বিশেষ খবর

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতা অর্জনের পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু - চবি উপাচার্য

ক্যাম্পাস ডেস্ক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
img

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপিত হয়েছে। ২৬ মার্চ ২০২১ সকাল ১০ টায় বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে চবি স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। বেলা ১১ টায় চবি উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ঃ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এতে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী প্রিমিয়ার বিশ^বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন।

চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার তাঁর বক্তব্যে মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশলক্ষ বীর বাঙালি, শহীদ জাতীয় চারনেতা ও ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বর্বর হায়েনাদের হাতে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যবৃন্দকে বিন¤্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত দু’লক্ষ জায়া-জননী-কন্যার প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন। এছাড়া তিনি শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মাননীয় উপাচার্য উপস্থিত সকলকে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হায়েনাদের পরাজিত করে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। আর এ অর্জনে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে যিনি অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি হলেন মহাকালের মহানায়ক স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতা অর্জনের যে পথ তিনি দেখিয়েছেন তা শুধু বাঙালি জাতির জন্য নয়; গোটা বিশে^র নিপীড়িত-নির্যাতিত মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির পথ প্রদর্শক হিসেবে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। মাননীয় উপাচার্য জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কাজ করার আহবান জানান। মাননীয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার দূরদর্শী সঠিক নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সুবর্ণ জয়ন্তী বক্তা প্রিমিয়ার বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন উপস্থিত সকলকে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও পরম গৌরবের। তিনি ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন, পাকিস্তানি শাসনের ২৩ বছরের শোষণÑবঞ্চনা ব্রিটিশদের ১৯০ বছরের শোষণকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জিডিপি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বেশি থাকার পরেও শুধুমাত্র তৎকালীন শাসকদের বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত ছিল। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের এ সকল বৈষম্য থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে মুক্ত করতে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধু তাঁর সমগ্র জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মাননীয় উপাচার্য বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে কেক কাটেন। এছাড়াও কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ রাত ১২.০১ মিনিটে (২৫ মার্চ দিবাগত রাতে) বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভে বিএনসিসি কর্তৃক বিউগল বাজিয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে স্বাগত জানানো হয় এবং প্রত্যুষে বিশ^বিদ্যালয়ে ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৬ মার্চ ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ক্যাম্পাসস্থ সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং কেন্দ্রীয় মন্দির ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বেলা ১১.৩০ টায় চবি কেন্দ্রীয় মন্দিরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ত্রিশ লক্ষ বীর বাঙালি, ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ও জাতীয় চার নেতার আত্মার চিরশান্তি এবং দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও মঙ্গল কামনায় গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে চবি প্রশাসনিক ভবন, হলসমূহ, চবি ১নং ও ২নং গেইট চত্বরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। চবি স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভ চত্বর, চবি ১নং গেইট ‘স্মরণ’ চত্বর এবং ২নং গেইট চত্বরে দিনব্যাপি জাতির পিতার ভাষণ এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চ ‘জাতীয় শিশু দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীকে শুভেচ্ছা পুরস্কার প্রদান করা হয়। অধিকন্তু প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মাননীয় উপাচার্য শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ান।

মহান স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কলেজ পরিদর্শক, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সদস্যবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারি সমিতি, কর্মচারি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ