, যাতে ক্যাম্পাস তার অভীষ্ট লক্ষ্যে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
লায়ন আফরোজা বেগম হ্যাপী
ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার-প্রেসিডেন্ট লায়ন আফরোজা বেগম হ্যাপী বলেন, ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম জাতি-জাগানিয়া। বর্তমানে এই স্বল্প পরিসরে ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম খুব কষ্ট করে করতে হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমি অনুরোধ করবো- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেকখানে অনেক জায়গা আছে; সে জায়গাগুলো থেকে যদি তিনি অনুগ্রহ করে ক্যাম্পাস’র স্টাডি সেন্টার নির্মাণের জন্য ২/৩ বিঘা জায়গার ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে জাতি জাগরণমূলক এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। আমিও ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম সম্প্রসারণে এবং ক্যাম্পাস স্ট্যাডি সেন্টার এর জন্য ১ বিঘা জমি দান করব। আসুন, আমরা সবাই মিলে ক্যাম্পাস’র স্টাডি সেন্টার নির্মাণে এগিয়ে আসি। সবাই যার যার স্থান থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করি ক্যাম্পাস’র মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য।
এডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্যা
মেহেরবা প্লাজা ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্যা বলেন- আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. এম হেলাল আমাদের গর্ব ও অহংকার। আমরা এই মেহেরবা প্লাজার সহমালিক। গত ২০ বছর ধরে আমরা মেহরবা প্লাজার এই ভবনে আছি এবং আমৃত্যু থাকবো। এই দীর্ঘ ২০ বছরে মাননীয় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে একদিনের জন্যও রাগ করতে দেখিনি। মাননীয় প্রধান অতিথি এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম তাঁর দক্ষতা ও যোগ্যতায় সিনিয়র আইনজীবী হয়েছেন, ঠিক তেমনি তাঁর জনপ্রিয়তায় তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী পদ লাভ করেছেন। তিনি বলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা ১৯৮৪ সালে আমার এক ব্যাচ সিনিয়র ড. হেলাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। ক্যাম্পাস’র জন্য আমার শুভ কামনা শুরু থেকেই ছিল; তবে প্রত্যক্ষভাবে কখনো কিছু করতে পারিনি। আজকে ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম সরাসরি দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিরবে আমি আমার পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসকে সহযোগিতা করে যাব। আমি মনে করি, ক্যাম্পাস বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য। আর আজকের প্রধান অতিথি শ ম রেজাউল করিম একজন লিভিং লিজেন্ড অর্থাৎ জীবন্ত কিংবদন্তী। ক্যাম্পাস’র স্টাডি সেন্টার নির্মাণে আমি তাঁর সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি। আমি ক্যাম্পাস’র কাছে কৃতজ্ঞ যে, মাননীয় প্রধান অতিথি শ ম রেজাউল করিম এর মরহুম পিতার স্মরণে এবং আমার মরহুমা মাতার জন্য এই অনুষ্ঠানে যে দোয়া করা হলো, এতে আমি খুবই সন্তোষ লাভ করেছি। এজন্য আমি ক্যাম্পাস’র কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
চৌকস আইনজীবী এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আজকে ক্যাম্পাস’র এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত এবং অভিভূত। এত সুন্দর পরিকল্পিত অনুষ্ঠান যে এই সীমিত পরিসরে হতে পারে তা দেখে আমি বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়েছি। আমি আরও অভিভূত হয়েছি এটা দেখে যে, এখানে চায়নিজ ভাষা শেখানো হয়। চীন বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আগামী পৃথিবীতে চীন অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে। চীনের সাথে আমাদের অনেক সুসম্পর্ক রয়েছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে চীন আমাদের ব্যাপক সহযোগিতা করে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে চীনের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। চীনের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে চীনা ভাষা জানা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। ক্যাম্পাস’র চীনা ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম অত্যন্ত যুগোপযোগী। তিনি বলেন- ইংলিশ কোর্স সফলভাবে সমাপণকারীরা সৌভাগ্যবান যে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এডভোকেট শ ম রেজাউল করিমের মতো সৎ, নীতিনিষ্ঠ ও মহৎপ্রাণ ব্যক্তির হাত থেকে তারা সনদ গ্রহণ করতে পারছে। আমি আশা করি- প্রশিক্ষণার্থীরাও তাঁর মতো মহৎপ্রাণ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ জীবন গড়ে তুলবে।
তাজকেরা খায়ের
ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ফ্যামিলি লাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের বলেন, ক্যাম্পাস হচ্ছে আলোয়-আলোয় সম্মিলনকারী। আমি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময় ক্যাম্পাস’র কার্যক্রম সর্বপ্রথম দেখি। ক্যাম্পাস’র কার্যক্রমে আছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আন্তরিকতা। ক্যাম্পাস’র উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বেগবান করার জন্য মাননীয় মন্ত্রী তাঁর মহত্বের হাত প্রসারিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। দেশ ও জাতি জাগরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ক্যাম্পাস; কিন্তু ক্যাম্পাস’র অডিটোরিয়ামে জায়গা খুবই সীমিত। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষে যদি সম্ভব হয় ক্যাম্পাস’র কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার ভবন নির্মাণের জন্য পূর্বাচলে কিছু জায়গার ব্যবস্থা করে দিলে জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির অভিযাত্রায় তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ড. শরীফ আবদুল্লাহ হিস সাকি
শিক্ষানুরাগী ড. শরীফ আবদুল্লাহ হিস সাকি বলেন- দীর্ঘ ৩৭ বছর যাবৎ জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য ড. এম হেলাল ক্যাম্পাস’র মাধ্যমে যে মহৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অতুলনীয়। ক্যাম্পাস’র এই আলোকিত সমাজ গঠনের প্রক্রিয়ায় সবাই অংশগ্রহণ করলে আমাদের দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া
ক্যাম্পাস’র ইংলিশ এন্ড স্মার্টনেস কোর্স এর রিসোর্স পারসন এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আজকের মাননীয় মন্ত্রী এবং প্রধান অতিথি এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম একজন সৎ ও নীতিনিষ্ঠার জীবন্ত কিংবদন্তী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঠিক লোককে সঠিক মন্ত্রণালয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন। তাই আজ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আমূল পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা চাই তাঁর এই পরিবর্তন কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়–ক। ঘুষ-দুর্নীতি সম্পর্কে মানুষ সচেতন হোক। এই সচেতনতা এদেশে একটা বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে। ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস’র আন্দোলন ৩৭ বছর অর্থাৎ জন্মলগ্ন থেকে। ঘুষ-দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সকল দপ্তরে দরকার শ ম রেজাউল করিম এর মতো সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ। তাহলে এদেশ থেকে ঘুষ-দুর্নীতির অভিশাপ পুরোপুরি দূরীভূত হয়ে যাবে।
এডভোকেট কিবরিয়া বলেন- মাত্র ১৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম ক্লাস শুরু করেছিলাম। এখন ব্যাচপ্রতি ৬০ জন ভর্তি নেয়ার পর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঐ ব্যাচে ভর্তি বন্ধ রাখতে হয়। তাদেরকে পরবর্তী ব্যাচের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ ডায়নামিক কোর্সের প্রতি ছাত্র-তরুণদের প্রবল আগ্রহ আমাদেরকে আশাবাদী করে তোলে। ক্যাম্পাস এ শুধু ইংলিশ কোর্সই করানো হয় না। এখানে সময়োপযোগী নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফাইড ছাত্র-যুবকদেরকে কোয়ালিফাইড করার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্যাম্পাস তার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলার ডায়নামিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্বাচলে একটা জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় মনোযোগ কামনা করছি।
ড. এম হেলাল
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর মহাসচিব ড. এম হেলাল বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শী একজন ভিশনারী লিডার। তাই তিনি দেশের মধ্যে সবচেয়ে জটিল আর অনিয়ম-দূর্নীতিতে ভরা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জন্য এডভোকেট শ ম রেজাউল করিমকে বেছে নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঠিক ব্যক্তিত্বকেই বেছে নিয়েছেন। তাই আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর ব্যতিক্রমী কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে যে, তাঁকে কঠিন স্রোতের বিপরীতে দেশ-উন্নয়নের তরী বেয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই আমরা সবাই বিশেষত ছাত্র-তরুণ-যুব সমাজ সর্বতোভাবে তাঁর পাশে থাকব। ক্যাম্পাস স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অবলম্বন করে জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আলোকিত জাতি গঠন ক্যাম্পাস’র উদ্দেশ্য। এজন্য ছাত্র-যুব উন্নয়নে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে নানামুখী কর্মসূচি। ক্যাম্পাস এ দায়িত্ব পালন করছে দেশপ্রেম, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাই ক্যাম্পাস’র এসব কল্যাণকর কর্মসূচিতে জ্ঞানী-গুণী, সচেতন দেশপ্রেমী ব্যক্তিত্বগণের সমর্থন-সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
ট্রেইনীদের কথামালা
মাননীয় প্রধান অতিথি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এর হাত থেকে সনদ গ্রহণের পর ট্রেইনীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করে। তাদের বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।
প্রশিক্ষণার্থী এম এইচ ইমরান বলেন, আজকের প্রধান অতিথি একজন মহৎ হৃদয়ের সৎ ও নীতিনিষ্ঠ মানুষ। তাঁর হাত থেকে সনদ নিতে পেরে আমি গর্বিত। নাফিসা রায়হানা বলেন, আজকে আমি আনন্দে অভিভূত যে, একজন সৎ মানুষের কাছ থেকে সনদ গ্রহণ করতে পেরেছি। জীবনন্নেছা মিন্নাত বলেন, ক্যাম্পাস থেকে শিখেছি কীভাবে সাহসী হতে হয়, সৎ হতে হয়; আজীবন সেই চেষ্টা করে যাব। আবু নাঈম বলেন, জীবনে মহৎ হতে হলে আগে সৎ হতে হবে, একমাত্র সততাই জীবনে সাফল্য আনে। রিয়া রহমান বলেন, ক্যাম্পাস আমাদের সততার শিক্ষা দেয়, ক্যাম্পাস আমাদের সেকেন্ড ফ্যামিলী। সাদিয়া আক্তার নিনা বলেন, সৎ হতে হলে আজকের প্রধান অতিথির জীবনকর্ম অনুসরণ করতে হবে।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ