বিশেষ খবর

আবারও ছাড় পাচ্ছে নিয়ম না মানা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিবেদন
img

নিয়ম না মানা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আবারও ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। তিন দফা সতর্কতার পর পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে এবারও। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সার্বিক অবস্থা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আর সেই প্রতিবেদন দেখে নতুন সময়সীমা বেঁধে দেয়ার ক্ষেত্রে ওয়ান টু ওয়ান বিবেচনা করা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইউজিসি আয়োজিত এই সভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তৃতীয় দফায় সরকারের দেয়া সময় অনুযায়ী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এসব শর্ত পূরণ না করার পরিপ্রেক্ষিতে চতুর্থ দফা সময় বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার সাত বছর পার হওয়ার পরও এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়াসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ না করলে তাদের সাময়িক সনদ বাতিল এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয়া হয়েছিল গত বছর ২৬ জানুয়ারি জারি করা তৃতীয় দফা নির্দেশনায়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে এ রকম ২০-২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো আইন অনুসারে চলতে পারে না। তিনি জানান, সরকারের ঘোষিত সময় অনুসারে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে ক্যাম্পাস করে কার্যক্রম চালানোর কথা ছিল। এখন পর্যন্ত পুরনো ৫২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭টি নিজস্ব ক্যাম্পাস করেছে। সাতটি আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ৯টির ভবন নির্মাণাধীন ও ১৭টির জমি কেনার ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন। অন্য তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় জমিই কেনেনি।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু কতিপয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। অবশ্যই একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তাই কার কী ঘাটতি, পূরণ করতে কত সময় লাগবে তা জানাতে হবে। সে অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় সরকার ও ইউজিসি মনোনীত সদস্যদের সিন্ডিকেট সভায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছে না। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনহীন ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। কয়েকটিতে বোর্ড অব ট্রাস্টিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুস্পষ্ট বেতনকাঠামো নেই। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ভিসিদের অপসারণ করে। এই এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভাগ বসাচ্ছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অনেকের মানসম্মত ল্যাবরেটরি ও গবেষণাগার নেই। ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় নামমাত্র গবেষণা করছে। কিন্তু ইউজিসি’র ক্ষমতা সীমিত। তাই এ ব্যাপারে কিছু করতে পারছে না। অধ্যাপক মান্নান জানান, ১৫ থেকে ২০ বছরের পুরনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়েই কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অডিট রিপোর্টও জমা দেয় না। আইন অনুযায়ী বিনা বেতনে পড়ানো হয় না। সংরক্ষিত তহবিলের বিপরীতে ঋণ নিয়েছে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবার সিংহভাগ তহবিলই তুলে নিয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ও ফারইস্ট ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন তাঁদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মনিটর করার নামে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে বছরে এক লাখ টাকা করে নিচ্ছে ইউজিসি। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাঁরা এটা বন্ধের দাবি জানান। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী। মতবিনিময় সভায় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক একর করে জমি দেয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষিতে যেমন বিপ্লব ঘটেছে, শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন আগমনী শুনতে পাচ্ছি।
ইউজিসি’র আর্থিক এবং আইনি ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ইউজিসি যেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর আরো তদারকি করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন ইউআইটিএসের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ড. অনুপম সেন, সিটি ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন, শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান সহিদুর রহমান খান, টাইমস ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান শরীফ এম আফজাল, খাজা ইউনুস আলী ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. হোসাইন রেজা, ঈসা খাঁ ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভিসি পারভীন হাসান, উত্তরা ইউনিভার্সিটির ইয়াসমিন আরা লেখা, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, আইইউবিএটির আলিমুল্লহ মিয়ান, নর্থবেঙ্গল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. আবদুল খালেক প্রমুখ।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ