বিশেষ খবর

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পাঁচ প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

ক্যাম্পাস ডেস্ক শিক্ষা সংবাদ
img

পৃথক বেতন কাঠামো ও অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে গ্রেড সমস্যা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে আন্দোলন থেকে সরে এসে ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা এক মাসের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসন ও শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা না হলে ১ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে বৈঠকে শিক্ষক নেতারা তাঁদের পাঁচ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের জন্য বেতন কমিশন, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত অষ্টম বেতন কাঠামো পুননির্ধারণ করে সিনিয়র অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা গ্রেড-১, অধ্যাপকদের গ্রেড-২, সহযোগী অধ্যাপকদের গ্রেড-৩, সহকারী অধ্যাপকদের গ্রেড-৫ ও প্রভাষকদের সপ্তম কাঠামোও গ্রেড-এ নির্ধারণ; প্রস্তাবিত গ্রেড-১ প্রাপ্ত সিনিয়র অধ্যাপকদের মধ্য থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষককে সুপার গ্রেডের ২ নম্বর ধাপে বেতন-ভাতা প্রদান; রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে (পদমর্যাদাক্রম) শিক্ষকদের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদমর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিশ্চিতকরণ।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, খুবই আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। শিক্ষকরা নিজেদের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। সরকার গঠিত বেতন বৈষম্য নিরসন কমিটিতে বিষয়গুলো তুলে ধরব। শিক্ষকদের মান-মর্যাদার বিষয়টি আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বেতন ও পদমর্যাদা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। দেশের বাইরে থাকা অর্থমন্ত্রী এই মাসের মাঝামাঝি দেশে ফেরার পরই কমিটির বৈঠক হবে বলে তিনি জানান। শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আন্তরিক পরিবেশে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা করেছি। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে এ মাসে (অক্টোবর) কোনো কর্মসূচি রাখিনি। তবে আমাদের ওপর শিক্ষকদের প্রচ- চাপ রয়েছে। পাঁচ মাস পেরিয়ে ছয় মাসে পড়ছে আমাদের আন্দোলন। অক্টোবরের মধ্যে কোনো সমাধান না হলে নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন শুধ্ইু বেতন বৃদ্ধির জন্য নয়; মর্যাদার জন্যও। বেতন না দেন সম্মানের জায়গায় যেন হাত না দেন। সেটা হলে কেউ মেনে নেবে না। এমনিতেই আমরা নানাভাবে অপমানিত, লাঞ্ছিত।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না করার ঘোষণার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ওই কমিটিতে সাতজন মন্ত্রী রয়েছেন। অর্থমন্ত্রীকে বাদ রেখে অন্য ছয় মন্ত্রীকে আমরা চিঠি পাঠাচ্ছি। অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের নিয়ে যা বলেছেন তা সুবিবেচনাপ্রসূত ছিল না। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের মর্যাদার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আমরা অক্টোবরের মধ্যে কোনো সমাধান না পেলে ১ নভেম্বর লাগাতার কর্মবিরতিতে যাব।
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. রাশেদা আখতার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাসহ ১৫ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। শিক্ষকরা তাঁদের মর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন বলে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালিয়ে যেতে শিক্ষকদের অনুরোধ মন্ত্রীর
শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাস এবং ভর্তি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
১ অক্টোবর সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সমন্বয় সভার শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। অষ্টম বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আছে। সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে। কমিটি পুর্নগঠিত হয়েছে। শিক্ষকদের অসন্তোষ বা উত্তেজনা থাকার কোনো কারণ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের স্বার্থ দেখছে। শিক্ষকরা বলছেন কাজ করবেন না, ক্লাস-পরীক্ষা নেবেন না, এটা যুক্তিযুক্ত হবে না। নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন, ভর্তি পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন, তাদের এই অনুরোধ জানাই।’
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘বড় বড় লোক বড় বড় জায়গা থেকে আমাদের, এমনকি আমার নাম বলছে। তারা জানেনই না এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। এটার জন্য আমাদের দায়ী করার কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।’


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ