বিশেষ খবর

কুয়েটে বর্ণিল আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

ক্যাম্পাস ডেস্ক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
img

বর্ণিল আয়োজন আর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর দ্বাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়েছে। সমগ্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান এবং সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। দিনটিকে স্মরণীয় করতে সেজেছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বত্রই ছিল সাজ-সাজ রব।
সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি সমাবেশ। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। পতাকা উত্তোলন শেষে প্রধান অতিথি বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান বলেন, কুয়েট বাংলাদেশের অনন্য এবং অন্যতম সেরা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অতুলনীয়। দেশে বিদেশে কুয়েট’র শিক্ষার্থীরা মেধার পরিচয় দিচ্ছে, এ বিষয়টি আমাদেরকে গর্বিত করে। খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, বর্তমান সরকারের সঠিক দিক নির্দেশনায় কুয়েট’র উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আমাদের গর্ব। সভাপতির বক্তৃতায় কুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এ প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই কুয়েটকে এ অবস্থানে আনয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বিশ্বাবদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নানকে ধন্যবাদ জানিয়ে কুয়েট’র ভাইস-চ্যান্সেলর আরো বলেন, সকলের সহযোগিতায় কুয়েট শিক্ষা, গবেষণা ক্ষেত্রে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসময় শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও পুরকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ বাহারী সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ফুলবাড়ীগেট এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে অডিটরিয়ামের সামনে এসে শেষ হয়। অডিটরিয়ামের সম্মুখে ব্লাড ডোনার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীসহ অন্যরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া টেকনিক্যাল পোস্টার সেশন, টেকনিক্যাল সেমিনার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্মিত শর্ট ফিল্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত পুরকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সৈয়দ আলী মোল্লা, তড়িৎকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নুরুন্নবী মোল্লা এবং স্বাগত বক্তৃতা করেন ছাত্র কল্যাণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. জি.জি. মোঃ নেওয়াজ আলী। এসময় ইউজিসি’র অতিরিক্ত পরিচালক জনাব ফেরদৌস জামান, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কেরামত আলী মোল্লা, রোকেয়া হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট সুহেলী শায়লা আহমেদ, উপ-রেজিস্ট্রার জিএম শহীদুল আলম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), খুলনাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে ১ সেপ্টেম্বরকে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে উদ্যাপন করা হয়।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ