বিশেষ খবর

স্কাউট ক্যাম্পে আমার শেখা ও অভিজ্ঞতা

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিশু ক্যাম্পাস
img

॥ মাহীর হেলাল ॥
৮ম শ্রেণি, উইল্স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল

চতুর্থ শ্রেণি থেকেই আমি স্কাউটিং করছি। প্রতিবছর আমাদের স্কুলের সকল ক্লাব ও স্কাউট নিয়ে বাৎসরিক গ্রুপ ক্যাম্প হয়। সাধারণত এই ক্যাম্পটি ঢাকার বাইরে হয়ে থাকে। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ৪ মে গাজীপুরের বাহাদুরপুর রোভার স্কাউট ট্রেনিং সেন্টারে আমদের এ বাৎসরিক গ্রুপ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। আমিও এ ক্যাম্পে অংশ নিই।
স্কাউটিং এর অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছি ক্যাম্পিং মানেই হলো একটু বেশি কষ্ট, মা-বাবা ছাড়া অনেক দূরে থাকা, নিজের কাজ নিজে করা -এরূপ আরও অনেক বিষয়। তবে একটি ক্যাম্প থেকে অনেক কৌশল, অনেক জ্ঞান, অনেক শিক্ষা লাভ করা যায় যা জীবনে সহায়ক হয়।
৩০ তারিখ বিকেল ৩ টায় আমরা ৯০ জন স্কাউট ঢাকা থেকে বাহাদুরপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। বাসে আমরা সবাই অনেক মজা করতে করতে যাই। কেউ গেয়েছিল গান, কেউ শুনিয়েছিল কৌতুক। মজা করতে করতে ৩ ঘন্টার মাথায় আমরা আমাদের ক্যাম্প গ্রাউন্ডে পৌঁছাই। পৌঁছে দেখি আমাদের দল ছাড়া প্রতিটি দলের তাঁবু টানানো। আমরা ঝটপট তাঁবু বানিয়ে একটু বিশ্রাম নিই। এরপর থেকে শুরু হয় আমাদের ক্যাম্পের বিভিন্ন পর্ব। ক্যাম্প থেকে আমি যা শিখেছি, তা পাঠকের সাথে শেয়ার করছি।
রান্না
ক্যাম্পে যাওয়ার আগেই স্যারেরা আমাদের বলেছিলেন ক্যাম্পে দলভিত্তিক রান্না করে খেতে হবে, তাই হাড়ি-পাতিল নিয়ে যেতে হবে। তবে প্রতিদিন রান্না করতে হয়নি। ১ তারিখ মে দিবস ছিল বলে সেদিন দুপুর ও রাতের খাবার রান্না করে খেতে হয়েছিল। আমিও রান্না করেছি। গ্রামের মানুষ যেভাবে মাটির চুলায় রান্না করে, আমরাও মাটির চুলায় রান্না করেছি। চোখের জ্বলে, নাকের জ্বলে, চাল-ডাল মিলিয়ে যা রাঁধলাম তা খেতে অমৃতের মতো লাগল।
হাইকিং
হাইকিং হলো ক্যাম্পের একটি বিশেষ আকর্ষণ। হাইকিং খেলায় একটি কাগজে কম্পাস’র বিভিন্ন ডিগ্রি দেয়া থাকে। কম্পাস দিয়ে সেই ডিগ্রি ধরে একটি অজানা জায়গা খুঁজে বের করাকে হাইকিং বলে। এই হাইকিং এ আমাদের মোট ১৪-১৫ কি.মি. হাঁটতে হয়েছে।
গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পরিদর্শন
আমরা গাজীপুরের একটি বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে যাই। সেখানে দেখলাম কীভাবে কাপড় প্রিন্ট করে, কীভাবে সুতা বানায়, কীভাবে শত শত কাপড় একসাথে সেলাই করে; আরও কত কি! কত মেশিন, কত শ্রমিক! ভাবলাম, কত মানুষের শ্রমে উৎপাদিত হয় আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য।
ক্যাম্প ফায়ার
স্কাউটিং এর উদ্ভাবক লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল সূচিত প্রথম ক্যাম্প থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় সব ক্যাম্পের সমাপ্তি হয় একটি ক্যাম্প ফায়ার বা তাঁবু জলসা দিয়ে। এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি দলকে দর্শকদের Entertain করার জন্য গান, নাচ, নাটক ইত্যাকার Performence তুলে ধরতে হয়। আমি ও আমার দল মিলে একটি গান পরিবেশন করেছিলাম।
সময় এসে গেল ঘরে ফেরার। ৪ মে সকাল ৯ টায় আমরা ফিরতি রওনা দিই ঢাকার উদ্দেশে। ফিরে আসার সময় মন একটু খারাপ থাকলেও মা-বাবা, ভাই-বোনকে অনেক দিন পর আবার দেখতে পাব বলে খুশি ছিলাম।
সর্বোপরি আমার জন্য এই ক্যাম্পটি ছিল শিক্ষণীয় ও আনন্দময়। অনেক কষ্ট করতে হলেও শিখেছিও অনেক কিছু। এই ক্যাম্পটি ছিল আমার স্কাউট জীবনের সেরা ক্যাম্পের মধ্যে একটি।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ